মিজানুর রহমান, শেরপুর জেলা প্রতিনিধিঃ
শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অন্যতম নিদর্শন গারো পাহাড় অবৈধ বালু উত্তোলনের কারণে মারাত্মক হুমকির মুখে। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে একটি সংঘবদ্ধ চক্র পাহাড়ি ছড়া ও নদী থেকে নির্বিচারে বালু উত্তোলন করে পরিবেশের অপূরণীয় ক্ষতি করে চলেছে। প্রশাসন নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে জরিমানা ও কারাদণ্ড দিলেও অবৈধ বালু উত্তোলন পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব হচ্ছে না। স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্যমতে, প্রতিদিন রাত ১০টা থেকে ভোর ৫টা পর্যন্ত গারো পাহাড়সংলগ্ন বিভিন্ন এলাকা থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা হয়। পরে সেই বালু মাহিন্দ্র, অটোভ্যান, ট্রলি ও অন্যান্য ছোট যানবাহনে করে বিভিন্ন এলাকায় পরিবহন করা হয়। রাতের আঁধারে এসব যানবাহনের অবাধ চলাচলে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ বাড়ছে।
অভিযোগ রয়েছে, প্রশাসনের উপস্থিতি কমে গেলে আবারও সক্রিয় হয়ে ওঠে বালু উত্তোলনকারী চক্র। মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে একাধিকবার জরিমানা আদায় এবং কারাদণ্ড দেওয়া হলেও তা স্থায়ীভাবে অবৈধ কার্যক্রম বন্ধ করতে পারছে না। ফলে পরিবেশ ধ্বংসের পাশাপাশি সরকারের রাজস্বও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে মনে করছেন সচেতন মহল। পরিবেশবিদদের মতে, পাহাড়ি এলাকা থেকে অনিয়ন্ত্রিতভাবে বালু উত্তোলনের ফলে ছড়া ও নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে। এতে ভূমিক্ষয়, পাহাড় ধস, জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি এবং কৃষিজমির ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ার আশঙ্কা বাড়ছে। বর্ষা মৌসুমে এসব এলাকার ঝুঁকি আরও বৃদ্ধি পেতে পারে। স্থানীয়রা আরও জানান, রাতভর বালুবাহী মাহিন্দ্র, অটোভ্যান ও ট্রলির চলাচলে গ্রামীণ সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, শব্দদূষণ বাড়ছে এবং দুর্ঘটনার আশঙ্কাও সৃষ্টি হচ্ছে। তাদের দাবি, শুধু অভিযান পরিচালনা নয়, অবৈধ বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত মূল হোতাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। পাশাপাশি রাতের বেলায় নিয়মিত টহল, গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে নজরদারি বৃদ্ধি এবং বালু পরিবহনে ব্যবহৃত যানবাহনের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণেরও দাবি জানান তারা।
এ বিষয়ে ঝিনাইগাতী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আল-আমীন বলেন, অবৈধ বালু উত্তোলন কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না। প্রশাসন বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। বালু উত্তোলন বন্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। প্রকৃতি ও পরিবেশ রক্ষায় গারো পাহাড়ের গুরুত্ব অপরিসীম। তাই অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং স্থানীয় জনগণের সমন্বিত উদ্যোগই পারে এই গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক সম্পদকে রক্ষা করতে। সচেতন মহলের প্রত্যাশা, দ্রুত কার্যকর ও স্থায়ী পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে গারো পাহাড়কে অবৈধ বালু উত্তোলনের হাত থেকে রক্ষা করা হবে।
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: কে এম মাসুদুর রহমান, সম্পাদক ও প্রকাশক: মোহাম্মদ মাসুদ।
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: ২১/১ নয়াপল্টন (মসজিদ গলি),ঢাকা - ১০০০।
✆ ০১৫১১৯৬৩২৯৪, ০১৬১১৯৬৩২৯৪ 📧dailysobujbangladesh@gmail.com.
কপিরাইট © ২০২৫ দৈনিক সবুজ বাংলাদেশ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত