নিজস্ব প্রতিবেদক ॥
ডাকাতি মামলায় একটানা জেল হাজতে ছিল এক মাস সতের দিন৷ জামিনে বের হয়ে গত বৃহস্পতিবার ফের চাকরীতে যোগ দিলেন। দীর্ঘদিন এই অনুপস্থিতিতির বিষয়টি অফিসকে জানানো হয়েছে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন৷ অবশ্য অফিস কর্তৃপক্ষও খুব করে ভালো করেই জানেন জেল হাজতে থাকার বিষয়টি। ঘটনাটি ঘটেছে যমুনা অয়েল কোম্পানি লিমিটেডের বাঘাবাড়ী অয়েল ডিপোর অফিস সহকারী হোসাইন মো: ইসহাক মিল্টনের বেলায়। প্রতিষ্ঠানটির মানব সম্পদ বিভাগের মহাব্যবস্থাপক মো: মাসুদুল ইসলাম ও বাঘাবাড়ি ডিপো ইনচার্জ আবুল ফজল মো: সাদেকিনকে ম্যানেজ করে কোন নিয়মনীতি ছাড়াই তার ফের চাকরীতে যোগদান করার ঘটনাটি ঘটেছে। জানা গেছে সিরাজগন্জের বাঘাবাড়ীর অয়েল ডিপোর অফিস সহকারী( হাজিরা ভিত্তিক) হোসাইন মো: ইসহাক মিল্টন গত ৬ জানুয়ারী ২০২৬ একটি ডাকাতি মামলায় গ্রেফতার হয়৷ চট্রগ্রামের চন্দনাইশ থানার একটি ডাকাতি মামলায় আদালতের জারীকৃত গ্রেফতারী পরোয়ানের ভিত্তিতে সিরাজগঞ্জের শাহাজাদপুর থানা পুলিশ সেদিন তাকে গ্রেফতার করে । পরবর্তীতে সেই মামলায় তিনি জামিনে বের হন ২২ ফেব্রুয়ারী। এবিষয়ে ইসহাক মিল্টন জানান আসলে ঠিক ডাকাতি মামলায় নয়, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের একটি মামলায় তিনি এক মাস জেল হাজতে ছিলেন। দীর্ঘ এসময়ে তিনি অফিস থেকে ছুটি নিয়েছে বলেও জানান। এদিকে বাঘাবাড়ী অয়েল ডিপোর ডেপুটি ম্যানেজার আবুল ফজল মো:সাদেকীন বলছেন ভিন্ন কথা৷ তিনি জানান হোসাইন মো: ইসহাক মিল্টন জেল হাজতে ছিলেন এটা তিনি এই প্রথম শুনলেন । তিনি আরো বলেন তার জানামতে ইসহাক মিল্টন দীর্ঘ দিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন । তবে দেড় মাসেরও বেশি সময় পর তার চাকরিতে যোগাদানের বিষয়টি স্বীকার করে৷
অনুসন্ধানে জানা গেছে বাঘাবাড়ি ডিপো ইনচার্জ আবুল ফজল মো: সাদেকিনের ক্যাশিয়ার হিসাবে পরিচিত এই হোসাইন মো : ইসহাক মিল্টন৷ এই কর্মকর্তার অত্যান্ত বিশ্বস্ত ইসহাক মিল্টনের চাকরিতে যোগদানের সকল প্রক্রিয়া তিনি নিজেই সম্পন্ন করেছেন। এই ডিপো ইনচার্জ যেখানেই বদলী হয়ে যান, সাথে করে নিয়ে যায় এই ইসহাক মিল্টনকেও। ওরা দুজন সর্বশেষ চাকরি করেছে পার্বতীপুর ডিপোতে ৷ আবুল ফজল মো : সাদেকিন সেখান থেকে বাঘাবাড়িতে বদলী হয়ে আসার সময় সাথে করে ইসহাক মিল্টনকেও এখানে বদলী করে নিয়ে আছে ৷ অভিযোগ রয়েছে বাঘাবাড়ি ডিপো ইনচার্জের সাথে প্রতিষ্ঠানটির জিএম এইচ আর মাসুদুল ইসলামের সাথে রয়েছে দীর্ঘ দিনের অবৈধ লেনদেনের সম্পর্ক, বিদায় হোসাইন মো: ইসহাক মিল্টনকে ফের চাকরীতে যোগদান করাতে কোন বেগ পেতে হয়নি আবুল ফজল মো: সাদেকিনের। এদিকে দীর্ঘ দিন ধরে যমুনা ওয়েলের সিবিএ নেতা আবুল হোসেন, মুহাম্মদ এয়াকুব জেল হাজতে এবং আরেক সিবিএ নেতা জয়নাল আবেদীন টুটুল অফিসে অনুপস্থিত । সম্প্রতি এই তিন সিবিএ নেতাকে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে যমুনা অয়েল কর্তৃপক্ষ, তবে হোসাইন মো: ইসহাক মিল্টনের বেলায় এর ব্যতয় কেন? এবিষয়ে মানবসম্পদ বিভাগের জিএম এইচ আর মাসুদুল ইসলামকে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি ফোন রিসিভ করেনি৷
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: কে এম মাসুদুর রহমান, সম্পাদক ও প্রকাশক: মোহাম্মদ মাসুদ।
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: ২১/১ নয়াপল্টন (মসজিদ গলি),ঢাকা - ১০০০।
✆ ০১৫১১৯৬৩২৯৪, ০১৬১১৯৬৩২৯৪ 📧dailysobujbangladesh@gmail.com.
কপিরাইট © ২০২৫ দৈনিক সবুজ বাংলাদেশ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত