তারিখ লোড হচ্ছে...

ই-পেপার

শিরোনাম
সীমান্তে ভারতীয় পুশইন প্রতিরোধে শ্রীমঙ্গলে সচেতনতামূলক বৈঠক অনুষ্ঠিত দীঘিনালায় প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের আয়োজনে শিক্ষক আবু শামাকে রাজকীয় বিদায় সংবর্ধনা। ভোলাহাটে আইন শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক ও অন্যান্য সভা অনুষ্ঠিত যমুনায় গোসলে নেমে দুই মাদরাসা ছাত্রের মৃত্যু কালীগঞ্জে টেকসই ও সবুজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে কর্মশালা অনুষ্ঠিত রাংটিয়া-গজনী সড়কের মহিলা মার্কেট এলাকায় দুঃসাহসিক চুরি, পিডিবির ট্রান্সফরমার উধাও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্রকল্প পরিচালক নাফরিজা শ্যামার ‘ডলার বাণিজ্য’ প্রেমের বিয়ে, সাবেক স্বামীর ম্যাসেজে প্রাণ গেল তরুণীর যেভাবে মিলবে ভারতীয় ট্যুরিস্ট ভিসা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চাকরিপ্রত্যাশীদের জন্য সুখবর শেখ হাসিনাসহ ৩৪ জনের বিরুদ্ধে চার্জ গঠনের শুনানি ২৬ জুলাই প্রথম নারী মহাপরিদর্শক পেল ভূমি নিবন্ধন অধিদপ্তর দেড় বছর পর জনি হত্যা মামলার রহস্য উন্মোচন, আসামি গ্রেফতার খুলনায় হাসপাতাল থেকে চোর ও অজ্ঞানপার্টির  ২ নারী সদস্য আটক দাকোপের কামারখোলা প্রধান সড়ক: মরণফাঁদে পরিণত, জনভোগান্তি চরমে নবাবগঞ্জে ডিএন কলেজের এইচএসসি ২০২৬ পরীক্ষার্থীদের বিদায় অনুষ্ঠিত সুনামগঞ্জে শিশু একাডেমির উদ্যোগে রবীন্দ্র নজরুজ জয়ন্তী পালিত সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসকের বক্তব্যের অংশ বিশেষ প্রচারের অভিযোগ দেশে ভয়াবহ হারে বাড়ছে অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী জীবাণু অনিবন্ধিত অনলাইন পোর্টালের জন্য দুঃসংবাদ খাগড়াছড়ির রামগড়ে সেনাবাহিনীর সঙ্গে ইউপিডিএফের গোলাগুলি, নিহত ২ মাদক মামলার জট কমাতে পৃথক ট্রাইব্যুনাল প্রস্তাব করা হয়েছে রংপুরে সরকারি কর্মকর্তা ও গণমাধ্যমের সঙ্গে জেন্ডার ভিত্তিক সহিংসতার পরিস্থিতি নিয়ে সভা অনুষ্ঠিত তিস্তা ও অন্যান্য নদী ব্যবস্থাপনায় দুই দেশের ঐকমত্য মোংলায় বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা ষড়যন্ত্রমূলক মামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন পাটালি গ্রুপের দুই ছিনতাইকারী গ্রেফতার  ৮০ কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা করেছে শেরপুর পৌরসভা   ১৭ বছর পরও অমলিন পপসম্রাট মাইকেল জ্যাকসন দেশের বাজারে আবারও কমলো সোনার দাম চট্টগ্রাম বন্দরে আগুন, নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিস ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্প: নিহত ৩২, আহত ৭০০ ম্যাচ শেষে কান্নায় ভেঙে পড়লেন নেইমার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে চীনা কমিউনিস্ট পার্টির আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রীর সাক্ষাৎ চীনে বাংলাদেশের প্রথম বিনিয়োগ কার্যালয় খোলার ঘোষণা: প্রধানমন্ত্রী মোংলায় বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা ও ওষুধ বিতরণ বাগেরহাটে ২ কেজি গাঁজা ও ২০ পিস ইয়াবাসহ মাদক কারবারি আটক শিল্প-কলকারখানার বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও পরিবেশ সুরক্ষায় সাব- কন্ট্রাক্টিং কনফারেন্স অনুষ্ঠিত ভোলায় পুলিশের ক্যাডেট এএসআই (নিরস্ত্র) পদে নিয়োগ পরীক্ষা রাজস্ব কর্মকর্তা শেখ হারুনুর রশিদের বিরুদ্ধে ঘুষ-দুর্নীতি অভিযোগ দুই দিনের রিমান্ডে আলভী একটি গোষ্ঠী দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে : রিজভী কেমন থাকবে আগামী পাঁচ দিনের আবহাওয়া দুই কোটি ৩৫ লাখ শিশু পাবে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল ২০২৭ সাল থেকে এসএসসি পরীক্ষা জানুয়ারিতে: শিক্ষামন্ত্রী বরগুনায় অসুস্থ ও শয্যাশায়ী বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মাঝে আর্থিক অনুদানের চেক প্রদান ‎সুন্দরবনে সক্রিয় ১৫০ বন্যপ্রাণী শিকারি চক্র গোয়েন্দা নজরদারিতে গ্রেফতারের পরদিন কারাগারে মারা গেলেন চট্টগ্রামের যুবলীগ নেতা ৪ বিঘা জমি কিনে ৬৫ বিঘার প্রকল্প বিক্রি করছে ছুটি রিসোর্ট মাছ ধরতে গিয়ে সাপের কামড়ে প্রাণ গেল শিশুর সিরাজগঞ্জে পুলিশের সাঁড়াশি অভিযানে কার্যনিষিদ্ধ লীগের ৩ নেতা আটক

কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে লুটপাটের নায়ক ৫ কোটিতে সোহরাওয়ার্দীর পরিচালক

কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে লুটপাটের নায়ক ৫ কোটিতে সোহরাওয়ার্দীর পরিচালক
পাঠক সংখ্যা
638

সবুজ বাংলাদেশ ডেস্ক॥

করোনাকালে আওয়ামীপন্থি স্বাচিব নেতা ডা. মোহাম্মদ সেহাব উদ্দীন কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক পদে থেকে দুর্নীতি ও লুটপাটে রামরাজত্ব প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। শ্যালক জাকারিয়া ও ভাগ্নে মহিউদ্দিনের মাধ্যমে এই সেহাব উদ্দীন চিকিৎসা সামগ্রী কেনাকাটায় প্রকৃত দামের চেয়ে বহুগুণ বেশি দাম দেখিয়ে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেন। সেই সময় শীর্ষকাগজসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে তার দুর্নীতি-লুটপাট ও অর্থ আত্মসাতের ধারাবাহিক খবর প্রকাশিত হয়। গত বছরের আগস্ট মাসে ইএনটি হাসপাতালের উপপরিচালক পদ থেকে সেহাব উদ্দীন স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নুরজাহান বেগমকে ৫ কোটি টাকা দিয়ে বাগিয়ে নেন রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের পরিচালকের পদ। এখানে এসেই তিনি নিজের ভাগিনার নেতৃত্বে নতুন করে সিন্ডিকেট গড়ে তোলেন। আউটসোর্সিংসহ বিভিন্ন খাতে অনিয়ম ও দুর্নীতি শুরু করেন। সর্বশেষ তিনি ৩৬টি প্যাকেজে প্রায় ৩০ কোটি টাকার কেনাকাটার আহ্বান করেছেন। নানা রকমের জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে এই কাজ নিজের গড়া সিন্ডিকেট সদস্যদের মধ্যে ভাগবাটোয়ারা করার পাঁয়তারা করছেন। এর মাধ্যমে হাতিয়ে নেবেন বড় অংকের টাকা, বলছেন সংশ্লিষ্টরা।

বেসরকারি একটি হাসপাতালের চিকিৎসক বোরহানকে পরিচালক সেহাব উদ্দীনের আপন ভাগিনা হিসেবেই জানেন সোহরাওয়ার্দী হাসাপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এই বোরহানের মাধ্যমেই অপকর্মের কাজগুলো করে থাকেন সেহাব উদ্দীন। এই সিন্ডিকেটে রয়েছেন ঠিকাদার মাসুদ এবং মোমিন। সেহাব উদ্দীন যখন গত বছরের আগস্টে সোহরাওয়ার্দীর পরিচালক পদে আসেন ওই সময় এ হাসপাতালটিতে ভারী যন্ত্রপাতি খাতে ১ কোটি টাকা বরাদ্দ ছিল। ভাগিনা ডা. বোরহানের নেতৃত্বে গড়ে উঠা সিন্ডিকেটের মধ্যেই ১ কোটি টাকার কেনাকাটা হয়।

টেন্ডার কারসাজির মাধ্যমে সিন্ডিকেটের সদস্য, তামাম করপোরেশনকে কাজ দেওয়া হয়। ভারী যন্ত্রপাতির তালিকায় ঢুকানো হয় এমএসআর মালামাল। এছাড়া আউটসোর্সিং ঠিকাদারের কাছ থেকে প্রতি মাসেই একটি নির্দিষ্ট অংকের টাকা নেন ডা. সেহাব। চলতি অর্থবছরের পুরো বরাদ্দের কেনাকাটার জন্য সর্বশেষ তিনি ৩৬টি প্যাকেজে প্রায় ৩০ কোটি টাকার দরপত্র আহ্বান করেছেন। এমনভাবে টেন্ডার দেওয়া হয়েছে যাতে ডা. সেহাবের পছন্দের ঠিকাদার ছাড়া অন্য কেউ কাজ না পায়। যেমন, টেন্ডারের একটি প্যাকেজে ভারতীয় মেরিলের সঙ্গে যুক্ত করে দেওয়া হয়েছে যুক্তরাজ্যের এথিকন কোম্পানির স্ট্যাপলার, যা একেবারেই অস্বাভাবিক। কোন প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেবেন, তা তিনি আগেই ঠিক করে রেখেছেন। হাসপাতালটিতে বেশকিছু ক্লিনিক্যাল পরীক্ষার যন্ত্র আগে থেকেই আছে। এগুলো হলো- বায়োটেক, ট্রেডসওয়ার্থ, এবিসি, সিক্স মেক্স প্রভৃতি। ড. সেহাব উদ্দিন এই হাসপাতালে আসার পর নতুন আরও কয়েকটি একই ধরনের পরীক্ষা যন্ত্র সরবরাহ নিয়েছেন। এগুলো হলো হেলথ কেয়ার, হোরিবা এবং ওএমসি। এই পরীক্ষা যন্ত্রগুলো কেনা লাগে না, সংশ্লিষ্ট কোম্পানি বিনামূল্যেই সরবরাহ দেয়। আসল ঘাপলা হলো কেমিক্যাল নিয়ে। যন্ত্র ব্যবহারের জন্য সংশ্লিষ্ট কোম্পানির কাছ থেকেই কেমিক্যাল নিতে হবে। এবং এই কেমিক্যালের দাম ধরা হয়ে থাকে প্রকৃত মূল্যের চেয়ে অনেকগুণ বেশি। আগের যেসব পরীক্ষা যন্ত্র সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে আছে, ওই কোম্পানিগুলোর সঙ্গে ড. সেহাবের তেমন একটা বোঝাপড়া হচ্ছিল না তাই তিনি নতুন যন্ত্র সরবরাহ নিয়েছেন।

এদিকে অন্য যেসব চিকিৎসা যন্ত্র মেরামতের প্রয়োজন এগুলোর কার্যাদেশ কোন প্রতিষ্ঠানকে দেবেন তাও তিনি আগে থেকেই নির্ধারণ করে রেখেছেন। চিকিৎসা যন্ত্র মেরামতের সরকারি প্রতিষ্ঠান, নেমিউ (ন্যাশনাল ইলেকট্রো-মেডিক্যাল ইকুইপমেন্ট মেইনটেন্যান্স ওয়ার্কশপ এন্ড ট্রেনিং সেন্টার) এর মাধ্যমে মেরামত না করিয়ে নিজের সিন্ডিকেটের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান তামাম কর্পোরেশনকে কাজটি দেবেন বলে ঠিক করে রেখেছেন। এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রও তৈরি করে রেখেছেন।

কুয়েত বাংলাদেশ মৈত্রী হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক পদে ছিলেন স্বাচিপ নেতা ডা. মোহাম্মদ সেহাব উদ্দীন। প্রতিষ্ঠানটিতে এক রকমের রামরাজত্ব কায়েম করেন তিনি। করোনা সংক্রমণের শুরুর দিকে সরকার এ হাসপাতালটিকে করোনা চিকিৎসার কেন্দ্র হিসেবে ঘোষণা করে। আর এই সুযোগটিকে কাজে লাগিয়ে তিনি নিজের ভাগ্নে এবং শ্যালককে সঙ্গে নিয়ে ব্যাপকহারে লুটপাট চালিয়ে যান। এ নিয়ে গণমাধ্যমে ধারাবাহিকভাবে খবর প্রকাশ ছাড়াও তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, দুদকসহ বিভিন্ন মহলে লিখিত অভিযোগও গেছে। কিন্তু তারপরও সেহাব উদ্দীনের বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো ব্যবস্থাই নেয়া হয়নি, যেহেতু তিনি ছিলেন একজন প্রভাবশালী স্বাচিপ নেতা।

২০১৯-২০ অর্থবছরে কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. সেহাব উদ্দীন শ্যালক জাকারিয়া এবং ভাগ্নে মহিউদ্দিনের মাধ্যমে ভুয়া ট্রেড লাইসেন্স বানিয়ে নিজেই কেনাকাটা করেন। কোনো কোনোটি ক্রয়ে দেখিয়েছেন সাত, আট গুণ, এমনকি দশ গুণ বেশি দামেও। তাও অত্যন্ত নিম্নমানের চিকিৎসা সামগ্রী। আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে মালামাল সরবরাহ না করেই বিল তোলার অভিযোগও আছে। করোনা শুরুর পর্যায়ে এ রকমের ১২ কোটি ১০ লাখ ৬৫ হাজার ৯শ’ টাকার কেনাকাটা করা হয় মেসার্স আলী ট্রেডার্স এবং জি এম ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল- এই দুটি প্রতিষ্ঠানের নামে। এর একটির মালিক জনৈক আলমগীর। তবে এই প্রতিষ্ঠানটির প্যাড ব্যবহার করে কার্যাদেশ নিয়েছেন ডা. সেহাবের শ্যালক জাকারিয়া, অপর প্রতিষ্ঠানটি ভাগ্নে মহিউদ্দিনের। কিন্তু এই দুটি প্রতিষ্ঠানের ট্রেড লাইসেন্সে যে ঠিকানা উল্লেখ করা হয়েছে সরেজমিনে সেইসব ঠিকানায় এ ধরনের কোনো প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্বই খুঁজে পাওয়া যায়নি। অবাক ব্যাপার হলো ভুয়া, অস্তিত্বহীন প্রতিষ্ঠানের নামে বিভিন্ন দফায় ওই সময় মোট ১২ কোটি ১০ লাখ ৬৫ হাজার ৯শ’ টাকার বিল পরিশোধ করা হলেও এর বিপরীতে সরবরাহ নেয়া যন্ত্রপাতির বাজার মূল্য ২ কোটি টাকার বেশি নয়। অর্থাৎ ১২ কোটি টাকার কেনাকাটায় তখন ১০ কোটি টাকাই আত্মসাৎ করা হয়।

মেসার্স আলী ট্রেডার্সকে ভারী যন্ত্রপাতি ক্রয় বাবদ বিল পরিশোধ করা হয় ৮ কোটি ৯০ লাখ ৪৯ হাজার ২শ’ ৫০ টাকা, অন্যদিকে একই সময়ে জি এম ট্রেড ইন্টারন্যাশনালকে এমএসআর ক্রয় বাবদ বিল পরিশোধ করা হয় ৩ কোটি ২০ লাখ ১৬ হাজার ৬৫০ টাকা। কিন্তু জিএম ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল কোনো এমএসআর সামগ্রী সরবরাহ না করেই পুরো বিল তুলে নেয়। মেসার্স আলী ট্রেডার্সের প্যাডে কার্যাদেশ নিয়েছেন ডা. সেহাবের শ্যালক জাকারিয়া। তাকে ৮ কোটি ৯০ লাখ ৪৯ হাজার ২শ’ ৫০ টাকার বিল পরিশোধ করা হলেও সরবরাহ নেয়া যন্ত্রপাতির মূল্য ২ কোটি টাকার বেশি নয়। আদতে ভুয়া ট্রেড লাইসেন্স বানিয়ে ডা. সেহাব উদ্দিন নিজেই বিভিন্ন নামে ব্যবসা করেছেন। এক্ষেত্রে কাজে লাগিয়েছেন শ্যালক জাকারিয়া ও ভাগ্নে মহিউদ্দিনকে।

শুধু যন্ত্রপাতি বা এমএসআর কেনাকাটায়ই নয়;
ডাক্তার, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের থাকা-খাওয়ার বিল পরিশোধের নামেও ব্যাপক লুটপাট চালিয়েছেন। হাসপাতালের পরিচালক না থাকায় ওই সময় ডা. সেহাব উদ্দিন হাসপাতালে করোনার চিকিৎসায় নিয়োজিত ডাক্তার, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের থাকা-খাওয়া নিয়ে বিতর্কিত রিজেন্টের সাহেদের সঙ্গে কয়েকগুণ বেশি দামে চুক্তি করেন। অভিযোগ রয়েছে নার্সদের নিম্নমানের খাবার দেয়ারও। যেখান থেকে বড় অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন ডা. সেহাব। আর ডা. সেহাবের এসব অপকর্মের প্রতিবাদ করায় প্রতিষ্ঠানটির প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. আলীমুজ্জামানকে ওই সময় শাস্তিমূলক বদলি করা হয় বাগেরহাট সিভিল সার্জন অফিসে।

২০১৯-২০ অর্থবছরে এমন দুর্নীতির ঘটনা ঘটলেও এর পরের বার অর্থাৎ ২০২০-২১ অর্থবছরে দুর্নীতি আরো বাড়ে, বহুমাত্রিক রূপ নেয়। শীর্ষ কাগজের অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে, পরের এই অর্থবছরে হাসপাতালের এমএসআর ও ভারী যন্ত্রপাতি কেনাকাটায় কোনোই আইন-কানুন, বিধি-বিধানের তোয়াক্কা করা হয়নি। ৪টি লটের প্রত্যেটিতেই সর্বোচ্চ দরদাতাকে কার্যাদেশ দেয়া হয়েছে। যা সর্বনিম্ন দরদাতার চেয়ে ৯/১০ গুণ বেশি। এসব কার্যাদেশ দেয়া হয় রাজু এন্টারপ্রাইজের নামে, ডা. সেহাব উদ্দীনের শ্যালক জাকারিয়াকে। এছাড়া আগের বছরেরও ভুয়া বকেয়া বিলসহ মোট ১৪ কোটি টাকা সরকারি কোষাগার থেকে তুলে নেয়া হয় ২০২০-২১ অর্থবছরে। কিন্তু প্রতিষ্ঠানটি যে মালামাল সরবরাহ করেছে তার বাজারমূল্য মাত্র ২ কোটি ৮২ লাখ ৫৭ হাজার টাকা। অর্থাৎ এক্ষেত্রে আত্মসাত করা হয়েছে ১১ কোটি ১৭ লাখ ৪৩ হাজার টাকা। শুধু তাই নয়, মালামাল সরবরাহের আগেই পুরো ১৪ কোটি টাকা তুলে নেয়া হয়।

রাজু এন্টারপ্রাইজের মূল যে মালিক, তার গ্রামের বাড়ি ডা. সেহাব উদ্দিনের নিজ এলাকা ফেনীতে। শ্যালক জাকারিয়াকে এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত করে কাজটি দেয়া হয়েছে। শুধুমাত্র রাজু এন্টারপ্রাইজের প্যাড ব্যবহার করা হয়েছে, কিন্তু মালামাল সরবরাহ ও বিল তুলে নেয়াসহ সবকিছুই করেছেন জাকারিয়া। নানারকমের জাল-জালিয়াতি ও অনিয়মের আশ্রয় নেয়া হয়। পূর্ব থেকেই পরিকল্পিতভাবে মেসার্স রাজু এন্টারপ্রাইজের ইচ্ছে অনুযায়ী স্পেসিফিকেশন সেট করে দরপত্র আহ্বান করা হয়। টেন্ডার ওপেনিং ও মূল্যায়ন কমিটি গঠন করা হয় নামেমাত্র। বাস্তবে ডা. সেহাব উদ্দিন যা চেয়েছেন, সেটিই হয়েছে। কোনো রকমের যুক্তিযুক্ত কারণ ছাড়াই দরপত্রে অংশ নেয়া নিম্ন দরদাতাদের নন-রেস্পন্সিভ করে সর্বোচ্চ দরদাতাকে কার্যাদেশ দেয়া হয়।

এমন ব্যাপক দুর্নীতি-লুটপাটের খবর বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট মহলে এ নিয়ে তোলপাড় হয়। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে একটি তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়। কিন্তু তিনি স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ- স্বাচিপের শীর্ষ নেতাদের দিয়ে প্রভাব খাটিয়ে ওই তদন্ত থামিয়ে দেন। এরপর তার বিরুদ্ধে আর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তবে তিনি এতোটা বিতর্কিত হয়ে পড়েন যে, তাকে কুয়েত মৈত্রি হাসপাতালেও আর রাখা যায়নি। বদলি করা হয় ইএনটি হাসপাতালে। এখানেই ঘাপটি মেরে থাকেন শীর্ষ দুর্নীতিবাজ ড. সেহাব উদ্দীন। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে ড. ইউনূসের স্বজনপ্রীতি কোটায় উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য হওয়া দুর্নীতিবাজ স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগমকে ম্যানেজ করে দেশের অন্যতম চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান, সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের পরিচালক পদ বাগিয়ে নেন ডা. সেহাব উদ্দীন। পদটি বিক্রি হয় ৫ কোটি টাকায়। এই টাকা লেনদেন হয় বিদেশে, বলছেন সংশ্লিষ্টরা।
সূত্র: শীর্ষনিউজ

Facebook
X
LinkedIn
Threads
WhatsApp
Telegram
Email

Leave a Comment

একই রশিতে মা-মেয়ের ঝুলন্ত লাশ

স্টাফ রিপোর্টার:  দিনাজপু‌রের খানসামা উপ‌জেলায় একই র‌শি‌তে মা–মেয়ের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। গতকাল বুধবার রাত পৌনে ৯টার দিকে উপ‌জেলার আঙ্গারপাড়া ইউনিয়‌নের আরা‌জি যু‌গির‌ঘোপা গ্রা‌মের বেনুপাড়ায় নিজ বাড়ি থেকে তাঁদের লাশ দুটি উদ্ধার করে পুলিশ। লাশ দুটির পাশ থেকে মৃত্যুর জন্য কেউ দা‌য়ী নয় বলে হা‌তে লেখা এক‌টি চিরকুট পেয়েছে পু‌লিশ। তবে মৃত গৃহবধূর বাবার বাড়ির লোকজনের অভিযোগ, এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। মৃত দুজন হলেন সুজাতা রানী রায় (২৪) ও তাঁর মে‌য়ে নীলা‌দ্রি রানী রায় (৬)। সুজাতা ওই গ্রামের ভক্ত রায়ের স্ত্রী ও পার্শ্ববর্তী পার্বতীপুর উপজেলার বিলাইচণ্ডী ইউনিয়নের বাঘাচড়া গ্রামের ঝাউপাড়ার অমিত‍্য রায়ের মেয়ে। তি‌নি পা‌কেরহ‌াট সরকা‌রি ক‌লে‌জের স্নাতক (সম্মান) তৃতীয় ব‌র্ষের শিক্ষার্থী ছি‌লেন। সুজাতার স্বামী ভক্ত রায় পেশায় দ‌রজি। স্ত্রী-সন্তা‌নের মৃত্যুর পর আত্ম‌গোপ‌নে র‌য়ে‌ছেন তি‌নি। পু‌লিশ ও স্থানীয় সূ‌ত্রে জানা

আরও পড়ুন
language Change