পঙ্কজ সরকার নয়ন, কালীগঞ্জ (গাজীপুর)প্রতিনিধিঃ
গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার বক্তারপুর ইউনিয়নের মাজুখান এলাকায় সাবেক ইউপি সদস্যের ভোগদখলীয় জমিতে অনধিকার প্রবেশ, ফলজ গাছ কেটে ফেলা, ভাঙচুর এবং প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ উঠেছে।। তবে ঘটনার পর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়েরের দুই মাসেরও বেশি সময় পার হলেও তা মামলা হিসেবে নথিভুক্ত না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগী।
ভুক্তভোগী আব্দুল বাতেন বাগমার (৭০) বক্তারপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক ইউপি সদস্য। তিনি গত ১৩ মে ২০২৬ কালীগঞ্জ থানায় দায়ের করা লিখিত অভিযোগে একই এলাকার কুদ্দুস বাগমারের ছেলে মো. মিলন হোসেন (৫০), মো. আওলাদ হোসেন (৬০) ও মো. সাকাওয়াত (৫৫)-এর নাম উল্লেখ করেন।
অভিযোগে বলা হয়, ওইদিন সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে অভিযুক্তরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তার ভোগদখলীয় জমিতে প্রবেশ করে জমিতে থাকা একাধিক ফলজ গাছ ফলসহ কেটে ফেলে এবং বিভিন্ন স্থাপনা ভাঙচুর করে। এতে তার উল্লেখযোগ্য আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
আব্দুল বাতেন বাগমার জানান, খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে গেলে অভিযুক্তরা তাকে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। তিনি প্রতিবাদ করলে মারধরের চেষ্টা করা হয়। পরে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনলেও চলে যাওয়ার সময় অভিযুক্তরা প্রাণনাশসহ বিভিন্ন ধরনের ক্ষতির হুমকি দেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
ভুক্তভোগীর ভাষ্য, অভিযোগ পাওয়ার পর কালীগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আব্দুল আলীমকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়। তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পেলেও রহস্যজনক কারণে দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে অভিযোগটি মামলা হিসেবে রেকর্ড করা হয়নি।
আব্দুল বাতেন বাগমার বলেন, আমি শারীরিকভাবে অসুস্থ। আমার একমাত্র ছেলেও স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে পারে না। থানায় অভিযোগ দিয়েও কোনো প্রতিকার পেলাম না। এখন আমি কোথায় যাব? এই সমাজে কি আমাদের বেঁচে থাকার অধিকার নেই?
তনি আরও অভিযোগ করেন, বর্তমানে ওই জমিতে সীমানা প্রাচীর নির্মাণের চেষ্টা করলে প্রতিপক্ষ বাধা দিচ্ছে। এতে তিনি ও তার পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্ত এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তিনি।
এ বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য জানতে মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি। অন্যদিকে, তদন্ত কর্মকর্তা এসআই আব্দুল আলীমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জমিতে অনধিকার প্রবেশ ও ফলজ গাছ কাটার অভিযোগের সত্যতা থাকার কথা স্বীকার করেন। তবে অভিযোগ দায়েরের দুই মাসেরও বেশি সময় পরও কেন সেটি নিয়মিত মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়নি—এ বিষয়ে তিনি সন্তোষজনক কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারেননি।
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: কে এম মাসুদুর রহমান, সম্পাদক ও প্রকাশক: মোহাম্মদ মাসুদ।
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: ২১/১ নয়াপল্টন (মসজিদ গলি),ঢাকা - ১০০০।
✆ ০১৫১১৯৬৩২৯৪, ০১৬১১৯৬৩২৯৪ 📧dailysobujbangladesh@gmail.com.
কপিরাইট © ২০২৫ দৈনিক সবুজ বাংলাদেশ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত