তারিখ লোড হচ্ছে...

ই-পেপার

শিরোনাম
চাঁপাইনবাবগঞ্জে আন্তঃবিভাগ বিতর্ক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত সীমান্ত হবে নিরাপদ, অপরাধ হবে শূন্য-বিজিবি চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে বিজিবির অভিজানে ভারতীয় মোবাইল ফোন জব্দ সংসদে সংস্কার না হলে রাজপথে কঠোর লড়াই একাধিক মামলার আসামিকে কুপিয়ে হত্যা গৃহবধূকে দলবদ্ধ ধর্ষণের মামলায় ৩ জনের মৃত্যুদণ্ড বাইক বিক্রি করে সেতু করে দিলেন দিনমজুর ঢাকা শহরের একেক এলাকায় তাপমাত্রা, ৫ ডিগ্রিরও বেশি সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের সেই ডা. সেহাব এখনো বেপরোয়া বয়স কমাতে চান এর চিকিৎসা কতটা কার্যকর জেনে নিন বাথরুম থেকে যুবকের গলা কাটা মরদেহ উদ্ধার সত্যকে কখনও আড়াল করে রাখা যায় না হাম পরিস্থিতি ধীরে ধীরে নিয়ন্ত্রণে আসছে ফায়ার সার্ভিস ডিজির বিরুদ্ধে অপপ্রচারের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় হত্যার হুমকি শামীম ওসমানসহ ১২ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ এসএসপি নির্বাচনে দপ্তর সম্পাদক পদে লড়ছেন মিম আক্তার সৌদি পৌঁছালেন ২৭ হাজার ৩২৫ হজযাত্রী রাশিয়া-উত্তর কোরিয়া সংযোগকারী সেতুর উদ্বোধন রাজারহাট-আনন্দবাজার সড়কের বেহাল দশা জনসেবার দোহাই দিয়ে জনগণের টাকায় এমপিদের বিলাসিতা অনৈতিক মনিরা শারমিনের মনোনয়ন বাতিল তেলের দাম বাড়ানোর পরেও কমেনি পাম্পে গাড়ির লাইন রেল ও লঞ্চের ভাড়া বাড়ানোর বিষয়ে এখনও সিদ্ধান্ত হয়নি দূরপাল্লা ও আন্তজেলায় ১১ পয়সা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর সচিব বরখাস্ত মাটি চাপায় ২ জন নিহত মেডিকেলে ভাংচুর সরকারের গ্রিন সিগন্যালের অপেক্ষায় সেনাবাহিনী নোয়াখালীর সোনাইমুড়ীতে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনা: নিহত ১ বিশ্বকাপে ইরানের বদলে ইতালিকে চান ট্রাম্প একাদশে দুই পরিবর্তন নিয়ে ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ আমার দেশ প্রতিনিধির উপর বিএনপি নেতার হামলা মাঝে মাঝে বিদ্যুৎ যায় নাকি আসে, প্রশ্ন আসিফ মাহমুদের হাতকড়াসহ পালিয়ে যাওয়া আ.লীগ নেতা গ্রেফতার বরগুনায় দৈনিক পুনরুত্থান পএিকার ১৩ তম বছরপূর্তি উদযাপন গুপ্ত’ রাজনীতির প্রতিবাদে ছাত্রদলের বিক্ষোভ দুই মাসে কত ধরনের কার্ডের সঙ্গে পরিচিত হলো মানুষ বিলিং সিস্টেম আধুনিকায়ন: নোয়াখালীতে ৪ দিন বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ ব আব্দুল মান্নানকে বিচারিক ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেওয়া হলো সংরক্ষিত আসনে বিএনপির সব প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ বিদ্যুৎ সংকটে খাজা ইউনুস আলী বিশ্ববিদ্যালয় ৪ দিন বন্ধ চট্টগ্রামে মাটি চাপায় প্রাণ গেল ২ শ্রমিকের জ্বালানি সংকটে বিকল্প হিসেবে নবায়নযোগ্য জ্বালানীর সমাধানে সংবাদ সম্মেলন দুই জেলায় নতুন ডিসি নিয়োগ সিরাজগঞ্জে শ্রমিক ইউনিয়নের ত্রিবার্ষিক সভা অনুষ্ঠিত পরিবহনের নতুন ভাড়া নির্ধারণ আজ বিশ্ব পৃথিবী দিবসে শেরপুরে স্বেচ্ছাসেবীদের উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি জাইমা রহমানকে নিয়ে ফেসবুকে বিতর্কিত পোস্ট, আটক শিক্ষার্থী বাজারে কমল স্বর্ণের দাম প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী হলেন জিয়াউদ্দিন হায়দার সেচ পাম্পের ৩ ট্রান্সফরমার চুরি

সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের সেই ডা. সেহাব এখনো বেপরোয়া

সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের সেই ডা. সেহাব এখনো বেপরোয়া
পাঠক সংখ্যা
638

স্টাফ রিপোর্টার॥
করোনাকালে আওয়ামীপন্থি চিকিৎসক সংগঠন- স্বাচিপ নেতা ডা. মোহাম্মদ সেহাব উদ্দীন কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক পদে থেকে দুর্নীতি ও লুটপাটের রামরাজত্ব কায়েম করেছিলেন। যা নিয়ে তখন বিভিন্ন গণমাধ্যমে ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন এবং ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের পর ধরে নেওয়া হয়েছিল যে, এইসব দুর্নীতির বিচার হবে, দুর্নীতিবাজদের শাস্তি হবে। কিন্তু দেখা গেলো, সবাইকে অবাক করে দিয়ে দেশের গুরুত্বপূর্ণ এবং বৃহৎ প্রতিষ্ঠান- সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের পরিচালকের পদ বাগিয়ে নিলেন এই ডা. সেহাব উদ্দীন। ড. ইউনূসের স্বজনপ্রীতি কোটায় উপদেষ্টা পরিষদে নিয়োগ পাওয়া নূরজাহান বেগম ৫ কোটি টাকার বিনিময়ে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের পরিচালক পদ বিক্রি করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। হাসপাতালটির পরিচালক পদ পেয়েই সেহাব উদ্দীন অনিয়ম-দুর্নীতির পুরনো খেলায় মেতে উঠেন। আউটসোর্সিং ঠিকাদার থেকে শুরু করে এমন কোনো খাত নেই, যা থেকে তিনি ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিল করছেন না। এ কাজে নিজের ভাগিনা এবং শ্যালককেও নিয়োজিত করেছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

আরও অবাক ব্যাপার হলো, দুর্নীতি দমনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এই বিএনপি সরকারের আমলেও ডা. সেহাব উদ্দীন একই বেপরোয়া অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছেন। ৩৬টি প্যাকেজে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের প্রায় ৩০ কোটি টাকার কেনাকাটার দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। এসব দরপত্রে পিপিআর লঙ্ঘন করে এমন ভয়াবহ কারসাজির আশ্রয় নিয়েছেন, যাতে শুধুমাত্র নিজের পছন্দের প্রতিষ্ঠানকেই কার্যাদেশ দিতে পারেন। খোদ সোহরাওয়ার্দীর দরপত্র মূল্যায়ন কমিটিই এসব কারসাজি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। গণমাধ্যমে এ নিয়ে সংবাদও প্রকাশিত হয়েছে। কিন্তু তাতে মোটেই দমেননি বেপরোয়া দুর্নীতিবাজ ডা. সেহাব। মন্ত্রণালয়কে ম্যানেজ করে মূল্যয়ন কমিটির সদস্যদের ওপর প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা চালাচ্ছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, বর্তমান স্বাস্থ্য সচিবকে ম্যানেজ করে আওয়ামী দোসর, শীর্ষ দুর্নীতিবাজ ডা. সেহাব উদ্দীন এই বিএনপি আমলেও বহাল-তবিয়তে রয়েছেন। এমনকি অতিরিক্ত প্রভাব খাটানোরও সুযোগ পাচ্ছেন। গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী সরকারের পতনের পরে অন্তর্বর্তী সরকারের দেড় বছরে বিএনপি সমর্থিত যেসব আমলা ব্যাপকহারে অনিয়ম-দুর্নীতি করেছেন তারমধ্যে এ বি এম আব্দুস সাত্তারের পরেই রয়েছে কামরুজ্জামান চৌধুরীর নাম। স্বাস্থ্যসচিব পদে এসেই নতুন মাত্রায় শুরু করেছেন দুর্নীতি-অপকর্ম। যদিও দেশের দুর্নীতি দমনে বিএনপি সরকার এবং সরকার প্রধানের দৃঢ় প্রতিশ্রুতি রয়েছে। নতুন স্বাস্থ্যমন্ত্রী এবং প্রতিমন্ত্রীও এ ব্যাপারে আলাদাভাবে কমিটমেন্ট দিয়েছেন একাধিকবার।

সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে যা করছেন বেপরোয়া দুর্নীতিবাজ সেহাব:
বেসরকারি একটি হাসপাতালের চিকিৎসক বোরহানকে পরিচালক সেহাব উদ্দীনের আপন ভাগিনা হিসেবেই জানেন সোহরাওয়ার্দী হাসাপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এই বোরহানের মাধ্যমেই অপকর্মের কাজগুলো করে থাকেন সেহাব উদ্দীন। এই সিন্ডিকেটে রয়েছেন ঠিকাদার মাসুদ এবং মোমিন। সেহাব উদ্দীন যখন গত বছরের আগস্টে সোহরাওয়ার্দীর পরিচালক পদে আসেন ওই সময় এ হাসপাতালটিতে ভারী যন্ত্রপাতি খাতে ১ কোটি টাকা বরাদ্দ ছিল। ভাগিনা ডা. বোরহানের নেতৃত্বে গড়ে উঠা সিন্ডিকেটের মাধ্যমেই ১ কোটি টাকার কেনাকাটা হয়।

টেন্ডার কারসাজির মাধ্যমে সিন্ডিকেটের সদস্য, তামাম করপোরেশনকে কাজ দেওয়া হয়। ভারী যন্ত্রপাতির তালিকায় ঢুকানো হয় এমএসআর মালামাল। এছাড়া আউটসোর্সিং ঠিকাদারের কাছ থেকে প্রতি মাসেই একটি নির্দিষ্ট অংকের টাকা নেন ডা. সেহাব। চলতি অর্থবছরের পুরো বরাদ্দের কেনাকাটার জন্য সর্বশেষ তিনি ৩৬টি প্যাকেজে প্রায় ৩০ কোটি টাকার দরপত্র আহ্বান করেন। এমনভাবে টেন্ডার দেওয়া হয়েছে যাতে ডা. সেহাবের পছন্দের ঠিকাদার ছাড়া অন্য কেউ কাজ না পায়। যেমন, টেন্ডারের একটি প্যাকেজে ভারতীয় মেরিলের সঙ্গে যুক্ত করে দেওয়া হয়েছে যুক্তরাজ্যের এথিকন কোম্পানির স্ট্যাপলার, যা একেবারেই অস্বাভাবিক। কোন প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেবেন, তা তিনি আগেই ঠিক করে রেখেছেন। হাসপাতালটিতে বেশকিছু ক্লিনিক্যাল পরীক্ষার যন্ত্র আগে থেকেই আছে। এগুলো হলো- বায়োটেক, ট্রেডসওয়ার্থ, এবিসি, সিক্স মেক্স প্রভৃতি। ডা. সেহাব উদ্দিন এই হাসপাতালে আসার পর নতুন আরও কয়েকটি একই ধরনের পরীক্ষা যন্ত্র সরবরাহ নিয়েছেন। এগুলো হলো হেলথ কেয়ার, হোরিবা এবং ওএমসি। এই পরীক্ষা যন্ত্রগুলো কেনা লাগে না, সংশ্লিষ্ট কোম্পানি বিনামূল্যেই সরবরাহ দেয়। আসল ঘাপলা হলো কেমিক্যাল নিয়ে। যন্ত্র ব্যবহারের জন্য সংশ্লিষ্ট কোম্পানির কাছ থেকেই কেমিক্যাল নিতে হবে। এবং এই কেমিক্যালের দাম ধরা হয়ে থাকে প্রকৃত মূল্যের চেয়ে অনেকগুণ বেশি। আগের যেসব পরীক্ষা যন্ত্র সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে আছে, ওই কোম্পানিগুলোর সঙ্গে ডা. সেহাবের তেমন একটা বোঝাপড়া হচ্ছিল না তাই তিনি নতুন যন্ত্র সরবরাহ নিয়েছেন।

এদিকে অন্য যেসব চিকিৎসা যন্ত্র মেরামতের প্রয়োজন এগুলোর কার্যাদেশ কোন প্রতিষ্ঠানকে দেবেন তাও তিনি আগে থেকেই নির্ধারণ করে রেখেছেন। চিকিৎসা যন্ত্র মেরামতের সরকারি প্রতিষ্ঠান, নেমিউ (ন্যাশনাল ইলেকট্রো-মেডিক্যাল ইকুইপমেন্ট মেইনটেন্যান্স ওয়ার্কশপ এন্ড ট্রেনিং সেন্টার) এর মাধ্যমে মেরামত না করিয়ে নিজের সিন্ডিকেটের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান তামাম কর্পোরেশনকে কাজটি দেবেন বলে ঠিক করে রেখেছেন। এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রও তৈরি করে রেখেছেন।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অর্থবছর প্রায় শেষ হয়ে আসছে, কিন্তু কেনাকাটার বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত করা যায়নি। ডা. সেহাব উদ্দীনের বেপরোয়া দুর্নীতি প্রবণতার কারণে এ নিয়ে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। ৩৬টি প্যাকেজের মধ্যে অধিকাংশ প্যাকেজেই স্পেসিফিকেশন নির্ধারণে ভয়াবহ রকমের জাল-জালিয়াতির আশ্রয় নেওয়া হয়েছে। দরপত্র মূল্যায়ন কমিটির সদস্যরা বলছেন, এসব প্যাকেজের টেন্ডার গ্রহণ করা হলে ভবিষ্যতে দুর্নীতির মামলায় ফেঁসে যাবেন। তাই পুনঃদরপত্র আহ্বানের সুপারিশ করতে চান। কিন্তু পরিচালক ডা. সেহাবের চাপের কারণে তা পারছেন না। সচিবের প্রভাব খাটিয়ে তিনি অবৈধভাবে টেন্ডার অনুমোদনের জন্য কমিটির ওপর চাপ সৃষ্টি করছেন।

কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে লাগামহীন লুটপাটের নায়ক এই সেহাব উদ্দীন:
কুয়েত বাংলাদেশ মৈত্রী হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক পদে ছিলেন স্বাচিপ নেতা ডা. মোহাম্মদ সেহাব উদ্দীন। প্রতিষ্ঠানটিতে এক রকমের রামরাজত্ব কায়েম করেন তিনি। করোনা সংক্রমণের শুরুর দিকে সরকার এ হাসপাতালটিকে করোনা চিকিৎসার কেন্দ্র হিসেবে ঘোষণা করে। আর এই সুযোগটিকে কাজে লাগিয়ে তিনি নিজের ভাগ্নে এবং শ্যালককে সঙ্গে নিয়ে ব্যাপকহারে লুটপাট চালিয়ে যান। এ নিয়ে গণমাধ্যমে ধারাবাহিকভাবে খবর প্রকাশ ছাড়াও তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, দুদকসহ বিভিন্ন মহলে লিখিত অভিযোগও গেছে। কিন্তু তারপরও সেহাব উদ্দীনের বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো ব্যবস্থাই নেয়া হয়নি, যেহেতু তিনি ছিলেন একজন প্রভাবশালী স্বাচিপ নেতা।

২০১৯-২০ অর্থবছরে কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. সেহাব উদ্দীন শ্যালক জাকারিয়া এবং ভাগ্নে মহিউদ্দিনের মাধ্যমে ভুয়া ট্রেড লাইসেন্স বানিয়ে নিজেই কেনাকাটা করেন। কোনো কোনোটি ক্রয়ে দেখিয়েছেন সাত, আট গুণ, এমনকি দশ গুণ বেশি দামেও। তাও অত্যন্ত নিম্নমানের চিকিৎসা সামগ্রী। আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে মালামাল সরবরাহ না করেই বিল তোলার অভিযোগও আছে। করোনা শুরুর পর্যায়ে এ রকমের ১২ কোটি ১০ লাখ ৬৫ হাজার ৯শ’ টাকার কেনাকাটা করা হয় মেসার্স আলী ট্রেডার্স এবং জি এম ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল- এই দুটি প্রতিষ্ঠানের নামে। এর একটির মালিক জনৈক আলমগীর। তবে এই প্রতিষ্ঠানটির প্যাড ব্যবহার করে কার্যাদেশ নিয়েছেন ডা. সেহাবের শ্যালক জাকারিয়া, অপর প্রতিষ্ঠানটি ভাগ্নে মহিউদ্দিনের। কিন্তু এই দুটি প্রতিষ্ঠানের ট্রেড লাইসেন্সে যে ঠিকানা উল্লেখ করা হয়েছে সরেজমিনে সেইসব ঠিকানায় এ ধরনের কোনো প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্বই খুঁজে পাওয়া যায়নি। অবাক ব্যাপার হলো ভুয়া, অস্তিত্বহীন প্রতিষ্ঠানের নামে বিভিন্ন দফায় ওই সময় মোট ১২ কোটি ১০ লাখ ৬৫ হাজার ৯শ’ টাকার বিল পরিশোধ করা হলেও এর বিপরীতে সরবরাহ নেয়া যন্ত্রপাতির বাজার মূল্য ২ কোটি টাকার বেশি নয়। অর্থাৎ ১২ কোটি টাকার কেনাকাটায় তখন ১০ কোটি টাকাই আত্মসাৎ করা হয়।

মেসার্স আলী ট্রেডার্সকে ভারী যন্ত্রপাতি ক্রয় বাবদ বিল পরিশোধ করা হয় ৮ কোটি ৯০ লাখ ৪৯ হাজার ২শ’ ৫০ টাকা, অন্যদিকে একই সময়ে জি এম ট্রেড ইন্টারন্যাশনালকে এমএসআর ক্রয় বাবদ বিল পরিশোধ করা হয় ৩ কোটি ২০ লাখ ১৬ হাজার ৬৫০ টাকা। কিন্তু জিএম ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল কোনো এমএসআর সামগ্রী সরবরাহ না করেই পুরো বিল তুলে নেয়। মেসার্স আলী ট্রেডার্সের প্যাডে কার্যাদেশ নিয়েছেন ডা. সেহাবের শ্যালক জাকারিয়া। তাকে ৮ কোটি ৯০ লাখ ৪৯ হাজার ২শ’ ৫০ টাকার বিল পরিশোধ করা হলেও সরবরাহ নেয়া যন্ত্রপাতির মূল্য ২ কোটি টাকার বেশি নয়। আদতে ভুয়া ট্রেড লাইসেন্স বানিয়ে ডা. সেহাব উদ্দিন নিজেই বিভিন্ন নামে ব্যবসা করেছেন। এক্ষেত্রে কাজে লাগিয়েছেন শ্যালক জাকারিয়া ও ভাগ্নে মহিউদ্দিনকে।

শুধু যন্ত্রপাতি বা এমএসআর কেনাকাটায়ই নয়; ডাক্তার, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের থাকা-খাওয়ার বিল পরিশোধের নামেও ব্যাপক লুটপাট চালিয়েছেন। হাসপাতালের পরিচালক না থাকায় ওই সময় ডা. সেহাব উদ্দিন হাসপাতালে করোনার চিকিৎসায় নিয়োজিত ডাক্তার, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের থাকা-খাওয়া নিয়ে বিতর্কিত রিজেন্টের সাহেদের সঙ্গে কয়েকগুণ বেশি দামে চুক্তি করেন। অভিযোগ রয়েছে নার্সদের নিম্নমানের খাবার দেয়ারও। যেখান থেকে বড় অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন ডা. সেহাব। আর ডা. সেহাবের এসব অপকর্মের প্রতিবাদ করায় প্রতিষ্ঠানটির প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. আলীমুজ্জামানকে ওই সময় শাস্তিমূলক বদলি করা হয় বাগেরহাট সিভিল সার্জন অফিসে।

২০১৯-২০ অর্থবছরে এমন দুর্নীতির ঘটনা ঘটলেও এর পরের বার অর্থাৎ ২০২০-২১ অর্থবছরে দুর্নীতি আরো বাড়ে, বহুমাত্রিক রূপ নেয়। শীর্ষ কাগজের অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে, পরের এই অর্থবছরে হাসপাতালের এমএসআর ও ভারী যন্ত্রপাতি কেনাকাটায় কোনোই আইন-কানুন, বিধি-বিধানের তোয়াক্কা করা হয়নি। ৪টি লটের প্রত্যেটিতেই সর্বোচ্চ দরদাতাকে কার্যাদেশ দেয়া হয়েছে। যা সর্বনিম্ন দরদাতার চেয়ে ৯/১০ গুণ বেশি। এসব কার্যাদেশ দেয়া হয় রাজু এন্টারপ্রাইজের নামে, ডা. সেহাব উদ্দীনের শ্যালক জাকারিয়াকে। এছাড়া আগের বছরেরও ভুয়া বকেয়া বিলসহ মোট ১৪ কোটি টাকা সরকারি কোষাগার থেকে তুলে নেয়া হয় ২০২০-২১ অর্থবছরে। কিন্তু প্রতিষ্ঠানটি যে মালামাল সরবরাহ করেছে তার বাজারমূল্য মাত্র ২ কোটি ৮২ লাখ ৫৭ হাজার টাকা। অর্থাৎ এক্ষেত্রে আত্মসাত করা হয়েছে ১১ কোটি ১৭ লাখ ৪৩ হাজার টাকা। শুধু তাই নয়, মালামাল সরবরাহের আগেই পুরো ১৪ কোটি টাকা তুলে নেয়া হয়।

রাজু এন্টারপ্রাইজের মূল যে মালিক, তার গ্রামের বাড়ি ডা. সেহাব উদ্দিনের নিজ এলাকা ফেনীতে। শ্যালক জাকারিয়াকে এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত করে কাজটি দেয়া হয়েছে। শুধুমাত্র রাজু এন্টারপ্রাইজের প্যাড ব্যবহার করা হয়েছে, কিন্তু মালামাল সরবরাহ ও বিল তুলে নেয়াসহ সবকিছুই করেছেন জাকারিয়া। নানারকমের জাল-জালিয়াতি ও অনিয়মের আশ্রয় নেয়া হয়। পূর্ব থেকেই পরিকল্পিতভাবে মেসার্স রাজু এন্টারপ্রাইজের ইচ্ছে অনুযায়ী স্পেসিফিকেশন সেট করে দরপত্র আহ্বান করা হয়। টেন্ডার ওপেনিং ও মূল্যায়ন কমিটি গঠন করা হয় নামেমাত্র। বাস্তবে ডা. সেহাব উদ্দিন যা চেয়েছেন, সেটিই হয়েছে। কোনো রকমের যুক্তিযুক্ত কারণ ছাড়াই দরপত্রে অংশ নেয়া নিম্ন দরদাতাদের নন-রেস্পন্সিভ করে সর্বোচ্চ দরদাতাকে কার্যাদেশ দেয়া হয়।

এমন ব্যাপক দুর্নীতি-লুটপাটের খবর সাপ্তাহিক শীর্ষকাগজসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট মহলে এ নিয়ে তোলপাড় হয়। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে একটি তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়। কিন্তু তিনি স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ- স্বাচিপের শীর্ষ নেতাদের দিয়ে প্রভাব খাটিয়ে ওই তদন্ত থামিয়ে দেন। এরপর তার বিরুদ্ধে আর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তবে তিনি এতোটা বিতর্কিত হয়ে পড়েন যে, তাকে কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালেও আর রাখা যায়নি। বদলি করা হয় ইএনটি হাসপাতালে। এখানেই ঘাপটি মেরে থাকেন শীর্ষ দুর্নীতিবাজ ডা. সেহাব উদ্দীন। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে ড. ইউনূসের স্বজনপ্রীতি কোটায় উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য হওয়া দুর্নীতিবাজ স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগমকে ম্যানেজ করে দেশের অন্যতম চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান, সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের পরিচালক পদ বাগিয়ে নেন ডা. সেহাব উদ্দীন। পদটি বিক্রি হয় ৫ কোটি টাকায়। এই টাকা লেনদেন হয় বিদেশে, বলছেন সংশ্লিষ্টরা।
সূত্র: শীর্ষনিউজ

Facebook
X
LinkedIn
Threads
WhatsApp
Telegram
Email

Leave a Comment

আরইএলআই প্রকল্পের স্বাস্থ্য ও পুষ্টি বিষয়ক স্টেকহোল্ডার কর্মশালা অনুষ্ঠিত

আরইএলআই প্রকল্পের স্বাস্থ্য ও পুষ্টি বিষয়ক স্টেকহোল্ডার কর্মশালা অনুষ্ঠিত

মাহিদুল ইসলাম ফরহাদ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি: চাঁপাইনবাবগঞ্জে সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন (এসডিএফ)- এর রেজিলিয়েন্স, এন্ট্রাপ্রেনিওরশীপ এন্ড লাইভ্লিহুড ইমপ্রুভমেন্ট (আরইএলআই) প্রকল্পের আওতায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় স্বাস্থ্য ও পুষ্টি বিষয়ক স্টেকহোল্ডার কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার সিভিল সার্জন ডাঃ এ.কে.এম. শাহাবউদ্দীন এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডাঃ মোঃ মশিউর রহমান। এছাড়াও বিভিন্ন সরকারি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যবিষয়ক অন্যান্য সংগঠনের মেডিকেল অফিসারগণ উপস্থিত ছিলেন। এসডিএফ এর পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন জেলা ব্যবস্থাপক মোঃ মাহাবুবুর রশীদ, আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক (জীবিকায়ন ও কমিউনিটিফিন্যান্স) মোঃ রবিউল ইসলাম, যশোর অঞ্চলের আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক (স্বাস্থ্য ও পুষ্টি) ডাঃ কায়মুন আক্তার মুনা এবং এসডিএফ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ এর জেলা কর্মকর্তাসহ ৬টি ক্লাস্টার থেকে ৬ জন ক্লাস্টার স্বাস্থ্য ও পুষ্টি ফ্যাসিলিটেটর এবং ২জন গ্রাম সংগঠনের স্বাস্থ্য ও

আরও পড়ুন
language Change