সাতক্ষীরা প্রতিনিধিঃ
সাতক্ষীরা সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস যেন এখন শিক্ষার উন্নয়নের কেন্দ্র নয়, বরং অনিয়ম ও দুর্নীতির অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। টিও আসাদুজ্জামানের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো আর বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয় বরং একটি সুসংগঠিত দুর্নীতির নেটওয়ার্কের স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে, যেখানে শিক্ষা খাতকে ব্যবহার করা হচ্ছে ব্যক্তিগত আয়ের উৎস হিসেবে।
সরকারি অর্থ বরাদ্দের নামে যা হওয়ার কথা ছিল বিদ্যালয়ের উন্নয়ন, তা এখন রূপ নিয়েছে লুটপাটের মহোৎসবে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে নির্বাচন উপলক্ষে ৫৬টি বিদ্যালয়ের জন্য বরাদ্দকৃত ৬৭ লক্ষ ৭৫ হাজার টাকা কোথায় গেল? এই প্রশ্ন এখন সর্বত্র। বাস্তব চিত্র বলছে, অধিকাংশ বিদ্যালয়ে উন্নয়নের কোনো ছোঁয়া পর্যন্ত লাগেনি। ভাঙা দরজা, অচল বৈদ্যুতিক সংযোগ, জরাজীর্ণ শ্রেণিকক্ষ সবকিছুই আগের মতোই রয়ে গেছে, অথচ কাগজে-কলমে উন্নয়ন কাজ শেষ!
সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, এই অনিয়মকে ঢাকতে তৈরি করা হয়েছে এক ধরনের নীরবতার সংস্কৃতি। প্রধান শিক্ষকদের মুখে কুলুপ এঁটে দেওয়া হয়েছে, সাংবাদিকদের তথ্য না দিতে দেওয়া হয়েছে মৌখিক নির্দেশনা। যেন সত্য প্রকাশ করাটাই এখানে অপরাধ! অভিযোগ আরও রয়েছে, প্রতিটি বরাদ্দ থেকেই অফিস খরচ নামে ১০ থেকে ২০ হাজার টাকা কেটে নেওয়া হয়েছে। অফিস সহকারী ওয়াদুদের মাধ্যমে প্রায় ৮ লক্ষ টাকা আদায়ের বিষয়টি দুর্নীতির মাত্রাকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে। এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; বরং সুপরিকল্পিতভাবে অর্থ আত্মসাতের একটি চক্র সক্রিয় রয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এদিকে, আর্থিক অনিয়মের পাশাপাশি নৈতিক স্খলনের অভিযোগও পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলেছে। একাধিক শিক্ষিকার অভিযোগ তাদের অপ্রয়োজনীয়ভাবে অফিসে ডেকে এনে অশোভন আচরণ ও অনৈতিক প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এই অভিযোগগুলো প্রমাণিত হলে তা শুধু প্রশাসনিক অপরাধ নয়, বরং একটি গুরুতর সামাজিক অপরাধ হিসেবেও বিবেচিত হবে। অভিযুক্ত কর্মকর্তা বারবার যোগাযোগের চেষ্টা সত্ত্বেও নীরব থেকেছেন যা তার অবস্থানকে আরও প্রশ্নবিদ্ধ করছে।
সচেতন মহলের প্রশ্ন? একজন কর্মকর্তার এতটা বেপরোয়া হয়ে ওঠার পেছনে কারা রয়েছে? কোন শক্তির বলয়ে তিনি এতদিন ধরে থেকে যাচ্ছেন ধরাছোঁয়ার বাইরে?
এখন সময় এসেছে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার। শুধু তদন্ত কমিটি গঠন নয় প্রয়োজন নিরপেক্ষ, দ্রুত এবং দৃশ্যমান বিচার প্রক্রিয়া। কারণ, শিক্ষা খাতে এ ধরনের দুর্নীতি মানে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে অন্ধকারে ঠেলে দেওয়া। জনগণের করের টাকায় গড়ে ওঠা এই খাতকে যারা লুটপাটের মঞ্চে পরিণত করেছে, তাদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা না নিলে এ ধরনের দুর্নীতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করবে।
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: কে এম মাসুদুর রহমান, সম্পাদক ও প্রকাশক: মোহাম্মদ মাসুদ।
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: ২১/১ নয়াপল্টন (মসজিদ গলি),ঢাকা - ১০০০।
✆ ০১৫১১৯৬৩২৯৪, ০১৬১১৯৬৩২৯৪ 📧dailysobujbangladesh@gmail.com.
কপিরাইট © ২০২৫ দৈনিক সবুজ বাংলাদেশ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত