মো: মাসুম বিল্লাহ খুলনাঃ
খুলনার বটিয়াঘাটা সরকারি মহাবিদ্যালয়ের সদ্য অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ অমিতেষ দাসের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, ব্যাপক অনিয়ম এবং সরকারি অর্থ আত্মসাতের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা আর্থিক অসঙ্গতিগুলো ফৌজদারি অপরাধের পর্যায়ে পড়ে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও সচেতন মহল।
প্রাপ্ত অভিযোগ ও তথ্যানুযায়ী, ২০১৭ সালে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় কলেজের যাবতীয় স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ দানপত্রের মাধ্যমে রাষ্ট্রের অনুকূলে হস্তান্তর করা হয়। তবে সোনালী ব্যাংক বটিয়াঘাটা শাখায় কলেজের নামে পরিচালিত একটি বিশেষ হিসাব (নম্বর: ২৭০৩৭৩৪১২৫০৮১) কৌশলে সরকারি নিয়ন্ত্রণে না দিয়ে নিজের অধীনে রাখেন অমিতেষ দাস। অভিযোগ রয়েছে, অবসর গ্রহণের আগে ওই হিসাব থেকে আনুমানিক ৩ থেকে ৪ লক্ষ টাকা কোনো প্রকার বৈধ রেজুলেশন বা ভাউচার ছাড়াই উত্তোলন করে আত্মসাৎ করা হয়েছে। নিয়োগ বাণিজ্য ও ভুয়া বিলের কারসাজি ও তদন্তে উঠে এসেছে, বিভিন্ন সময়ে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে ‘কলেজ উন্নয়ন’ খাতের নামে ৭ থেকে ৮ জন শিক্ষকের কাছ থেকে জনপ্রতি ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে। ভুক্তভোগী শিক্ষকরা জানান, এই অর্থের কোনো দাপ্তরিক রসিদ বা স্বচ্ছ হিসাব দেওয়া হয়নি। এছাড়া ২০২১ সালে কোনো ‘বিজ্ঞান মেলা’ আয়োজন না করেই জালিয়াতির মাধ্যমে ভুয়া বিল-ভাউচার দেখিয়ে সরকারি অর্থ উত্তোলন করার মতো ভয়াবহ তথ্যও পাওয়া গেছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, কলেজের আওতাধীন কৃষি জমি, পুকুর, দোকান ভাড়া এবং গাছ বিক্রি বাবদ প্রাপ্ত ৪ থেকে ৫ লক্ষ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা না দিয়ে তিনি ব্যক্তিগতভাবে ভোগ করেছেন। এমনকি নতুন ভবন নির্মাণের আগে পুরাতন ভবনের ইট, সুরকি ও টিন বিক্রির টাকাও নয়ছয় করা হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানান। এ বিষয়ে কলেজের হিসাবরক্ষক মনি মোহন রায় স্বীকার করেন যে, অধ্যক্ষের নির্দেশে বিভিন্ন সময়ে টাকা তোলা হলেও সেগুলোর কোনো নিয়মতান্ত্রিক আর্থিক নথি রাখা হয়নি। বর্তমান ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সুকুমার মল্লিকের কাছে এ ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান। অভিযোগের বিষয়ে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দিতে অভিযুক্ত সাবেক অধ্যক্ষ অমিতেষ দাসের সাথে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে রাজি হননি। সরকারি কলেজের একজন দায়িত্বশীল পদে থেকে এমন নজিরবিহীন দুর্নীতি ও অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সচেতন মহল ও ভুক্তভোগীরা বিষয়টি অধিকতর তদন্ত করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও প্রচলিত ফৌজদারি আইনে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছেন।
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: কে এম মাসুদুর রহমান, সম্পাদক ও প্রকাশক: মোহাম্মদ মাসুদ।
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: ২১/১ নয়াপল্টন (মসজিদ গলি),ঢাকা - ১০০০।
✆ ০১৫১১৯৬৩২৯৪, ০১৬১১৯৬৩২৯৪ 📧dailysobujbangladesh@gmail.com.
কপিরাইট © ২০২৫ দৈনিক সবুজ বাংলাদেশ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত