মো: জুয়েল হোসেন, সিরাজগঞ্জঃ
বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসে সিরাজগঞ্জ জেলা এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জনপদ। আর এই জনপদের রাজনৈতিক অঙ্গনে চার দশকেরও বেশি সময় ধরে এক পরিচিত ও আস্থার নাম মির্জা মোস্তফা জামান। বর্তমানে সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করা এই নেতা কেবল একজন রাজনীতিবিদই নন, বরং তৃণমূলের কর্মীদের কাছে সংকটের এক নির্ভরতা।
মির্জা মোস্তফা জামানের রাজনীতির রক্ত বইছে ধমনীতে। তার পিতা মরহুম মির্জা মুরাদুজ্জামান ছিলেন সিরাজগঞ্জ-২ (সদর ও কামারখন্দ) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এবং একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। পিতার হাত ধরেই দেশপ্রেম ও জনগণের সেবার আদর্শে উদ্বুদ্ধ হন তিনি। ছাত্রজীবন থেকেই তিনি জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের রাজনীতির সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে পড়েন। সিরাজগঞ্জ সরকারি কলেজ ছাত্র সংসদের জিএস ও ভিপি হিসেবে দায়িত্ব পালন করে তিনি নেতৃত্ব গুণের প্রমাণ দিয়েছেন। কর্মজীবনে প্রবেশ করার পর থেকেই তিনি বিএনপির মূল ধারার রাজনীতিতে সক্রিয় হন। জেলা বিএনপির কৃষি বিষয়ক সম্পাদক থেকে শুরু করে বর্তমানে সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন। এই দীর্ঘ পথচলায় তাকে অসংখ্যবার প্রতিকূলতার সম্মুখীন হতে হয়েছে। বিশেষ করে ২০০৭ সালের ১/১১-এর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সময় এবং পরবর্তী বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলনে তিনি জেল-জুলুম ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। অসংখ্য রাজনৈতিক মামলা কাঁধে নিয়েও তিনি রাজপথ ছেড়ে যাননি।
রাজনীতি ও বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে মির্জা মোস্তফা জামান বলেন, রাজনীতি আমার কাছে কেবল ক্ষমতা বা পদ-পদবি নয়, এটি জনগণের অধিকার আদায়ের একটি মাধ্যম। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শকে বুকে ধারণ করে আমি আজীবন গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের লড়াইয়ে শামিল থাকতে চাই। তিনি বলেন, আমাদের অভিভাবক, গণতন্ত্রের মানসকন্যা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া আজ আমাদের মাঝে নেই। তার এই চলে যাওয়া কেবল দলের নয়, পুরো জাতির জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি। তিনি আজীবন আপসহীন থেকে আমাদের শিখিয়েছেন কীভাবে মাথা নত না করে লড়াই করতে হয়। আমরা শোকাহত, কিন্তু ম্রিয়মাণ নই। নেত্রীর রেখে যাওয়া আদর্শ এবং দেশনায়ক তারেক রহমানের নেতৃত্বে আমরা গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের এই লড়াইকে চূড়ান্ত বিজয়ের দিকে নিয়ে যাবো।
তিনি আরও বলেন, তৃণমূলের কর্মীরাই দলের প্রাণ। শত বাধা ও মামলা-হামলা সত্ত্বেও তারা যে ধৈর্য ও সাহস দেখিয়েছে, তা আমাকে অনুপ্রাণিত করে। আমি বিশ্বাস করি, সত্য ও ন্যায়ের লড়াইয়ে জয় আমাদের হবেই। রাজনীতির বাইরেও মির্জা মোস্তফা জামান একজন পরোপকারী ও সমাজসেবক হিসেবে পরিচিত। করোনাকালীন দুর্যোগ কিংবা বন্যা কবলিত এলাকায় ত্রাণ সহায়তা নিয়ে তিনি সবসময় সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। বিভিন্ন ধর্মীয় ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নেও তার অবদান অনস্বীকার্য। ত্যাগী ও আদর্শিক রাজনীতিক হিসেবে মির্জা মোস্তফা জামান সিরাজগঞ্জের রাজনীতিতে এক অনন্য উচ্চতায় আসীন। রাজনৈতিক সংকটে কর্মীদের ছায়া হয়ে থাকা এবং দলের আদর্শে অবিচল থাকা এই নেতার লক্ষ্য এখন একটি সুশৃঙ্খল ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গঠন।
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: কে এম মাসুদুর রহমান, সম্পাদক ও প্রকাশক: মোহাম্মদ মাসুদ।
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: ২১/১ নয়াপল্টন (মসজিদ গলি),ঢাকা - ১০০০।
✆ ০১৫১১৯৬৩২৯৪, ০১৬১১৯৬৩২৯৪ 📧dailysobujbangladesh@gmail.com.
কপিরাইট © ২০২৫ দৈনিক সবুজ বাংলাদেশ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত