আলাউদ্দিন কবির, রংপুর প্রতিনিধিঃ
রংপুর সদর উপজেলার মমিনপুর ইউনিয়নের চতরা এলাকায় অবস্থিত টিকে গ্রুপের একটি কারখানার বিষাক্ত শিল্পবর্জ্য ও রাসায়নিক মিশ্রিত পানির কারণে বিপন্ন হয়ে পড়েছে স্থানীয় পরিবেশ ও কৃষিজীবী মানুষের জীবন। কারখানাটির নির্গত রাসায়নিকের প্রভাবে আশপাশের ফসলি জমি ও পুকুরের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) বিষাক্ত বর্জ্যের কারণে একটি পুকুরের প্রায় দুই লাখ টাকার মাছ মারা গেছে বলে জানা গেছে।
ভুক্তভোগী কৃষক সইদার রহমান জানান, বৃহস্পতিবার সকালে পুকুরে গিয়ে তিনি তার চাষ করা সব মাছ মরে ভেসে থাকতে দেখেন। তার অভিযোগ, কারখানা থেকে নির্গত ডিটারজেন্ট ও অন্যান্য রাসায়নিক বর্জ্য বৃষ্টির পানির সাথে তার পুকুরে প্রবেশ করায় এই মড়ক লেগেছে। ক্ষোভ ও আর্তনাদ প্রকাশ করে সইদার রহমান বলেন, আমি একজন অসহায় কৃষক। কোম্পানির পাশের জমিতে কষ্ট করে চাষাবাদ করি। কিছুদিন আগে তাদের বিষাক্ত কেমিক্যালের কারণে আমার প্রায় ৭৫ শতাংশ জমির কচুক্ষেত পুড়ে নষ্ট হয়ে গেছে। আর এবার পুকুরের দুই লাখ টাকারও বেশি মাছ মারা গেল। বারবার অভিযোগ করেও কোনো প্রতিকার পাইনি, আমি এখন নিঃস্ব। স্থানীয় কৃষকদের দাবি, কারখানাটি সাবেক সনিক প্রাইম পুষ্টি লিমিটেড থাকার সময় থেকেই এই সমস্যা চলছে, যা বর্তমান মালিকপক্ষ টিকে গ্রুপের অধীনেও অব্যাহত রয়েছে। অপরিকল্পিতভাবে বর্জ্য অপসারণের ফলে আশপাশের কৃষিজমিতে উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এলাকার আরেক কৃষক আব্দুল কুদ্দুস বলেন, এই কোম্পানির কারণে আমরা সাধারণ কৃষকরা পুরোপুরি অসহায় হয়ে পড়েছি। বিষাক্ত বর্জ্যে জমির উর্বরতা নষ্ট হচ্ছে, কোনো ফসল ঠিকমতো ঘরে তুলতে পারছি না। এমনকি এর প্রভাবে এলাকার খাল-বিলের দেশীয় মাছও এখন বিলুপ্তির পথে।
কৃষিজমি ও জলাশয়ের পাশাপাশি বায়ুদূষণের অভিযোগও তুলেছেন এলাকাবাসী। কারখানাটি থেকে নির্গত কালো ধোঁয়া ও ছাইয়ের কারণে চতরা ও আশপাশের এলাকার পরিবেশ দূষিত হচ্ছে, যা স্থানীয়দের মধ্যে নানাবিধ শ্বাসকষ্ট ও চর্মরোগের ঝুঁকি বাড়াচ্ছ। তবে স্থানীয় বাসিন্দারা সাফ জানিয়েছেন, তারা শিল্পপ্রতিষ্ঠান বন্ধের পক্ষে নন। কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের স্বার্থে কারখানাটি চালু থাকুক-এটি তারা চান। কিন্তু পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের ক্ষতি রোধে অবিলম্বে কার্যকর ইটিপি (বর্জ্য শোধনাগার) ও সঠিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় ফসলি জমি ও জীবিকা রক্ষায় কঠোর আন্দোলনে নামার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা। এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে টিকে গ্রুপের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের জেনারেল ম্যানেজারের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। এমনকি তার হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে বার্তা পাঠানো হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: কে এম মাসুদুর রহমান, সম্পাদক ও প্রকাশক: মোহাম্মদ মাসুদ।
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: ২১/১ নয়াপল্টন (মসজিদ গলি),ঢাকা - ১০০০।
✆ ০১৫১১৯৬৩২৯৪, ০১৬১১৯৬৩২৯৪ 📧dailysobujbangladesh@gmail.com.
কপিরাইট © ২০২৫ দৈনিক সবুজ বাংলাদেশ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত