ডেস্ক রিপোর্টারঃ
শিক্ষক,শিক্ষার্থীদের জ্ঞান, দক্ষতা, মূল্যবোধ ও নৈতিকতা অর্জনে সাহায্য করেন এবং তাদের সুপ্ত প্রতিভার বিকাশ ঘটান। শিক্ষকরা কেবল পাঠ্যবই পড়ানোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেন না, তারা সমাজ গঠনের কারিগর এবং পথপ্রদর্শক।
শিক্ষার বাণিজ্যিকীকরণ এবং শিক্ষাকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা বিভিন্ন ব্যবসা বর্তমান সমাজের একটি বড় বাস্তবতা। শিক্ষাদানের মহৎ উদ্দেশ্য ছাপিয়ে অনেক ক্ষেত্রে এটি এখন একটি অতি লাভজনক শিল্পে পরিণত হয়েছে! বর্তমানে শহরের ওলিতে গলিতে দেখা যায় কিন্ডারগার্টেন সহ হাজারো স্কুল-কলেজের নামে খুলে বসেছে ব্যবসায়িক দোকান! এদিকে ব্যক্তিমালিকরা রাতারাতি যেন আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ চিত্রে বনে যাচ্ছে, অন্য দিকে ব্যবসায়ের মূল হাতিয়ার শিক্ষকদের নুন আনতে পান্তা ফুরাচ্ছে ! কথাটা তিতা হলেও এটাই বাস্তবতা, পাচ্ছে না তাদের শ্রমের সঠিক সম্মানি বা অর্থনৈতিক অধিকার। এক কথায় বলা যায়, নিজেদের আখের গোছানো এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের হাতিয়ার এই শিক্ষকরাই আজ ভালো নেই! এটাই বর্তমান বেসরকারি স্কুল-কলেজের বাস্তব চিত্র। শিক্ষার নামে ব্যবসা এখন শুধু কোচিং এ আটকে নেই। বেসরকারি কিন্ডারগার্টেন, স্কুল-কলেজের ভেতরের খবর আরও ভয়াবহ? ব্যবসা আগে, শিক্ষা পরে এটাই বাস্তবতা। সিস্টেমের ফাঁক দিয়ে প্রতিষ্ঠান মালিকরা আখের গোছাচ্ছে, আর ন্যায্য বেতন না পাওয়া শিক্ষকরা বাধ্য হয়ে সেই ব্যবসার অংশ হচ্ছে। মাঝখানে চাপে পড়ছে শিক্ষার্থী আর অভিভাবক। অভিভাবকরা বলছেন, আমরাই সন্তানদের বিপদে ঠেলে দিচ্ছি। ভালো রেজাল্টের অহংকার দেখাতে গিয়ে শিশুদের অযৌক্তিক প্রতিযোগিতায় পাঠাচ্ছি, আর কোচিংগুলো সেটাকেই কাজে লাগাচ্ছে।
শিক্ষকদের মানসিক ও অর্থনৈতিক সংকটের বিষয়টি ও বর্তমানে অত্যন্ত প্রকট। বেতন বৈষম্য, সামাজিক মর্যাদা হ্রাস, রাজনৈতিক চাপ এবং অতিরিক্ত কাজের চাপে বেশিরভাগ শিক্ষক মানসিক ও অর্থনৈতিক দিক দিয়ে ভালো নেই। বাস্তবচিত্তে শিক্ষক-শিক্ষিকার অবস্থা আরো বেশি খারাপ। যেখানে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বেতন বৈষম্য? স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসার এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা বলছেন, মূল্যস্ফীতির চাপে তারা ভালো নেই। বেশিরভাগ বেসরকারি ও এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বেতন বাজারের তুলনায় বেশ কম। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির এই যুগে এই সামান্য আয়ে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে, তাদের ভাষ্য মতে তাদের বেতনের টাকায় ঢাকা সহ অন্যান্য শহরগুলোতে সংসার চালানো অসম্ভব। দু মুঠো ডাল ভাত খেয়ে বেচে থাকাই কষ্টদায়ক! তাই অনেক শিক্ষকই বাধ্য হয়ে কোচিং-প্রাইভেটকে আয়ের উৎস বানাচ্ছে। বর্তমানে অন্যান্য পেশার তুলনায় শিক্ষকদের বেতন কাঠামো প্রায়শই জীবনযাত্রার ব্যয়ের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয় না। অনেক উন্নয়নশীল দেশের তুলনায় আমাদের দেশে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষকদের বেতন তুলনামূলক অনেক কম। এমপিওভুক্ত বা বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা সরকারি সুযোগ-সুবিধা ও সময়মতো বেতন থেকে বঞ্চিত হন, যা ব্যাপক হতাশার সৃষ্টি করে। অনেকেই শিক্ষকতাকে কেবল একটি সেবামূলক কাজ হিসেবে দেখেন, যার ফলে তাদের ন্যায্য অর্থনৈতিক দাবিগুলো উপেক্ষিত থেকে যায়।
আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে শিক্ষকরা অনেক সময় অতিরিক্ত টিউশন বা কোচিংয়ে মনোনিবেশ করতে বাধ্য হন, যা ক্লাসে মনোযোগ ও শিক্ষার মানকে ব্যাহত করে। প্রতিযোগিতামূলক বেতন, সামাজিক মর্যাদা ও ক্যারিয়ারের উন্নতির সুযোগ না থাকায় মেধাবী শিক্ষার্থীরা শিক্ষকতা পেশায় আসতে নিরুৎসাহিত হন। পেশাগতভাবে আর্থিক স্বাধীনতা না থাকলে সমাজে তাদের মর্যাদাও ক্ষুণ্ন হয়, যা পরোক্ষভাবে শিক্ষার্থীদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। শিক্ষকদের জীবনমান উন্নয়নে সময়োপযোগী ও প্রতিযোগিতামূলক বেতন এবং পেশাগত নিরাপত্তা প্রদান করা। সরকারি ও বেসরকারি শিক্ষকদের মধ্যকার সুযোগ-সুবিধার ব্যবধান কমিয়ে আনা এবং বেসরকারি শিক্ষকদের চাকরি জাতীয়করণের দাবি কে গুরুত্ব দেওয়া জরুরি।
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: কে এম মাসুদুর রহমান, সম্পাদক ও প্রকাশক: মোহাম্মদ মাসুদ।
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: ২১/১ নয়াপল্টন (মসজিদ গলি),ঢাকা - ১০০০।
✆ ০১৫১১৯৬৩২৯৪, ০১৬১১৯৬৩২৯৪ 📧dailysobujbangladesh@gmail.com.
কপিরাইট © ২০২৫ দৈনিক সবুজ বাংলাদেশ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত