মো: মাসুম বিল্লাহ, খুলনাঃ
খুলনা জেলা খাদ্য দপ্তরের সঠিক তদারকির জন্য এবং সদ্য দায়িত্ব প্রাপ্ত তিন জন ওএমএস মনিটরিং কর্মকর্তা যথাক্রমে খুলনা আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্তক কার্যালয়ের সহকারী রসায়নিকবিদ শেখ মনিরুল হাসান (ভিপি), রুপসা উপজেলা খাদ্য নিয়ন্তক মো: আশারাফুজ্জামান এবং বটিয়াঘাটা উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক অনিন্দ কুমার দাশ এর যৌথ "ফাটাকেষ্ঠ" অভিযানে বিগত দিনের থেকে স্বচ্ছ ভাবে ওএমএস বিক্রি হচ্ছে বলে সচেতন মহলের মন্তব্য। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক ডিলার জানান, যেদিকে তাকাই সেদিকেই মনিটরিং স্যারদের দেখতে পাই।
তাছাড়া ডিসি ফুড স্যারের চোখ এড়ানোও কঠিন। সব মিলিয়ে তারা বলেন,খুলনা ওএমএস কার্যক্রম অনেক স্বচ্ছ ভাবে চলছে। জানাগেছে,প্রতিদিন ১ টা ওয়ার্ডে ১ টন চাল ও ১ টন আটা বরাদ্দ রয়েছে। সেক্ষেত্রে প্রতি ওয়ার্ডে ২ শ জন পুরুষ মহিলা ৫ কেজি আটা এবং ৫ কেজি চাল ক্রয় করতে পারবে। তবে পবিত্র রমজান মাসে সেহেরি খাওয়া শেষ করে ডিলার পয়েন্টে এসে সিরিয়াল দেন। সকালে ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে ঘুরে দেখা যায় সেহরি খাওয়া শেষ করেই ডিলার পয়েন্টে এসে ভিড় জমাতে শুরু করে নারী পুরুষ। তাদের চোখে মুখে আনন্দের হাঁসি। কমদামে চাল আটা পেয়ে বেজায় খুশি তারা। চাউলের মান নিয়ে প্রশ্ন করতেই তারা বলেন,খুলনা সিএসডি গোডাউন থেকে আসা বর্তমান চাউলের মান অন্য সময়ের থেকে অনেক ভালো। তাছাড়া ঐ চাউলের ভাত অনেক সুস্বাদু।
ডিলার পয়েন্টে কোন সমস্যা আছে কিনা,এমন প্রশ্নের জবাবে ভুক্তভোগীরা জানান, প্রতিদিন ৩/৪ বার মনিটরিং কর্মকর্তারা এসে খোঁজখবর নিয়ে থাকেন। তাছাড়া তদারকি অফিসাররা তো সকাল থেকে শেষ পর্যন্ত পয়েন্টে বসে থাকে। তারা আরও জানান, ডিলাররা চাল আটা পেতে নারী পুরুষের সিরিয়াল অনুযায়ী দিয়ে থাকেন। এজন্য আমরা সহজেই চাল আটা কিনতে পারি। তারা খাদ্য দপ্তরকে ধন্যবাদ জানান,বিতরণের আগের দিন পয়েন্টে পয়েন্টে চাল আটা রাখার ব্যবস্হা করার জন্য। খালিশপুরের বাসিন্দা সুফিয়া বেগম, মালতি রায় ও ইন্তাজ উদ্দিন বলেন, আমাদের ৮ নং ওয়ার্ডের ডিলার সেলিম ও ফয়সাল ভাই তারা মিষ্টি ভাষী মানুষ। তারা সৎ ও আদর্শবান লোক। তারা হেঁসে হেঁসে আমাদের সঙ্গে কথা বলেন।
কোন বৃদ্ধ মানুষ চাল আটা কিনতে আসলে সেলিম ভাই নিজেই তার চাল আটাসহ তার ব্যাগটা নিয়ে বাসায় পৌঁছায় দেন। অন্য দিকে গত সপ্তাহের গত ৩/৪ দিনে সকালে, সকালে যে সকল ডিলার পয়েন্টে গিয়ে নারী পুরুষের উপচে পড়া ভিড় ও লাইনে দাঁড়িয়ে চাল আটা কিনতে দেখাগেছে,সেসব ডিলার হচ্ছে ১৩ নং ওয়ার্ডে শহিদুল ইসলাম,১৪ নং ওয়ার্ডে সেলিম আহম্মেদ, ১৬ নং ওয়ার্ডে মোঃ হাসান,২নং ওয়ার্ডে আরমান শিকদার সেন্টু,৩নং ওয়ার্ডে শেখ রওশন মুস্তাফিজ, ৪ নং ওয়ার্ডে গোলাম সামদানী,৫ নং ওয়ার্ডের ডিলার পয়েন্ট, ৯ নং ওয়ার্ডে আবুল কালাম আজাদ,৬নং ওয়ার্ডে মনোয়ারা বেগম (সাবু), ৮ নং ওয়ার্ডে সেলিম রেজা ( ফয়সাল), ৩০ নং ওয়ার্ডে মোঃ স্বপন,২০ নং ওয়ার্ডে আঃ ছালাম ঢালী (মিন্টু), ২১ নং ওয়ার্ডে বিদ্যুৎ রায়,২২ নং ওয়ার্ডে খলিদ হোসেন রাজন, ২৩ নং ওয়ার্ডে মো: গোলাম মোর্শেদ, ২৬ নং ওয়ার্ডে মঞ্জুয়ারা লাভলী,২৯ নং ওয়ার্ডে মাহবুবুর রহমান লিটু (জামিলা), ১৭ নং ওয়ার্ডে সাইয়েদুজ্জামান সম্রাট।
সার্বিক বিষয় জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মোহাম্মদ তানভীর হোসেন বলেন, মনিটরিং কর্মকর্তা এবং প্রতিটা ওয়ার্ডে তদারকি কর্মকর্তা রয়েছে। তারা প্রতিদিন দুই টন চাল আটা বুঝে নিয়ে মাল বিতরণ শেষ না হওয়া পর্যন্ত পয়েন্টে থাকবে। তাছাড়া আমিও পয়েন্টে পয়েন্টে খোঁজখবর নিয়ে থাকি। পয়েন্টে আগের দিন মাল পৌছানোর পর ভিডিও কলে মালের বিবরণসহ দেখে তারপর চাল আটা বন্টন করার নির্দেশ দেওয়া হয়। যত সময় পর্যন্ত মাল শেষ না হবে ততক্ষণ তদারকি কর্মকর্তা উপস্থিত থাকবে। সেক্ষেত্রে কমপক্ষে দুপুর পর্যন্ত পয়েন্ট খোলা থাকতে হবে।
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: কে এম মাসুদুর রহমান, সম্পাদক ও প্রকাশক: মোহাম্মদ মাসুদ।
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: ২১/১ নয়াপল্টন (মসজিদ গলি),ঢাকা - ১০০০।
✆ ০১৫১১৯৬৩২৯৪, ০১৬১১৯৬৩২৯৪ 📧dailysobujbangladesh@gmail.com.
কপিরাইট © ২০২৫ দৈনিক সবুজ বাংলাদেশ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত