তারিখ লোড হচ্ছে...

বর্ণাঢ্য আয়োজনে ‘ছোটদের পত্রিকা কানামাছি'র ২০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন পদত্যাগ করলেন ভারতের শিক্ষামন্ত্রী মতামত, অনুমান কিংবা অ্যাক্টিভিজম দিয়ে সাংবাদিকতা হয় না: তথ্যমন্ত্রী সাংবাদিক শফিকের মুক্তির দাবিতে তেজগাঁও কলেজ সাংবাদিক সমিতির মানববন্ধন অনুসন্ধানী সাংবাদিক শফিকের নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে গেন্ডারিয়া থানা রিপোর্টার ক্লাবের মানববন্ধন বরগুনায় জনদুর্ভোগ কমাতে নিজস্ব অর্থায়নে সাংবাদিক নেতার সেতু সংস্কার বাগেরহাটে দুর্বৃত্তের ছুরিকাঘাতে আইনজীবী নিহত নিহত ৪৩ সাংবাদিকের হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার দাবি বিপিজেএফের নলডাঙ্গায় মাদক মামলায় ভ্রাম্যমাণ আদালাতের অভিযান মতিঝিল মেট্রো স্টেশনের নিচ থেকে বোমা উদ্ধার রামগড় বিজিবির মাসিক নিরাপত্তা সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত শাপলা চত্বর হত্যা মামলার বিচার কার্যক্রম শুরু ২৭ জুলাই কালীগঞ্জে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর ওকৃষি উন্নয়নের প্রণোদনা বিতরণ  কালীগঞ্জের শিশু ফারজানা হত্যার প্রধান আসামি আল মামুনকে আটক  চাঁদপুরের রামচন্দ্রপুরে ডাকাতিয়ার ভাঙ্গন আতঙ্ক চট্টগ্রামে সাংবাদিক আসিফ কে প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ পদত্যাগের পর সাহাবুদ্দিনের পুরোনো বক্তব্য ভাইরাল কেশবপুরে নিষিদ্ধ মাগুর চাষ‌: ব্যবসায়ীকে জরিমানা সংসদ অধিবেশনে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবে সেপ্টেম্বরে: আইনমন্ত্রী সাগরে লঘুচাপ, চার সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্কসংকেত বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রে নেলসন ম্যান্ডেলা শান্তি পুরস্কার দীঘিনালায় জামায়াতে ইসলামীর দায়িত্বশীল সমাবেশ অনুষ্ঠিত সুনামগঞ্জের মাছ লুট,ইজারাদারকে হত্যার হুমকিতে সংবাদ সম্মেলন গুজবে সাতক্ষীরার পাম্পে তেল কেনার ভিড়, সরবরাহ স্বাভাবিক থাকার দাবি প্রশাসনের ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি পাবে বাংলাদেশ মিথ্যা মামলায় সাংবাদিক শফিকের গ্রেফতারের প্রতিবাদে চট্টগ্রামে সিআরএর মানববন্ধন স্বাস্থ্যে দুর্নীতির স্বর্গরাজ্য, নেতৃত্বে সচিব কামরুজ্জামান সাংবাদিক হাফিজুর রহমান শফিকের মুক্তির দাবিতে কদমতলী থানা প্রেসক্লাবের মানববন্ধন ফরিদপুরে স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের দায়ে শওকতকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ইশরাক হোসেনকে নিয়ে বিভ্রান্তিকর প্রতিবেদন প্রচারের অভিযোগে প্রতিবাদ ​অভিযোগ ভুল প্রমাণিত: স্বপদে ফিরলেন ডিএসসিসির প্রকৌশলী গোলাম কিবরিয়া বৃক্ষরোপণে সাজাই দেশ প্রতিপাদ্যে রাঙামাটিতে বৃক্ষমেলার উদ্বোধন দুদকের মামলায় সাবেক ইউপি চেয়ারম্যানের স্ত্রীর ৩ বছরের কারাদণ্ড চট্টগ্রামে তীব্র গ্যাস সংকট: মহেশখালীর টার্মিনালে ত্রুটির কারণে কমেছে সরবরাহ কেশবপুরে দেশীয় ফল ও প্রদর্শনী মেলার আয়োজন রামগড় উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সভাপতি ইউএনও কাজী শামীম, সদস্য সচিব সাংবাদিক নিজাম উদ্দিন নোয়াখালীতে বাসি খাবার বিক্রির অভিযোগে দুই বিরিয়ানি হাউজে জরিমানা ​নলডাঙ্গায় অপরাধ দমন ও জনসচেতনতায় ওপেন হাউস ডে অনুষ্ঠিত আরসিইপিতে সম্পৃক্ত হতে সিঙ্গাপুরের সমর্থন চেয়েছে বাংলাদেশ দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩৬.৪৭ বিলিয়ন ডলার দেশের অর্থনীতি ট্রিলিয়ন ডলারের নিতে কাজ করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ: শিক্ষার্থীদের যে বার্তা দিলেন মোদি ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছে জিয়া হত্যার আসামি মোজাফফরকে সাংবাদিক শফিকের মুক্তি না দেয়ার প্রতিবাদে সাধারণ সাংবাদিকদের মানববন্ধন গাজী নজরুল ইসলামকে শ্যামনগরে অবাঞ্চিত ঘোষণা, নোয়াখালীতে দুই চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলার ৩ আসামিকে আটক কালীগঞ্জে সাবেক ইউপি সদস্যের জমি দখলের অভিযোগ রাঙ্গুনিয়ায় স্কুল ছুটির পর ৭ বছরের শিশু অপহরণ অভিযোগের পাহাড়ে চাপা রাজউক জোন ৬/১: সুমন আহমেদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির বিস্ফোরণ, তদন্তে গড়িমসি কেন? সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান গড়ার আহ্বান

মাঠে পরীক্ষার আগেই ফায়ার সার্ভিসে নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ!

পাঠক সংখ্যা
638

ফায়ার সার্ভিস সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তর দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা জরুরি সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান। অগ্নিকাণ্ড, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, দুর্ঘটনা কিংবা যেকোনো সংকটময় মুহূর্তে মানুষের জীবন সম্পদ রক্ষায় প্রতিষ্ঠানটির সদস্যরা সবার আগে ছুটে যান। সেবার মান উন্নয়ন, স্বচ্ছতা আধুনিকায়নে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। যুগে যুগে এই প্রতিষ্ঠানের সদস্যরা সাহস, ত্যাগ পেশাদারিত্বের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করে জনগণের আস্থা অর্জন করেছেন। এই প্রতিষ্ঠানের স্বচ্ছতা বজায় রাখতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একজন ব্রিগেডিয়ার জেনারেলকে মহাপরিচালক এবং বিভিন্ন পদে সেনাবাহিনীর কর্মকর্তাদের নিয়োগ দেওয়া হয়। তবে স্বৈরাচার হাসিনা সরকারের শাসনামল থেকে এই সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানটিকে দুর্নীতির আঁতুড়ঘরে পরিণত করা হয়েছে। এটি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, কোথাও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটলে তদন্তের নামে কোটি কোটি টাকার ঘুষ কেলেঙ্কারির অভিযোগও উঠেছে। এদিকে নিয়োগ বাণিজ্য, বদলি টেন্ডার বাণিজ্য প্রতিষ্ঠানটির নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনায় পরিণত হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির ভালো কাজের যেমন স্বীকৃতি রয়েছে, তেমনি নানা অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগও কম নয়।

নানা অপকর্মে জড়িত কর্মকর্তাদের একটি সিন্ডিকেট ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরে ঘাপটি মেরে নিয়োগ বাণিজ্য, বদলি ও টেন্ডার বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত রয়েছে। তাদের ইচ্ছামতো কাজ না হলে তারা সৎ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ দিয়ে নাজেহাল করেন। ফলে এখানে যে–ই মহাপরিচালক হয়ে আসেন, তিনিও অনেক ক্ষেত্রে তাদের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখে বিভিন্ন অনিয়ম ও অপকর্মে জড়িয়ে পড়েন।

ঠিক তেমনি প্রতিষ্ঠানটির বর্তমান মহাপরিচালক মুহাম্মদ জাহেদ কামাল এখানে এসেছিলেন ফেরেশতার মতো ভাবমূর্তি নিয়ে। কিন্তু অল্প কিছুদিনের মধ্যেই তিনিও প্রতিষ্ঠানটিকে দুর্নীতির এক আতুরঘরে পরিণত করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

প্রতিষ্ঠান প্রধানের পরেই সবচেয়ে ক্ষমতাধর পদ হলো পরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ)। এ পদে রয়েছেন উপসচিব পদমর্যাদার কর্মকর্তা শহীদ আতাহার হোসেন। তিনি স্বৈরাচার আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের ১১টি আধুনিকায়ন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক (পিডি) ছিলেন। সে সময় ওই প্রকল্পগুলোতে তার নেতৃত্বে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে।

৫ আগস্টের পর সব অভিযোগ ধুয়ে-মুছে তিনি নিজেকে ফ্যাসিবাদবিরোধী আমলা হিসেবে উপস্থাপন করেন। অভিযোগ রয়েছে, ক্ষমতাধর এক আমলার ছেলেকে প্রভাবিত করে তিনি ফায়ার সার্ভিসের বর্তমান পদে বহাল থাকেন।

পরবর্তীতে নিয়োগ বাণিজ্যসহ নানা অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গত ২ এপ্রিল তাকে স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগে উপসচিব হিসেবে বদলির আদেশ দেওয়া হয়। তবে অভিযোগ রয়েছে, ওই প্রভাবশালী আমলার ছেলের মাধ্যমে তিনি বদলির আদেশটি বাতিল করাতে সক্ষম হন। এ জন্য মোটা অঙ্কের অর্থ ব্যয় করেছেন বলেও ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরে ব্যাপকভাবে আলোচনা রয়েছে।

বদলির আদেশ বাতিল হওয়ার পর তিনি কয়েক শ কর্মকর্তা-কর্মচারীর বদলির আদেশ জারি করেন। এসব বদলিতে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে। যদিও সরকারি কাগজপত্রে বদলিগুলো আবেদন ও প্রশাসনিক প্রয়োজনের ভিত্তিতে করা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে, অভিযোগ অনুযায়ী বাস্তবে বিভিন্ন স্টেশন থেকে একটি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ করে এসব বদলি সম্পন্ন করা হয়েছে।

আদেশ বাতিল হওয়ার পরপরই তিনি গত ৬ এপ্রিল জনবল নিয়োগসংক্রান্ত একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দেন, যা ৭ এপ্রিল কয়েকটি জাতীয় পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। সেই ধারাবাহিকতায় আগামী ১১ জুন আবেদনকারীদের শারীরিক যোগ্যতা যাচাই পরীক্ষার মাঠ নির্ধারণ করা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, পুরুষ প্রার্থীদের ক্ষেত্রে ন্যূনতম উচ্চতা ৫ ফুট ৬ ইঞ্চি এবং নারী প্রার্থীদের ক্ষেত্রে ন্যূনতম ৫ ফুট ৩ ইঞ্চি হতে হবে।

অভিযোগ রয়েছে, বিজ্ঞপ্তিতে এসব শর্ত উল্লেখ থাকলেও একটি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে অর্থের বিনিময়ে তাদের পছন্দের প্রার্থীদের শারীরিক যোগ্যতা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ দেখানো হবে। অন্যদিকে, যেসব প্রার্থী অর্থ লেনদেন করবেন না, তারা ন্যূনতম উচ্চতার চেয়ে বেশি—এমনকি ৫ ফুট ৮ ইঞ্চি উচ্চতা থাকলেও—অযোগ্য হিসেবে বাদ পড়তে পারেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

এ-সংক্রান্ত অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন জেলা ও বিভাগ থেকে অনেক প্রার্থীর কাছ থেকে অর্থ নেওয়া হয়েছে।

যাদের কাছ থেকে অর্থ নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে, তাদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের রোল নম্বর ইতোমধ্যে আমাদের হাতে এসেছে। বস্তুনিষ্ঠার স্বার্থে কয়েকটি রোল নম্বর উল্লেখ করা হলো: ৪২৩০০১০২, ৪২৩০০০১৬, ৩০৩০০০১০, ৩০৩০০২৮৪, ৩০৩০০১২৩, ৩১৩০০০৮৯, ৩১৩০০২১২, ২৯৩০০০১০, ২৮৩০০০১১, ২৮৩০০০১৮, ৬০৩০০০৭৪, ৬০৩০০১০৬, ৬০৩০০১২৮, ৬১৩০০০৩১, ৬২৩০০০৩৯, ৬৩৩০০০৮৮, ৬৪৩০০০১০, ৬৫৩০০০০৩, ৬৬৩০০০২৪, ৬৬৩০০০৭২, ৬৭৩০০০০৯, ৬৮৩০০০০৭, ৬৮৩০০১২৫, ৬৯৩০০০২২, ৭০৩০০০৭৯, ৭০৩০০০৮১, ৭০৩০০১৬৬, ৭০৩০০২৪৫, ৭১৩০০০৫১, ৭১৩০০১২০, ৭২৩০০০২৮ এবং ৭৩৩০০০১৯।

অভিযোগ অনুযায়ী, এসব ছাড়াও আরও কয়েক শ প্রার্থীর কাছ থেকে অর্থ লেনদেন করা হয়েছে। এসব রোল নম্বরের তালিকা আমোদের কাছে রয়েছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, সবচেয়ে ভয়াবহ চিত্র রাজশাহী বিভাগে। এ বিভাগে জনপ্রতি ২০ থেকে ২৫ লাখ টাকা পর্যন্ত ঘুষ নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে সিরাজগঞ্জ জেলায় শারীরিক যোগ্যতা যাচাই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ দেখানো হবে এমন প্রার্থীর সংখ্যা অন্যান্য জেলার তুলনায় কয়েক গুণ বেশি হতে পারে বলেও অভিযোগ উঠেছে।

শুধুমাত্র সিরাজগঞ্জ থেকে অর্থ আদায়ের অভিযোগে সংশ্লিষ্ট কয়েকটি রোল নম্বর উল্লেখ করা হলো: ২৫৩০০৮৭৭, ২৫৩০১৪৩২, ২৫৩০১৩৭১, ২৫৩০০৯৫২, ২৫৩০১২০৬, ২৫৩০০৯০২, ২৫৩০০৪২১, ২৫৩০০১১৪, ২৫৩০০০৭৫, ২৫৩০১১০৯ ও ২৫৩০০১৩৭। এ ছাড়া আরও বেশ কিছু রোল নম্বর রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, এসব রোল নম্বর নিয়োগ কমিটির সভাপতি, অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ) শহীদ আতাহার হোসেন এবং নিয়োগ কমিটির সদস্যসচিব, উপপরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ) মিজানুর রহমানের কাছে পাঠানো হয়েছে। যাতে শারীরিক যোগ্যতা যাচাই পরীক্ষার দিন এসব প্রার্থীকে যোগ্য হিসেবে উত্তীর্ণ দেখিয়ে তালিকাভুক্ত করা হয়।

একাধিক সূত্রে জানা গেছে, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের প্রধান কার্যালয়ে বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা ১৪ থেকে ১৫ বছর ধরে গুরুত্বপূর্ণ পদে কর্মরত রয়েছেন। সরকারি বিধান অনুযায়ী তিন বছর পরপর বদলির নিয়ম থাকলেও, অভিযোগ রয়েছে যে তারা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগের অতিরিক্ত সচিবকে প্রভাবিত করে বছরের পর বছর প্রধান কার্যালয়ে দায়িত্ব পালন করছেন। ফলে তাদের ক্ষেত্রে সরকারি বদলি নীতিমালা কার্যত অকার্যকর হয়ে রয়েছে। দীর্ঘদিন প্রধান কার্যালয়ে দায়িত্ব পালনকারী এসব কর্মকর্তা প্রতিষ্ঠানটিকে তাদের বাণিজ্যিক স্বার্থে ব্যবহার করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, এই সিন্ডিকেট অধিদপ্তরের কেনাকাটা ও উন্নয়ন টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ করে। এছাড়া ফায়ার ফাইটারসহ অন্যান্য কর্মচারী নিয়োগে মূল ভূমিকা পালন, ফায়ার লাইসেন্স-সংক্রান্ত কার্যক্রমে অনিয়ম এবং বদলি বাণিজ্যের সঙ্গেও তারা জড়িত। দীর্ঘদিন ধরে তাদের নিয়ন্ত্রণে রাষ্ট্রীয় এই প্রতিষ্ঠানটি কার্যত জিম্মি হয়ে আছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

এদিকে, ফায়ার লাইসেন্স-সংক্রান্ত অনলাইন সেবার প্রায় সব কার্যক্রম একটি বেসরকারি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ওই প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বে থাকা নাফিজ কবীর বিনামূল্যে বিতরণের লাইসেন্স আবেদনপত্র ২৯৫ টাকা করে বিক্রি করছেন। এছাড়া ১২ হাজার টাকার সরকারি লাইসেন্স ফি আদায়ের ক্ষেত্রে আবেদনকারীদের কাছ থেকে ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। এমনকি ফায়ার ফাইটার নিয়োগের ক্ষেত্রেও তিনি মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

ফায়ার সার্ভিসের একাধিক সূত্র জানায়, নিয়োগে অনিয়মের সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির মহাপরিচালক মুহাম্মদ জাহেদ কামাল, পরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ) শহীদ আতাহার হোসেন এবং নিয়োগ কমিটির সদস্যসচিব, উপপরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ) মিজানুর রহমান জড়িত রয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এদিকে অধিদপ্তরের মহাপরিচালক জাহেদ কামাল নিজেকে স্বচ্ছ হিসেবে উপস্থাপন করছেন এবং নিয়োগ প্রক্রিয়া স্বচ্ছ হবে বলে প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে সংশ্লিষ্টদের মতে, শুধু এ ধরনের প্রচারণায় নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত হবে না। বরং এমন বক্তব্যের আড়ালে দুর্নীতি, অনিয়ম ও নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ আড়াল করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মুহাম্মদ জাহেদ কামালকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি। এ বিষয়ে উপপরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ) মিজানুর রহমান বলেন, ‘সবকিছু স্বচ্ছভাবে হবে। ডিজি স্যার নিজে সরেজমিনে উপস্থিত থাকবেন। নিয়োগে কোনো ধরনের অনিয়মের সুযোগ নেই। অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নাম ব্যবহার করে বাইরে কেউ অর্থ হাতিয়ে নিলে, সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

একই বিষয়ে পরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ) শহীদ আতাহার হোসেনকে ফোন করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি। তবে পরে তিনি অধিদপ্তরের ফায়ার ফাইটার সাদ্দাম হোসেনের মাধ্যমে এই প্রতিবেদকের সঙ্গে যোগাযোগ করান। অভিযোগ রয়েছে, ওই সময় সংবাদটি প্রকাশ না করার অনুরোধ জানিয়ে বিভিন্ন ধরনের উপঢৌকন দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়।

এ বিষয়ে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের সাবেক এক মহাপরিচালক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ফায়ার সার্ভিসের মতো গুরুত্বপূর্ণ সেবামূলক প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ প্রক্রিয়া অবশ্যই শতভাগ স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও মেধাভিত্তিক হওয়া উচিত। কোনো ধরনের তদবির, অর্থ লেনদেন বা অনিয়মের অভিযোগ প্রতিষ্ঠানটির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করে এবং প্রকৃত যোগ্য প্রার্থীদের বঞ্চিত করে। তাই নিয়োগের প্রতিটি ধাপে কঠোর নজরদারি, ডিজিটাল যাচাই এবং স্বাধীন তদারকি নিশ্চিত করা প্রয়োজন। অভিযোগ উঠলে তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দ্রুত নিষ্পত্তি করা উচিত।

Facebook
X
LinkedIn
Threads
WhatsApp
Telegram
Email

Leave a Comment

সংখ্যালঘুদের অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচনী অংশগ্রহণ নিশ্চিতে শ্রীমঙ্গলে রূপসার প্রেসব্রিফিং

সংখ্যালঘুদের অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচনী অংশগ্রহণ নিশ্চিতে শ্রীমঙ্গলে রূপসার প্রেসব্রিফিং

ইসমাইল মাহমুদ, মৌলভীবাজারঃ সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপদ, তথ্যভিত্তিক ও সমঅধিকার ভিত্তিক নির্বাচনী অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার দাবিতে শ্রীমঙ্গলে প্রেসব্রিফিং করেছে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা রূপসা। শনিবার (১৩ জুন) সকালে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল শহরের রিজিক রেস্টুরেন্টের কনফারেন্স রুমে এ প্রেসব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়। এতে বক্তব্য উপস্থাপন করেন রূপসার নির্বাহী পরিচালক হিরন্ময় মন্ডল। ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে এবং ইউরোপীয় পার্টনারশিপ ফর ডেমোক্রেসির সহযোগিতায় পরিচালিত নির্বাচনী পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, ২০২৬ সালের সংসদীয় নির্বাচন ও গণভোটে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষ শান্তিপূর্ণভাবে অংশ নিলেও তথ্যভিত্তিক অংশগ্রহণ, রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব ও নিরাপত্তার ক্ষেত্রে এখনও নানা সীমাবদ্ধতা রয়েছে। দেশের ২৫টি সংসদীয় আসনের ৫০৯টি ভোটকেন্দ্রে ২০০ জন প্রশিক্ষিত পর্যবেক্ষক কাজ করেন। পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, অনেক সংখ্যালঘু ভোটার ভোটকেন্দ্রে গিয়ে প্রথমবার গণভোট সম্পর্কে জানতে পারেন, যা ভোটার সচেতনতার ঘাটতি নির্দেশ করে। প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ

আরও পড়ুন
language Change