ডেস্ক রিপোর্টঃ
রাজধানীতে স্বেচ্ছাসেবক দলের ঢাকা মহানগর উত্তরের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. আজিজুর রহমান ওরফে মুছাব্বির হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের ধরতে অভিযান চলছে। সন্দেহভাজন কয়েকজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। জড়িতদের শনাক্ত করতে সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণসহ অভ্যন্তরীণ বিরোধ ও ব্যবসায়িক দ্বন্দ্বের বিষয়টি নিয়ে তথ্য সংগ্রহ করছে পুলিশ। এরই মধ্যে দুই শুটারকে গোয়েন্দা নজরদারিতে আনা হয়েছে।
বুধবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে অজ্ঞাতনামা অস্ত্রধারী একাধিক যুবক মুছাব্বিরকে কাছ থেকে গুলি করে। ওই সময় তার সঙ্গে থাকা আরেকজন গুলিবিদ্ধ হয়। রাতেই মুছাব্বির মারা যান। এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মুছাব্বিরের স্ত্রী সুরাইয়া বেগম বাদী হয়ে বৃহস্পতিবার অজ্ঞাতনামা ৪-৫ জনের নামে তেজগাঁও থানায় মামলা করেন।
এদিকে, মুছাব্বির হত্যার বিষয়ে জানতে চাইলে ডিএমপি কমিশনার শেখ সাজ্জাত আলী যুগান্তরকে বলেন, মুছাব্বির হত্যার ঘটনার নেপথ্যে রয়েছে চাঁদাবাজি ও আধিপত্য বিস্তার। ঘটনাটি ঘটিয়েছে রহমান। তাকে পাচ্ছি না। তাকে পেলেই সব বেরিয়ে যাবে। রহমানের রাজনৈতিক পরিচয় জানতে চাইলে তিনি বলেন, সে কাওরান বাজারে চাঁদাবাজি করে।
বৃহস্পতিবার রাতে মুছাব্বিরের স্ত্রী সুরাইয়া বেগম যুগান্তরকে বলেন, আমার স্বামী রাজনৈতিক বা ব্যবসায়িক কোনো সমস্যার কথা আমাদের বলতেন না। তবে প্রায়শই তার প্রাণনাশের হুমকির কথা জানাতেন। তিনি বলতেন, ‘আমার তো অনেক বেশি শত্রু হয়ে গেছে, হয় তো যে কোনো সময় আমাকে মেরে ফেলবে।’ এ ঘটনায় আমরা কাউকে সন্দেহ করছি না।
পুলিশের তদন্তে গুরুত্ব পাচ্ছে মুছাব্বিরের রাজনৈতিক বিরোধ, চাঁদাবাজি ও দখল নিয়ে দ্বন্দ্বের বিষয়। এছাড়া মুছাব্বির হত্যার ঘটনার পেছনে কাওরান বাজারে ব্যবসায়ীদের ওপর হামলার ঘটনার যোগসূত্রও খুঁজছে পুলিশ।
সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে, তেজগাঁওয়ের তেজতুরি বাজার এলাকায় (স্টার কাবাবের গলি) মুছাব্বিরকে গুলি করে হত্যার পরই সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে পুলিশ। এরপর বুধবার রাত সাড়ে ১১টায় কাওরান বাজারে সবজি ব্যবসায়ী মো. ফারুক হোসেনকে হেফাজতে নেয় মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) একটি দল। তিনি মহানগর যুবদল ২৬নং ওয়ার্ডের সহসভাপতি। রাত দেড়টায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে থেকে মো. আব্দুল মজিদ মিলনকে হেফাজতে নেয় ডিবি। তিনি ২৬নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক। অন্যদিকে মামলার তদন্তের দায়িত্বে থাকা তেজগাঁও থানা পুলিশ তিনজনকে হেফাজতে নেয়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা হেফাজতে নিয়ে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করছেন।
তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) ইবনে মিজান বলেন, মুছাব্বিরের স্ত্রী মামলা করতে এসে আমাদের বলেছেন বেশ কিছুদিন ধরেই তার স্বামী জীবননাশের হুমকি পাচ্ছিলেন। তবে এই ঘটনায় কোনো জিডি বা মামলা করেননি তারা। আমরা সিসিটিভি ফুটেজে দেখা দুজনকে গ্রেফতারে কাজ করছি। ঘটনাস্থল থেকে ৭.৬৫ বুলেটের তিনটি খোসা উদ্ধার করেছি। এছাড়া কাওরান বাজারে চাঁদাবাজি, ফার্মগেটে গ্যারেজ দখল ও রাজনৈতিক কারণগুলো সামনে রেখে এই হত্যাকাণ্ডের তদন্ত করা হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মুছাব্বির ঢাকা মহানগর উত্তর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক। আওয়ামী লীগ আমলে বহুবার কারাবরণ করেন, এমনকি গুমের শিকারও হন। ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরই কাওরান বাজারের চাঁদা নিয়ে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির শীর্ষ এক নেতাসহ একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে দ্বন্দ্ব তৈরি হয় মুছাব্বিরের। বিরোধ তৈরি হয় যুবদলের বহিষ্কৃত নেতা আবদুর রহমানের সঙ্গেও। হত্যায় তার জড়িত থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
মুছাব্বির দলীয় নির্দেশনায় ঢাকা-১২ আসনে বিএনপির জোটের প্রার্থী বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হককে সমর্থন করেছিলেন বলেও জানান তার স্ত্রী। এটি নিয়েও বিরোধ তৈরি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: কে এম মাসুদুর রহমান, সম্পাদক ও প্রকাশক: মোহাম্মদ মাসুদ।
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: ২১/১ নয়াপল্টন (মসজিদ গলি),ঢাকা - ১০০০।
✆ ০১৫১১৯৬৩২৯৪, ০১৬১১৯৬৩২৯৪ 📧dailysobujbangladesh@gmail.com.
কপিরাইট © ২০২৫ দৈনিক সবুজ বাংলাদেশ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত