নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
আমাদের সমাজে একটা কথা খুব প্রচলিত-বাবা-মা কখনো ভুল করেন না। কিন্তু বর্তমান সময়ের বাস্তবতা বলছে ভিন্ন কথা। অনেক পরিবারেই এখন সন্তানের ভালোবাসা মাপা হচ্ছে তার ইনকাম বা পকেটের টাকা দিয়ে। যে সন্তান বেশি টাকা দিচ্ছে, সে-ই বাবা-মায়ের কাছে নয়নমণি, আর যে পারছে না, সে যেন পরিবারের বোঝা। এই বৈষম্য কি
অনেক বাবা-মা এখন জেনে-বুঝে বা অজান্তেই সন্তানদের মধ্যে বিভেদ তৈরি করছেন। টাকা দেওয়া সন্তানটি ভুল করলেও তা ঢাকা পড়ে যায়, আর কম উপার্জন করা সন্তানটি সারাদিন খাটলেও তার কোনো কদর থাকে না। খাবারের টেবিলে ভালো মাছের টুকরো থেকে শুরু করে পরিবারের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত-সবই যেন টাকার ওপর নির্ভর করে। এই যে টাকার জন্য সন্তানের প্রতি আচরণের পরিবর্তন, এটি কি বড় কোনো ভুল নয়?
সন্তান ভুল করলে সমাজ তাকে শাসন করে, কিন্তু বাবা-মা যখন অন্যায়ভাবে সন্তানদের মধ্যে পার্থক্য করেন, তখন সবাই চুপ থাকে। যদি কোনো সন্তান এই বৈষম্যের প্রতিবাদ করে, তবে সমাজ তাকে বেয়াদব বা অবাধ্য বলে গালি দেয়। অথচ সমাজ এটা দেখে না যে, বাবা-মায়ের এই ভুল আচরণই একটি সন্তানকে তিলে তিলে ধ্বংস করে দিচ্ছে।
যদিও বাংলাদেশে বাবা-মায়ের অবাধ্য হওয়াকে খারাপ চোখে দেখা হয়, কিন্তু পারিবারিক সহিংসতা প্রতিরোধ ও সুরক্ষা আইন অনুযায়ী পরিবারের যে কোনো সদস্যের ওপর মানসিক নির্যাতন করা অন্যায়। সন্তানের ওপর মানসিক চাপ সৃষ্টি করা বা তাকে ছোট করাও এক ধরণের অপরাধ। আইনের চেয়েও বড় কথা হলো বিবেক। টাকা দিয়ে ভালোবাসা কেনা যায় না, আর সন্তানের যোগ্যতা কেবল তার টাকা দিয়ে বিচার করা উচিত নয়।
বাবা-মা হিসেবে সম্মান পাওয়া যেমন অধিকার, তেমনি সব সন্তানকে সমান চোখে দেখা তাদের দায়িত্ব। সমাজকে বুঝতে হবে যে, মানুষের ভুল হতে পারে, সে তিনি বাবা-মা হোন বা অন্য কেউ। টাকা দিয়ে ভালোবাসা মাপার এই নোংরা সংস্কৃতি বন্ধ না হলে পারিবারিক বন্ধন বলে ভবিষ্যতে কিছুই থাকবে না।
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: কে এম মাসুদুর রহমান, সম্পাদক ও প্রকাশক: মোহাম্মদ মাসুদ।
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: ২১/১ নয়াপল্টন (মসজিদ গলি),ঢাকা - ১০০০।
✆ ০১৫১১৯৬৩২৯৪, ০১৬১১৯৬৩২৯৪ 📧dailysobujbangladesh@gmail.com.
কপিরাইট © ২০২৫ দৈনিক সবুজ বাংলাদেশ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত