নিজস্ব প্রতিবেদক:
ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ও প্রকল্প পরিচালক (পিডি) মো. রাজীব খাদেমের বিরুদ্ধে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়িত ‘ঢাকা সিটি নেইবারহুড আপগ্রেডিং প্রজেক্ট’ (ডিসিএনইউপি)-সহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজে ব্যাপক অনিয়ম, নিয়োগ দুর্নীতি ও প্রশাসনিক স্বেচ্ছাচারিতার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে নিহতের ঘটনায় দায়ের হওয়া জুলাই হত্যা মামলার আসামি হওয়ার পর থেকে তাঁর বিরুদ্ধে আইনি ও প্রশাসনিক চাপ জোরালো হচ্ছে।নিয়োগ ও ক্রয় প্রক্রিয়ায় জালিয়াতিঅনুসন্ধানে জানা গেছে, ৮৮১ কোটি টাকারও বেশি ব্যয়ের ডিসিএনইউপি প্রকল্পে শুরু থেকেই কর্মকর্তা নিয়োগ ও অব্যাহতি প্রক্রিয়ায় সুনির্দিষ্ট নিয়ম-নীতি লঙ্ঘন করা হয়েছে। প্রকল্পের শুরুতে প্রেম রতন বাবু নামের এক কর্মকর্তাকে নিয়োগ দিয়ে দ্রুততম সময়ে অব্যাহতি দেওয়া হয়। পরবর্তীতে ইঞ্জিনিয়ার ফরহাদকে নিয়োগ দেওয়া হলেও ‘বনিবনা না হওয়ার’ অজুহাতে তাকেও সরিয়ে দেওয়া হয়। সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, রাজীব খাদেম কোনো নিয়মনীতি না মেনে সম্পূর্ণ নিজের পছন্দমতো লোকবল বসিয়ে পুরো প্রকল্পের নিয়োগ প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ ও বিতর্কিত করেছেন।নকশা পরিবর্তন ও মাত্রাতিরিক্ত ব্যয় সংশোধনপ্রকল্পের আওতায় ঢাকার কামরাঙ্গীরচরসহ বিভিন্ন এলাকায় পার্ক, খেলার মাঠ ও গণপরিসর উন্নয়নের কাজ চলছে। তবে অভিযোগ রয়েছে, মাঠপর্যায়ে কোনো সঠিক সম্ভাব্যতা যাচাই (Feasibility Study) ছাড়াই বারবার মূল নকশা পরিবর্তন করা হয়েছে। এর ফলে বিভিন্ন প্যাকেজে দফায় দফায় মাত্রাতিরিক্ত ব্যয় সংশোধন করা হয়েছে, যা বিশ্বব্যাংক ও সরকারি তহবিলের অর্থ অপচয়ের স্পষ্ট ইঙ্গিত দেয়। কাঙ্ক্ষিত কমিশন বা ঘুষ না পেলে তিনি চলনসই প্রকল্পগুলো ভণ্ডুল বা স্থগিত করার হুমকি দিতেন বলেও ঠিকাদারদের পক্ষ থেকে অভিযোগ উঠেছে। একটি ১২ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প থেকে প্রায় ৩ কোটি টাকা ঘুষ নেওয়ার সুনির্দিষ্ট তথ্যও গণমাধ্যমে এসেছে।লালকুঠি ও ট্রাফিক সিগন্যাল প্রকল্পে অবহেলাঐতিহাসিক ‘লালকুঠি’ (নর্থব্রুক হল) ভবন সংস্কার প্রকল্পের পরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন রাজীব খাদেম। কিন্তু ঐতিহ্যবাহী হেরিটেজ সাইট সংরক্ষণের মতো স্পর্শকাতর কাজেও মানহীন নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহার ও চরম গাফিলতির অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। এছাড়া, ট্রাফিক ইঞ্জিনিয়ারিং সার্কেলের দায়িত্ব থাকাকালীন তাঁর অবহেলার কারণে কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত রাজধানীর ট্রাফিক সিগন্যাল পয়েন্টগুলো অকেজো ও স্থবির হয়ে পড়ে থাকে।জুলাই হত্যা মামলা ও বর্তমান পরিস্থিতিগত সরকারের আমলে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে একের পর এক বড় বড় প্রকল্পের দায়িত্ব বাগিয়ে নেওয়া এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর আইনি জটিলতা তৈরি হয়েছে। ছাত্র আন্দোলনে ছাত্র-জনতা নিহতের ঘটনায় দায়ের হওয়া ‘জুলাই হত্যা মামলা’র (মামলা নং- ২২৪/২৫) ৩৪ নম্বর আসামি করা হয়েছে রাজীব খাদেমকে। মামলার পর থেকে তাঁর কর্মক্ষেত্রে অনুপস্থিতি এবং আইনি জটিলতার কারণে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে চলমান ডিসিএনইউপি প্রকল্পের মাঠপর্যায়ের ও দাপ্তরিক কাজ সম্পূর্ণ স্থবির হয়ে পড়েছে। এটি দাতা সংস্থার তহবিল ছাড়ের প্রক্রিয়াকেও বড় ধরণের ঝুঁকিতে ফেলেছে।এই বিষয়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন ও দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পক্ষ থেকে শিগগিরই আনুষ্ঠানিক তদন্ত ও কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। এবিষয়ে ডিএসসিসির পিডি রাজীব খাদেমের সাথে বার বার যোগাযোগ করেও মন্তব্য পাওয়া যায়নী।
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: কে এম মাসুদুর রহমান, সম্পাদক ও প্রকাশক: মোহাম্মদ মাসুদ।
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: ২১/১ নয়াপল্টন (মসজিদ গলি),ঢাকা - ১০০০।
✆ ০১৫১১৯৬৩২৯৪, ০১৬১১৯৬৩২৯৪ 📧dailysobujbangladesh@gmail.com.
কপিরাইট © ২০২৫ দৈনিক সবুজ বাংলাদেশ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত