তারিখ লোড হচ্ছে...

ই-পেপার

শিরোনাম
ভোলাহাট প্রেসক্লাবের বনভোজন আয়োজনের প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত শেরপুর সীমান্তঘেঁষা গারো পাহাড় ধ্বংসের পথে গণপূর্তের ইএম শাখা সার্কেল ৪: তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী তৈমুর আলমের দূর্নীতির কীর্তি! ৫ লাখ কর্মচারী নিয়োগ দেবে সরকার ‘ব্যানানা ম্যাঙ্গো’ বছরে দুবার ফলন ও রপ্তানির স্বপ্নে বিভোর পলাশ ডিএনসির অভিযান ৮০ লিটার চোলাইমদ ও ১৪০০ লিটার ওয়াশসহ নারী গ্রেফতার রেজিস্ট্রেশন কমপ্লেক্স দখলে নিয়েছে খিলগাঁও সাব-রেজিষ্টার মাইকেল মহিউদ্দিন দাকোপে কোটি টাকার পিচঢালা রাস্তা এখন মরণফাঁদ চাটখিলে শতবর্ষী ঝুঁকিপূর্ণ ব্রিজ খুলনায় বাস-মোটরসাইকেল সংঘর্ষ রূপসায় যুবককে গুলি করে হত্যার চেষ্টা দৈনিক চাঁপাই দর্পণ-এর যুগপূর্তি ও ই-পেপার উদ্বোধন অনুষ্ঠিত ​সোনামসজিদ সীমান্তে মাদকসহ আটক ১ জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলায় ওয়ার্ড ভিত্তিক প্রকল্প অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত সমুদ্রপথে ইরানের বাণিজ্য বন্ধেরে দাবি জনগণকে ‘ই-হেলথ কার্ড’ দেওয়ার উদ্যাগ নেওয়া হয়েছে : প্রধানমন্ত্রী বিএনপির টিকিট চান ১২০০ জন পহেলা বৈশাখে চন্দ্রিমা ফিটনেস ক্লাবের নতুন কমিটি ঘোষণা বৈশাখী শোভাযাত্রায় নতুন বছরকে বরণ রাজধানীতে জামায়াতে ইসলামীর বৈশাখী শোভাযাত্রা টাঙ্গাইল স্টেডিয়ামে প্রধানমন্ত্রী কালিহাতীতে সিজারিয়ান অপারেশনে পর মৃত্যু কর্মকর্তাদের বাড়ি-গাড়িসহ ৯ খাতে ব্যয় কমালো সরকার দুই মামলায় জামিনের পর হত্যা মামলায় গ্রেফতার মন্ত্রী নুরুজ্জামান ইরানে নৌ অবরোধের হুমকি, যুক্তরাষ্ট্রকে যে বার্তা দিলো চীন ছেলেসহ তিনজনকে কুপিয়ে সাবেক পুলিশ সদস্য নিহত শেরপুরের শিক্ষার্থীদের সিলিং ফ্যান বিতরণ ৩০ লাখ থেকে ২.১৬ কোটি-রাজউক চেয়ারম্যানের বাংলো সংস্কারে 'লুকোচুরি' শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জরুরি নির্দেশনা ৩৬ আসনের বিএনপির ফরম কিনেছেন ১৩০০ জন নারী সাংবাদিককে হেনস্তা কারী ইমারত পরিদর্শক অপি রুবেল গ্রেফতার বগুড়া সিটি করপোরেশন উদ্বোধন করতে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী লুটপাটের সঙ্গী হয়ে টানেল বানিয়ে লাভ নেই: সারজিস সাউন্ড কেলেঙ্কারি ও কোটি টাকার সম্পদ গণপূর্তের আনোয়ারের প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ আওয়ামী দোসর শফিউল্লাহ আল মুনিরের বিরুদ্ধে অল্প বয়সে বিয়ে আমার জীবনের ভুল সিদ্ধান্ত ছিল প্রধানমন্ত্রীর নতুন বাসভবনে থাকছে বাংকার, টানেল সিকেডি হাসপাতালে চাঁদা দাবি: যুবদল নেতাসহ গ্রেফতার ৭ শরিফুল-রানার ছাড়পত্রের মেয়াদ একদিন বাড়াল বিসিবি না ফেরার দেশে চলে গেলেন কিংবদন্তি সঙ্গীতশিল্পী আশা ভোঁসলে হজযাত্রীদের সেবায় অনিয়ম করলে গুনতে হবে জরিমানা অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের জন্য সুখবর দিল সরকার দুই কলেজ শিক্ষকের নামে পাঠানো হলো কাফনের কাপড় আমরা আন্দোলনের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি : নাহিদ ইসলাম যেসব বিষয়ের গুরুত্বে দেওয়া হবে বিএনপির মনোনয়ন পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে ডিএমপির কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা জামিন পেলেন সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন প্রথম পর্যায়ে কারা পাবেন কৃষক কার্ড, মিলবে কী কী সুবিধা চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ ১৪ মে ঘোষণা ইসির শপথ নিলেন নতুন ২ এমপি

রেলের সাগর চুরির কারিগর ফকির মো. মহিউদ্দীন!

রেলের সাগর চুরির কারিগর ফকির মো. মহিউদ্দীন!
পাঠক সংখ্যা
638


স্টাফ রিপোর্টার॥
ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সুবিধাভোগী রেলওয়ের প্রভাবশালী কর্মকর্তা ফকির মো. মহিউদ্দীন এখন আরও বেশি শক্তিশালী হয়েছেন। শুধু তাই নয়, খোলস পাল্টে তিনি এখন হয়েছেন বৈষম্যবিরোধী ফোরামের নেতা। সাবেক দুই রেলমন্ত্রী মুজিবুল হক ও নুরুল ইসলাম সুজনের সঙ্গে তার সখ্য ছিল। সেই সুবাদে তিনি রেলওয়ের লাভজনক পদে নিয়োগ পান। সাবেক দুই মন্ত্রীর প্রভাবে তিনি ছিলেন রেলের খালাসি নিয়োগ কমিটির প্রভাবশালী সদস্য। ছিলেন রেলপথ মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতির আশীর্বাদপুষ্ট। বিগত সরকারের সময়ে তিনি ছিলেন ২০ লোকোমোটিভ ও ১৫০ মিটারগেজ যাত্রীবাহী কোচ সংগ্রহ প্রকল্পের পরিচালকও।

৫ আগস্ট ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের পরই ভোল পাল্টে ফকির মো. মহিউদ্দীন গঠন করেন রেলের বৈষম্যবিরোধী ফোরাম। রাতারাতি হয়ে যান এই ফোরামের মুখ্য সমন্বয়ক। সরকার পরিবর্তনের পর ‘খোলস পাল্টে’ পদোন্নতির মাধ্যমে রেলের মহাব্যবস্থাপক (প্রকল্প) হন। বিগত সরকারের সময়ে ‘বৈষম্যের শিকার’, এমন মিথ্যা প্রচার চালিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার শুরুতেই চতুর্থ গ্রেড থেকে তৃতীয় গ্রেডে পদোন্নতি বাগিয়ে নেন রেলের ২০তম বিসিএস (তৃতীয় গ্রেড) ব্যাচের কর্মকর্তা ফকির মহিউদ্দিন। শুধু তা-ই নয়, পদোন্নতি পেয়েই তিনি তার অনিয়ম-দুর্নীতি ও অপকর্ম বাড়িয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র দাবি করেছে।

অভিযোগ রয়েছে, বিগত সরকারের আমলে দুই মন্ত্রী ও সংসদীয় কমিটির সভাপতির আশীর্বাদে কেনাকাটায় অনিয়ম, বদলি বাণিজ্য, মালপত্র না কিনে বিল পরিশোধ, ঠিকাদারের পরিবর্তে নিজেই ব্যবসা করেছেন ফকির মো. মহিউদ্দীন। রেলে কেনাকাটায় ‘ভ্যারিয়েশন’ পদ্ধতি প্রয়োগ করে অনিয়মের মাধ্যমে কোটি টাকা আত্মসাৎ এবং কোটি টাকা ব্যয়ে অপ্রয়োজনীয় ওয়াশিং প্ল্যান্ট স্থাপন করার অভিযোগ এসেছে মহিউদ্দীনের নামে। এছাড়া অনুমোদনহীন এয়ার ব্রেক কেনার নামে তিনি প্রায় অর্ধ কোটি টাকা লোপাট করেছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। ফকির মো. মহিউদ্দীনের নামে এসব অভিযোগ দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) জমা হয়েছে। ওই অভিযোগের ভিত্তিতে ইতোমধ্যে অনুসন্ধানে নেমেছেন দুদক কর্মকর্তারা।

অভিযোগ আছে, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পরপরই কয়েকজন ছাত্র সমন্বয়ককে ভুল বুঝিয়ে রেলওয়ের প্রধান ভবনে শোডাউন করেন ফকির মহিউদ্দিন। এ ঘটনার কিছুদিন আগেই বিগত সরকারের সময়ে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন, বাংলাদেশের (আইইবি) নির্বাচনে সভাপতি পদে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর পক্ষে প্রচারে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন তিনি। নির্বাচনি প্রচারে অংশ নেওয়ার সেই ছবি এখনো বিভিন্ন গণমাধ্যম এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রয়েছে।

সম্প্রতি রেলের বৈদেশিক সাহায্যপ্রাপ্ত প্রকল্প নিরীক্ষা অধিদপ্তরের এক অডিট প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, অর্থনৈতিক উন্নয়ন সহযোগিতা তহবিলের (ইডিসিএফ) মাধ্যমে রেলের জন্য দক্ষিণ কোরিয়ার অর্থায়নে ২০টি লোকোমোটিভ ও ১৫০টি মিটারগেজ যাত্রীবাহী কোচ সংগ্রহ প্রকল্প হাতে নেয় সরকার। প্রকল্প বাস্তবায়নের শেষ পর্যায়ে প্রকল্পের বেঁচে যাওয়া অর্থ দিয়ে একই প্রকল্পের আওতায় অতিরিক্ত ৩৭টি কোচ সংগ্রহ করে সরকার। এই ৩৭টি কোচ কেনার ক্ষেত্রে সরকারি নির্দেশনা অনুসরণ না করে প্রকল্পের সমুদয় টাকা চরম অনিয়ম-দুর্নীতির মাধ্যমে পরিশোধ করা হয়েছে।

বিদেশ থেকে মালপত্র বা যন্ত্রপাতি সংগ্রহের ক্ষেত্রে সরকারি আদেশে সুনির্দিষ্টভাবে ‘কান্ট্রি অব অরিজিন’ নিশ্চিত করার নির্দেশনা রয়েছে। তবে নিজে লাভবান হওয়ার জন্য ফকির মহিউদ্দীন অতিরিক্ত ৩৭টি কোচ সংগ্রহের ক্ষেত্রে নির্দেশনা অমান্য করেন। চুক্তিতে ৩৭টি কোচের এয়ার ব্রেকের জন্য উন্নতমানের যন্ত্রাংশ জার্মানি থেকে আমদানি ও ফিটিংসের কথা বলা হলেও অবৈধ আর্থিক সুবিধার বিনিময়ে তিনি হাঙ্গেরি থেকে নিম্নমানের এয়ার ব্রেকের যন্ত্রাংশ সংগ্রহ করেছেন।

বিগত সরকারের দুর্নীতিবাজ মন্ত্রী ও সংসদীয় কমিটির সভাপতির প্ররোচনায় ট্রেন ধোয়ার জন্য ঢাকা ও রাজশাহীতে দুটি ওয়াশিং প্ল্যান্ট স্থাপনের প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়। এই অপ্রয়োজনীয় ও ব্যয়বহুল প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয় করা হয় প্রায় ৩৪ কোটি টাকা। প্রকল্প পরিচালক মো. হারুন-অর-রশিদ চাকরি থেকে অবসরে গেলে রেলমন্ত্রী ও সংসদীয় কমিটির সভাপতির প্রভাবে এই প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক পদে নিয়োগ বাগিয়ে নেন মহাব্যবস্থাপক (প্রকল্প) ফকির মো. মহিউদ্দীন। প্রকল্পের আওতায় ঢাকা ও রাজশাহীতে দুটি ট্রেন (রেল) ওয়াশিং মেশিন স্থাপন করা হয়। অভিযোগ আছে, এই মেশিন কেনা ও সরবরাহের জন্য নির্বাচন করা হয় সংসদীয় কমিটির সভাপতি ফজলে করিম চৌধুরীর আস্থাভাজন প্রতিষ্ঠানকে।

কর্মকর্তাদের অভিযোগ, প্রকল্পের আওতায় অধিক দুর্নীতির মাধ্যমে সরকারের অতিরিক্ত অর্থ আত্মসাতের লক্ষ্যে চুক্তিতে না থাকলেও ভ্যারিয়েশনের নামে লোপাট করেছেন অতিরিক্ত ৪ কোটি ১৪ লাখ টাকা।

প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে স্বাক্ষরিত মূল চুক্তিপত্রের ‘বিশেষ শর্ত’ অংশের ক্লজ নম্বর (জিসিসি ১৫.২)-তে উল্লেখ আছে, ‘মূল্য সমন্বয় প্রযোজ্য হবে না’। একই চুক্তিপত্রের চুক্তির সাধারণ শর্ত অংশের ক্লজ নম্বর, জিওসি ১৫.২-তে বলা হয়েছে, চুক্তির অধীনে সরবরাহ করা পণ্য এবং সংশ্লিষ্ট পরিষেবার জন্য সরবরাহকারীর দেওয়া দরের উল্লিখিত মূল্য থেকে ভিন্ন হবে না। অর্থাৎ চুক্তি অনুযায়ী মূল্য সমন্বয়ের কোনো সুযোগ নেই।

এ ছাড়া মূল দরপত্র দলিলে বিডিং ফর্মের নোট ১-এ উল্লেখ আছে, মূল্য উদ্ধৃতি স্থির হবে। অভিযোগ আছে, এর পরও চুক্তির শর্ত ভঙ্গ করে সরকারি অর্থ আত্মসাতের লক্ষ্যে দরপত্রে উদ্বৃত্ত মূল্যের চেয়ে শতকরা ২২ দশমিক ৭৭ ভাগ বেশি উল্লেখ করে বিল অব কোয়ান্টিটি (বিওকিউ) দাখিল করে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান। প্রকল্পের সাবেক পরিচালক মো. হারুন-অর-রশিদ তার নোটে লেখেন, ‘এই ভ্যারিয়েশন প্রস্তাবের (বিল) মাধ্যমে মূল্য সমন্বয়ের কোনো সুযোগ নেই।’ তবে অভিযোগে জানা গেছে, পরবর্তী সময়ে প্রতারণা ও মিথ্যা তথ্য দিয়ে অতিরিক্ত ৪ কোটি ১৪ লাখ টাকা সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতায় মন্ত্রী, সংসদীয় কমিটির সভাপতির সিন্ডিকেটকে লুটপাটে সহযোগিতা করেন ফকির মো. মহিউদ্দীন।

ইতোমধ্যে অবশ্য রেলপথ মন্ত্রণালয় এ-সংক্রান্ত অনিয়ম, দুর্নীতির ঘটনা তদন্তে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (উন্নয়ন) মো. জিয়াউল হককে প্রধান করে তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। কিন্তু কমিটি গঠন নিয়েই এবার অভিযোগ উঠেছে, অভিযুক্ত ফকির মো. মহিউদ্দীনকে সুবিধা দিতেই তদন্ত কমিটিকে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য সুনির্দিষ্ট কোনো সময় বেঁধে দেওয়া হয়নি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে রেলসচিব জানান, এ বিষয়ে কাজ চলছে। কমিটি কবে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেবে জানতে চাইলে সচিব বলেন, ‘ওখানে বিস্তারিত কিছু বলা নেই। তবে তারা কাজ করছেন। কয়েক দিনের মধ্যেই ওয়াশিং প্ল্যান্ট পরিদর্শনের জন্য তদন্ত কমিটি রাজশাহীতে যাবে।

জানা গেছে ফকির মো. মহিউদ্দীন ২০০১ সালের মে মাসে বাংলাদেশ রেলওয়ের সহকারী যন্ত্র-প্রকৌশলী পদে যোগ দেন। ২৫ বছরের কর্মজীবনে অর্ধেক সময় অর্থাৎ গত সরকারের আমলে প্রায় ১২ বছর যান্ত্রিক প্রকৌশল বিভাগের সবচেয়ে লাভজনক পদগুলোতে দায়িত্ব পালন করেছেন। এই সময় তিনি সৈয়দপুরে সহকারী কর্মব্যবস্থাপক (নির্মাণ); বিভাগীয় যন্ত্র প্রকৌশলী (লোকো) পাকশী, লালমনিরহাট ও চট্টগ্রাম; কর্ম ব্যবস্থাপক (নির্মাণ) পাহাড়তলী, চট্টগ্রাম; বিভাগীয় তত্ত্বাবধায়ক (কারখানা) পাহারতলী, চট্টগ্রাম; প্রধান যান্ত্রিক প্রকৌশলী (উন্নয়ন) ও প্রকল্প পরিচালক, রেলভবন; প্রধান যান্ত্রিক প্রকৌশলী (পূর্ব) চট্টগ্রাম; প্রধান যান্ত্রিক প্রকৌশলী (উন্নয়ন) ও প্রকল্প পরিচালক, রেলভবন ও যুগ্ম মহাপরিচালক পদের মতো লাভজনক পদগুলোতে দায়িত্ব পালন করেছেন।

সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের দাবি, এই পদগুলো মেকানিক্যাল বিভাগের সবচেয়ে লাভজনক পদ। এই পদের মাধ্যমে মেকানিক্যাল বিভাগের প্রয়োজনীয় কেনাকাটা, সরবরাহ, ইঞ্জিন মেরামত, যন্ত্রপাতি ক্রয়সহ দরপত্র ও অন্য ব্যয় নির্বাহের অর্থ বরাদ্দ, কর্মকর্তা-কর্মচারীর বদলি বা পদায়ন ও প্রস্তাব দেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে।

এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে রেলওয়ের মহাব্যবস্থাপক (প্রকল্প) এবং ২০ লোকোমোটিভ ও ১৫০ মিটারগেজ যাত্রীবাহী কোচ সংগ্রহ প্রকল্পের পরিচালক ফকির মো. মহিউদ্দীন খালাসি নিয়োগে অনিয়ম, দুর্নীতির অভিযোগ প্রসঙ্গে বলেন, এটা একেবারেই মিথ্যা অভিযোগ এবং একটি অপপ্রচার। ভ্যারিয়েশনের নামে অর্থ লোপাট অভিযোগের প্রতিবাদ জানিয়ে এই মহাব্যবস্থাপক বলেন, এ প্রকল্পের প্রথম প্রকল্প পরিচালক হারুন-অর-রশিদ। উনি ভ্যারিয়েশন করার উদ্যোগ নিয়েছেন এবং তিনি সংশোধিত (রিভাইস) নকশা অনুযায়ী কাজটি করিয়েছেন। এতে নকশার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে প্রকল্পের অন্য আনুষঙ্গিক বিষয় যুক্ত করেছেন। পরবর্তী সময়ে ভ্যারিয়েশন সংক্রান্ত সরকারের নিয়ম-নীতিমালার আওতায় এবং যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নিয়েই করা হয়েছে। তা ছাড়া ভ্যারিয়েশনের টাকা দেওয়ার একক কোনো ক্ষমতা প্রকল্প পরিচালকের নেই। এসব প্রক্রিয়া যথাযথ নিয়ম-নীতি অনুসরণ করেই করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

বিদেশ থেকে যন্ত্রপাতি সংগ্রহের ক্ষেত্রে ‘কান্ট্রি অব অরিজিন’ অনুসরণ না করে অর্থ নয়ছয় করার অভিযোগ প্রসঙ্গে ফকির মো. মহিউদ্দীন বলেন, যেসব বগির মালপত্র সম্পর্কে অভিযোগ করা হয়েছে, সেই ৩৫টি বগি তো এখনো দেশেই আসেনি। তা হলে এখানে অর্থ নয়ছয় করা হয়েছে কীভাবে। এই অভিযোগও সত্য নয় বলে দাবি করেন প্রকল্প পরিচালক।

ফ্যাসিস্ট সরকারের সমর্থক কোনো কালেই ছিলেন না এমন দাবি করে ফকির মো. মহিউদ্দিন বলেন, প্রয়োজনে আমার শিক্ষাজীবন সম্পর্কে খোঁজ নিয়ে দেখতে পারেন।

লাভজনক পদে পদায়ন নেওয়ার অভিযোগে প্রসঙ্গে রেলের এই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, সরকার আমাকে যোগ্য মনে করে নিয়োগ দিয়েছে। আমি শুধু আমার ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করেছি।

Facebook
X
LinkedIn
Threads
WhatsApp
Telegram
Email

Leave a Comment

প্রধান বিচারপতির সঙ্গে ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ

প্রধান বিচারপতির সঙ্গে ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ

ডেস্ক রিপোর্ট: প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রদূত এসওয়াই ইউসেফ রামাদান। মঙ্গলবার (১২ আগস্ট) দুপুরে এ সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন তারা। এ সময় তারা পারস্পারিক কুশলাদি বিনিময় করেন। সাক্ষাৎকালে তারা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কোন্নয়ন এবং উভয় দেশের বিচারব্যবস্থা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। প্রধান বিচারপতি বিগত এক বছরে বাংলাদেশের বিচারবিভাগের উন্নয়নে তার গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপসমূহ তুলে ধরেন। বিশেষ করে একটি স্বাধীন ও শক্তিশালী বিচারবিভাগ প্রতিষ্ঠায় মাননীয় প্রধান বিচারপতি পরিকল্পনাগুলো আলোচনা করেন। এ ছাড়া প্রধান বিচারপতি ফিলিস্তিন রাষ্ট্র ও এর জনগণের প্রতি বাংলাদেশের জনগণের অব্যাহত সমর্থন আছে মর্মে ব্যক্ত করেন। ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রদূত প্রধান বিচারপতির এক বছর পূর্তিতে তাকে অভিনন্দন জানান। তিনি বাংলাদেশের বিচার বিভাগের উন্নয়নে বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপসমহের ভূয়সী প্রশংসা করেন। বিশেষ করে, প্রধান

আরও পড়ুন
language Change