তারিখ লোড হচ্ছে...

সম্পাদক নাছির উদ্দিন পাটওয়ারীর সুস্থতা কামনায় দোয়া মাহফিল সিরাজগঞ্জে ৪ কোটি টাকার হেরোইনসহ গ্রেপ্তার ২, ট্রাক জব্দ সিরাজগঞ্জ সরকারি কলেজে আন্তঃবিভাগ ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধন মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার কল্যাণ সমিতির যুগ্ম সম্পাদক হলেন ফিরোজ আগামিতে মাস্টার্স পর্যন্ত মেয়দের বিনা বেতনে শিক্ষার পরিকল্পনা করছেন যোগ্য মায়ের যোগ্য উত্তরসূরী প্রধ... সাতক্ষীরায় ন্যাচারাল হেলথ সেন্টারের বিরুদ্ধে রোগীদের সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগ শান্তিগঞ্জে প্রাইভেটকার থেকে ৪০ কেজি গাঁজা উদ্ধার, চালক গ্রেফতার রাঙামাটিতে যৌতুকের দাবিতে স্ত্রী নির্যাতন: স্বামীর ৩ বছরের কারাদণ্ড, ২ লাখ টাকা জরিমানা জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় ব্যাপকভাবে বৃক্ষরোপণ করতে হবে-সার্ক ও বিশ্বব্যাংকের কৃষি পরামর্শক ড. নওশের... ঢাকার ৫০ ট্রাফিক সিগনাল পয়েন্টে বসছে এআই ক্যামেরা যে কোনো শর্তে জামিন চেয়েও পাননি উইং কমান্ডার সাইফ লোডশেডিং-গ্যাস সংকটের পর এখন পানি আসছে না, কার কাছে বলব এই দুঃখ কেশবপুরে অসত্য তথ্য প্রচারের প্রতিবাদে জামায়াতে ইসলামীর সাংবাদিক সম্মেলন চাঁদাবাজির প্রতিবাদে সিরাজগঞ্জে চালকল মালিকদের মানববন্ধন সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় বালুবাহী ট্রাকচাপায় স্কুলশিক্ষক নিহত বিডা-বেজা-পিপিপিএ একীভূত,নতুন দায়িত্বে চৌধুরী আশিক মাহমুদ যে ৫ ধরনের পরামর্শ এআইয়ের কাছে না চাওয়াই ভালো বাংলাদেশে প্রিমিয়ার লিগের উত্তাপ, দেখা যাবে পুরো মৌসুম ৬ বছর পর রোগী সেজে চিকিৎসক স্ত্রীর সামনে প্রবাসী স্বামী কারা নির্যাতিত বিএনপি নেতা তাজ উদ্দিন তাজুকে অব্যাহতি প্রদানের প্রতিবাদে শ্রীমঙ্গলে বিক্ষোভ মিছিল সুপেয় পানির কষ্ট লাঘবে উপকূলের প্রত্যেকটি ঘরে পানির ট্যাংক পৌঁছে দেয়া হবে প্রতিমন্ত্রী ভারতের কলকাতায় আগুনে নিহত সাতক্ষীরার আলিমুজ্জামানের লাশ ভোমরা স্থলবন্দর হয়ে নিজ বাড়িতে পৌঁছেছে বরগুনায় মাহফুজ চেয়ারম্যানের উদ্যোগে ফ্রি চক্ষু চিকিৎসা ক্যাম্প সীমান্তে বিজিবির অভিযানে ১৯৬ বোতল মাদকদ্রব্য জব্দ লবণচরার জোড়া খুন: শীর্ষ সন্ত্রাসী সাইফিসহ ৩ জন গ্রেফতার  অস্ত্র উদ্ধার সুনামগঞ্জের লাউড়েরগর গ্রামে আসাদ মিয়ার ঘর থেকে ৩০০ বোতল ফেনসিডিল,ফোসকাসহ ভারতীয় পণ্য জব্দ নোয়াখালীতে ৩০০ জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীকে ছাত্রশিবিরের সংবর্ধনা লংগদুতে মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে পুলিশের মাদকবিরোধী র‍্যালি  বিএনপি নেতা বুলবুল এর উদ্যোগে অসহায় পরিবারকে মানবিক সহায়তা ও টিনের ঘর উপহার কাশিয়ানীতে ধর্ষণচেষ্টার শিকার আপন দুই শিশু বোন ১৭ বছর সংবাদমাধ্যমের হাত বেঁধে রাখা হয়েছিল: তথ্যমন্ত্রী সিলেট বালাগঞ্জ বিএনপি’র নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ পুনর্বাসনের অভিযোগ, ক্ষুন্ন হচ্ছে ফ্যামিলি কার্ড পরিকল্প... হারানো ৫৩ মোবাইল ফোন উদ্ধার করে মালিকদের হাতে হস্তান্তর সিরাজগঞ্জে ছাত্রশিবিরের উদ্যোগে মেধাবী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা খুলনায় স্বেচ্ছাসেবক দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বর্ণাঢ্য র‌্যালি ও জনসভা মোংলায় কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে যুবক আটক এনওসি ছাড়াই বিদেশ সফরে খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ডিপিএইচইতে কোটি টাকার দুর্নীতির সিন্ডিকেট প্রধান প্রকৌশলী আবদুল আউয়ালের জাতীয় স্মৃতিসৌধে রাষ্ট্রপতির শ্রদ্ধা আদি বুড়িগঙ্গা চ্যানেল রক্ষায় পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু সোনার কিরণের ক্ষমতার ১৮০ দিন অনৈতিক প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় ফারিয়াকে চুরির অপবাদ দিয়ে শ্লীলতাহানি নোয়াখালীতে বেদেপল্লীতে মাদক ব্যবসার প্রতিবাদে বিক্ষোভ-সমাবেশ নাটোরের অশ্লীলতার কবলে হালতিবিল শ্রীমঙ্গল বিএনপির অব্যাহতিপ্রাপ্ত নেতা তাজ উদ্দিন তাজুর সংবাদ সম্মেলন দলের দুঃসময়ের সারথি দুদু, তবু কেন আড়ালে? চুয়া সেলিম গ্রেফতার গোপন আস্তানা থেকে কেশবপুরে বীর মুক্তিযোদ্ধা পিতার রুহের মাগফিরাত কামনায় চারা বিতরণ সুনামগঞ্জে ১০০ পিস ইয়াবাসহ আব্দুস সাত্তার নামে এক মাদক কারবারি আটক সাতক্ষীরা সার্জিক্যাল ক্লিনিকে র‌্যাবের অভিযানে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, ক্লিনিক বন্ধের নির্দেশ

ড্রেজিংয়ের টাকায় আংগুল ফুলে কলাগাছ সাইদুর

পাঠক সংখ্যা
638

স্টাফ রিপোর্টার॥

সৈরাচার হাসিনা পতন হলেও তার দোসররা থেমে নেই, সে সময়ে কোটি কোটি টাকা কামালেও এখনো থেমে নেই এরা। সরকারের কোটি কোটি টাকা মেরে এখনো কিভাবে বহাল তবিয়তে থাকতে পারে দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তারা। এ জন্যই কি ৫ আগষ্ট হয়েছিলো। শত শত মানুষ কেনইবা শহীদ হয়েছিলো আর কেনইবা হাজার হাজার মানুষ আহতসহ জেল জুলুমের শিকার হয়েছিলো। দপ্তরটিতে এ নিয়ে দেখা দিয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। ফ্যাসিবাদী আওয়ামী সরকারের অন্যতম ঘনিষ্ঠ সহযোগী বিআইডব্লিউটিএর ড্রেজিং বিভাগে গত ১৫ বছরের দুর্নীতিবাজ চক্রের সিন্ডিকেট ভেংগে দেশকে দুর্নীতি মুক্ত করার জন্য অন্তর্বর্তীকালিন সরকারের প্রচেষ্টা বিফলের চক্রান্তে লিপ্ত রয়েছে- সাইদুরের নেতৃত্বে গঠিত একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট- এমনও অভিযোগ আছে। অত্র দপ্তরে কর্মরত নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কর্মকর্তা কর্মচারীদের দাবি নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের মাননীয় উপদেষ্টা মহোদয় যেন এই সিন্ডিকেটকে জবাবদিহিতার আওতায় এনে শাস্তির ব্যবস্থা গ্রহণ করেন।
জানা গেছে, ফ্যাসিবাদী আওয়ামী সরকারের ঘনিষ্ঠ সহযোগী, দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা বঙ্গবন্ধু পরিষদের সহ-সভাপতি হিসাবে পরিচিত বিআইডব্লিউটিএর অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (ড্রেজিং) সাইদুর রহমান দীর্ঘ ১২ বছর যাবত একই স্থানে থাকায় এখনো ড্রেজিং বিভাগের হাজার হাজার কোটি টাকা প্রকল্পের কাজসহ গুরুত্বপূর্ণ কাজের দায়িত্বে বহাল তবিয়তে আছেন। সরকারী চাকরি বিধি অনুযায়ী এক‌ই স্থানে ৩ বছরের অধিক সময় থাকার কোন নিয়ম না থাকলেও তিনি দপ্তর সংশ্লিষ্ট কতিপয় অসাধু উর্ধতন কর্তৃপক্ষের যোগসাজশে আওয়ামী সরকারের অবৈধ ক্ষমতার অপব্যবহার করে দুর্নীতির অভিযোগ ধামাচাপা দিয়ে রেখেছিলেন। তবে বিধি বাম, গত ৫ জুলাই ছাত্র আন্দোলনে স্বৈরাচারি আওয়ামী সরকারের পতন হওয়ায় বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ক্ষমতায় আসার কারণে এখন আর আগের মতো বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাগনকে যেমন খুশি তেমন করে বুঝাতে পারছেনা তারা। যে কারণে তাদের মধ্যে অস্থিরতা বিরাজ করছে। এমনও শোনা যাচ্ছে, কর্তৃপক্ষের কোন জবাব দিহিতার মুখোমুখি হওয়ার আগেই দেশ ত্যাগ করারও সম্ভাবনা আছে অনেকের।
সুত্র বলছে, এই সিন্ডিকেটের কাছেই ড্রেজিংয়ের কাজ না করা একাধিক প্রকল্পের ঘুষ বানিজ্যের শত শত কোটি টাকা গোপনে রক্ষিত আছে। অবৈধ টাকার জোরে ফ্যাসিবাদী সরকারের ঘনিষ্ঠ সহযোগী এই কর্মকর্তারা বিআইডব্লিউটিএর সাধারণ কর্মকর্তা -কর্মচারীদের জিম্মি করে রেখেছে বলে অভিযোগ আছে। এমনও অভিযোগ আছে, এদের বিরুদ্ধে কোন কর্মকর্তা -কর্মচারী প্রতিবাদ করলে তাদেরকে চাকুরি হারাতে হয় অথবা বাহিরের মাস্তান বাহিনী দিয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে মারপিট করে বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হয়। বিআইডব্লিউটিএর নিরীহ কর্মকর্তা -কর্মচারীরা সাবেক স্বৈরশাসকের দোসরদের হাত থেকে মুক্তি পেতে চায়। সাধারণ কর্মকর্তা কর্মচারীদের দাবি বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারই পারবে নিরীহ কর্মকর্তা -কর্মচারীদের বাস্তব সম্মত রুজি রোজগার করার জায়গাটা রক্ষা করতে। সুত্রে জানা গেছে, সাইদুর নিজ পরিবারের স্কুলে যাতায়াত করার জন্য একটি পাজেরো জিপ গাড়ি এবং অফিস যাতায়াত করার জন্য আলাদা একটি পাজেরো জিপ গাড়ী ব্যবহার করেন। এমনও অভিযোগ আছে, অধিনস্ত পিডিদের ভয়ভীতি দেখিয়ে নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করেই অবৈধভাবে বিভিন্ন প্রকল্পের এ গাড়ি ব্যবহার করে্ন তিনি। একাধিক ভুক্তভোগীর সাথে কথা বলে জানা গেছে, সাইদুর বিআইডব্লিউটিএ অফিসার্স ক্লাবের বিনাভোটের সভাপতি।
জানা গেছে, সাইদুরের চাকরি জীবন শুরু হয়েছিলো এলজিইডিতে। সেখানে দুর্নীতির কারণে এলজিইডি কর্তৃপক্ষ চাকুরি হতে বরখাস্ত করে। পরবর্তীতে আবারও তথ্য গোপন করে ২০০৩ সালে পুনরায় বিআইডব্লিউটিএতে চাকুরিতে যোগদানের অভিযোগ আছে তার বিরুদ্ধে। শোনা যায়, তার এইচএসসি এবং ইঞ্জিনিয়ারিং সার্টিফিকেট জাল। দপ্তরটির ততকালীন উর্ধতন কর্মকর্তা, বিআইডব্লিউটিএর পরিচালক ওয়াকিল ন‌ওয়াজ এবং বিষয়টি যাতে কেউ না জানে এমন কিছু সাংবাদিকদের ম্যানেজ করে তিনি চাকুরিতে অদ্যবধি বহাল আছেন।
ফ্যাসিবাদী আওয়ামী সরকারের ঘনিষ্ঠ সহযোগী দীর্ঘ প্রায় ১৬ বছর যাবত এক‌ই স্থানে কর্মরত থেকে সিন্ডিকেট করে টেন্ডার, নিয়োগ, বদলি বাণিজ্যসহ ড্রেজিং কাজে নানারকম অনিয়ম দুর্নীতি করে শত শত কোটি টাকা আত্মসাৎ কারী বিআইডব্লিউটিএর ড্রেজিং বিভাগের দুর্নীতি বাজ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অনতিবিলম্বে বদলি/অপসারণের ব্যবস্থা নেয়ার জন্য কর্তৃপক্ষের নিকট আবেদন জানিয়েছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কর্মকর্তা কর্মচারীদের দাবি বিআইডব্লিউটিএর উচ্চ পদস্থ কিছু অসাধু কর্মকর্তা এই চিহ্নিত দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের পৃষ্ঠপোষকতা এখনো চলমান রেখেছেন।বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ঘোষিত দুর্নীতি দমনে জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়নে বিআইডব্লিউটিএ’র যে ক’জন দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তারা থোড়াই কেয়ার করছেন- তাদেরই একজন ড্রেজিং শাখার অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. সাইদুর রহমান। একই শাখার ট্রুথ কমিশনে আত্মস্বীকৃত দুর্নীতিবাজ চারজন নির্বাহী প্রকৌশলী ও তাদের পরিবারবর্গ সাইদুর রহমানের ছত্রচ্ছায়ায় বহাল তবিয়তে আছেন বলে জানা গেছে। এমনকি তার সহযোগিতায় অনেকেই পদোন্নতিসহ দেদারসে ঘুষ বাণিজ্য এবং ক্ষমতার অপব্যবহারসহ সব ধরনের অনিয়ম-দুর্নীতির সাথে সম্পৃক্ত আছেন বলেও জনশ্রুতি আছে। শুধু তাই নয়, এই সংঘবদ্ধ চক্র বিভিন্ন প্রকল্পের শত শত কোটি টাকা আত্নসাৎ করে নিজেদের নামে-বেনামে বাড়ি-ফ্ল্যাট, মার্কেট, গাড়ির শো-রুমসহ প্রচুর ধন সম্পদের মালিক বনে গেছেন। প্রত্যেকেই বিআইডব্লিউটিএ’তে টাকার মেশিন হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছেন। তাদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে দুদকে মামলা চলমান। শোনা যাচ্ছে, দুদকের কিছু অসাধু কর্মকর্তা তাদের কাছ থেকে মোটা অংকের ঘুষ নিয়ে অভিযুক্তদের সম্পদ বিবরণী এবং বিভিন্ন অনিয়ম-দুর্নীতির মাধ্যমে জ্ঞাত আয়ের সঠিক হিসাব না পাওয়ার কথা বলে মামলাগুলো ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করছেন বা আমলে না নিয়ে ধামাচাপা দিয়ে যাচ্ছেন। অন্যদিকে, অভিযুক্তরা দুদকের অনুসন্ধানী টিমকে চ্যালেঞ্জ এবং বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে মামলা থেকে রক্ষা পেতে বিভিন্ন তদবিরে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন বলেও জানা যাচ্ছে। আবার তারা এটাও বলে বেড়াচ্ছেন যে, দুদকের অনুসন্ধানী টিমকে তাদের সম্পদের হিসাব বিবরণী জমা দিয়েছেন। কিন্তু কোন এক অদৃশ্য কারনে দুদক মামলা গুলো শেষ করতে গড়িমসি করছে যা নিয়ে আছে ব্যপক আলোচনা সমালোচনা। দুদকের অনুসন্ধান টিমের একজন কর্মকর্তা বলেন,অভিযুক্ত আসামীরা তাদের সম্পদ এবং জ্ঞাত আয়ের যে তথ্য দিয়েছেন তাতে অনেক গড়মিল পাওয়া গেছে। অনেকেই নিজেদের পৈত্রিক অবস্থার বিষয়টি উল্লেখ করেছেন যে, তাদের পারিবারিক অবস্থা আগ থেকেই স্বচ্ছল। এমন তথ্যই বেশি দিয়েছেন তারা। কিন্তু অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসছে তাদের ভয়াবহ দুর্নীতির চিত্র। দুদকের ওই কর্মকর্তা আরো বলেন, সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে, আসামীরা অধিকাংশ সম্পদ এবং ব্যাংক ব্যালেন্স নিজের নামে না করে বেনামে করেছেন। কেউ আবার তার কোন আত্নীয় দেশের বাইরে থাকলে তাদের নামে সম্পদ এবং ব্যাংক একাউন্টে টাকা রেখেছেন। সেক্ষেত্রে দুর্নীতিবাজরা তাদের সাথে আলাদা কোন ডকুমেন্ট করে নিজেদের সম্পদ রক্ষা করার চেষ্টা করছেন। অনুসন্ধানে জানা যায়, বিআইডব্লিউটিএ’র ড্রেজিং শাখার অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী সাইদুর রহমান দুদকের মামলা থেকে দায়মুক্তি পেতে মরিয়া হয়ে উঠছেন। তার বিরুদ্ধে ১৩৪ কোটি টাকার আত্মসাতের অনুসন্ধানটি ধামাচাপা দিয়ে মামলা থেকে অব্যহতি পেতে মোটা অংকের টাকাও খরচ করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তিনি মামলা থেকে রেহাই পেতে নানা কৌশল অবলম্বন করেছেন। বিশেষ করে ভোগাই ও কংস নদ খননের নামে টাকা আত্নসাতের অনুসন্ধান এবং রেকর্ডপত্র স্থগিত করার জন্য জোর চেষ্টা চালিয়েছেন সাইদুর। এজন্য তিনি দুদকের অনুসন্ধানী টিমকে ম্যানেজ করার জন্য নানাভাবে প্রচেষ্টা চালিয়েছেন। সূত্রমতে, বিআইডব্লিউটিএ’র ড্রেজিং বিভাগের দায়িত্বে থাকা অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী সাইদুর রহমান বিআইডব্লিউটিএ’র ১৩৪ কোটি টাকা আত্নসাতের মাস্টারমাইন্ড ছিলেন। দুদকের অনুসন্ধানী টিমের অনুসন্ধানে সঠিক এ তথ্য বেরিয়ে আসছে বলেও জনশ্রুতি আছে। প্রাপ্ত রেকর্ডপত্র যাচাই বাছাই, ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মালিক, কাজের দায়িত্বে থাকা দুই নির্বাহী প্রকৌশলী ও মাঠ পর্যায়ের প্রকৌশলীকে জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে দুদকের অনুসন্ধানী টিম অনুসন্ধান করে সাইদুর রহমানের ভয়াবহ দুর্নীতির চিত্র পেয়েছে। তবে এ বিষয়ে তদন্ত কর্মকর্তারা মুখ খুলতে চাননা। অজ্ঞাত কারণে মামলাটির কার্যক্রম থেমে আছে। যে কারণে সাইদুর রহমানের সম্পদ বিবরণীর যাচাই বাছাইয়ের কাজ এখনো শেষ হয়নি। শুধু চিঠি ইস্যুর মধ্যেই সময় ক্ষেপণ করা হচ্ছে। একের পর এক তদন্ত কর্মকর্তা বদল করা হচ্ছে। দুদক শেষ পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নিবেনা এবং মামলা থেকে অব্যহতি পাবেন এই আত্মবিশ্বাসে বিআইডব্লিউটিএ’র অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী সাইদুর রহমান বেপরোয়া হয়ে উঠছেন। তিনি একক আধিপত্য বিস্তার করছেন ড্রেজিং বিভাগে। তার ঈশারায় চলছে ড্রেজিং বিভাগের সব টেন্ডার বাণিজ্য। তার সিন্ডিকেট এতোই শক্তিশালী যে, সেখানে নির্ধারিত ঠিকাদার ছাড়া অন্য ঠিকাদার কাজ পাওয়ার সুযোগ নেই। অনুসন্ধানে জানা গেছে, ২০২০ সালে অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী সাইদুর রহমান, তার স্ত্রী শামিমা আক্তার এবং বিআইডব্লিউটিএ’র উপ-পরিচালক (প্রশাসন) মো. সিরাজুল ইসলাম ভুঁইয়ার সম্পদ বিবরণী চাওয়া হয়। চার বছরেও তাদের হিসেব বিবরণীর কাজ শেষ হয়নি। মামলা থেকে দায়মুক্তি প্রদানের অদৃশ্য ইঙ্গিত থাকায় দুদক সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাগণ সাইদূর রহমানুষের মামলার তারিখ দীর্ঘ সময় দিয়ে কালক্ষেপণ করছেন। আবার তারিখ পড়লেও বেশি মামলা থাকায় তার শুনানি হয়না। এমন সব অযুহাতে ঝুলে আছে সাইদুর রহমানের মামলার তদন্ত কার্যক্রম। অপর একটি সুত্রমতে, সাইদুর রহমান ও তার স্ত্রী শামিমা আক্তার তাদের সম্পদের হিসাব বিবরণী দিয়েছেন। সেগুলো যাচাই বাছাই চলছে। তবে সাইদুর রহমান উত্তরাধিকার সূত্রে বিপুল সম্পদের মালিক দেখিয়েছেন বিষয়টি দুদকের অনুসন্ধানে মিথ্যা ও জালিয়াতি হিসাবে ধরা পড়েছে। তিনি দুদকের দায়ের করা মামলা থেকে বাঁচতে ২০১৭ সালে তার জীবিত বাবাকে মৃত দাবি করেন। তিনি জীবিত পিতাকে মৃত দেখিয়ে উত্তরাধিকার সূত্রে বাবার সম্পদের মালিক দাবি করে ছিলেন। তার এই মিথ্যা অপকৌশল এবং জঘন্য অপরাধ শুধু নিজে ভালো থাকার জন্য বেছে নিয়েছিলেন।
বিআইডব্লিউটিয়ের নদী খনন প্রকল্পে সাগর চুরি।   নদী খনন না করেই অর্থ লোপাট। যেখানকার মাটি রয়েছে সেখানেই। খনন হয়নি নদী। বরং বালু ও পলির প্রলেপে ভরাট হয়ে গেছে নদীর পেট। সংশ্লিষ্ট স্থানীয় কৃষিজীবীদের কোনো উপকার। অথচ ক্যাপিটাল ড্রেজিংয়ের বরাদ্দের টাকা গেছে প্রকৌশলী ঠিকাদার ও বালুদস্যুদের পেটে। নিজেরাই ভাগাভাগি করে নিয়েছেন প্রকল্পের নামে বরাদ্দ হওয়া ১৩৪ কোটি ৬৪ লাখ টাকা। বলা চলে নদী খননে হয়েছে সাগর চুরি। আর বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)-এর এই দুর্নীতির সঙ্গে যুক্তদের দায়মুক্তি দিতে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) কর্মকর্তারা মরিয়া।
তথ্য অনুসন্ধানে জানা যায়, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) নেত্রকোণার কংস ও ভোগাই নদীর ১৫৫ কিলোমিটার খনন প্রকল্প হাতে নেয়। ম্যাকানিজম করে এ কার্যাদেশ পায় ৫টি ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান। বসুন্ধরা ইনফ্রাস্টাকচার ডেভলপমেন্ট লি:, সোনালী ড্রেজার লি:, বিডিএল-এসআরডিসি (জেবি), এস এস রহমান, মাতৃবাংলা (জেবি) ও নবারুন ট্রেডার্স লি:। টেন্ডারের অনুযায়ী, নদী দু’টির প্রশস্ত ৮০ থেকে ১০০ ফুট। শর্ত ছিল, ড্রেজিংয়ের পর গভীরতা অনুসারে শঙ্ক মৌসুমে নদীতে ৮ থেকে ১০ মিটার পানি থাকতে হবে।
অভ্যন্তরীণ নৌ-পথের ৫৩টি রুটে ক্যাপিটাল ড্রেজিং (১ম পর্যায়ে ২৪টি নৌ-পথ) শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় ভোগাই এবং কংস নদীর মোহনগঞ্জ থেকে নালিতাবাড়ি পর্যন্ত নৌপথ খনন প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হয়। সংশ্লিষ্ট উপজেলা চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে গঠিত ড্রেজিং ব্যবস্থাপনা কমিটির সমন্বয়ে প্রতিষ্ঠানগুলো নদীর খনন কার্যক্রম ভাগ করে নেয় ৫টি পয়েন্টে। প্রতিষ্ঠানগুলো নদী থেকে ১ কোটি ঘনমিটার বালু উত্তোলনের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে কাজ শুরু করে। কাগজ-কলমে সেই কাজ ‘শেষ’ ও হয়েছে। ঠিকাদাররা পেয়ে গেছেন সমুদয় বিল। কিন্তু যেমন নদী তেমনই রয়ে গেছে। কোথাও কোথাও হয়েছে আগের চেয়ে বেশি ভরাট। ড্রেজিংয়ের নামে ভয়াবহ এই দুর্নীতির কোনো তল খুঁজে পাচ্ছে না দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
প্রাপ্ত তথ্য মতে, ভোগাই-কংস নদী খনন প্রকল্পের নির্বাহী প্রকৌশলী বিআইডব্লিটিএ’র নির্বাহী প্রকৌশলী (ড্রেজিং) আবু বকর সিদ্দিক ও নির্বাহী প্রকৌশলী (পুর) দিদার এ আলমের বিরুদ্ধে দুদকে একটি অভিযোগ জমা পড়ে। তাতে নদী খনন না করেই বরাদ্দকৃত ১৩৪ কোটি ৬৪ লাখ টাকা আত্মসাতের তথ্য ছিল। অভিযোগ অনুসন্ধানে দুদকের ময়মনসিংহ সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের (সজেকা)’র উপ-পরিচালক মো: আবুল হোসেন এবং একজন উপ-সহকারী কর্মকর্তার সমন্বয়ে একটি টিম মাঠে নামে। অনুসন্ধান প্রক্রিয়ায় প্রকল্প সংশ্লিষ্ট রেকর্ডপত্র সংগ্রহ করা হয়। তাতে অভিযোগের অধিকাংশ তথ্যেরই সত্যতা মেলে।
প্রথমত : দুর্নীতির প্রথম দফায় প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত ড্রেজিং এস্টিমেট ধরা হয়। দ্বিতীয় দফায়: দরপত্র অনুযায়ী, ড্রেজার দিয়ে খনন, এস্কেভেটরের সাহায্যে খনন এবং কোদাল দিয়ে মাটি স্থানান্তরের পৃথক ৩ ধরনের কার্যাদেশ ছিল। বাস্তবে এস্কেভেটর দিয়ে খননের প্রমাণ মেলেনি। বর্ষার পানি নেমে গেলে খননস্থলে ৮/১০ গভীর পানি থাকা দূরের কথা-বিভিন্ন জায়গায় জমেছে পলির স্তর। যাতে প্রতীয়মান হয়, কোনো ধরনের খনন কাজই হয়নি। অর্থাৎ কোনো ধরনের খনন না করেই পরস্পর যোগসাজশে তুলে নেয়া হয়েছে বরাদ্দের অর্থ।
তথ্য মতে, বিআইডব্লিটিএ’র কার্যাদেশ পাওয়া মাত্র স্থানীয় বালুদস্যুরা ভলগেট দিয়ে কংস ও ভোগাই নদী থেকে অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলনে লেগে যায়। এ বালু বিক্রির মাধ্যমে পকেটস্থ করে কোটি কোটি টাকা। এর ভাগ পান বিআইডব্লিটিএ’র সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরা। এ হিসেবে, নদী খননে বরাদ্দকৃত কোনো অর্থই খরচ হওয়ার কথা নয়। অথচ ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানগুলো ভুয়া বিল ভাউচার দাখিল করে তুলে নিয়েছে বরাদ্দের অর্থ। এই অর্থ ভাগ-বাটোয়ারা হয়েছে প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতা, বিআইডব্লিউটিএ’র মাঠ পর্যায়ের প্রকৌশলী, নির্বাহী প্রকৌশলী, অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (ড্রেজিং) এবং প্রতিষ্ঠানটির প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের মধ্যে দুদক সূত্র জানায়, ভোগাই ও কংস নদ খননের নামে অর্থ আত্মসাতের অনুসন্ধানে ইতিমধ্যেই বিভিন্ন রেকর্ডপত্র হস্তগত হয়েছে। প্রাপ্ত রেকর্ডপত্রের ভিত্তিতে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানগুলোর মালিক, বিআইডব্লিটিএ’র মাঠপর্যায়ের প্রকৌশলী, দুই নির্বাহী প্রকৌশলীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। সর্বশেষ এটি খননের মাটি পরিমাপের পর্যায়ে রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের মতো পর্যাপ্ত তথ্য-প্রমাণ এখন দুদকের হাতে। কিন্তু অদৃশ্য ইশারায় চলছে সংশ্লিষ্টদের দায়মুক্তি প্রদানের প্রস্তুতি। উদ্দেশ্য হাসিলে অবলম্বন করা হচ্ছে অভিনব কৌশল।
সূত্রটি জানায়, বিআইডব্লিউটিএ’র সবচেয়ে দুর্নীতিপ্রবণ সেক্টর ড্রেজিং বা খনন। ৫৩টি নৌপথের ড্রেজিং প্রকল্পটিও বাস্তবায়ন করছে এ বিভাগ। ড্রেজিংয়ের দায়িত্বে রয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির অতিরিক্ত প্রকৌশলী (ড্রেজিং) মো: ছাইদুর রহমান। বিআইডব্লিউটিএ ১৩৪ কোটি টাকা আত্মসাতের মাস্টারমাইন্ডও তিনি। ড্রেজিং বিভাগের দুর্নীতিমাত্রই সংশ্লিষ্টতা মেলে এই প্রকৌশলীর। দুর্নীতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণকারী প্রতিষ্ঠান দুদকের কয়েকজন প্রভাবশালী কর্মকর্তা তার শুভাকাংঙ্খী। তারাই তাকে শেল্টার দেন। এ কারণে চূড়ান্তভাবে তার বিরুদ্ধে দুদক কিছুই করবে না এমন আত্মবিশ্বাস থেকে দুর্নীতিতে তিনি বেপরোয়া। ছাইদুর রহমান, তার স্ত্রী শামিমা আক্তার, বিআইডব্লিটিএ’র উপ-পরিচালক (প্রশাসন) সিরাজুল ইসলাম ভুইয়ার অবৈধ সম্পদ অনুসন্ধানের ফাইলটি তিনি ঘুম পাড়িয়ে রেখেছেন দীর্ঘদিন। মামলার যথেষ্ট উপকরণ হাতে আসা সত্ত্বেও দুদক তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরে কুণ্ঠিত। ‘অনুসন্ধান চলছে’, ‘সম্পদ বিবরণী এখনও যাচাই চলছে’ এমন দাবি করার জন্য মাঝেমধ্যেই অনুসন্ধান কর্মকর্তারা ইস্যু করছেন চিঠি। অনুসন্ধানের নামে একের পর এক বদল হচ্ছেন কর্মকর্তা। ছাইদুর রহমান দম্পতির বিরুদ্ধে ৮ বছর ধরে পড়ে থাকা এই অনুসন্ধানের সঙ্গে এবার ১৩৪ কোটি টাকা আত্মসাতের অনুসন্ধানটি একীভূত করে এখন প্রস্তুতি চলছে- মূল বিষয়টি আড়াল করে চলছে ছাইদুর রহমান গংদের দায়মুক্তির প্রক্রিয়া।
সূত্রমতে, ছাইদুর রহমান গংদের অবৈধ সম্পদের অনুসন্ধানটি পরিচালিত হচ্ছে দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে। অন্যদিকে ১৩৪ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগটির অনুসন্ধান করছেন ময়মনসিংহ সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মো: আবুল হোসেনের নেতৃত্বে দুই সদস্যের একটি টিম। ঢাকার নথিটি অনুসন্ধান করছেন উপ-পরিচালক মো: আব্দুল মাজেদ। এর আগে উপ-পরিচালক জালালউদ্দিন আহমেদ, উপ-পরিচালক মো: সালাহউদ্দিন পর্যায়ক্রমে এটি অনুসন্ধান কর্মকর্তা নিযুক্ত হন। তবে উভয় নথির সর্বশেষ অগ্রগতি সম্পর্কে কোনো কর্মকর্তাই মুখ খুলতে রাজী হননি। তবে সূত্র বলছে, ২০২০ সালে প্রকৌশলী মো: ছাইদুর রহমান, তার স্ত্রী শামিমা আক্তার, বিআইডব্লিটিএ’র উপ-পরিচালক (প্রশাসন) মো: সিরাজুল ইসলাম ভুইয়ার সম্পদ বিবরণী চাওয়া হয়।
দুদক পরিচালক (বিশেষ) আক্তার হোসেন আজাদ তাদের সম্পদ বিবরণীর নোটিশ (স্মারক নং-০০.০১.০০০০.৫০১.০১.০৪০.২০২০) দেন। এ প্রেক্ষিতে তারা সম্পদ বিবরণী দাখিলও করেন। তবে তিন বছরেও শেষ হয়নি সম্পদ বিবরণী যাচাই। এর মধ্যে ২০২০ সালের ১০ সেপ্টেম্বর বিআইডব্লিউটিএ’র চেয়ারম্যানের মাধ্যমে প্রকৌশলী ছাইদুর রহমানের কিছু রেকর্ডপত্র চাওয়া হয়। ওই বছর ১৬ সেপ্টেম্বর জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় তাকে। কিন্তু দায়মুক্তি প্রদানের অদৃশ্য ইঙ্গিত থাকায় সংশ্লিষ্ট দুদক কর্মকর্তাগণ ছাইদুর রহমানের বেনামী সম্পদের বিষয়টি এড়িয়ে যান বলে জানা গেছে। প্রায় বিনা আপত্তিতে ‘গ্রহণ’ করে নিয়েছেন আয়কর নথিতে প্রদর্শিত সম্পদের অবিশ্বা স্য বিবরণী। রেকর্ড বিশ্লেষণে দেখা যায়, প্রকৌশলী ছাইদুর রহমান শুধু মিথ্যা তথ্যই দেননি। জীবিত পিতাকে ‘মৃত’ দেখিয়ে নিজেকে উত্তরাধিকারসূত্রে সম্পদের মালিক দাবি করেছেন। ২০১৭ সালে পিতাকে ‘মৃত’ দাবি করা হলেও তিনি মাত্র কয়েক মাস আগে ইন্তেকাল করেছেন বলে জানা যায়। উত্তরাধিকার আইন অনুযায়ী পিতা জীবিত থাকতে সন্তান পিতার সম্পত্তির মালিকানা দাবি করতে পারেন না। অনেকেই মনে করেন নিজের অবৈধ অঢেল সম্পদ বৈধ করার অপচেষ্টা হিসেবে এ কৌশল অবলম্বন করার বৃথা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিলেন সাইদুর। এসকল বিষয়ে তার হোয়াটসঅ্যাপে কল করা হলে ফোন রিসিভ করে উত্তেজিত হয়ে লাইনটি কেটে দেন।

Facebook
X
LinkedIn
Threads
WhatsApp
Telegram
Email

Leave a Comment

শ্রীবরদীতে কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে বীজ ও সার বিতরণ

শ্রীবরদীতে কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে বীজ ও সার বিতরণ

মিজানুর রহমান, শেরপুর জেলা প্রতিনিধিঃ শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলায় কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি ও কৃষকদের সহায়তায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরের কৃষি পুনর্বাসন সহায়তা খাতের আওতায় খরিপ মৌসুমে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে শাকসবজির বীজ ও রাসায়নিক সার বিতরণ করা হয়েছে। রবিবার (৫ জুলাই) শ্রীবরদী উপজেলা পরিষদ চত্বরে আয়োজিত এ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শেরপুর-৩ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য মোঃ মাহমুদুল হক রুবেল। এ সময় উপজেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দসহ কৃষি বিভাগের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি ও উপকারভোগী কৃষকরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন শ্রীবরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মনীষা আহমেদ। অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, কৃষি পুনর্বাসন সহায়তা কর্মসূচির মাধ্যমে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে উন্নতমানের বীজ ও সার বিতরণ কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এ ধরনের সহায়তা কৃষকদের উৎপাদন ব্যয় কমানোর পাশাপাশি খাদ্য নিরাপত্তা

আরও পড়ুন
language Change