1. md.zihadrana@gmail.com : admin :
ভূয়া পত্রিকা ও অনলাইনের ছড়াছড়ি - দৈনিক সবুজ বাংলাদেশ

১৬ই এপ্রিল, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ । সকাল ৬:৫৫ ।। গভঃ রেজিঃ নং- ডিএ-৬৩৪৬ ।।

সংবাদ শিরোনামঃ
গণপূর্ত অধিদপ্তরের মহা দূর্নীতিবাজ ডিপ্লোমা মাহাবুব আবার ঢাকা মেট্রো ডিভিশনে! ৫ দিন বন্ধের পর আবার সচল বেনাপোল বন্দর টঙ্গীতে চাঁদা না পেয়ে ব্যবসায়ীর উপর হামলা: তদন্তে গিয়ে সিসিটিভি আবদার করলো পুলিশ! ঋণ খেলাপী রতন চন্দ্রকে কালবের পরিচালক পদ থেকে অপসারন দাবি ডেলিগেটদের খিলক্ষেত এলাকার সাধারণ জনগনের আস্থাভাজন ওসি হুমায়ুন কবির মানিক নগরে জুয়াড় আস্তানা থেকে ১৬ জুয়ারীদের আটক করছে পুলিশ কোরানের পাখিদের নিয়ে চন্দনাইশ প্রেস ক্লাবের ইফতার ও দোয়া মাহফিল চেক জালিয়াতির মামলায় সিএনএন বাংলা টিভির শাহীন আল মামুন গ্রেফতার রমজানেও কালব রিসোর্টে আগষ্টিন-রতন-রোমেলের ভেজাল মদের কারবার! নকলা ইউএনও’র বিরুদ্ধে তথ্য কমিশন কর্তৃক গৃহীত সুপারিশের বিরুদ্ধে গণস্বাক্ষরসহ প্রতিবাদ
ভূয়া পত্রিকা ও অনলাইনের ছড়াছড়ি

ভূয়া পত্রিকা ও অনলাইনের ছড়াছড়ি

* বহু মামলার আসামি, চিহ্নিত প্রতারক, চাঁদাবাজ দুর্বৃত্তরাই সম্পাদক-প্রকাশক।

* জাল রেজিষ্ট্রেশন নাম্বারেই অনলাইন, ইপেপার ও প্রিন্ট আকারে প্রকাশ।
* জেলা-উপজেলায় চাহিদা মাফিক টাকার বিনিময়ে রিপোর্টার আইডি প্রদান।

বিশেষ প্রতিনিধি:
বহু মামলার আসামি, চিহ্নিত প্রতারক, চাঁদাবাজ দুর্বৃত্তরা ভূয়া রেজিষ্ট্রেশন নাম্বার ব্যবহার করেই দেশে কয়েক ডজন দৈনিক পত্রিকা প্রকাশ করে চলছে। পাশাপাশি অনুমোদনহীন শত শত অনলাইনের ছড়াছড়ি চলছে দেশজুড়ে। মনগড়া নিউজ আর গুজব নির্ভর এসব পত্রিকা ও অনলাইন সর্বত্রই বিভ্রান্তির নিয়ামক হয়ে উঠেছে। সরকার বিরোধী নানা কল্প কাহিনী প্রচারণা চালিয়েও তারা থাকছে ধরা ছোঁয়ার বাইরে।
রাজধানীসহ দেশের সর্বত্র ভূয়া সাংবাদিক তৈরির কারখানাগুলো নিয়ে আলোচনা সমালোচনার ঝড় বইছে। অশিক্ষিত, গন্ডমূর্খ, সোর্স, চিহ্নিত চাঁদাবাজ, বহু মামলার আসামি, ঘোষিত মাদক ব্যবসায়ি, ফুটপাতের হকার অলৌকিক ভাবে পত্রিকার ডিক্লিয়ারেশন হাতিয়ে রাতারাতি সম্পাদক বনে গেছেন। আবার কেউবা গোটা পত্রিকাটাই কিনে বা হস্তান্তর চুক্তির মাধ্যমে সম্পাদক প্রকাশক হওয়ার সুবিধা অর্জণ করেছেন। এরচেয়েও বেশি ঘটছে রেজিষ্ট্রেশনবিহীন পত্রিকা আর অনলাইন পোর্টাল তৈরির ছড়াছড়ি। কথিত এ সম্পাদকদের অনেকে নিজের নাম সাক্ষর করতেও কলম ভাঙ্গার উপক্রম হয়। কেউ কেউ নাম সাক্ষরের রাবার স্ট্যাম্প বানিয়ে নিয়েছেন।
ডজন ডজন মামলার আসামি এমনকি হত্যা মামলার প্রধান আসামি, তালিকাভুক্ত মাদক ব্যবসায়ি, চিহ্নিত প্রতারক, মলম পার্টির সদস্যরা কোন্ কৌশলে কত টাকার বিনিময়ে পুলিশ গোয়েন্দাদের ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট জুটিয়ে ডিক্লিয়ারেশন হাতিয়েছেন তা বলার সাধ্য নেই। জাল জালিয়াতির সার্টিফিকেটসহ দলিলপত্রাদি জমা দিলেও প্রশাসনিক কর্মকর্তারাও কী এক আশ্চর্য জাদুর বলে সেসব কাগজে চোখ বুজে সই করে দিয়েছেন। বলিহারি সব আয়োজন! দায়িত্বহীন দুর্নীতিবাজদের লুটপাটের ঘৃণ্যচিত্র এসব।
রেজিস্ট্রেশনবিহীন বা কৌশলী ডিক্লিয়ারেশন লাভ করেই কথিত সম্পাদক সাহেবরা দুটি কাজে তড়িৎকর্মা হয়ে উঠেন। ১) শহরের সুবিধাজনক স্থানে ঢাউস সাইজের একটি সাইনবোর্ড টানিয়ে দেন ২) সাংবাদিকতার আইডি কার্ড দেদারছে বিক্রির মহোৎসব। এ শ্রেণীর সম্পাদক প্রকাশকরাই দেশজুড়ে চিহ্নিত অপরাধীদের মাঝে হাজার হাজার কার্ড বিক্রির মাধ্যমে সাংবাদিকবহুল দেশে পরিনত করেছেন। কার্ডধারী অনেকেই নিজেকে লাইসেন্সধারী চাঁদাবাজ হিসেবে পরিচয় দিতেও দ্বিধা করে না। এসব কারণেই কার্ড বিক্রেতা সম্পাদকদের অনেকেই সাংবাদিক তৈরির কারখানা আখ্যা দিয়ে ইয়ার্কীও করে থাকে। বহু ত্যাগ, ঝুঁকি আর সততার অজস্র দৃষ্টান্ত সৃষ্টির গৌরবদীপ্ত পেশা সাংবাদিকতার এহেন অমর্যাদা ও কলঙ্ক লেপনের ঘটনা নিরবে মেনে নেয়া যায় না, যেতে পারে না।

কেসস্টাডি-১ ঃ দশ বছরের জাল পত্রিকা

চট্টগ্রামের শীর্ষ এক প্রতারক টানা ১০ বছর ধরে রেজিষ্ট্রেশনবিহীন নকল দৈনিক পত্রিকা প্রকাশ করে চলছে। পত্রিকাটিতে প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদের নামও প্রচার করা হচ্ছে। জাল লাইসেন্সে প্রকাশিত ভূয়া এ পত্রিকার নাম দৈনিক আলোকিত দেশ। পত্রিকাটির অনলাইন ভার্সন আছে, ফেসবুক পেইজ রয়েছে এমনকি প্রকাশ করা হয় ই-পেপারও। নকল এ পত্রিকাকে পুঁজি করে একদিন, দু’দিন নয় গত দশটি বছর ধরেই তিনি ভয়ঙ্কর জালিয়াতির মাধ্যমে চট্টগ্রামসহ সারাদেশ দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন। জেলায় জেলায় থানায় থানায় রিপোর্টার নিয়োগ দিয়ে চাঁদাবাজির বিস্তারও ঘটিয়েছেন বাধাহীনভাবে। বিশ্বাসযোগ্য করে তুলতে এই প্রতারক “দৈনিক আলোকিত দেশ” নামক পত্রিকাটির ডেটলাইনে রেজিষ্ট্রেশন নম্বর ডিএ-৬০৫৮ হিসেবে মূদ্রণ করলেও তা পুরোপুরি জালিয়াতি কান্ড হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। এরপরও জাল জালিয়াতির ভূয়া ডিএ নাম্বার ব্যবহার করেই পত্রিকাটি বছরের পর বছর যাবত প্রকাশ করে চললেও জেলা প্রশাসন থেকে শুরু করে তথ্য মন্ত্রনালয় পর্যন্ত কেউ তা ঘূর্ণাক্ষরও টের পাননি কেন তা নিয়ে রীতিমত প্রশ্ন উঠেছে।
ভূয়া পত্রিকা জালিয়াতির মাধ্যমে প্রকাশ করার ঘটনা অনুসন্ধানকালে নানাবিধ তথ্য উপাত্ত বেরিয়ে এসেছে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, আলোকিত দেশ নামে একটি দৈনিক পত্রিকার ডিক্লিয়ারেশন নেয়া আছে চুয়াডাঙ্গা জেলা থেকে। ২৩/০৯/২০১৪ তারিখ থেকে মোস্তাফিজুর রহমান নামের একজন সম্পাদক ও প্রকাশক হিসেবে দৈনিক আলোকিত দেশ পত্রিকাটির ডিক্লিয়ারেশন প্রাপ্ত হন। কিন্তু তিনি নানাবিধ কারণে এ পত্রিকা প্রকাশনা অব্যাহত রাখতে পারেননি। চুয়াডাঙ্গার জেলা প্রশাসক জানান, নিয়মিত প্রকাশ না হওয়ায় ২০১৬ সালের ১৬ জুলাই এক পত্রের মাধ্যমে আলোকিত দেশ পত্রিকার ডিক্লিয়ারেশন বাতিল করা হয়। চুয়াডাঙ্গার তৎকালীন জেলা প্রশাসক সায়মা ইউনুস স্বাক্ষরিত ওই আদেশে আদেশে বলা হয়, ছাপাখানা ও প্রকাশনা (ঘোষণা ও নিবন্ধন) অধ্যাদেশ ১৯৭৩ এর ৭ ধারা অনুযায়ী দৈনিক আলোকিত দেশ পত্রিকা নিয়মিত প্রকাশে ব্যর্থ হওয়ায় ডিক্লারেশন বাতিল করা হলো। অথচ প্রতারক জনৈক কে এম রুবেল কথিত দৈনিক আলোকিত দেশ পত্রিকাটি বছরের পর বছর ধরে চট্টগ্রাম থেকে বের করলেও রেজিষ্ট্রেশন নাম্বার হিসেবে ঢাকার ডিএ নাম্বার ব্যবহার করে চলছেন।

কেসস্টাডি-২ ঃ ভুয়া দৈনিক মুক্ত আলো‘র ফাঁদ

প্রায় একই স্টাইলে দৈনিক মুক্ত আলো অনলাইন নিউজ পোর্টাল দীর্ঘদিন যাবৎ ভুয়া (৬৪২৬) রেজিস্ট্রার্ড নম্বর ব্যবহার করে কার্ড বাণিজ্যের প্রতারণা করে আসছে। সরকারি মিডিয়া ভুক্ত জাতীয় দৈনিক মুক্ত আলো পত্রিকা দৈনিক ছাপা খানায় প্রকাশিত হয় মর্মে “সম্পাদক মুক্ত আলো পত্রিকা” ফেসবুক পেইজে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে কার্ড বানিজ্য চালাচ্ছে। বাস্তবে যার না আছে কোন অফিস, না আছে কোন ঠিকানা। এমনকি সম্পাদক ও প্রকাশক আকরাম খান (ছদ্মনাম) ব্যবহার করে আসছে, যার প্রকৃতি নাম শফিকুল ইসলাম। এছাড়াও সে এবং তার সহযোগী মুক্ত আলো পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক শামীম আহমেদ “বন্ধু ওয়েব সাইড” নামে ভুয়া ওয়েব সাইড খুলে অনলাইন নিউজ পোর্টাল বানানোর কথা বলে বিভিন্ন জনের কাছে থেকে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
জানা যায়, শফিকুল ইসলাম ও তার সহযোগী শামীম আহমেদ টঙ্গী আউচ পাড়া মোল্লা বাড়ী এলাকায় দীর্ঘদিন ডিস লাইনে কাজ করতো। তাদের না আছে নূন্যতম শিক্ষাগত যোগ্যতা না আছে সাংবাদিক হওয়ার যোগ্যতা। কিন্তু ভুয়া অনলাইন নিউজ পোর্টাল খুলে সম্পাদক ও প্রকাশক হয়ে গেছে। এছাড়াও, শফিকুলের বিরুদ্ধে টঙ্গীতে বসবাসরত অবস্থায় বিভিন্ন মানুষের নিকট থেকে টাকা আত্মসাৎ করে গাজীপুর শালনায় পলায়ন এবং পরবর্তীতে শালনায় থাকাকালীন সময়ে সেখানেও প্রতারণা মাধ্যমে বিভিন্ন লোকের কাছে থেকে টাকা হাতিয়ে নিয়ে তার দেশের বাড়ি শেরপুর পালিয়ে যায় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। সেখানে বসেই সে দৈনিক মুক্ত আলো নামে “ভুয়া” পত্রিকার নিয়োগ বানিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে। এ ব্যাপারে ভুক্তভোগীরা প্রশাসনের নজরদারির দাবি জানান।

বিজ্ঞ সাংবাদিকরা মনে করেন, যেখানে একটি দৈনিক পত্রিকার অনুমোদন নিতে পোড়াতে হচ্ছে বহু কাঠখড়ি। সেখানে একটি অনলাইন নিউজ পোর্টাল তৈরী করতে মাত্র ২ থেকে ৫ হাজার টাকা বিনিয়োগ করেই বনে যাচ্ছেন সম্পাদক, প্রকাশক কিংবা সাংবাদিক। সর্বত্র মটরসাইকেলে প্রেস লিখে সাংবাদিকের পরিচয় দিয়ে চষে বেড়াচ্ছেন বেশ কিছু ভুয়া সাংবাদিক। টাকার বিনিময়ে দেয়া হচ্ছে অনলাইন নিউজ পোর্টালের প্রেসকার্ড। অনেকেই আবার নিজের স্বাক্ষরিত কার্ডে নিজেই সম্পাদক, প্রকাশক, স্টাফ রিপোর্টার কিংবা জেলা ও উপজেলা প্রতিনিধি’র কার্ড ব্যবহার করছেন।
এসব অনলাইন পোর্টালের সংবাদ পরিবেশনের কোন বৈধতা দেয়া হয়নি। আবেদন করে বৈধতা প্রাপ্তির পর সংবাদ পরিবেশনের বিধান থাকলেও তারা মানছেনা কিছুই। নিজেরাই কার্ডে স্বাক্ষর করে জেলা এবং উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ দিচ্ছেন। একই চক্র তাদের চাঁদাবাজি, ধান্দাবাজিসহ নানা অপকর্ম সাধনকল্পে অন্তত চারটি দৈনিক পত্রিকা মাঝে মধ্যেই বের করে থাকে। পত্রিকাগুলো হচ্ছে, দৈনিক মুক্ত আলো, দৈনিক বাংলার সময়, দৈনিক আমার বাংলাদেশ, দৈনিক আমাদের বাংলাদেশ। মজার ব্যাপার হচ্ছে, যেদিন যে নামের পত্রিকাই তারা ছাপান না কেন, রেজিষ্ট্রেশন নাম্বার হিসেবে ব্যবহার করা হয় ভূয়া ডিএ নাম্বার-৬৪২৬।

কেসস্টাডি-৩ ঃ আলোড়নের আলোড়িত প্রতারণা

শুধু ফেসবুকে ‘দৈনিক আলোড়ন’ পত্রিকার গ্রাফিক্স ডিজাইনের প্রচারনা চালিয়েই চট্টগ্রামের আরেক প্রতারক সিরাজুল মনির সারাদেশ থেকে কোটি টাকা হাতিয়ে গা ঢাকা দিয়েছে।
সাংবাদিকতায় যোগ্যতা, দক্ষতাবিহীন এই প্রকাশকের ঘোষিত পত্রিকাটিও ছিল অনুমোদনবিহীন। অথচ কয়েক মাস ধরে অলিক সব গল্প আর প্রচার প্রচারণা ছড়িয়ে দেশজুড়ে ধামাকা অফার স্টাইলের যদি লাইগ্যা যায় পরিস্থিতি ছড়িয়ে দেয়া হয়। এরপরই প্রতারণার মোক্ষম ফাঁদ পাতেন তিনি। সারাদেশের বিভাগ, জেলা ও উপজেলা এবং বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কেন্দ্রীক সাংবাদিক নিয়োগের সবচেয়ে লোভনীয় বিজ্ঞাপনটির প্রচারণা চালানো হয়। সর্বশেষ ওয়েজবোর্ড অনুযায়ী বেতন ভাতা আধুনিক সুযোগ সুবিধা দেয়ার স্বপ্ন দেখিয়ে তা আরো বিশ্বাসযোগ্য করে তোলেন ব্যাংক একাউন্ট নাম্বার যুক্ত করে আবেদন পাঠানোর নির্দেশনায়। শত শত আগ্রহী প্রার্থী আবেদন করেন, ঝাঁকে ঝাঁকে আসে নতুন মুখও।
ভুক্তভোগিরা জানিয়েছেন, জেলা প্রতিনিধিদের থেকে গড়ে ১০ হাজার এবং উপজেলা প্রতিনিধিদের থেকে ৫ হাজার টাকা হারে প্রথম দফাতেই তিনি ত্রিশ লক্ষাধিক টাকা পকেটস্থ করে নিয়েছেন। এর আগে ব্যুরো প্রধান, স্টাফ রিপোর্টার, স্টাফ ফটো জার্ণালিস্ট এবং জেলা প্রতিনিধি পদে নিয়োগ নিশ্চিত করতেও মোটা অঙ্কের টাকা লেনদেনের ঘটনা ঘটেছে। সব মিলিয়ে প্রতারণার প্রথম ধাপেই সিরাজুল মনির কোটি টাকা পকেটস্থ করেছেন বলেও ভুক্তভোগিরা দাবি করেছেন।
চট্টগ্রাম থেকে একজন সিনিয়র সাংবাদিক জানিয়েছেন, সিরাজুল মুনিরের বাড়ী চট্টগ্রামের বোয়ালখালী এলাকায়। একসময় সে জামায়াতের কর্মি হিসেবে দৈনিক সংগ্রাম পত্রিকার বোয়ালখালী প্রতিনিধি ছিল। একনিষ্ঠ এ জামায়াত কর্মি নিজের চামড়া বাঁচাতে এলাকা ছাড়লেও ঢাকায় পাড়ি জমালেও এখন জীবন ধারনের জন্য প্রতারণাকেই মোক্ষম হাতিয়াড় হিসেবে বেছে নিয়েছেন। দেশব্যাপী ঢাকঢোল পিটিয়ে বিদেশি ৩৭২ কোটি টাকা বিনিয়োগের কথিত আলোড়ন পত্রিকার নিজস্ব কোনো কার্যালয়ই নেই। কোনরকম অফিস ছাড়াই কোটি টাকার ধান্দাবাজি সফল করেছেন কথিত প্রকাশক সিরাজুল মনির। নিয়োগসহ অন্যান্য প্রচার, প্রচারণা ও চিঠিপত্রে আলোড়নের অফিস হিসেবে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার যে ঠিকানাটা ব্যবহার করা হতো তা পুরোপুরি ভূয়া। বারিধারাস্থ বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার “ই” ব্লকের ৬ নম্বর রোডের কোথাও ৭৬ নম্বর বাসাটির অস্তিত্ব নেই। তাছাড়া “আই” ব্লকে গিয়েও সন্ধান মেলেনি রোড নম্বর ও হোল্ডিং নম্বরযুক্ত বাড়িটির। এমনকি গুগল ম্যাপে সার্চ দিয়েও আলোড়ন পত্রিকা অফিসের কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved © 2021
ভাষা পরিবর্তন করুন »