স্টাফ রিপোর্টার॥
জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সচিব মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম লেবাসে পুরোপুরি ইসলামী ভাবধারার। আচার-আচরণে এতোটা সরলতার ভাব ধরেন যেন, ভাজা মাছটা উল্টে খেতে জানেন না। এই লেবাসের অন্তরালে তিনি কতটা ভয়াবহ দুর্নীতিবাজ এবং ধুর্ত- এর চিত্র রয়েছে সাপ্তাহিক শীর্ষকাগজের বিগত সংখ্যার “এলপিজির কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির নেপথ্যে ছিল ব্যবসায়ী নেতা সিরাজুল মাওলা ও জ্বালানি সচিব সিন্ডিকেট: হাতিয়ে নিয়েছে হাজার হাজার কোটি টাকা” শিরোনামে প্রকাশিত প্রতিবেদনে। প্রতিবেদনটিতে গত শীত মৌসুমে দেশব্যাপী এলপিজির কৃত্তিম সংকট সৃষ্টির নেপথ্য কাহিনী তুলে ধরা হয়। ওই সময় সংকট এতটা ভয়াবহ ছিল যে, সারাদেশের গ্রাহকদের মধ্যে হাহাকার পড়ে যায়। এবং তা দীর্ঘ প্রায় চার মাস যাবৎ স্থায়ী থাকে। কিন্তু সংকটটা কীভাবে সৃষ্টি হয়েছে, এর নেপথ্যে কে বা কারা ছিলেন- এ সম্পর্কে আলোচ্য প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হওয়ার আগ পর্যন্ত দেশের মানুষ পুরোপুরিই অন্ধকারে ছিল। যদিও এমন একটা কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির পর এ নিয়ে মন্ত্রণালয়ের তদন্ত এবং দায়ী ব্যক্তিদের খুঁজে বের করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার অপরিহার্যতা ছিল, কিন্তু বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় তা করেনি। সৎ দাবিদার অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান বিষয়টি পুরোপুরিই এড়িয়ে গেছেন, কারণ এ সংকটের ফায়দা পেয়েছেন তিনি নিজে এবং তাঁর রাজনৈতিক দল জামায়াতে ইসলামী। অন্যদিকে মন্ত্রণালয়ের সচিব সাইফুল ইসলাম তো নিজেই সরাসরি জড়িত ছিলেন। চক্রটি এতোটা ধুর্ত যে, একযোগে সারাদেশের মানুষকে ধোঁকা দিতে সক্ষম হয়েছে।
শীর্ষকাগজ এবং শীর্ষনিউজ ডটকমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে সবকিছু ফাঁস হয়ে যাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে জ্বালানি সচিব মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম অত্যন্ত বেকায়দায় পড়েন। এটিকে ধামাচাপা দিতে গিয়ে তিনি ভাওতাবাজির নতুন এক প্রচারণায় নেমেছেন। গণমাধ্যমে এই মর্মে সংবাদ ছেড়েছেন যে, সিন্ডিকেট ভাঙতে আগামীতে এলপিজির বাজার নিয়ন্ত্রণে নেবে বিপিসি। কিন্তু বাস্তবে এ ধরনের বক্তব্য অন্তঃসারশূন্য, বলছেন সংশ্লিষ্টরা। এলপিজির চাহিদা এবং বাজার যেভাবে বাড়ছে তাতে আগামীতে বিপিসির পক্ষে বাজার নিয়ন্ত্রণের মতো সক্ষমতা অর্জন করা মোটেই সম্ভব হবে না। এলপিজির বাজার নিয়ন্ত্রণ করতে হবে মন্ত্রণালয়ের কঠোর নীতিমালা ও মনিটরিং ব্যবস্থার মাধ্যম। কিন্তু সিন্ডিকেট যে অন্য কেউ নয়, খোদ মন্ত্রণালয়ের সচিব সাইফুল ইসলাম নিজেই। সর্ষের মধ্যে ভুত থাকলে ভুত কখনোই তাড়ানো যাবে না। সিন্ডিকেটের হোতা তিনি নিজেই, একথা প্রকাশ হওয়ার পর তা ধামাচাপা দিতেই মূলতঃ এলপিজির বাজারে বিপিসি আসার খবর দেওয়া হয়েছে।
বর্তমানে বিপিসির মালিকানাধীন এলপি গ্যাস কোম্পানি মোট বাজারের মাত্র ২ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। নতুন প্ল্যাট নির্মাণের যে প্রচারণা বাজারে ছাড়া হয়েছে এটা নতুন কিছু নয়। এখন থেকে চার বছর আগে খুলনা এবং চট্টগ্রামে দুটি এলপিজি প্ল্যান্ট নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। সেই প্ল্যান্ট দু’টির সম্ভাব্যতা যাচাইও এখন পর্যন্ত হয়নি। আলোচ্য এই প্ল্যান্ট দুটি নির্মাণে কত বছর লাগবে বা আদৌ শেষ পর্যন্ত নির্মিত হবে কিনা তা এখন পর্যন্ত সম্পূর্ণ অনিশ্চিত। অথচ প্রচারণায় বলা হয়েছে, দেড় বছরের মধ্যে প্ল্যান্ট নির্মাণ হয়ে যাবে। এটি আদতে সচিবের ভাওতাবাজি এবং নিজের অপকর্ম ঢাকার একটা প্রচেষ্টা মাত্র। গত শীত মৌসুমে এলপিজি সংকটের সময়েও তিনি সংবাদ মাধ্যমে এ রকমের একটা বক্তব্য দিয়েছিলেন। বলেছিলেন, সরকারি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) নিজেরাই এলপিজি আমদানি করবে। কিন্তু আদতে এই ঘোষণাটি ছিল সাধারণ মানুষের জন্য প্রতারণামূলক। কারণ, আমদানি করা হয়ে থাকে কাঁচামাল প্রোপেন, বিউটন; এলপিজি নয়। বিপিসি সরাসরি এসব কাঁচামাল বিদেশ থেকে আমদানি করলেও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে যেতে হবে এলপিজি-তে প্রক্রিয়াজাত করার জন্য। তাছাড়া এলপিজি বোটলিং-এর বিষয় তো রয়েছেই। এরজন্যও প্ল্যান্টের দরকার। এলপিজি সংকট সৃষ্টিতে নিজের অপকর্ম ঢাকতে গিয়েই এখন একই কাজ করেছেন।
নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, বিপিসি চেয়ারম্যান মো. রেজানুর রহমানও ব্যবসায়ী নেতা সিরাজুল মাওলা এবং জ্বালানি সচিব সিন্ডিকেটে যুক্ত হয়েছেন। নতুন বিএনপি সরকারের শুরুতে গত মার্চে যুদ্ধের সময় তেল সংকট সৃষ্টিতে এই রেজানুর রহমানের সরাসরি ভূমিকা ছিল। সরকারের নির্দেশনা লঙ্ঘন করে রাতের আঁধারে বিপুল পরিমাণ তেল ছেড়ে দেওয়া হয়। এতে সরকারি মজুত হঠাৎ করে কমে যায়। তাৎক্ষণিকভাবে সর্বত্র একথা প্রচারিত হলে সবাই তেল মজুত করতে শুরু করে। তেল সংকটের শুরু এখান থেকেই। অথচ সরকারের নির্দেশনা অনুসরণ করা হলে তখন পর্যন্ত তেল সংকট সৃষ্টি হওয়ার কথা ছিল না। অবশেষে এর পুরো দায় দুই পরিচালকের ওপর চাপিয়ে তাদেরকে তাৎক্ষণিকভাবে প্রত্যাহার করা হয়। কিন্তু বেঁচে যান রেজানুর রহমান। যদিও চেয়ারম্যান হিসেবে পুরো দায় তারই। বলা হলো, তিনি নতুন এসেছেন। এসব বিষয় পুরোপুরি বুঝে উঠতে পারেননি। আদতে তা নয়। তিনি এই পদে এসেছেন ২৯ জানুয়ারি, ২০২৬। অর্থাৎ দুই মাসের বেশি সময় অতিক্রান্ত হয়ে গেছে তখন পর্যন্ত। দায়িত্ব বুঝতে সচিব পর্যায়ের একজন কর্মকর্তার যদি দুই মাসেও সম্ভব না হয় সেই কর্মকর্তার এ ধরনের পদে থাকার আদৌ কোনো যোগ্যতা আছে কি, এ প্রশ্নের নিশ্চয়ই না সূচক জবাব পাওয়া যাবে। তারপরও তিনি বহাল-তবিয়তেই রয়েছেন বিপিসি চেয়ারম্যানের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে এখন পর্যন্ত। সচিব মোহাম্মদ সাইফুল ইসলামই তার মাথায় ছাতা হিসেবে আছেন এবং রেখেছেন।
সচিব মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম এবং বিপিসি চেয়ারম্যান রেজানুর রহমান- দু’জনই একই ঘরানার, কট্টর জামায়াত। জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ কেন্দ্রীক সবকটি সিন্ডিকেটেই এখন এরা দু’জন একসঙ্গে কাজ করছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। সচিবের বন্ধু বাংলাদেশ এলপিজি অটোগ্যাস স্টেশন অ্যান্ড কনভারশন ওয়ার্কশপ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার মো. সিরাজুল মাওলাকে প্রায় প্রতিদিনই সচিবের অফিস কক্ষে দেখা যেতো। বিপিসি চেয়ারম্যানের দপ্তরেও যেতেন তিনি। গত কয়েকমাসে তাবলিগের অন্তরালে গোপন বৈঠক-শলাপরামর্শে রেজানুর রহমানও বেশ কয়েকবার অংশ নিয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে। শীর্ষকাগজে এলপিজি সিন্ডিকেটের তথ্য ফাঁস হওয়ার পর সিরাজুল মাওলা এখন কিছুটা সরে আছেন।
প্রসঙ্গত, গত শীত মৌসুমে এলপিজি (তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস) সংকটের কথা কারো অজানা নয়। এলপিজি সিলিন্ডার সংকটে সারাদেশে হাহাকার পড়ে যায়। এলপিজির বাজার আজকাল গ্রাম পর্যায় পর্যন্ত বিস্তৃত। বাসাবাড়িতে নতুন গ্যাস সংযোগ দেওয়া বন্ধ রয়েছে দীর্ঘদিন ধরে। ফলে শহরে এখন এলপি গ্যাস ছাড়া বিকল্প কোনো উপায় নেই। সবমিলিয়ে দেশের বিশাল জনগোষ্ঠী এখন এলপিজির ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। কিন্তু গত শীত মৌসুমে এ রকমের সংকট তৈরি হয় যে, নির্ধারিত দরের চেয়ে অনেক বেশি দামেও এলপিজি সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছিল না। এতে অনেকের রান্না-বান্নাই বন্ধ হয়ে যায়। অথচ ওই সময় যুদ্ধ-বিগ্রহ বা বহির্বিশ্ব এলপিজি আমদানিতে কোনো রকমের সমস্যা ছিল না। সংকট-টা যে কৃত্তিমভাবে তৈরি করা হয়েছিল এটা কারো অজানা নয়। তবে এই সংকটের পেছনে কে বা কারা জড়িত, তা খতিয়ে দেখা হয়নি। এবং এরজন্য কাউকে দায়ীও করা হয়নি। অর্থাৎ সাধারণ সচেতন মানুষের এমনকি সরকারের নীতিনির্ধারকদেরও অগোচরে রয়ে যায় এমন বড় গুরুত্বপূর্ণ একটা ইস্যু।
গত অক্টোবরের শেষের দিক থেকে এই সংকট শুরু হয়। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির শেষ পর্যন্ত এলপি গ্যাস সংকট চলেছে। এলপিজি সংকটের কারণে অনেক অটোগ্যাস স্টেশন বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। কখনো কখনো দ্বিগুণ দাম দিয়েও এলপিজি সিলিন্ডার পাওয়া যায়নি। এদিকে তিতাসের গ্যাস লাইনে ত্রুটিসহ নানা কারণে অনেক স্থানে গ্যাস লাইনে সরকারি সরবরাহও বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। এতে গ্যাস সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছিল। ওই সময়গুলোতে ভোক্তাদের পকেট থেকে হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে হাজার হাজার কোটি টাকা। গৎবাঁধাভাবে এলপিজির কৃত্তিম সংকটের কথা বলা হয়েছে। এবং এও বলা হয়েছে যে, ওমেরা, বসুন্ধরা, যমুনাসহ ৯/১০ জন আমদানি ও সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান এই পুরো খাত নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। এরাই সংকট সৃষ্টির জন্য দায়ী।
কিন্তু অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে ভিন্ন তথ্য। বাংলাদেশ এলপিজি অটোগ্যাস স্টেশন অ্যান্ড কনভারশন ওয়ার্কশপ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার মো. সিরাজুল মাওলা এবং তার বন্ধু জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সচিব মোহাম্মদ সাইফুল ইসলামই ছিলেন ওই সংকটের নেপথ্যের নায়ক। অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মো. হাসিন পারভেজও এর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তবে মূল নায়ক হলেন সিরাজুল মাওলা। এলপিজি আমদানি, উৎপাদন ও সরবরাহকারীর তালিকায় ৯/১০টি প্রতিষ্ঠান নেতৃত্ব দিলেও মাঠপর্যায়ে বাজারজাতকরণের চাবিকাঠি পুরোটাই এদের হাতে। ফলে এই চক্রটির কথার বাইরে যাওয়ার ক্ষমতা নেই আমদানি ও সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর।
এলপি গ্যাস সিলিন্ডারের যখন চরম সংকট চলছিল ওই সময় আমদানি ও উৎপাদনকারী কোম্পানিগুলোর সভা আহ্বান করা হয় সরকারের শীর্ষমহলের নির্দেশে। সভায় কোম্পানিগুলো অভিযোগ করে, এলপিজি আমদানির জন্য তাদেরকে চাহিদা অনুযায়ী যথসময়ে অনুমতি দেওয়া হয়নি। নানা রকমের টালবাহানা এবং হয়রানি করা হয়েছে মন্ত্রণালয় থেকে। এই অজুহাত সৃষ্টির জন্য দায়ী ছিলেন আদতে জ্বালানি সচিব সাইফুল ইসলাম নিজেই। অর্থাৎ সংকটের শুরু তাঁর হাত দিয়েই। পরবর্তীতে যদিও চাহিদা অনুযায়ী এলপিজি আমদানির অনুমতি দেওয়া হয়েছে, কিন্তু সংকট আর শেষ হয়নি। সংকট একবার শুরু হলে নানা কারসাজিতে তা দীর্ঘায়িত হবে এটাই স্বাভাবিক। এবং তাই ঘটেছে। পরের কাজগুলোতে নেতৃত্ব দিয়েছেন সচিবের বন্ধ এলপিজি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সিরাজুল মাওলা। এলপিজি আমদানি ও বিপণনকারী প্রতিষ্ঠানসমুহের ওপর প্রভাব খাটিয়ে এবং তাদের সঙ্গে যোগসাজশ করে সংকটকে তীব্র ও দীর্ঘায়িত করেছেন।
সংকট যাতে তীব্র থেকে তীব্রতর হয়, এজন্য সরকারের গ্যাস সরবরাহের লাইনগুলোতেও অতীতের যে কোনো সময়ের চেয়ে গ্যাস সরবরাহ অনেক কমিয়ে দেওয়া হয় এই শীত মৌসুমে। একই সময়ে তিতাসের গ্যাস সরবরাহের লাইনগুলোতে ত্রুটি এবং সরবরাহ বন্ধ রাখা হয় দফায় দফায়। এতে সব শ্রেণীর মানুষই এলপিজি সিলিন্ডারের দিকে ছুটেছে। যারা অতীতে কখনো চুলায় গ্যাসের সংকট দেখেনি বা কল্পনাও করেনি, তারাও এবার এই পরিস্থিতির মধ্যে পড়েছে। কিন্তু বাজারে হন্যে হয়ে খুঁজলেও সিলিন্ডার পাওয়া যায়নি। অভিযোগ রয়েছে, তিতাসের সরবরাহ লাইনে ত্রুটিগুলো হয়েছে মন্ত্রণালয়ের ঈঙ্গিতেই।
সূত্র: শীর্ষনিউজ
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: কে এম মাসুদুর রহমান, সম্পাদক ও প্রকাশক: মোহাম্মদ মাসুদ।
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: ২১/১ নয়াপল্টন (মসজিদ গলি),ঢাকা - ১০০০।
✆ ০১৫১১৯৬৩২৯৪, ০১৬১১৯৬৩২৯৪ 📧dailysobujbangladesh@gmail.com.
কপিরাইট © ২০২৫ দৈনিক সবুজ বাংলাদেশ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত