স্টাফ রিপোর্টার॥
লুটেরা স্বৈরশাসক হাসিনা সরকার পালালেও তার দোসর এলজিইডি লুটেরা, মাফিয়া ডন মিরাজ-মহারাজের বিশ্বস্ত সহযোগী এলজিইডির প্রধান কার্যালয়ে পিরোজপুর প্রজেক্টে কর্মরত শতকোটি টাকার হিসাবরক্ষক আনোয়ারুল ইসলাম এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলা মাথায় নিয়ে দিব্যি অফিস করছেন হিসাবরক্ষক আনোয়ার। স্বৈরশাসক হাসিনার পতনের পর হিসাবরক্ষক আনোয়ারুল ইসলাম কিছু দিনের জন্য আত্মগোপনে গেলেও সংশ্লিষ্ট সবাইকে ম্যানেজ করে আবার নিয়মিত অফিস করছেন। সুচতুর আনোয়ারুল ইসলাম নিজ জন্মস্থান ময়মনসিংহের বিভিন্ন এলাকায় নামে বেনামে বিপুল সম্পদের পাহাড় গড়ে তুলেছেন।
ময়মনসিংহ শহর ও তার মামার বাড়ী ঈশ্বরগঞ্জে বিপুল পরিমাণ সম্পদ ক্রয় করেছেন উক্ত আনোয়ার। পিরোজপুরের আলোচিত সমালোচিত মিরাজ মহারাজের ঘনিষ্ট সহোচর আনোয়ার হোসেন কি ভাবে এলজিইডিতে এখনও কর্মরত আছেন এ নিয়ে নানা প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে সহকর্মীরে মাঝে। প্রশ্ন উঠেছে কোন ক্ষমতা বলে আনোয়ারুল ইসলাম আওয়ামী দোসরদের অপকর্মের বিশ্বস্ত সহযোগী হওয়ার পরও বহাল তবিয়তে রয়েছেন। আনোয়ারুল ইসলামের পিতার নাম মৃত নুরুল আমিন, গ্রাম- বাে কলপা (নাজিম ব্যাপারীর বাড়ী), ময়মনসিংহ। সূত্র জানায়, ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের ৯ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা উক্ত আনোয়ারুল ইসলাম বর্তমানে অঢেল সম্পদের মালিক। তার স্ত্রীর নামে ক্রয়কৃত বেশ কয়েকটি ফ্ল্যাটের তথ্য এই প্রতিবেদকের হাতে এসেছে। ফ্ল্যাট ছাড়াও ময়মনমিংহ শহরে আনুমানিক ৫ কোটি টাকার জমি রয়েছে হিসাবরক্ষক আয়োরুল ইসলামের। এছাড়াও ময়মনসিংহ শহরে একটি বহুতল ভবনে তার বেশ কিছু শেয়ার রয়েছে।
আনোয়ারুল ইসলামের নামে বেনামে শত কোটি টাকার সম্পদের খোঁজে দৈনিক পাঞ্জেরীর তথ্যানুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে। এলজিইডির সাবেক পিডি সুশান্ত ও আদনানের বিশ্বস্ত কর্মচারী হিসাবরক্ষক আনোয়ারুল ইসলামের নামে দুদকে মামলা চলমান থাকলেও মোটা অঙ্কের বিনিময়ে সেই মামলা থামিয়ে দেওয়ার অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছেন আনোয়ার গংরা। এক্ষেত্রে এলজিইডির বেশ কয়েকজন পদস্ত কর্মকর্তার নামও এসেছে। তারা দুদককে ম্যানেজ করার পাঁয়তারা চালাচ্ছেন। বিষয়টি জানাজানি হলে আনোয়ারুল ইসলাম গংরা অত্যন্ত গোপনীয়তা রক্ষা করে চলছেন। দুর্নীতিবাজ ও স্বেচ্ছাচারি হিসাবরক্ষক আনোয়ারুল ইসলামের নামে রাজধানীর বিমানবন্দর এলাকায় ১৫ শতাংশ দামী জমিও রয়েছে। যার বাজার মূল্য কয়েক কোটি টাকা। ৫ আগস্টে স্বৈরশাসক হাসিনার পতনের পর উক্ত হিসাবরক্ষক আনোয়ার মিরপুর সরকারি স্টাফ কোয়ার্টার থেকে বাসা পরিবর্তন করে গোপনে অন্যত্র চলে যান। যাতে কিছুদিন তিনি স্বপরিবারে নিরাপদে বসবাস করতে পারেন।
প্রশ্ন উঠেছে, তিনি যদি অপরাধী না হন তাহলে আত্মগোপনে যাবেন কেন। হিসাবরক্ষক আনোয়ারুল ইসলামের রয়েছে দামী ব্যক্তিগত গাড়ী। যাতে তিনি নিয়মিত যাতায়াতও করেন। স্বল্প বেতনভুক্ত কর্মচারি হয়েও চলনে বলনে তার আমূল পরিবর্তন এসেছে। পিরোজপুরের লুটেরা মিরাজ-মহারাজের বিশ্বস্ত সহযোগী হিসাবরক্ষক আনোয়ারুল ইসলামের সঙ্গে তাদের (মিরাজ-মহারাজ) নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে। সম্প্রতি দুর্নীতিবাজ এই হিসাবরক্ষক আনোয়ারুল ইসলাম তার বড় ছেলেকে মোটা অঙ্কের অর্থ ব্যয় করে সিঙ্গাপুরে পাঠিয়েছেন। এতে অনেকেই আশঙ্কা করছেন তার অবৈধ সম্পদ সিঙ্গাপুরে পাচার করে দিতে পারেন। যে কারণে সচেতনমহল দুর্নীতি দমন কমিশনকে আরও দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবী জানিয়েছে। এ ব্যাপারে অভিযুক্ত আনোয়ারুল ইসলামের মোবাইলে বেশ কয়েকবার যোগাযোগ করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।(চলবে)
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: কে এম মাসুদুর রহমান, সম্পাদক ও প্রকাশক: মোহাম্মদ মাসুদ।
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: ২১/১ নয়াপল্টন (মসজিদ গলি),ঢাকা - ১০০০।
✆ ০১৫১১৯৬৩২৯৪, ০১৬১১৯৬৩২৯৪ 📧dailysobujbangladesh@gmail.com.
কপিরাইট © ২০২৫ দৈনিক সবুজ বাংলাদেশ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত