স্টাফ রিপোর্টার:
নিয়োগ, বললি, পদোন্নতি, জমি দখলে সাহায্যকারী ও স্বৈরাচারের দোসর অর্ধ যুগ ধরে বসে আছে প্রধান বন রক্ষক হিসেবে
জানাযায়, বন অধিদপ্তরের "সুফল" প্রকল্পসহ বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যাপক দুর্নীতি, অর্থ আত্মসাৎ, ভুয়া বনায়ন, বদলি-পদোন্নতি বাণিজ্য, ক্ষমতার অপব্যবহার ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে প্রধান বন সংরক্ষক (CCF) মোঃ আমির হোসাইন চৌধুরী ও তার অন্যতম সহযোগী প্রকল্প পরিচালক গোবিন্দ রায়সহ এক ডজনরেও বেশি স্বৈরাচারের দোসর যৌথভাবে গিলে খাচ্ছে সারা বাংলাদেশের বনভূমি।
বন অধিদপ্তরের টেকসই বন ও জীবিকা (সুফল) প্রকল্প-এর মূল মেয়াদ ১ জুলাই ২০১৮ থেকে শুরু হয়ে ৩০ জুন ২০২৩ পর্যন্ত নির্ধারিত ছিল পরবর্তীতে কিছু প্যাকেজ বা কার্যক্রমের মেয়াদ পর্যায়ক্রমে ৩১ আগস্ট ২০২৪ এবং বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী সার্বিক প্রকল্প সমাপনীর চূড়ান্ত মেয়াদ ৩১ ডিসেম্বর ২০২৪ পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছিল।
সুফল প্রকল্পের দুর্নীতি ছাড়াও স্বৈরাচারী সরকারের দোসরদের সাথে আতাত করে প্রধান বন রক্ষক আমির হোসাইন চৌধুরী তার অধিদপ্তরের নকশা ও পরিকল্পনা ছাড়াও বিভিন্ন বরাদ্দের অধিকাংশই স্বৈরাচারের দোসরদের পেতে সহযোগিতা করছে না বলে জানা যায়। ‘গ্লোসি মিডিয়া’ নামের প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান ড. সাজ্জাদ হায়দার লিটন বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক এবং পরবর্তীতে প্রেসিডিয়াম সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে অভিযোগ উঠেছে ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে বন অধিদপ্তরের বিভিন্ন অনুষ্ঠান আয়োজন ও প্রচারণার কার্যাদেশ বাগিয়ে নিতেন। পরিবেশ মেলা বা বিশ্ব পরিবেশ দিবসের মতো বিভিন্ন সরকারি কর্মসূচির ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট ও প্রচারণার বরাদ্দগুলো তার প্রতিষ্ঠান একচেটিয়াভাবে পেত বলে গণমাধ্যমের অনুসন্ধানে উঠে আসে।
আগামী ৯ জুলাই বিশ্ব পরিবেশ দিবস ও পরিবেশ মেলার উদ্বোধন হওয়ার কথা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর পূর্বনির্ধারিত সময়সূচির কারণে নির্ধারিত তারিখ পরিবর্তন করে এবার ৯ জুলাই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হচ্ছে। প্রতিবছরের মতো এবারও বন অধিদপ্তর ও পরিবেশ অধিদপ্তরের যৌথ উদ্যোগে দিবসটি উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়নের প্রস্তুতি চলেছে।
তবে অনুষ্ঠান বাস্তবায়নের জন্য দরপত্র প্রক্রিয়া, কাজ বণ্টন এবং ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান নির্বাচন নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, বন অধিদপ্তরের আওতাধীন কার্যক্রম বাস্তবায়নের জন্য ই-জিপির মাধ্যমে দরপত্র আহ্বান করা হলেও শুরু থেকেই এমন কিছু শর্ত সংযুক্ত করা হয়, যা নির্দিষ্ট কয়েকটি প্রতিষ্ঠানকে সুবিধা দেওয়ার উদ্দেশ্যে করা হয়েছে বলে অভিযোগকারীদের দাবি।
অভিযোগকারীরা বলেন, গত প্রায় ১৫ বছর ধরে বন অধিদপ্তরের বিভিন্ন জাতীয় দিবস, সরকারি অনুষ্ঠান ও ইভেন্ট বাস্তবায়নে শেখ মনিরুজ্জামান লিটন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ছিলেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। তাদের দাবি, এবারও তিনি অন্য একটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বন অধিদপ্তরের কাজ পেয়েছেন। একই সঙ্গে ‘ইভেন্ট কম’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানও বন অধিদপ্তরের কার্যক্রমের একটি অংশের দায়িত্ব পেয়েছে। অভিযোগকারীদের ভাষ্য, এর মাধ্যমে পূর্ববর্তী সরকারের সময়ে প্রভাবশালী হিসেবে পরিচিত ব্যক্তিদের সংশ্লিষ্টতা এখনও বহাল রয়েছে।
অন্যদিকে পরিবেশ অধিদপ্তর অনুষ্ঠান বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে পরিকল্পনা ও নকশা আহ্বান করে। গঠিত মূল্যায়ন কমিটি প্রাপ্ত প্রস্তাব যাচাই-বাছাই শেষে তিনটি প্রতিষ্ঠানের নকশা মন্ত্রণালয়ে অনুমোদনের জন্য পাঠায় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়।পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুষ্ঠান বাস্তবায়নের দায়িত্বও ‘ইভেন্ট কম’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানকে দেওয়া হয়েছে মন কি কাজ সম্পন্ন হওয়ার আগেই প্রতিষ্ঠানটির নামে বিল প্রস্তুত বা প্রক্রিয়াকরণ করা হয়েছে। ‘ইভেন্ট কম’-এর মালিক শফিকুল ইসলাম সাবেক প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব তোফাজ্জল মিয়ার ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত। এছাড়া তোফাজ্জল মিয়ার ওই প্রতিষ্ঠানে শেয়ার রয়েছে বলেও বিভিন্ন মহলে গুঞ্জন রয়েছে। ‘গ্লোসি মিডিয়া’র চেয়ারম্যান সাজ্জাদ হায়দার লিটন অতীতে যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ছিলেন এবং পরবর্তীতে একটি শীর্ষ শিল্পগোষ্ঠীর ব্যবস্থাপনা পরিচালকের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। একইভাবে ‘এফ-ফাইভ কমিউনিকেশনস’-এর একাধিক অংশীদার অতীতে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন এবং বিগত সরকারের সময় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন যা কারো অজানা নয়।
এবিষয়ে মন্তব্য জানতে বার বার ফোন ও খুদেবার্তা প্রেরন করেও কোন জবাব পাওয়া যায়নি।
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: কে এম মাসুদুর রহমান, সম্পাদক ও প্রকাশক: মোহাম্মদ মাসুদ।
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: ২১/১ নয়াপল্টন (মসজিদ গলি),ঢাকা - ১০০০।
✆ ০১৫১১৯৬৩২৯৪, ০১৬১১৯৬৩২৯৪ 📧dailysobujbangladesh@gmail.com.
কপিরাইট © ২০২৫ দৈনিক সবুজ বাংলাদেশ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত