তারিখ লোড হচ্ছে...

ই-পেপার

শিরোনাম
অবহেলিতদের পাশে দাঁড়াতে চান বিএনপি নেতা রাশেদুল হাসান রঞ্জন দীঘিনালায় সেনাবাহিনীর সহায়তা বদলাচ্ছে অসহায়দের জীবন শেরপুরে মা-বাবার ভালোবাসা পেতে ৬৬ লাখ টাকা কবিরাজকে তুলে দেয় মেয়ে মানিকছড়িতে সেনাবাহিনীর উদ্যোগে মেডিকেল ক্যাম্পেইন ভোলাহাটে জ্বালানী তেলের সঙ্কটে দিশেহারা কৃষক পৌরসভায় অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিদায়ী সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত শ্রীমঙ্গলে ওয়ার্ড বিএনপি নেতা আলতাফের কাছে জিম্মি চার গ্রামের মানুষ দেশে সরকারি চাকরিতে শূন্যপদ ৪ লাখ ৬৮ হাজার খালি পেটে রসুন খাওয়ার উপকারীতা মোহাম্মদপুরে ৪ দিনের ব্যবধানে আরও এক খুন তেজগাঁও কলেজ সাংবাদিক সমিতির নেতৃত্বে যুবরাজ-বুশরা টেক্সটাইল মিলের ইনচার্জ বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগ এসএসসি পরীক্ষায় থাকছে ‘সাইলেন্ট এক্সপেল’ এম এম হক আইডিয়াল স্কুলের বার্ষিক ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান সাতক্ষীরায় প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার প্রথম দিন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন আজ আলোচনা করবে লেবানন ও ইসরায়েল প্রধানমন্ত্রী স্বাধীনতা পদক হস্তান্তর করবেন আজ ভোলাহাট প্রেসক্লাবের বনভোজন আয়োজনের প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত শেরপুর সীমান্তঘেঁষা গারো পাহাড় ধ্বংসের পথে গণপূর্তের ইএম শাখা সার্কেল ৪: তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী তৈমুর আলমের দূর্নীতির কীর্তি! ৫ লাখ কর্মচারী নিয়োগ দেবে সরকার ‘ব্যানানা ম্যাঙ্গো’ বছরে দুবার ফলন ও রপ্তানির স্বপ্নে বিভোর পলাশ ডিএনসির অভিযান ৮০ লিটার চোলাইমদ ও ১৪০০ লিটার ওয়াশসহ নারী গ্রেফতার রেজিস্ট্রেশন কমপ্লেক্স দখলে নিয়েছে খিলগাঁও সাব-রেজিষ্টার মাইকেল মহিউদ্দিন দাকোপে কোটি টাকার পিচঢালা রাস্তা এখন মরণফাঁদ চাটখিলে শতবর্ষী ঝুঁকিপূর্ণ ব্রিজ খুলনায় বাস-মোটরসাইকেল সংঘর্ষ রূপসায় যুবককে গুলি করে হত্যার চেষ্টা দৈনিক চাঁপাই দর্পণ-এর যুগপূর্তি ও ই-পেপার উদ্বোধন অনুষ্ঠিত ​সোনামসজিদ সীমান্তে মাদকসহ আটক ১ জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলায় ওয়ার্ড ভিত্তিক প্রকল্প অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত সমুদ্রপথে ইরানের বাণিজ্য বন্ধেরে দাবি জনগণকে ‘ই-হেলথ কার্ড’ দেওয়ার উদ্যাগ নেওয়া হয়েছে : প্রধানমন্ত্রী বিএনপির টিকিট চান ১২০০ জন পহেলা বৈশাখে চন্দ্রিমা ফিটনেস ক্লাবের নতুন কমিটি ঘোষণা বৈশাখী শোভাযাত্রায় নতুন বছরকে বরণ রাজধানীতে জামায়াতে ইসলামীর বৈশাখী শোভাযাত্রা টাঙ্গাইল স্টেডিয়ামে প্রধানমন্ত্রী কালিহাতীতে সিজারিয়ান অপারেশনে পর মৃত্যু কর্মকর্তাদের বাড়ি-গাড়িসহ ৯ খাতে ব্যয় কমালো সরকার দুই মামলায় জামিনের পর হত্যা মামলায় গ্রেফতার মন্ত্রী নুরুজ্জামান ইরানে নৌ অবরোধের হুমকি, যুক্তরাষ্ট্রকে যে বার্তা দিলো চীন ছেলেসহ তিনজনকে কুপিয়ে সাবেক পুলিশ সদস্য নিহত শেরপুরের শিক্ষার্থীদের সিলিং ফ্যান বিতরণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জরুরি নির্দেশনা ৩৬ আসনের বিএনপির ফরম কিনেছেন ১৩০০ জন নারী সাংবাদিককে হেনস্তা কারী ইমারত পরিদর্শক অপি রুবেল গ্রেফতার বগুড়া সিটি করপোরেশন উদ্বোধন করতে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী লুটপাটের সঙ্গী হয়ে টানেল বানিয়ে লাভ নেই: সারজিস সাউন্ড কেলেঙ্কারি ও কোটি টাকার সম্পদ গণপূর্তের আনোয়ারের

ফ্যাসিস্ট আওয়ামী প্রকৌশলীদের হাতের মুঠোয় জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর

পাঠক সংখ্যা
638

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥

ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অনুগতরা ঘাঁটি গেড়ে বসে আছেন জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরে। সরকার পতনের এক বছর পরও জনগণের স্বাস্থ্যসেবা খাতের গুরুত্বপূর্ণ এ দপ্তরটি দোর্দণ্ড প্রতাপে দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন তারা। এদের বিরুদ্ধে দেশের নিরাপত্তা, রাষ্ট্রবিরোধী কার্যক্রমসহ আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগও রয়েছে। আওয়ামী ফ্যাসিবাদের জমানায় হাজার হাজার কোটি টাকার প্রকল্পে পিডি (প্রকল্প পরিচালক) হিসেবে নিযুক্ত হয়েছিলেন একেকজন। সেই সুবাদে আর্থিকভাবে ফুলে-ফেঁপে উঠেছেন তারা। একই সঙ্গে দেশের গুরুত্বপূর্ণ তথ্যভান্ডার ভারতে পাচারের অভিযোগ রয়েছে বেশ আরো কয়েকজন প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে।

সম্প্রতি কয়েকজন প্রকৌশলীকে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালাইসিস উইংয়ের (‘র’) এজেন্ট হিসেবে চিহ্নিত করেছে জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই)। ফ্যাসিবাদের বিগত বছরগুলোতে একাধিক তদন্তে প্রকল্প পরিচালকদের কাজে অনিয়ম-দুর্নীতি ধরা পড়লেও কাউকেই শাস্তির মুখোমুখি হতে হয়নি। উপরন্তু অন্তর্বর্তী সরকারের সময় কেউ কেউ বাগিয়ে নিয়েছেন পদোন্নতি। বাগিয়ে নিয়েছেন বড় বড় নতুন প্রকল্প।

আওয়ামী লীগ সংশ্লিষ্ট কয়েকজন প্রকৌশলীর মধ্যে রয়েছেন অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী শিশির কুমার বিশ্বাস, তার স্ত্রী নির্বাহী প্রকৌশলী শর্মিষ্ঠা দেবনাথ, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী বিধান চন্দ্র দে, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী সাইফুর রহমান, নির্বাহী প্রকৌশলী নাবিলা তাবাসসুম মিকি। তাদের বিরুদ্ধে এনএসআই অধিদপ্তরের সুপারিশের পরিপ্রেক্ষিতে চলতি বছরের গত ২৪ মার্চ দুদক অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয়। নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে এনএসআই অধিদপ্তরের পাঠানো সুপারিশের চিঠিতে বলা হয়েছে, এসব প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ অপরাধের অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে সুনিদির্ষ্টভাবে এদের বিরুদ্ধে আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগও পাওয়া গেছে, যা দুর্নীতি দমন কমিশনই এ তদন্ত করতে পারে। ওই চিঠির ধারাবাহিকতায় জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের এসব কর্মকর্তাদের দুদক তদন্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

এসব ব্যাপারে বর্তমান প্রধান প্রকৌশলী মীর আব্দুস সহিদ বলেন, ‘আমি শুনেছি এবং অনেক বিষয় পত্রপত্রিকায়ও আসছে। কিন্তু বেশি দিন হয়নি আমি দায়িত্বে এসেছি। তবে যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, তাদের ব্যাপারে তদন্তসহ যে কোনো ব্যবস্থা নিতে পারে কেবল সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়। তারা গোয়েন্দা সংস্থা বা নিজেরা তদন্ত করে যদি অধিদপ্তরকে নির্দেশনা দেয়, তাহলে কেবল আমরা তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারি।’

অনুসন্ধানে জানা গেছে, দেশের অধিদপ্তর, পরিদপ্তরগুলোতে প্রধান প্রকৌশলীসহ বিভিন্ন প্রকৌশল পদে কর্মরত ছিলেন আওয়ামী সুবিধাভোগী প্রকৌশলীরা। তারাই ছিলেন উন্নয়নের নামে শেখ হাসিনার মহা লুটপাটতন্ত্রের অন্যতম সহযোগী। হাসিনার অনুগত প্রকৌশলীদের নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে ছিলেন বাংলাদেশ ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটের সাবেক সভাপতি আব্দুস সবুর। তিনি একাধারে আওয়ামী লীগের বিজ্ঞাপন ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক। ২০২৪ সালের ডামি নির্বাচনে সংসদ সদস্য সদস্য হয়েছিলেন। জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে হাসিনা উৎখাত হলেও জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরসহ বিভিন্ন দপ্তরগুলো স্বপদে বহাল রয়েছেন আবদুস সবুর, তথা হাসিনার অনুগত প্রকৌশলীরাই।

শেখ হাসিনা বিভিন্ন দপ্তরে থরে থরে সাজিয়ে গেছেন অনুগত প্রকৌশলীদের। ‘বঙ্গবন্ধু প্রকৌশল পরিষদের মাধ্যমে সাংগঠনিক কাঠামোর আওতায় রেখে তাদের পদায়ন করেন জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে। এ ধারাবাহিকতায় ২০২১ সালের ৩ আগস্ট প্রকৌশলী নজরুল ইসলাম মিয়াকে আহ্বায়ক ও প্রকৌশলী শেখ সাদী রহমত উল্লাহকে সদস্য সচিব করে বঙ্গবন্ধু প্রকৌশল পরিষদ জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর শাখা গঠন হয়। বঙ্গবন্ধু প্রকৌশল পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ড. প্রকৌশলী এম হাবিবুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী নূরুজ্জামান ১১ সদস্যবিশিষ্ট এ কমিটির অনুমোদন দেন।

সূত্র জানিয়েছে, পরিষদের আহ্বায়ক প্রকৗশলী নজরুল ইসলাম মিয়া বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। ২০০৯ সাল থেকে তিনি জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয়ে কর্মরত। ৩২ পৌরসভায় পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন প্রকল্পের পিডি তিনি। প্রকল্পটি ২০১৮ সালে শুরু হয়ে ২০২১ সালে শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্ত নজরুলের অনিয়ম দুর্নীতি ও অদক্ষতার কারণে তিন দফা মেয়াদ বাড়ানো হয়। প্রকল্পের আওতায় একটি পৌরসভাতেও পানি সরবরাহ সম্ভব হয়নি। একটি ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্টও চালু হয়নি। একটি পৌরসভাতেও ফিক্যাল স্ল্যাজ ট্রিটমেন্ট (মলমূত্র ব্যবস্থাপনা) প্ল্যান্টের কাজ শেষ হয়নি। সব সময় তিনি পছন্দের ঠিকাদার দিয়ে কাজ করান। সরকারের বিপুল অর্থেও অপচয় ঘটিয়েও তিনি এই প্রকল্পে বহাল তবিয়তে রয়েছেন।

কমিটির প্রথম সদস্য তুষার মোহন সাধু খাঁ ছিলেন বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক। তিনি ছিলেন একাধারে আর্সেনিক ঝুঁকি নিরসন প্রকল্প ও সমগ্র দেশে নিরাপদ পানি সরবরাহ প্রকল্পের পরিচালক। আর্সেনিক ঝুঁকি নিরসন প্রকল্পটি দুই হাজার ২০০ কোটি টাকার। অন্যদিকে নিরাপদ পানি সরবরাহ প্রকল্পের কলেবর আট হাজার ৮৫০ কোটি টাকার। বিগত ১৬ বছর জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয়ে সব নতুন নিয়োগ, নতুন প্রকল্প ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পদে পদায়ন করেছেন বড় অঙ্কের অর্থ লেনদেনের বিনিময়ে।

এমন সব দুর্নীতিতে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে নির্বিঘ্নে অবসর-পূর্ব ছুটিতে যেতে দেওয়া হয়েছে। তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অনুসন্ধান চললেও এখনো কোনো মামলা করেনি দুদক। বর্তমানে প্রধান প্রকৌশলীর রুটিন দায়িত্ব পালন করছেন প্রকৌশলী মীর আব্দুস সহিদ।

বঙ্গবন্ধু প্রকৌশল পরিষদের নেতাদের মধ্যে সবচেয়ে সৌভাগ্যবান এহতেশামুল রাসেল খান। সাবেক মন্ত্রী তাজুল ইসলাম ও প্রধান প্রকৌশলী সাধু খাঁর আস্থাভাজন হিসেবে বিভাগের সর্বোচ্চ সুবিধা পেয়েছেন তিনি। বিভাগীয় পদোন্নতি কমিটির সুপারিশ ছাড়াই ২০২৪ সালের মে মাসে ২৬ জন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকে ডিঙিয়ে নিয়মের সর্বোচ্চ ব্যত্যয় ঘটিয়ে তাকে অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলীর (পরিকল্পনা) মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব দেওয়া হয়। পাশাপাশি তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ফিজিবিলিটি স্টাডি সার্কেলের চলতি দায়িত্ব দেওয়া হয় তাকে।

জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর ফরিদপুর সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী বাহার উদ্দিন মৃধা বিগত সরকারের আমলে একাধিকবার দুর্নীতিতে অভিযুক্ত হলেও বঙ্গবন্ধু প্রকৗশল পরিষদের সদস্য পরিচয়ে পার পেয়ে যান।

জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী (বর্তমানে জরিপ অনুসন্ধান ও গবেষণা) শিশির কুমার বিশ্বাস। কুয়েট ছাত্রলীগের এই একনিষ্ঠ কর্মী শিশির ঢাকা বিভাগে নির্বাহী পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে যোগসাজশ করে পছন্দের ঠিকাদারদের কোটি কোটি টাকার কার্যাদেশ দিয়েছেন। তার বিরুদ্ধে কোটি কোটি টাকার সরকারি অর্থ আত্মসাতের অনুসন্ধান শুরু করেছে দুদক। এ ছাড়া তার বিরুদ্ধে অধিদপ্তরের অ্যাসিবিলিটি ফর ইমপ্লিমেন্টিং অব সোল্ড ওয়েস্ট অ্যান্ড ফেক্যাল স্টাডিজ ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম ইন ৫৩ ডিস্ট্রিক্ট লেভেল পৌরসভা অ্যান্ড আট সিটি করপোরেশন নামক প্রজেক্টের আওতায় বাংলাদেশের সব পৌরসভা জরিপের নামে গুরুত্বপূর্ণ তথ্যভান্ডার (প্রতিটি বাড়ি ও রাস্তাঘাটের ড্রোন ক্যামেরায় তোলা ছবি ও ভিডিওসহ তথ্য তৈরি করে) এই প্রজেক্টর পিডি হিসেবে নিয়োগ পান শিশির কুমার বিশ্বাস। তিনি এই প্রজেক্টটি টিলার নামক প্রতিষ্ঠানকে দিয়ে বাস্তবায়ন করেন। প্রতিষ্ঠানটি তামজিদুল ইসলাম নামক একজনের হলেও মূলত এ ব্যবসার সঙ্গে জড়িত শিশির নিজেই। আর এই তথ্যভান্ডার ভারতের কাছে পাচার করেছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি জাতীয় নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট বলে উচ্চতর তদন্ত চেয়েছে দুদক।

এসব ব্যাপারে শিশির কুমার বিশ্বাস বলেন, ‘দুদক আমার বিরুদ্ধে তদন্ত করছে, এ ব্যাপার আমার জানা নেই। তবে এ বিষয় নিয়ে আপনার সঙ্গে ফোনে কথা বলব না। সামনা-সামনি কথা বলতে চাই। আর আমার বিরুদ্ধে করা কোনো অভিযোগই ঠিক নয়।’

প্রকৌশলী নুর আহাম্মেদ ছিলেন ডুয়েট ছাত্রলীগের নেতা। একাধিক পদে দায়িত্ব পালনকারী বঙ্গবন্ধু প্রকৌশল পরিষদের এই সদস্য বর্তমানে উপকূলীয় জেলাগুলোতে বৃষ্টির পানি সরবরাহের মাধ্যমে পানি সরবরাহ প্রকল্প নামে দুটি প্রকল্পের পরিচালক। এর আগে ৩৭ জেলা শহরে পানি সরবরাহ প্রকল্প ও পুকুর প্রকল্পের পরিচালক ছিলেন। তার অদক্ষতা ও দুর্নীতির কারণে ৩৭ জেলা শহরে পানি সরবরাহ প্রকল্পের কাজ এত নিম্নমানের হয়েছে, অধিকাংশ পৌরসভাতেই ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট বন্ধ রয়েছে। তার চাকরির মেয়াদ রয়েছে দুই বছরের কিছু বেশি সময়। অত্যন্ত দাপুটে এই কর্মকর্তাকে ৫ আগস্টের পরে সব নিয়মনীতিকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে চার বছর মেয়াদি রোহিঙ্গা প্রকল্পের পরিচালক বানানো হয়েছে।

গ্রাউন্ড ওয়াটার সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব) বিধান চন্দ্র দে। এর আগে আর্সেনিক ঝুঁকি নিরসন প্রকল্পের পিডি ছিলেন। সীমাহীন দুর্নীতির কারণে ২০২৪ সালে প্রকল্পের কাজ শেষ হলেও কোথাও পাইপড ওয়াটার সাপ্লাই স্কিম চালু হয়নি। নিয়ম ভেঙে এক ইউনিয়নের টিউবওয়েল অন্য ইউনিয়নে স্থাপন করা হয়েছে। বেশির ভাগ পিএসএফ ও আরো প্ল্যান্টের কাজ শেষ না করেই বিল দেওয়া হয়েছে। এর আগে গোপালগঞ্জ জেলার নির্বাহী প্রকৌশলী থাকা অবস্থায় দেড় কোটি টাকার একটি পুকুর খনন না করেই সম্পদ ও অর্থ আত্মসাৎ করে ক্ষমতার জোরে ধামাচাপা দেন।

প্রকৌশলী মুন্সি হাচানুজ্জামান ৫২ জেলায় ল্যাবরেটরি স্থাপন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক। তার অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে ৫২ জেলায় নির্মাণকৃত ল্যাবরেটরি ভবন পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। ল্যাবরেটরির জন্য কেনা মূল্যবান মেশিনারিজ পড়ে থেকে নষ্ট হচ্ছে। তিন বছর মেয়াদি প্রকল্প ছয় বছরেও শেষ হয়নি। সরকারি অর্থ অপচয়ের জন্য অডিট আপত্তি হয়েছে। ১৬ কোটি টাকার একটি কাজ পিপিআরের সব নিয়মনীতি লঙ্ঘন করে প্রথম সাতজন দরদাতাকে বাদ দিয়ে অষ্টম স্থানে থাকা তার শ্যালকের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে দিয়েছে। চাকরি জীবনের শুরু থেকে তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ থাকলেও ফরিদপুরের বাসিন্দা সাবেক মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খোন্দকার মোশারফ হোসেনের আশীর্বাদপুষ্ট এই কর্মকর্তা ছিলেন ধরাছোঁয়ার বাইরে।

প্রকৌশলী তবিবুর রহমান তালুকদার বুয়েট ছাত্রলীগের নজরুল গংয়ের সদস্য ছিলেন। দুর্নীতির ‘মহানায়ক হিসেবে পরিচিতি পাওয়া’ এই প্রকৌশলী পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বিধিমালার (পিপিআর) ব্যত্যয় ঘটিয়ে বিভিন্ন প্রকল্পের কাজে সর্বনিম্ন দারদাতাকে বাদ দিয়ে চতুর্থ, পঞ্চম অবস্থানের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে দিয়েছেন। এসব অনিয়মের কারণে প্রকল্পের অগ্রগতি আশঙ্কাজনক কম ও গুণগত মান অত্যন্ত নিম্ন। বিভিন্ন প্রকল্পের পরামর্শকদের বেতন থেকে পারসেন্টেজ গ্রহণ করা এবং টাকার বিনিময়ে এনজিও নিয়োগের ব্যাপক অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

টাঙ্গাইল জেলার নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বঙ্গবন্ধু প্রকৌশল পরিষদের সদস্য সুলতান মাহমুদ। বুয়েট ছাত্রলীগের নজরুল গংয়ের সদস্য ছিলেন তিনি। তার দুর্নীতির কারণে জামালপুরের ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট ও পাইপলাইনের কাজ বন্ধ আছে। দুর্নীতির কারণে খাগড়াছড়ি বদলি হয়েছিলেন সুলতান মাহমুদ। ৫ আগস্টের পর মোটা অঙ্কের টাকা লেনদেনের বিনিময়ে টাঙ্গাইলে পোস্টিং পেয়েছেন। মাগুরা ও গাজীপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী থাকাকালে তার বিরুদ্ধে সীমাহীন দুর্নীতির অভিযোগ ছিল।

 

Facebook
X
LinkedIn
Threads
WhatsApp
Telegram
Email

Leave a Comment

রাজধানী বনানী এলাকায় এরাবিয়ান ক্রেজি সিসা লাউঞ্জের নামে চলছে ব্ল্যাকমেইল সহ মাদক বাণিজ্য 

নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজধানী বনানী এর ১১ নাম্বার রোডে বনানী ফার্মেসির উপরে লিফটের–৪ ,,এরাবিয়ান ক্রেজি সিসা লাউঞ্জে চলছে জমজমাট মাদক ব্যবসাসহ ব্ল্যাকমেইলের রমরমা বাণিজ্য। নানান নামে-বেনামে তরুণ-তরুণী দিয়ে চলছে এই অবৈধ ব্যবসা ও ভয়ংকর অপরাধমূলোক কর্মকাণ্ড। আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে স্থানীয় পুলিশের নাকের ডগার উপরে প্রকাশ্যেই চলছে সিসা লাউঞ্জের নামে মাদক ও দেহ ব্যবসার রমরমা আয়োজন। তেমনি এক অর্থলোভী সিসা লাউঞ্জ ব্যবসায়ীর নাম ,,নিলয় ও সোলেমান হোসেন রনি , । তিনি কলেজ পড়ুয়া মেয়ে ও নারীদের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে ও পরে ব্ল্যাকমেলই করে দেহ ব্যবসা করাতে বাধ্য করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ,,নিলয়ের ও সোলেমান হোসেন রনি, র,, টার্গেট বৃত্তবান প্রভাবশালী সন্তানরা। অল্প বয়সী নারী দিয়ে ফাঁদ পেতে সেন্টারে ডেকে এনে বিভিন্ন উপায়ে করছেন ব্ল্যাকমেলই। এব্যপারে সরজমিনে ওই সিসা

আরও পড়ুন
language Change