স্টাফ রিপোর্টার॥
শেরে বাংলা নগর গণপূর্ত বিভাগ-২ এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জহুরুল ইসলাম ও ঢাকা গণপূর্ত সার্কেল-৩ এর তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. নূরুল আমীন মিয়ার বিরুদ্ধে ঠিকাদারের সাথে আঁতাত করে ১০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের বাতিল করা একটি দরপত্র পুনরায় আহবান করে নির্দিষ্ট ঠিকাদারকে কাজটি পাইয়ে দেওয়ার জন্য এই অর্থের লেনদেন হয়েছে বলে জানা যায়।
জানা যায়, ১২০ কোটি টাকার ৩টি বেসমেন্ট সহ ১২ তলা অফিস ভবন নির্মাণ, প্রশাসনিক এলাকা, অভ্যন্তরীণ স্যানিটারি ও পানি সরবরাহ এবং অভ্যন্তরীণ বিদ্যুতায়ন কাজ প্রকল্পের দরপত্রটি প্রথম যখন আহবান করা হয় তখনই দরপত্রের রেট কোটেশন পছন্দের ঠিকাদার ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট ইঞ্জিনিয়ারিং কো.-কে গোপনে কমিশনের বিনিময়ে দিয়ে দেওয়া হয়। এতে এন. ডি. ই. সেই দরপত্রে সঠিক ১০ শতাংশ কমে দরপত্রে দর দিয়ে নির্বাচিত হয়। কিন্তু এই অনিয়মের তথ্য দুর্নীতি দমন কমিশনের কাছে পৌছালে দুদক গত ২১ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে একটি অভিযান পরিচালনা করে। দুদকের ওই অভিযানের পরে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় অভিযোগের সত্যতা পেয়ে দরপত্রটি বাতিল করে দেয়। প্রথমবার আহবান করা দরপত্রের আইডি ছিল ১১২০৮৫৩।
সেসময় দুদকের এই অভিযান সম্পর্কে শেরে বাংলা নগর গণপূর্ত বিভাগ-২ এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জহুরুল ইসলাম জানান, দুদক যেসক্ল কাগজপত্র চেয়েছে সেগুলো দিয়েছি। অনিয়ম করলে কাগজেই প্রমাণ হবে। গণপূর্ত সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রমাণ পেয়েই দরপত্রটি মন্ত্রণালয় বাতিল করেছে।
দরপত্রটি বাতিল হয়ে যাওয়ার পরে পুনরায় প্রাক্কলন অনুমোদন ছাড়াই ঢাকা গণপূর্ত সার্কেল-৩ এর তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ও শেরে বাংলা নগর গণপূর্ত বিভাগ-২ এর নির্বাহী প্রকৌশলী যোগসাজশে দরপত্রটি ১২০৭৪৯৯ আইডিতে আবার আহবান করেছেন। এবার এই দরপত্রটি জামাল এন্ড কোং.-কে পাইয়ে দেওয়ার জন্য ১০ কোটি টাকায় সমঝোতা হয়েছে বলে জানা যায়।
গণপূর্তের একাধিক কর্মকর্তারা জানান, প্রাক্কলন পুনরায় অনুমোদন ছাড়া একই কাজের দরপত্র নিজের সুবিধার জন্যই আহবান করেছেন নির্বাহী প্রকৌশলী জহুরুল। এতে ঢাকা গণপূর্ত সার্কেল-৩ এর তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. নূরুল আমীন মিয়াও জড়িত। কারণ তার অনুমোদন ছাড়া দরপত্রটি নির্বাহী প্রকৌশলী আহবান করেতে পারেন না। দুজনের মধ্যেই এই অনিয়মের টাকা ভাগাভাগি হয়েছে।
এর আগেও, শেরে বাংলা নগর গণপূর্ত বিভাগ-২ এর নির্বাহী প্রকৌশলী জহুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে বরাদ্দের টাকা কাজ সম্পন্ন না করেই ঠিকাদারের সাথে আঁতাত করে সম্পূর্ন বিল পরিশোধ করার অভিযোগ উঠেছিল। ২০২৪-২০২৫ অর্থ বছরে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের ঢাকার শ্যামলীস্থ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট টিবি হাসপাতাল ও ঢাকার মোহাম্মদপুর ফার্টিলিটি সার্ভিসেস এন্ড ট্রেনিং সেন্টার ও ১০০ শয্যা বিশিষ্ট মা ও শিশু হাসপাতাল (MFSTC) মেরামতের জন্য ৭৮ লাখ টাকা বরাদ্দ পেয়েছিলেন। এই বরাদ্দের টাকা কাজ সম্পন্ন না করেই ঠিকাদারের সাথে আঁতাত করে সম্পূর্ন বিল পরিশোধ করেছিলেন জহুরুল ইসলাম। তিনি ঠিকাদারকে বিশেষ সুবিধা দিতেই এই কাজ করেছিলেন বলে জানা যায়।
এই বিষয়ে বক্তব্য নেওয়ার জন্য শেরে বাংলা নগর গণপূর্ত বিভাগ-২ এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জহুরুল ইসলামের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্ঠা করা হয়। কিন্তু নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জহুরুল ইসলাম ফোন কল রিসিভ করেননি।
ঢাকা গণপূর্ত সার্কেল-৩ এর তত্ত্বাবধায়ন প্রকৌশলী মো. নূরুল আমীন মিয়ার সাথেও তার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্ঠা করে পাওয়া যায়নি।
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: কে এম মাসুদুর রহমান, সম্পাদক ও প্রকাশক: মোহাম্মদ মাসুদ।
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: ২১/১ নয়াপল্টন (মসজিদ গলি),ঢাকা - ১০০০।
✆ ০১৫১১৯৬৩২৯৪, ০১৬১১৯৬৩২৯৪ 📧dailysobujbangladesh@gmail.com.
কপিরাইট © ২০২৫ দৈনিক সবুজ বাংলাদেশ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত