স্টাফ রিপোর্টারঃ
বাংলাদেশ ব্যাংকের বিধি অনুসরণ করে গ্রাহকের কাছে জাতীয় পরিচয়পত্র চাইতে গিয়ে মামলার আসামি হয়েছেন সোনালী ব্যাংকের এক শাখা ব্যবস্থাপক। একই ঘটনায় অনুসন্ধানী ভিডিও ডকুমেন্টারি প্রকাশ করায় সাংবাদিকের বিরুদ্ধেও দায়ের হয়েছে মানহানির মামলা। বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ ও নিন্দা জানিয়েছে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ)।
ঘটনাটি রাজধানীর সোনালী ব্যাংক লক্ষীবাজার শাখায়। সংশ্লিষ্ট সূত্র ও মামলার নথি অনুযায়ী, গত বছরের ৯ সেপ্টেম্বর ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেল ইনস্টিটিউট হাসপাতালের সিনিয়র মেডিকেল অফিসার ডা. শাহারিয়া খানম অপর একটি হিসাবে ৭৫ হাজার টাকা পাঠাতে ব্যাংকে যান। বাংলাদেশ ব্যাংকের বিধান অনুযায়ী ৫০ হাজার টাকার বেশি অর্থ অন্য হিসাবে পাঠাতে হলে প্রেরকের জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি জমা দিতে হয়। ব্যাংক কর্মকর্তা ওই নিয়মের কথা জানালে ডা. শাহারিয়া পরিচয়পত্র ছাড়াই টাকা পাঠানোর জন্য চাপ দেন। এ নিয়ে ব্যাংক কর্মকর্তাদের সঙ্গে তার বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে এগিয়ে আসেন শাখা ব্যবস্থাপক মো. জহিরুল ইসলাম সুমন। অভিযোগ রয়েছে, এ সময় উত্তেজিত হয়ে তিনি বিভিন্ন প্রভাবশালীর নাম উল্লেখ করে চাপ সৃষ্টি করেন এবং ব্যাংকের স্বাভাবিক কার্যক্রম প্রায় ৩০ মিনিটের মতো ব্যাহত হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, একপর্যায়ে শাখা ব্যবস্থাপককে তার কক্ষেই আটকে রাখা হয়। পরে সেলিম মিয়া নামে এক গ্রাহক দরজা খুলে তাকে বাইরে বের করে আনেন। তবে ঘটনার পর ডা. শাহারিয়া খানম সোনালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। পরে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ ঘটনাটির তদন্ত করে এবং সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে অভিযোগটি অসত্য বলে উল্লেখ করে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। এ ঘটনার পর অনুসন্ধান চালিয়ে একটি ভিডিও ডকুমেন্টারি প্রকাশ করেন সাংবাদিক মো. মিজানুর রহমান (মাসুম মিজান)। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ওই ভিডিওতে ঘটনার বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হলে তা দ্রুত ভাইরাল হয় এবং ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করে। ভিডিওটি প্রায় ৩৭ লাখবার দেখা হয়, হাজার হাজার শেয়ার ও মন্তব্য পড়ে।
এরপর গত বছরের ১১ নভেম্বর ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি মানহানির মামলা দায়ের করেন ডা. শাহারিয়া খানম। মামলার নম্বর সিআর-৩৭৫/২৫। আদালত মামলার তদন্তভার সূত্রাপুর থানাকে দেয়। পুলিশ গত ৫ মার্চ আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়। প্রতিবেদনে ঘটনার বিস্তারিত বিবরণে সাংবাদিক ও ব্যাংক ম্যানেজারের মধ্যে কোনো যোগসাজশের প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে প্রতিবেদনের শেষাংশে বাদীর অভিযোগ ‘প্রাথমিকভাবে সত্য’ বলে মতামত দেওয়ায় এতে কিছুটা অসামঞ্জস্য রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। সোনালী ব্যাংক প্রধান কার্যালয়ের একটি সূত্র জানায়, ঘটনার সময় প্রভাব খাটিয়ে নিয়ম ভেঙে টাকা জমা নিতে বাধ্য করা হয়েছিল শাখা কর্তৃপক্ষকে। এ ঘটনায় ব্যাংকের তদন্ত শেষে শাখা ব্যবস্থাপকের বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এদিকে সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ)।
সংগঠনটির সভাপতি আবু সালেহ আকন ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেল এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন, জনস্বার্থে কোনো ঘটনার অনুসন্ধান করে তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে প্রতিবেদন প্রকাশ করা সাংবাদিকতার মৌলিক দায়িত্ব। সেই দায়িত্ব পালন করায় একজন সাংবাদিককে মামলার আসামি করা অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিপন্থী। ডিআরইউ নেতারা অবিলম্বে সাংবাদিক মো. মিজানুর রহমান (মাসুম মিজান)-এর বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাটি প্রত্যাহারের দাবি জানান এবং সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে নিরাপদ ও স্বাধীন পরিবেশ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান। ডা. শাহারিয়া খানম গনমাধ্যমকে বলেন, একজন ব্যাংক ম্যানেজার হিসেবে গ্রাহকের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা ঠিক হয়নি। এছাড়া তার অনুমতি ছাড়া ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ ফুটেজ ব্যবহার করে ভিডিও প্রকাশ করা হয়েছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন। বিষয়টি এখন আদালতের বিচারাধীন বলে তিনি জানান।
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: কে এম মাসুদুর রহমান, সম্পাদক ও প্রকাশক: মোহাম্মদ মাসুদ।
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: ২১/১ নয়াপল্টন (মসজিদ গলি),ঢাকা - ১০০০।
✆ ০১৫১১৯৬৩২৯৪, ০১৬১১৯৬৩২৯৪ 📧dailysobujbangladesh@gmail.com.
কপিরাইট © ২০২৫ দৈনিক সবুজ বাংলাদেশ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত