মেহেদী হাসান, রাঙামাটি প্রতিনিধিঃ
যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে নির্যাতন, মারধর ও বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় মো. আরমান হোছাইন নামে এক ব্যক্তিকে তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন রাঙামাটির নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল। একই সঙ্গে তাকে ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
রোববার (২৩ আগস্ট) রাঙামাটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোহাম্মদ মাহাবুবুর রহমান এ রায় ঘোষণা করেন।
মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, নারী ও শিশু মামলা নং-৬৬/২৩-এ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ১১(গ)/৩০ ধারায় আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়। মামলার বাদী মোসা. মিনুয়ারা আক্তার এবং দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি তার স্বামী মো. আরমান হোছাইন।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০১৭ সালের ২৪ ডিসেম্বর সামাজিক ও ধর্মীয় রীতিতে পাঁচ লাখ টাকা দেনমোহর ধার্য করে মিনুয়ারা আক্তারের সঙ্গে আরমান হোছাইনের বিয়ে হয়। তাদের সংসারে দুই সন্তান রয়েছে।
বাদিনীর অভিযোগ অনুযায়ী, বিয়ের কয়েক মাস পর থেকেই যৌতুকের জন্য তার ওপর চাপ সৃষ্টি করা হয়। সংসার টিকিয়ে রাখার আশায় তিনি বাবার কাছ থেকে কয়েক দফায় প্রায় ৫ লাখ ৮ হাজার টাকা এনে দেন। পরবর্তীতে বিদেশে যাওয়ার কথা বলে তার কাছে আরও দুই লাখ টাকা যৌতুক দাবি করা হয়।
দাবিকৃত টাকা দিতে না পারায় তাকে স্বামীর বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয় বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়। পরে সন্তানকে নিয়ে তিনি অন্যত্র আশ্রয় নেন এবং স্বামী ও শ্বশুরের সঙ্গে যোগাযোগ করে পুনরায় সংসার করার চেষ্টা করেন। তবে দাবিকৃত দুই লাখ টাকা না দিলে তাকে সংসারে নেওয়া হবে না বলে জানানো হয় বলে এজাহারে উল্লেখ রয়েছে।
মামলার অভিযোগে আরও বলা হয়, ২০২৩ সালের ১২ জুন সকাল আনুমানিক ৮টার দিকে বাদিনী পুনরায় সংসার করার অনুরোধ জানালে স্বামী আবারও দুই লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন। এ নিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে তাকে মারধর করা হয়। পরে তার চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন ও সাক্ষীরা এগিয়ে এসে তাকে রক্ষা করেন।
মামলায় বাদিনীসহ মোট পাঁচজন সাক্ষ্য দেন। সাক্ষ্য-প্রমাণ ও মামলার নথিপত্র পর্যালোচনা শেষে আদালত আসামি মো. আরমান হোছাইনকে দোষী সাব্যস্ত করে তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ২ লাখ টাকা জরিমানা করেন।
এ বিষয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট মাকসুদা হক বলেন, যৌতুকের মতো সামাজিক অপরাধের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ সবসময় কঠোর অবস্থানে রয়েছে। আদালতে উপস্থাপিত সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আইন অনুযায়ী সাজা দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্রপক্ষ এ রায়ে সন্তুষ্ট। এ ধরনের রায় সমাজে যৌতুক ও নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে ইতিবাচক বার্তা দেবে এবং অপরাধ দমনে কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে আমরা আশা করি।
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: কে এম মাসুদুর রহমান, সম্পাদক ও প্রকাশক: মোহাম্মদ মাসুদ।
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: ২১/১ নয়াপল্টন (মসজিদ গলি),ঢাকা - ১০০০।
✆ ০১৫১১৯৬৩২৯৪, ০১৬১১৯৬৩২৯৪ 📧dailysobujbangladesh@gmail.com.
কপিরাইট © ২০২৫ দৈনিক সবুজ বাংলাদেশ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত