মো: শাহ আলমঃ
আমলীগোলা ছোট জামে মসজিদের জুমার খুতবায় রোজার পরিশুদ্ধি ও দরিদ্রদের সহায়তায় ফিতরার ওপর গুরুত্বারোপ ১৩ মার্চ (শুক্রবার) পুরান ঢাকার আমলীগোলা ছোট জামে মসজিদে জুমার খুতবায় খতিব মাওলানা শাহ মোহাম্মদ শফিকুর রহমান সদাকাতুল ফিতরের গুরুত্ব ও তা আদায়ের বিধান সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেন। খুতবায় তিনি বলেন, মুসলমানরা বর্তমানে পবিত্র মাহে রমজানের গুরুত্বপূর্ণ সময় অতিক্রম করছেন। এ সময়ের প্রতিটি মুহূর্ত আল্লাহ তাআলার রহমত, বরকত, মাগফিরাত ও নাজাত লাভের সুবর্ণ সুযোগ। আল্লাহ তাআলা উম্মতে মুহাম্মদী (সা.)-কে অসংখ্য নেয়ামত দান করেছেন, যার মধ্যে মাহে রমজান ও লাইলাতুল কদর বিশেষ মর্যাদাপূর্ণ। তিনি বলেন, রমজান মাসে রোজা পালনের পাশাপাশি যাকাত, ইতিকাফসহ বিভিন্ন নেক আমলের মাধ্যমে বান্দা আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের সুযোগ পায়।
এসব আমলের ধারাবাহিকতায় সদাকাতুল ফিতর একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত, যা রোজার পূর্ণতা লাভ এবং সমাজের দরিদ্র মানুষের সহায়তার জন্য বিধান করা হয়েছে। মাওলানা শাহ মোহাম্মদ শফিকুর রহমান বলেন, সদাকাতুল ফিতর প্রদানের দুটি মূল উদ্দেশ্য রয়েছে। প্রথমত, রোজা পালনের সময় অনিচ্ছাকৃত ভুলত্রুটি বা বেহুদা কাজের কারণে যে ত্রুটি সৃষ্টি হয়, ফিতরা সেই রোজাকে পরিশুদ্ধ করে। দ্বিতীয়ত, ঈদুল ফিতরের দিনে দরিদ্র ও অভাবগ্রস্ত মানুষদের মুখে হাসি ফোটানো এবং তাদের প্রয়োজন পূরণ করা। তিনি হাদিসের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) সদাকাতুল ফিতর ফরজ করেছেন যাতে রোজাদার অশ্লীল কথা ও অনর্থক কাজ থেকে পবিত্র থাকে এবং দরিদ্ররা খাদ্য লাভ করতে পারে। ঈদের নামাজের আগে ফিতরা আদায় করা উত্তম; পরে আদায় করলে তা সাধারণ সদকার সমতুল্য হয়।
খুতবায় তিনি আরও বলেন, সদাকাতুল ফিতর প্রত্যেক স্বাধীন মুসলমানের ওপর ওয়াজিব, যদি সে নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হয় এবং তা মৌলিক প্রয়োজনের অতিরিক্ত হয়। তবে যাকাতের মতো এক বছর পূর্ণ হওয়া ফিতরার ক্ষেত্রে শর্ত নয়, নির্ধারিত সময়ে নিসাব পরিমাণ সম্পদ থাকলেই ফিতরা ওয়াজিব হয়ে যায়। তিনি জানান, ইসলামী শরিয়াহ অনুযায়ী আটা, গম, যব, খেজুর, কিশমিশ বা পনির-এগুলোর যেকোনো একটি দিয়ে ফিতরা আদায় করা যায়। ফিতরার পরিমাণ হিসেবে গম বা আটা দ্বারা ফিতরা আদায় করলে অর্ধ সা (প্রায় ১ কেজি ৬৫০ গ্রাম) বা এর বাজার মূল্য ১১০ টাকা দিতে হবে। যব দ্বারা আদায় করলে এক সা (প্রায় ৩ কেজি ৩০০ গ্রাম) বা এর বাজার মূল্য ৫৯৫ টাকা, খেজুর দ্বারা আদায় করলে এক সা বা এর বাজার মূল্য ২৪৭৫ টাকা, কিশমিশ দ্বারা আদায় করলে এক সা বা এর বাজার মূল্য ২৬৪০ টাকা এবং পনির দ্বারা আদায় করলে এক সা বা এর বাজার মূল্য ২৮০৫ টাকা প্রদান করতে হবে। মুসলমানরা নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী এসব পণ্যের যেকোনো একটি বা তার সমমূল্য অর্থ দিয়ে ফিতরা আদায় করতে পারবেন।
ফিতরার পরিমাণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অনেকেই শুধুমাত্র সর্বনিম্ন হিসাব অনুযায়ী ফিতরা আদায় করেন। অথচ সামর্থ্যবান ব্যক্তিদের উচিত উত্তম ও বেশি মূল্যমানের পণ্য অনুযায়ী ফিতরা প্রদান করা। কারণ ইসলামে উত্তম দান সেইটি, যা দানকারীর কাছে সর্বোত্তম ও মূল্যবান। খতিব আরও বলেন, ঈদের নামাজে যাওয়ার আগে সদাকাতুল ফিতর আদায় করা উত্তম। তবে দরিদ্রদের সুবিধার জন্য ঈদের এক বা দুই দিন আগেও তা আদায় করা যেতে পারে। খুতবার শেষে তিনি মুসল্লিদের উদ্দেশে বলেন, যদি কারও ওপর ফিতরা ওয়াজিব না-ও হয়, তবুও নফল হিসেবে ফিতরা প্রদান করলে রোজার পবিত্রতা রক্ষা হওয়ার পাশাপাশি একজন অসহায় মানুষের উপকার সাধিত হবে।
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: কে এম মাসুদুর রহমান, সম্পাদক ও প্রকাশক: মোহাম্মদ মাসুদ।
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: ২১/১ নয়াপল্টন (মসজিদ গলি),ঢাকা - ১০০০।
✆ ০১৫১১৯৬৩২৯৪, ০১৬১১৯৬৩২৯৪ 📧dailysobujbangladesh@gmail.com.
কপিরাইট © ২০২৫ দৈনিক সবুজ বাংলাদেশ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত