ডেস্ক রিপোর্টঃ
চলতি বছরের উচ্চ মাধ্যমিক (এইচএসসি) পরীক্ষা ঘিরে ইনস্ট্যান্ট মেসেজিং এবং ভয়েস ওভার আইপি অ্যাপ টেলিগ্রামে গড়ে উঠেছে ‘প্রশ্নফাঁস’-এর নামে ভয়ংকর প্রতারণার নেটওয়ার্ক। পরীক্ষার আগের রাতে ‘শতভাগ কমন’ প্রশ্ন দেওয়ার প্রতিশ্রুতিতে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা।
অনুসন্ধানে এমন অন্তত আটটি টেলিগ্রাম চ্যানেল ও গ্রুপের সন্ধান মিলেছে, যেগুলো প্রশ্নফাঁসের দাবি করে প্রকাশ্যে টাকা লেনদেন করছে। অনুসন্ধানে জানা যায়, পুরো বিষয়টিই সাজানো-প্রতারণা ছাড়া কিছু নয়। সরল বিশ্বাসে এ চক্রের ফাঁদে পড়ে প্রতারিত হচ্ছে শত শত শিক্ষার্থী। তবে শিক্ষা বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, এখন পর্যন্ত এইচএসসি পরীক্ষার কোনো প্রশ্নপত্রই ফাঁস হয়নি। অনুসন্ধানে প্রশ্নফাঁসের নামে প্রতারণায় জড়িত অন্তত আটটি টেলিগ্রাম চ্যানেল ও গ্রুপ শনাক্ত হয়েছে, যাদের প্রতারণার ধরনও ভিন্ন ভিন্ন। এইচএসসি সকল বোর্ড প্রশ্ন 2026 নামে চ্যানেলটি টেলিগ্রাম বটের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে প্রতি প্রশ্নের জন্য ২ হাজার ৫০০ টাকা করে নিচ্ছে। সকল বোর্ড প্রশ্ন ফাঁস ২০২৬ নামে চ্যানেলটি ইনবক্সে কথাবার্তার মাধ্যমে টাকা আদায় করছে। এ ছাড়া একই নামে আরেকটি গ্রুপ একটি মোবাইল নম্বরে প্রতি বিষয়ের প্রশ্নের জন্য নিচ্ছে দেড় হাজার করে টাকা। পাশাপাশি HSC 2026 সকল প্রশ্ন চ্যানেলটি প্রতি বিষয়ের জন্য নিচ্ছে ৩ হাজার টাকা আর HSC final revision batch নিচ্ছে বিষয় প্রতি ১ হাজার টাকা। এ ছাড়া HSC Help Desk নামে গ্রুপটি পোস্ট দিয়ে জানিয়েছে, একটি বিকাশ নম্বরে ৬ হাজার টাকা দিলেই মিলবে প্রশ্ন। অনুসন্ধানে দেখা যায়-প্রশ্নের জন্য সবচেয়ে চড়া দাম হাঁকছে HSC 2026: Question Hub নামে চ্যানেলটি। প্যাকেজ আকারে টাকা নেওয়া চক্রটির সিঙ্গেল সাবজেক্ট প্যাক দাম ২০ হাজার টাকা, আর সব প্রশ্নের ‘ফুল কোর্স আলটিমেট প্যাক’ দাম হাঁকা হচ্ছে ৫০ হাজার টাকা।
অনুসন্ধানে দেখা যায়, এসব চক্রের মধ্যে সবচেয়ে সক্রিয় ‘HSC প্রশ্ন ফাঁস-2026’ নামে টেলিগ্রাম চ্যানেলটি। যার সদস্য সংখ্যা এরই মধ্যে ১ হাজার ৭০০ ছাড়িয়েছে। গত ১৬ জুন তৈরি হওয়া চ্যানেলটিতে প্রাথমিকভাবে সাজেশন শেয়ার করা হলেও পরে দাবি করা হয়, এ চ্যানেলে পরীক্ষার আগেই প্রশ্নফাঁস করা হবে। সদস্যদের প্রশ্নের জন্য ‘বুকিং’ দিতে আলাদাভাবে অ্যাডমিনকে মেসেজ করে দেওয়ার কথা বলা হয়। এ চ্যানেলের অ্যাডমিন প্যানেলের সক্রিয় একজন সদস্যের আইডির নাম ফারহান। নিজেকে প্রভাবশালী প্রমাণ করতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে তার গভীর সম্পর্ক রয়েছে বলে গ্রুপে দাবি করেন ফারহান। আবার এ দাবির পক্ষে গত ৪ জুলাই তিনি ‘HSC প্রশ্ন ফাঁস-2026 চ্যানেলে সরকারের পক্ষ থেকে ইস্যুকৃত দাবি করে প্রশ্ন সংবলিত একটি ভুয়া খামের ছবি আপলোড করেন। শিক্ষা মন্ত্রণালয় ঢাকা উল্লিখিত ওই খামটিতে লেখা ছিল ৬ জুলাই ২০২৬ তারিখ অনুষ্ঠিতব্য ৪ সেট ইংরেজি প্রথম পত্র (১০৭) প্রশ্নপত্র। এ ছবিটিকে আসল মনে করে বহু শিক্ষার্থী ফাঁদে পা দিয়ে ফারহানকে টাকা পাঠিয়ে প্রতারিত হয়েছেন। লেনদেনের আলাপের জন্য ফারহান একটি হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরও (+৮৮০১৮১৭৮০৬১৭১) সরবরাহ করেন। কয়েকদিনের চলমান অনুসন্ধানে দেখা যায়, প্রতিটি পরীক্ষার আগে নতুন নতুন কৌশল নিয়ে সক্রিয় হন ফারহান। পরীক্ষার আগে ভুয়া প্রশ্নপত্র ও ভুয়া ইউজার রিভিউ দেখিয়ে বিশ্বাসযোগ্যতা তৈরি করে ফাঁদ পাতেন। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার পর তিনি কাউকে ব্লক করে দেন, আবার কাউকে হাতে ধরিয়ে দেন ভুয়া প্রশ্ন। এমনকি শিক্ষার্থীদের সন্দেহ এড়াতে এবং প্রতারণাকে বিশ্বাসযোগ্য করে তুলতে পরীক্ষা শেষে প্রাইভেট এ গ্রুপ পাবলিক করারও ঘোষণা দেন তিনি। এ ছাড়া প্রতারণার কারবারকে আরও সংগঠিত রূপ দিতে চ্যানেলটিতে চালু করা হয়েছে ১০টি ‘প্রিমিয়াম স্লট’ ব্যবস্থা। প্রিমিয়াম সুবিধা হিসেবে বলা হয়, ইংরেজি প্রথম পত্রের প্রশ্নের পাশাপাশি দ্বিতীয় পত্রের জন্য আগে থেকে স্লট সংরক্ষণ, এমনকি রেজাল্ট প্রকাশের ১০ থেকে ১৫ দিন আগে ফল দেখার সুযোগ।
পাসওয়ার্ডের মারপ্যাঁচে অভিনব প্রতারণা: অনুসন্ধানে সবচেয়ে চতুর যে কৌশলের সন্ধান মিলেছে, তা হলো পাসওয়ার্ড সুরক্ষিত এইচটিএমএল লিংকের প্রতারণা। HSC Genuine Questions (2026) নামে চ্যানেলটি এইচটিএমএল লিংকের মাধ্যমে পরীক্ষার আগে পুরোনো প্রশ্ন আপলোড করে পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর তা এডিট করে আসল প্রশ্ন বসিয়ে দেয়। চক্রটি পরীক্ষার আগে টেলিগ্রাম গ্রুপে প্রশ্ন সংবলিত এইচটিএমএল লিংক আপলোড করে, যা পাসওয়ার্ড দিয়ে সুরক্ষিত রাখা হয়। শিক্ষার্থীদের বলা হয়, টাকা দিলে মিলবে ওই লিংকের পাসওয়ার্ড। এ দাবির সত্যতা যাচাইয়ে পক্ষ থেকে পরীক্ষামূলকভাবে টাকা পাঠিয়ে পাসওয়ার্ড চাওয়া হয়। ফিরতি বার্তায় চক্রটি জানায় তোমার পেমেন্ট রিসিভ করা হয়েছে। পাসওয়ার্ডটি তোমার কাছে রেখে দাও এবং শেয়ার করো না। তবে যে পাসওয়ার্ডটি দেওয়া হয়, তা দিয়ে পাঠানো ফাইলটি খোলা যায়নি, পাসওয়ার্ডটি ছিল ভুল। পরে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও সঠিক পাসওয়ার্ড মেলেনি। তবে পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর দেখা যায় ওই লিংকে ক্লিক করলে সত্যিই আসল প্রশ্ন দেখা যাচ্ছে এবং পাসওয়ার্ড সুরক্ষাও আর নেই। অনুসন্ধানে জানা গেছে, যেসব পরীক্ষা শেষ হয়, তাদের কাছ থেকে প্রশ্নপত্র সংগ্রহ করে চক্রটি লিংকে আপলোড করে। যেহেতু লিংকের ভেতরের কনটেন্ট বদলানো হয় এবং এটি টেলিগ্রামের মূল মেসেজও নয়-ফলে মেসেজটিতে এডিটেড চিহ্ন দেখা যায় না। ফলে প্রতারিত শিক্ষার্থীরা নতুন করে ফাঁদে পা না দিলেও এই গ্রুপে নতুন যারা আসে, তারা আগের দিনের পরীক্ষার লিংকের টাইমলাইন দেখে মনে করে লিংকটি পরীক্ষার আগেই দেওয়া হয়েছিল, অর্থাৎ প্রশ্ন সত্যিই ফাঁস হচ্ছে। এ বিশ্বাসই থেকে তারা চক্রটিকে টাকা পাঠায়। আর এভাবেই প্রতারণার চক্রটি ঘুরতে থাকে।
প্রশ্নের পেছনে ছুটছে শিক্ষার্থীরা, নেই অভিভাবকদের তদারকি: অনুসন্ধানে দেখা গেছে-এসব গ্রুপে সংযুক্ত শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশের মধ্যেই ফাঁস হওয়া প্রশ্ন সংগ্রহের ইচ্ছা প্রবল। Hsc Question group নামে একটি টেলিগ্রাম গ্রুপে দেখা গেছে, প্রায় সাড়ে তিনশ সদস্যের ওই গ্রুপে শিক্ষার্থীরা নিজেরাই চাঁদা তুলে ফাঁস হওয়া প্রশ্নের খোঁজ করছে। গ্রুপটির পিন করা বার্তায় লেখা ১০ জন নিবো, এক হাজার প্রতি, প্রশ্ন দিতে পারবে। গ্রুপে নিজেদের মধ্যে আলোচনায় এক শিক্ষার্থী আরেক শিক্ষার্থীকে লিখেছে-বেশি লোক হলে অল্প পড়বে ভাগে। সবাই মিলে একটা রিস্ক নিই। অন্যান্য গ্রুপ পর্যালোচনা করে দেখা গেছে-শিক্ষার্থীরা প্রশ্ন খোঁজার জন্য একত্রিত হয়ে কীভাবে প্রশ্নপত্র সংগ্রহ করা যায়, তা নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা করছে। তবে প্রশ্নের জন্য টাকা দিয়ে প্রতারণার শিকার হওয়া কয়েকজন শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বলেছে এ প্রতিবেদক। একাধিক শিক্ষার্থীর জানায়, এখন পর্যন্ত তারা টাকাপয়সা দিয়ে শুধুই প্রতারিত হয়েছেন। মেউ মেউ (টেলিগ্রামের ছদ্মনাম) এক ইউজারের সঙ্গে কথা হয় প্রতিবেদকের। তিনি বলেন, নিজেদের লোক না থাকলে এমন শিউর হয়ে প্রশ্ন পাওয়া যায় না। তার ধারণা শিক্ষা বোর্ডে লোকজন থাকলেই প্রশ্ন পাওয়া যায়। এসব গ্রুপে শিক্ষার্থীদের এসব বেআইনি তৎপরতায় অভিভাবক পর্যায়ে নজরদারির অভাব দেখা গেছে। এ ছাড়া অনেকে অভিভাবককে ফাঁস হওয়া প্রশ্ন সংগ্রহে নিজের সন্তানদের অর্থ সরবরাহের বিষয়েও নিশ্চিত হওয়া গেছে। এ বিষয়ে জানতে কয়েকজন অভিভাবকের সঙ্গে আলাপ করতে চাইলে তারা প্রথমে এ বিষয়টি অস্বীকার করেন। এক অভিভাবক প্রতিবেদককে অশালীন ভাষা ব্যবহার করে বলেন-আপনি আপনার কাজ করেন। আমার সন্তান কি করবে কি না করবে, সেটা নিয়ে আপনার মাথা ঘামাতে হবে না।
প্রশ্ন ফাঁসের সুযোগ নেই বলছে শিক্ষা বোর্ড: এদিকে চলমান এইচএসসি পরীক্ষায় প্রশ্ন ফাঁসের সুযোগ নেই বলে জানিয়েছে শিক্ষা বোর্ড। প্রশ্নফাঁস-সংক্রান্ত বিষয়ে কথা হয় আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামানের সঙ্গে। এ বিষয়ে কালবেলাকে তিনি বলেন, প্রশ্নপত্র ছাপা থেকে শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছানো পর্যন্ত কঠোর নিরাপত্তার অবলম্বন করা হয়। তাই প্রশ্নফাঁস হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। অনলাইনে প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিষয়টি তার নজরে আনলে তিনি বিষয়টি নিছক প্রতারণা বলে মন্তব্য করেন। সাইবার প্রতারণা বলছেন বিশেষজ্ঞরা এ বিষয়ে সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল তানভীর হাসান জোহা বলেন, প্রশ্নফাঁসের চেয়ে বড় অপরাধ হলো প্রশ্নফাঁসের নামে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের প্রতারণা। টেলিগ্রাম, ফেসবুক বা অন্য কোনো প্ল্যাটফর্মে ১০০% কমন, লিকড প্রশ্ন বা ভিআইপি অ্যাক্সেস নামে যা বিক্রি করা হচ্ছে, তার বেশিরভাগই সুপরিকল্পিত সাইবার প্রতারণা। শুধু টাকা নয়, অনেক ক্ষেত্রে বিকাশ, ব্যাংকিং তথ্য, এমনকি ব্যক্তিগত তথ্যও হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার উচিত এসব চ্যানেল, অ্যাডমিন, অর্থ লেনদেনের মাধ্যম এবং ডিজিটাল ট্রেইল দ্রুত শনাক্ত করে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া। একই সঙ্গে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদেরও সচেতন থাকতে হবে। প্রতারণার ফাঁদে পা দেওয়া যেমন ক্ষতিকর, তেমনি প্রশ্নফাঁসের গুজব ছড়ানোও একটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ। প্রশ্নফাঁসের নামে প্রতারণার বিষয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের সিটি সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার (ডিসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, আমরা এখনো এমন কোনো অভিযোগ পাইনি। তবে আমাদের অনুসন্ধান চলছে। যদি সংশ্লিষ্ট কাউকে গ্রেফতার করতে পারি, তাহলে অবশ্যই সেটি জানানো হবে। টেলিগ্রাম গ্রুপে ভুয়া প্রশ্নফাঁস চক্রের অর্থ জালিয়াতি নিয়ে কথা বলতে চাইলে পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের সাইবার সাপোর্ট সেন্টারের উপপুলিশ কমিশনার মো. শাহরিয়ার আলম কালবেলাকে জানান, তিনি ছুটিতে রয়েছেন। ছুটি থেকে ফিরেই তিনি এ বিষয়ে কাজ করবেন। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস হয়নি-এটিই বড় স্বস্তির খবর। কিন্তু ফাঁস হওয়া প্রশ্নের পেছনে ছোটার প্রবণতা নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে প্রতারক চক্রগুলো প্রতিটি পাবলিক পরীক্ষায় এ ধরনের ফাঁদ পাতবে। শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সচেতনতার পাশাপাশি এসব চক্রকে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি পদক্ষেপ প্রয়োজন বলেও মনে করছেন তারা।
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: কে এম মাসুদুর রহমান, সম্পাদক ও প্রকাশক: মোহাম্মদ মাসুদ।
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: ২১/১ নয়াপল্টন (মসজিদ গলি),ঢাকা - ১০০০।
✆ ০১৫১১৯৬৩২৯৪, ০১৬১১৯৬৩২৯৪ 📧dailysobujbangladesh@gmail.com.
কপিরাইট © ২০২৫ দৈনিক সবুজ বাংলাদেশ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত