স্টাফ রিপোর্টারঃ
নিউজ ব্যুরো অব বাংলাদেশ (এনবিবি) ও মতিঝিল প্রেস ক্লাবের উদ্যোগে দেশবরেণ্য অনুসন্ধানী সাংবাদিক সাঈদুর রহমান রিমনের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার (৩১ জুলাই) মতিঝিল প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়।
এ সময় অন্যান্যদের মধ্যে স্মৃতিচারণ করেন দৈনিক সবুজ বাংলাদেশের সম্পাদক মোহাম্মদ মাসুদ, ঢাকা প্রেস ক্লাবের সহ-সভাপতি শাহ আলম সুরমা, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম মুজতবা ধ্রুব, দেশপত্রের প্রধান সম্পাদক জুয়েল খন্দকার, দেশ অর্থনীতির প্রধান সম্পাদক তুহিন ভূঁইয়া, এনবিবির সম্পাদক নিয়ামুল হাসান নিয়াজ, কাল প্রকাশের সম্পাদক আজিজুল ইসলাম যুবরাজ, জনকথার সম্পাদক ও মতিঝিল প্রেস ক্লাবের সভাপতি আহসান উল্লাহ হাসান, দৈনিক দেশ বার্তার সিনিয়র সাংবাদিক ও মতিঝিল প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক তাইজুল ইসলাম (সবুজ), প্রতিদিনের বাংলাদেশের রাহাত হুসাইন, এনবিবির বিশেষ প্রতিনিধি সৈয়দা রিমি কবিতা, কাল প্রকাশের মোজো রিপোর্টার আশিকুর রহমান আজিমসহ বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ।
স্মৃতিচারণকালে বক্তারা বলেন, দেশের শীর্ষস্থানীয় বিভিন্ন দৈনিকে চার সহস্রাধিক লিড ও ব্যাক লিড প্রকাশের অনন্য নজির একমাত্র রিমনেরই রয়েছে। তাছাড়া সকল বিষয়ে রিপোর্টিং করার রেকর্ডও একমাত্র তারই দখলে। সুপ্রাচীন অতীত কিংবা সুদূর আগামীতেও এ রেকর্ড কেউ ছুঁয়ে দেখবেন—এমনটা কল্পনা করাও অবাস্তব।
জাতীয় পর্যায়ের প্রথম শ্রেণির সকল গণমাধ্যমে রিপোর্টাররা সাধারণত বিটভিত্তিক রিপোর্ট করে থাকেন। কেউ রাজনৈতিক, কেউ কূটনৈতিক, কেউ অর্থনৈতিক, আবার কেউ খেলাধুলা কিংবা বিনোদন বিটে কাজ করেন। কালেভদ্রে কোনো রিপোর্টারকে একাধিক বিটে কাজ করতে দেখা যায়। কিন্তু সাঈদুর রহমান রিমনের ক্ষেত্রেই অর্থনীতি, রাজনীতি, শেয়ারবাজার, অপরাধ, বিনোদন, নাগরিক সেবা, যোগাযোগ ব্যবস্থা, সংসদ, কূটনীতি, দুদক, নির্বাচন কমিশন, আইসিটি, চিকিৎসা, প্রতিরক্ষা, কৃষি, শিক্ষাসহ প্রায় সব বিটে অসংখ্য প্রতিবেদন তৈরির নজির রয়েছে।
এমনকি আইন বিষয়ে বিস্তৃত ধারণা ছাড়া আইন-আদালতসংক্রান্ত স্পর্শকাতর বিষয়ে রিপোর্ট করার ক্ষেত্রে অধিকাংশ গণমাধ্যমেই অলিখিত বিধিনিষেধ রয়েছে। প্রতিটি ক্ষেত্রেই অসাধারণ পারফরম্যান্স দেখিয়ে তিনি অর্জন করেছেন ঈর্ষণীয় সাফল্য। বাংলাদেশের গণমাধ্যমের বাস্তবতায় একমাত্র মেশিনম্যান রিমনের পক্ষেই এমনটি সম্ভব হয়েছে। অথচ বিনয়ী রিমনের কণ্ঠে সবসময়ই শোনা যেত, এখনও ভালো মানের রিপোর্টার হতে পারিনি—এই আক্ষেপ। যেন তিনি কখনোই ক্লান্ত হননি, মেটেনি তার লেখার সাধ। তাই বলা যায়, সাঈদুর রহমান রিমনের জন্মই হয়েছিল রিপোর্ট করার জন্য।
দোয়া ও মিলাদ মাহফিল শেষে এনবিবির সম্পাদক নিয়ামুল হাসান নিয়াজ দেশবরেণ্য অনুসন্ধানী সাংবাদিক সাঈদুর রহমান রিমনের কবর জিয়ারতের ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, আগস্ট মাসে একটি আলোচনা সভার মাধ্যমে আমরা মরহুমের কবর জিয়ারতে যাব।
সাঈদুর রহমান রিমনের সংক্ষিপ্ত জীবনী
সাঈদুর রহমান রিমন ১৯৭১ সালের ৩১ ডিসেম্বর মানিকগঞ্জ জেলার ঘিওর উপজেলার জাবরা পীরবাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা ইউনুস উদ্দিন আহমেদ ছিলেন বিশিষ্ট সাহিত্যিক। ষাটের দশকে তিনি তৎকালীন দৈনিক পাকিস্তান (পরবর্তীতে দৈনিক বাংলা)-এর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। মা সাহারা আহমেদ ছিলেন একজন গৃহিণী। চার ভাই ও দুই বোনের মধ্যে সাঈদুর রহমান রিমন ছিলেন সর্বকনিষ্ঠ। তিনি ১৯৮৪ সালে এসএসসি, ১৯৮৬ সালে এইচএসসি এবং ১৯৯০ সালে বাংলায় অনার্স পাস করেন।
সাভার কলেজে অধ্যয়নরত অবস্থায় ১৯৮৫ সালে তৎকালীন বহুল সমাদৃত সাপ্তাহিক মুক্তিবাণী পত্রিকার মাধ্যমে তার সাংবাদিকতায় হাতেখড়ি। ১৯৮৬ সাল থেকে ১৯৯৩ সাল পর্যন্ত টানা আট বছর তিনি দৈনিক ইত্তেফাকের সাভার সংবাদদাতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। দৈনিক ইত্তেফাকে ধামরাইয়ের মুক্তিপণ আদায়কারী চোখবাঁধা পার্টির নির্মমতা, মানুষের কঙ্কাল, হাড়, রক্ত, কিডনিসহ অঙ্গপ্রত্যঙ্গ বিক্রির রোমহর্ষক কাহিনি এবং শিশু খাদ্যের গুঁড়ো দুধে বিপজ্জনক তেজস্ক্রিয়তা শীর্ষক আলোচিত প্রতিবেদন প্রকাশ করে তিনি ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেন।
১৯৯৪ সালে তিনি দৈনিক আল-আমীন পত্রিকায় স্টাফ রিপোর্টার হিসেবে এবং ১৯৯৭ সালে দৈনিক বাংলাবাজার পত্রিকায় স্টাফ রিপোর্টার (ক্রাইম) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০০ সালের এপ্রিল মাসে তিনি দৈনিক মুক্তকণ্ঠ পত্রিকায় সিনিয়র রিপোর্টার হিসেবে যোগ দেন। ২০০২ সাল থেকে ২০০৪ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তিনি দৈনিক মানবজমিনে এবং ২০০৪ সালের মে মাস থেকে দেশের অন্যতম প্রাচীন পত্রিকা দৈনিক সংবাদে দায়িত্ব পালন করেন।
২০০৯ সালে বসুন্ধরা ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়া গ্রুপের অনলাইন সংবাদমাধ্যম বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম-এ ক্রাইম ইনচার্জ হিসেবে এবং ২০১১ সাল থেকে বাংলাদেশ প্রতিদিনে ইনভেস্টিগেটিভ রিপোর্টিং সেলের ইনচার্জ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০২২ সালের ১ মে তিনি দৈনিক দেশবাংলার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক হিসেবে নিয়োগ পান। ২০২৩ সালের ১ জুন তিনি দৈনিক ঢাকা প্রতিদিন পত্রিকার উপদেষ্টা সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এছাড়াও তিনি বিভিন্ন সময়ে দৈনিক খবর বাংলাদেশ, নতুন সময়, দৈনিক অন্যদিগন্ত, সাপ্তাহিক দেশপত্র, নতুন বার্তা, সাপ্তাহিক সাফকথার প্রধান সম্পাদক এবং সর্বশেষ দৈনিক বাংলাভূমির প্রধান সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
সাঈদুর রহমান রিমন গত ৩০ জুলাই বুধবার হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৫৪ বছর।
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: কে এম মাসুদুর রহমান, সম্পাদক ও প্রকাশক: মোহাম্মদ মাসুদ।
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: ২১/১ নয়াপল্টন (মসজিদ গলি),ঢাকা - ১০০০।
✆ ০১৫১১৯৬৩২৯৪, ০১৬১১৯৬৩২৯৪ 📧dailysobujbangladesh@gmail.com.
কপিরাইট © ২০২৫ দৈনিক সবুজ বাংলাদেশ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত