তারিখ লোড হচ্ছে...

ই-পেপার

শিরোনাম
অবহেলিতদের পাশে দাঁড়াতে চান বিএনপি নেতা রাশেদুল হাসান রঞ্জন দীঘিনালায় সেনাবাহিনীর সহায়তা বদলাচ্ছে অসহায়দের জীবন শেরপুরে মা-বাবার ভালোবাসা পেতে ৬৬ লাখ টাকা কবিরাজকে তুলে দেয় মেয়ে মানিকছড়িতে সেনাবাহিনীর উদ্যোগে মেডিকেল ক্যাম্পেইন ভোলাহাটে জ্বালানী তেলের সঙ্কটে দিশেহারা কৃষক পৌরসভায় অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিদায়ী সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত শ্রীমঙ্গলে ওয়ার্ড বিএনপি নেতা আলতাফের কাছে জিম্মি চার গ্রামের মানুষ দেশে সরকারি চাকরিতে শূন্যপদ ৪ লাখ ৬৮ হাজার খালি পেটে রসুন খাওয়ার উপকারীতা মোহাম্মদপুরে ৪ দিনের ব্যবধানে আরও এক খুন তেজগাঁও কলেজ সাংবাদিক সমিতির নেতৃত্বে যুবরাজ-বুশরা টেক্সটাইল মিলের ইনচার্জ বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগ এসএসসি পরীক্ষায় থাকছে ‘সাইলেন্ট এক্সপেল’ এম এম হক আইডিয়াল স্কুলের বার্ষিক ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান সাতক্ষীরায় প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার প্রথম দিন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন আজ আলোচনা করবে লেবানন ও ইসরায়েল প্রধানমন্ত্রী স্বাধীনতা পদক হস্তান্তর করবেন আজ ভোলাহাট প্রেসক্লাবের বনভোজন আয়োজনের প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত শেরপুর সীমান্তঘেঁষা গারো পাহাড় ধ্বংসের পথে গণপূর্তের ইএম শাখা সার্কেল ৪: তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী তৈমুর আলমের দূর্নীতির কীর্তি! ৫ লাখ কর্মচারী নিয়োগ দেবে সরকার ‘ব্যানানা ম্যাঙ্গো’ বছরে দুবার ফলন ও রপ্তানির স্বপ্নে বিভোর পলাশ ডিএনসির অভিযান ৮০ লিটার চোলাইমদ ও ১৪০০ লিটার ওয়াশসহ নারী গ্রেফতার রেজিস্ট্রেশন কমপ্লেক্স দখলে নিয়েছে খিলগাঁও সাব-রেজিষ্টার মাইকেল মহিউদ্দিন দাকোপে কোটি টাকার পিচঢালা রাস্তা এখন মরণফাঁদ চাটখিলে শতবর্ষী ঝুঁকিপূর্ণ ব্রিজ খুলনায় বাস-মোটরসাইকেল সংঘর্ষ রূপসায় যুবককে গুলি করে হত্যার চেষ্টা দৈনিক চাঁপাই দর্পণ-এর যুগপূর্তি ও ই-পেপার উদ্বোধন অনুষ্ঠিত ​সোনামসজিদ সীমান্তে মাদকসহ আটক ১ জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলায় ওয়ার্ড ভিত্তিক প্রকল্প অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত সমুদ্রপথে ইরানের বাণিজ্য বন্ধেরে দাবি জনগণকে ‘ই-হেলথ কার্ড’ দেওয়ার উদ্যাগ নেওয়া হয়েছে : প্রধানমন্ত্রী বিএনপির টিকিট চান ১২০০ জন পহেলা বৈশাখে চন্দ্রিমা ফিটনেস ক্লাবের নতুন কমিটি ঘোষণা বৈশাখী শোভাযাত্রায় নতুন বছরকে বরণ রাজধানীতে জামায়াতে ইসলামীর বৈশাখী শোভাযাত্রা টাঙ্গাইল স্টেডিয়ামে প্রধানমন্ত্রী কালিহাতীতে সিজারিয়ান অপারেশনে পর মৃত্যু কর্মকর্তাদের বাড়ি-গাড়িসহ ৯ খাতে ব্যয় কমালো সরকার দুই মামলায় জামিনের পর হত্যা মামলায় গ্রেফতার মন্ত্রী নুরুজ্জামান ইরানে নৌ অবরোধের হুমকি, যুক্তরাষ্ট্রকে যে বার্তা দিলো চীন ছেলেসহ তিনজনকে কুপিয়ে সাবেক পুলিশ সদস্য নিহত শেরপুরের শিক্ষার্থীদের সিলিং ফ্যান বিতরণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জরুরি নির্দেশনা ৩৬ আসনের বিএনপির ফরম কিনেছেন ১৩০০ জন নারী সাংবাদিককে হেনস্তা কারী ইমারত পরিদর্শক অপি রুবেল গ্রেফতার বগুড়া সিটি করপোরেশন উদ্বোধন করতে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী লুটপাটের সঙ্গী হয়ে টানেল বানিয়ে লাভ নেই: সারজিস সাউন্ড কেলেঙ্কারি ও কোটি টাকার সম্পদ গণপূর্তের আনোয়ারের

শ্রীমঙ্গলে ওয়ার্ড বিএনপি নেতা আলতাফের কাছে জিম্মি চার গ্রামের মানুষ

শ্রীমঙ্গলে ওয়ার্ড বিএনপি নেতা আলতাফের কাছে জিম্মি চার গ্রামের মানুষ
পাঠক সংখ্যা
638

ইসমাইল মাহমুদ, মৌলভীবাজারঃ

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার শান্ত জনপদ ৬ নম্বর আশীদ্রোণ ইউনিয়নে এখন বইছে অশান্তির কালো ছায়া। নিভৃত এ ইউনিয়নের চারটি গ্রামের নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সাধারণ মানুষ এক বিএনপি নেতার কাছে কার্যত জিম্মি হয়ে পড়েছে। ওই নেতা এক সময় আওয়ামী লীগের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রেখে চললেও এখন শ্রীমঙ্গল পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির আহবায়ক কমিটির অন্যতম সদস্য। ওই নেতার নাম মো. আলতাফুর রহমান নাজমুল হাসান।

তিনি আশীদ্রোণ ইউনিয়নের জিলাদপুর গ্রামে নামমাত্র প্রতিষ্ঠিত এবং কোন ধরণের শ্রেণি ও অফিসিয়্যাল কার্যক্রম না থাকা হাজী এছাক মিয়া হাজেরা বেগম মডেল স্কুলের প্রধান শিক্ষক এবং ওই ইউনিয়নের তিতপুর গ্রামের মরহুম এছাক মিয়ার ছেলে। স্কুলের নামে তিনি প্রতি বছর প্রথম থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত গ্রহণ করেন সরকারি বই। যা বিক্রি করে দেন ভাঙারি দোকানে। এছাড়া তার বিরুদ্ধে নানা ধরণের প্রতারণা, মামলা বাণিজ্য, মামলা করে নিরীহ গ্রামবাসীদের হয়রানী, জালিয়াতিসহ এন্তার অভিযোগ। তার মামলা থেকে রেহাই পায়নি বিএনপির নেতা থেকে শুরু করে গণমাধ্যমকর্মীও। অতি সম্প্রতি আলতাফ তার দল তথা বিএনপির ৬ নম্বর ওয়ার্ড কমিটির আহবায়ক মো. আশরাফুল ইসলাম লিয়াকতসহ ১৬ জনকে আসামি করে মামলা করেছে আদালতে।

ওই মামলায় আসামি করা হয়েছে দৈনিক খোলাকাগজ পত্রিকার মৌলভীবাজারের স্টাফ রিপোর্টার মো. এহসানুল হককেও। শ্রীমঙ্গল উপজেলা বিএনপির আহবায়ক নুরুল আলম সিদ্দিকীও তার যন্ত্রনায় অতিষ্ট হয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের বলেন, আমি যতটুকু জানি আলতাফুর রহমান আওয়ামী লীগেরও লোক ছিল। কিন্তু আমাদের দল ইদানিং ক্ষমতায় আসার পরে বিভিন্ন জায়গায় সে দল ভাঙ্গিয়ে বিভিন্ন অফিসে সে বিভিন্ন কায়দা-কানুন করতে চাইতেছে। ইউএনও সাহেবও অনেক সময় বলছেন। এমনকি ইউএনও মহোদয় আমাকে বলেছেন তার যন্ত্রনায় উনার অফিস করাটাই কষ্টকর। সরজমিনে তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, শ্রীমঙ্গল উপজেলার ৬ নম্বর আশিদ্রোণ ইউনিয়নের তিতপুর গ্রামের বাসিন্দা আলতাফুর রহমান নাজমুল হাসানের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছেন ইউনিয়নের আশিদ্রোণ, তিতপুর, জিলাদপুর এবং খোশবাস এ চার গ্রামের সাধারণ মানুষ। স্থানীয়রা তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করে জানান, ওই ইউনিয়নের সর্বত্র মামলাবাজ হিসেবে পিরিচিত আলতাফ আওয়ামী আমলে ছিলেন আওয়ামী লীগের লোক। ২০০৯ সালের নভেম্বর মাসে তৎকালীন জাতীয় সংসদের চিফ হইপ আব্দুস শহীদের স্বাক্ষর জাল করে কারাবরণও করেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর তিনি পুরোদস্তর বিনপি নেতা। দলের নাম ভাঙিয়ে একের পর এক করে যাচ্ছেন অপকর্ম, সাধারণ মানুষের উপর চালাচ্ছেন নির্যাতনের স্টিম রোলার।

এমনকি তার নির্যাতন থেকে রেহাই পায়নি তার আপন বড় ভাই ও বড় ভাইয়ের পরিবারের সদস্যরাও। প্রতারণা এবং মামলা বাণিজ্য করাই যেন তার পেশা। আলতাফের বিরুদ্ধে কেউ টু-শব্দটিও করলেও বা তার অপকর্মের প্রতিবাদ করলে তিনি মামলাসহ বাড়ি দখল, নানা ধরণের ভয়-ভীতি ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত পোস্ট করে প্রতিবাদকারীদের নাজেহাল করেন এমন অভিযোগ এলাকাবাসীর। সরজমিনে অনুসন্ধানকালে জানা গেছে, আশিদ্রোন ইউনিয়নের জিলাদপুর গ্রামে ২০০৩ সালে হাজী এছাক মিয়া হাজেরা বেগম মডেল স্কুল নামে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করেন। এক সময় রাজমিস্ত্রীর যুগালী আলতাফ নিজেই হন ওই প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক। এই স্কুলটি প্রতিষ্ঠার পর কিছুদন পাঠদান চালু থাকলেও শিক্ষার্থী এবং শিক্ষক সংকটে প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ হয়ে পড়ে। নামসর্বস্ব অবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে ওই প্রতিষ্ঠানটি ধানের জমির মাঝখানে জরাজীর্ণ ও তালাবদ্ধ রয়েছে। প্রতিষ্ঠানে কোন শিক্ষার্থী ও শিক্ষক নেই। প্রতিষ্ঠান না থাকলেও তিনি প্রধান শিক্ষক। কিন্তু প্রতি বছরই প্রথম থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত প্রতি শ্রেণিতে শিক্ষার্থী দেখিয়ে উপজেলা প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা কার্যালয়ং থেকে সরকারি বই গ্রহণ করছেন। এসব সরকারি বই ভাঙারি দোকানে বিক্রি করছেন বলেও অভিযোগ স্থানীয়দের। ওই স্কুলের পাশ্ববর্তী মার্কেটের মালিক সেলিনা বেগম জানিয়েছেন গত বছর সরকারি বই এনে তার দোকানের পেছনে স্তুপ করে রেখেছিলেন আলতাফ। দীর্ঘদিন বইগুলো না নেওয়ায় পরে তিনি স্থানীয় ইউপি সদস্যকে জানালে তিনি বইগুলো শিক্ষা অফিসে দিয়ে দেন।

সরজমিনে গেলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেন আলতাফ প্রতি বছর সরকারি বই বিক্রি করে এবং স্কুলের নামে নানাভাবে বরাদ্দ ও প্রকল্প এনে আত্মসাৎ করছেন। আইডিয়া নামে একটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা (এনজিও) থেকে গভীর নলকূপ এনে তার স্থাপন করে তালাবদ্ধ করে রেখেছেন। একাধিক ভুক্তভোগী অভিযোগ করেন মামলা থেকে নাম বাদ দেওয়ার কথা বলে অনেকের কাছে ৩০-৫০ হাজার টাকা দাবি করেন। এ পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকার শতাধিক মানুষকে প্রায় ২০টির অধিক মামলা দিয়ে হয়রানি করছেন। প্রতিবেশীর বৈধ ও দখলকৃত জমি অবৈধভাবে দখলে নিতে এবং সরকারি আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর থেকে বাসিন্দাদের বের করে তা দখলে মরিয়া হয়ে ওঠেছেন। সরকারি দলের নেতা পরিচয়ে চারটি গ্রামের কৃষকদের কৃষি অফিস থেকে স্যালু মেশিন, সেচ, বিজ, সার, প্রণোদনা ও বয়স্ক ভাতা দেবার কথা বলে প্রায় সাড়ে তিন শতাধিক মানুষের কাছ থেকে তাদের জাতীয় পরিচয়পত্র সংগ্রহ করেন আলতাফ। দীর্ঘদিন পার হলেও তাদের কেউই বয়স্ক ভাতার কার্ড, সার, বিজ ও প্রণোদনা পাননি। জাতীয় পরিচয়পত্র ফেরত চাইলে তাও দিতে টালবাহানা করে চলেছেন। এলাকাবাসী আলতাফুর রহমানের নানা অনিয়ম, প্রতারণা ও মামলা বাণিজ্যে অতিষ্ট হয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার, থানার অফিসার ইনচার্জ, কৃষি অফিস, বিএডিসি অফিস ও পল্লি বিদ্যুৎ অফিসে লিখিত অভিযোগ প্রদান করেন।

প্রতিবেদকের সাথে আলাপকালে জিলাদপুর এলাকার গৃহবধু সখিনা বিবি বলেন, ‘আলতাফুর রহমান অনেক বাটপারী, অনেক চিটারি করছে আমাদের সাথে। আমাদের এলাকায় স্কুল করলে আমাদের বাচ্চা-কাচ্চা মানুষ হবে আশা করে আমরা সবাই তাকে প্রথমদিকে সমর্থন দিয়েছিলাম। কিন্তু তিনি আমাদের নাম বিক্রি করে তিনি বাটপারি করে আমাদের বাচ্চা-কাচ্চার নাম দিয়া, আমাদের নাম দিয়া জায়গায় জায়গায় সে সুবিধা নিচ্ছে। আলতাফ যে স্কুল করেছে সে স্কুলে কোন ছাত্র নাই, কোন মাস্টার নাই।
আলতাফের প্রতিষ্ঠিত স্কুলের পশ্চিম পাশের বাড়ির বাসিন্দা গৃহবধু শিল্পী বেগম বলেন, আলতাফের স্কুলে কোন ছাত্র নাই, কোন মাস্টারও নাই। খালি তাইন আতকা (হঠাৎ) স্কুলে আইন। আইয়া আমরা বাড়ির সামনে আমরা কাপড়চোপড় যে শুকাতে দেই তা আনতে বা দেকতে গেলে তাইন বারে বারে ল্যাংটা অইয়া খারাপ আচরণ করইন। দেকলে আমরার শরম করে (লজ্জা লাগে)। স্থানীয় বাসিন্দা আইয়ুব আলী মার্কেটের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মো. আছকর মিয়া বলেন, ‘আজকে বিগত ১৫-১৬ যাবত দেখতেছি তার করা স্কুলে কোন ছাত্র নাই, মাস্টার নাই। অন্য স্কুলের ছাত্র নিয়া টানাটানি করে। স্কুল ভিজিটে কোন কর্তৃপক্ষ আসলে অন্য স্কুলের ছাত্র এনে বসিয়ে রাখে। এসব ঘটনায় ছাত্রদের অভিভাবক যারা তারা প্রতিবাদ করেন। আলতাফ স্কুলের নামে উপজেলার বিভিন্ন অফিস থেকে বরাদ্দ আনে সরকারি। অযথা বরাদ্দ আনে তার নিজের উন্নয়নে। স্কুলের কার্যক্রম না থাকলেও একটি টিনের ঘর বানাইয়া সরকারি বই আনে এবং বেচে দেয়।

স্কুলের একটি টিনের ঘর থাকলেও এই পর্যন্ত এলাকার কেউ কোন ছাত্র বা মাস্টার আমরা দেখছিনা। ইখানে পরিত্যক্ত একটা ঘর দেখাইয়া বরাদ্দ আনে। সরকারি একটি টিউবওয়েল আনলেও তা কোন কাজে লাগতেছে না। এলাকার মানুষও ওই টিউবওয়েল থেকে পানি নিতে পারে না। তার অনিয়মের কথা বললেই সে একের পর এক হয়রানী মামলা করে চলেছে। এছাড়া কৃষি প্রণোদনা প্রদানের নাম করে পুরো ইউনিয়নের ৩ থেকে সাড়ে ৩ শত মানুষের আইডি কার্ড আলতাফ নিয়েছে। প্রণোদণাতো দুরের কথা এখন শুনছি এসব কার্ড সে নানা কাজে ব্যবহার করছে। কথায় কথায় আশীদ্রোন ইউনিয়নের চার গ্রামের অসংখ্য মানুষের নামে সে মামলা দিচ্ছে। এমনকি তার বিরুদ্ধে রিপোর্ট করার কারনে সাংবাদিক এহসানুল হককেও মামলার আসামী করছে। পুরো এলাকার মানুষ তার জালায় অতিষ্ট। স্থানীয় বাসিন্দা মো. আবুল বশর বলেন, আলতাফ যখন প্রথম স্কুল দিছিলো তখন আমারেও ভর্তি করাইছিল। আমি প্রথমদিন স্কুল আসার পর দেখি এখানে কোন মাস্টার নাই, কোন মাস্টারনী নাই। বই আইনন্যা বই বিক্রি করে। মহিলা লইয়া লইয়া ইখানে আনন্দ ফুর্তি করে। আজ পর্যন্ত প্রত্যেকবার সরকার থাকি বই আনে, বই বিক্রি করে। কেউ কথা কইলেই মামলা দেয়, হয়রানী করে। কৃষকদের সাথে লাগে। স্কুলের খালি ঘরে আইয়া লেংটাচেংটা অইযায়। আশপাশের বাড়িগুলোর মহিলারা তার যন্ত্রণায় ঘর থাকি বাইরতো পারে না। আমরা আইনের কাছে তার বিচার চাই।’
স্থানীয় বাসিন্দা মো. সুরুক মিয়া বলেন, ‘আলতাফ আগে আছিল সে আওয়ামী লীগ, এখন অইছে বিএনপি। সে মিথ্যা স্কুল কইরা খানোকা (অযথা) সরকারি বই আইনা বিক্রি করি দেয়। তার মতো চিটার বাংলাদেশে খুব কমই আছে। আমার উপর এর আগে ১০টা মামলা করছিল। সবগুলো মামলায় আমি পাইছি (পক্ষে রায় লাভ করেছি)। এখন আবার মামলা দিছে।

আওয়ামী লীগের আমলে এমপি স্বাক্ষর জাল করে ছড়া থেকে বালু তুলে বিক্রি করে জেলে গেছিল। এখনকু আইছে বিএনপিত। বিএনপিতে আওয়ার পরে মানুষরে জ্বালাই লাইতাছে। পশ্চিম আশীদ্রোন গ্রামের কাদির মিয়া বলেন, ‘আমি এখন অসুস্থ্য দিনমজুর। খুব কষ্টে আছি। আলতাফ একদিন ৫-৭ জন মানুষ লইয়া আমার বাড়িত গেছে, গিয়া কয় আমি বাড়ি ছাড়তাম। আমি সরকারি ঘর পাইছলাম। এ ঘর ছাড়ার লাগি আমার বাড়িত গিয়া হুমকি দেয় আর মামলা দেয়। আমি একজন অসহায় মানুষ। আমি আইনের কাছে বিচার চাই। বয়োবৃদ্ধ জাহানারা বেগম বলেন, ‘আমার ছোট ছেলেকে ৭ মাসের তইয়া তারার বাপ মরি গেছে। আমি খুব কষ্ট কইরা দুইটা বাচ্চারে পালছি। আমি গরীব মানুষ। বাচ্চারা এখন কামকাজ করি খায়। আমার বাচ্চা দুইটারে আলতাফ মামলাত দিছে। হে আমার দুই ছেলের বউ ও আমারে ধাইয়া আইয়ে-কুইদ্ধা আইয়ে (ধাওয়া করে, ধমক দেয়) মারবার লাগি। আমি বিচার চাই আইনের কাছে। অভিযুক্ত আলতাফের বড়ভাই শহিদুর রহমান আলকাস বলেন, আমরার বাপ প্যারালাইসেস অইয়া দুই বছর ঘরে আছলা। বাপ থাকা সত্তে¡ আলতাফরে আমরা বাপ সম্পত্তি ভাগ কইরা দিছি। আমি বিদেশ যাওয়ার কথা আছল না, তার যন্ত্রণায় অতিষ্ট অইয়া বিদেশ গেছি। বিদেশ গিয়া আমি বিরাট মাইর খাইছি, এখন অসুস্থ্য অইয়া দেশে আইছ। এরপর গত কয়েকদিন আগে আমরা বাপের সম্পত্তি ভাগ বাটোয়ারা কইরা নিছি, বাহার আমিনে বাইট্টা দিছে।

সে একবার নিলেও আবারও বাপ সম্পত্তি দাবি করায় আমরা ডরে তারে আবার দিছি। এখন আমার ভাগের সম্পত্তি সে জোর করে নিতে চায়। গত শুক্রবার আমি আমার বোইনের বাড়িত আছলাম। হে সময় আমার বিচরাত (জমিত) আলতাফ একটি আম গাছের চারা রোইছে (লাগাইছে)। আমি ইটা তুইল্লা নিয়া সাইডে রাখছি। আমি বাড়িত না থাকার সময় ইতা লইয়া আলতাফ বাড়িত আইয়া আমার পুয়ারে দৌড়ে তুলাইছে। বাড়ির আইয়া গালাগালি করে। আমি বিদেশ থাকতে তার যন্ত্রণায় আমার বউ আমার বাচ্চাগুণদের লইয়া হউড় বাড়িত যাইতে বাধ্য অইছিল। তার যন্ত্রণায় বহুত কষ্টে আছি। আলতাফ যে স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা সে স্কুল কমিটির সভাপতি মো. মোস্তফা মিয়া বলেন, ‘কয়দিন আগে আলতাফ সাংবাদিকসহ কয়জনরে আসামি কইরা যে মামলা দিছে সে মামলায় আমারে স্বাক্ষী করছে, এ বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। স্কুল বাক্কা (বহু) দিন ধইরা বন্ধ। স্থানীয় বাসিন্দা রোসনা বেগম বলেন, ‘আমার ছেলের আইডি কার্ডে সমস্যা আছিল। সে বিদেশ যাইতো কইরা আইডি কার্ড সংশোধনের দরকার আছিল। আলতাফ সংশোধন করাইয়া দিব কইয়া আমার কাছ থাকি ধাপে ধাপে ২০ হাজার টাকা নিচে। কার্ডও সংশোধন কইরা দিছে না, টাকাও ফিরত দিছে না। স্থানীয় বাসিন্দা বয়োবৃদ্ধ মো. আব্দুল জলিল বলেন, ‘একদিন আলতাফ আমারে জিগায় ভাইছাব আপনি বয়স্ক ভাতা পাইছইন নি? আমি বলি নারে ভাই পাইছি না। তখন আলতাফ আমারে কয় আপনি আপনার আইডি কার্ড ফটোকপি কইরা তারাতারি দেইন। এখন দেখা যায় আমারে বয়স্কভাতা দিত কিতা! আমার কার্ডের ফটোকপি এখন দেখি এলাকার কিছু মানুষ ও সাংবাদিকের বিরুদ্ধে কেইসের স্বাক্ষী হিসেবে ইটা ব্যবহার করছে।

স্কুলের কার্যক্রম না থাকা সত্তে¡ও সরকারি বই গ্রহণের ব্যাপারে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কার্যালয়ের একাডেমিক সুপারভাইজার সঞ্জিত কুমার দাশ বলেন, হাজী এছাক মিয়া হাজেরা বেগম মডেল স্কুলের একটি ঘর ছিল, ছাত্রও দেখেছি। আমি এ স্কুলটি সর্বশেষ ভিজিটে গিয়েছিলাম ২০২০ বা ২০২১ সালে। এরপর আর যাই নাই। গত ২০২৬ সালে সে স্কুলের নামে আমাদের কাছ থেকে ৬ষ্ঠ থেকে ১০ম শ্রেণি পর্যন্ত সরকারি বই দেওয়া হয়েছে। ২০২৭ সালের জন্যও বইয়ের চাহিদা দিয়েছেন স্কুলের প্রধান শিক্ষক আলতাফ। তিনি নিয়মিতই প্রতি বছর সরকারি বই নিচ্ছেন। এখন প্রতিষ্ঠানটি আমরা নতুন করে দেখবো, এখন কি অবস্থায় আছে। উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, হাজী এছাক মিয়া হাজেরা বেগম মডেল স্কুল শ্রীমঙ্গল উপজেলায় একটি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। আমি শ্রীমঙ্গলে আসছি দুই বছর হলো। দুই বছরই এই বিদ্যালয়টি আমাদের কাছ থেকে সরকারি বই নিচ্ছে। এই বইগুলো েিয় সে ছাত্রছাত্রীদের মাঝে বিতরণ করেছি কি না তা আমার জানা নেই। আমি বিদ্যালয়টি পরিদর্শন করি নাই। আমি বিভিন্ন সূত্র থেকে জানতে পেরেছি বা শুনেছি এখানে তার স্কুলটার অবস্থা ভগ্নদশা, এখানে পাঠদান হয় না। যেহেতু আমার নজরে বিষয়টি আসছে সেহেতু আমি সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মহোদয়কে অতি দ্রæত বিদ্যালয়টি পরিদর্শন করে বাস্তব অবস্থা সম্পর্কে আমাকে একটি প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য বলবো। তার প্রেক্ষিতে আমি ব্যবস্থা নেব।

শ্রীমঙ্গল উপজেলা বিএনপির আহবায়ক নুরুল আলম সিদ্দিকী বলেন, আমি যতটুকু জানি আলতাফুর রহমান আওয়ামী লীগেরও লোক ছিল। কিন্তু আমাদের দল ইদানিং ক্ষমতায় আসার পরে বিভিন্ন জায়গায় সে দল ভাঙ্গিয়ে বিভিন্ন অফিসে সে বিভিন্ন কায়দা-কানুন করতে চাইতেছে। ইউএনও সাহেবও অনেক সময় বলছেন। এমনকি ইউএনও মহোদয় আমাকে বলেছেন তার যন্ত্রনায় উনার অফিস করাটাই কষ্টকর। একেক সময় একেকটা ভান করে আসে। এগুলো আমাদের নলেজে আছে। আমরা অবগত হইতেছি। বিএনপির নামে আমার জানামতে কোথাও তার কোন সম্পৃক্ততা ছিল না। এখন যদি কোথাও কোন সম্পৃক্ত থাকে আমি আমাদের সকল নেতৃবৃন্দকে নিয়ে বসে এটি বিষয়টি দেখবো এবং তার বিরুদ্ধে আমরা ব্যবস্থা নেব। শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইসলাম উদ্দিন বলেন, আলতাফের নানা অভিযোগ নিয়ে সর্বত্র কথাবার্তা হচ্ছে সেগুলো আমরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জেনেছি। তার যে স্কুল রয়েছে এ বিষয়ে মিডিয়ার মাধ্যমে জানলাম বেশ কিছু ভিষয়-আশয়। সার্বিক বিষয় তদন্ত করে প্রয়োজনীয় বিধি-বিধান উল্লেখ করে মতামতসহ প্রতিবেদন দেওয়া জন্য ইতোপূর্বে মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারকে বলেছিলাম। কিন্তু উনার বদলী এবং নতুন নিয়মিত অফিসার না থাকার কারনে সার্বিক পরিদর্শন কার্যক্রম কিছুটা ব্যহত হচ্ছে। তারপরও উদ্ভুদ পরিস্থিতিতে বিষয়টা কি হচ্ছে তার বিস্তারিত খতিয়ে দেখার জন্য আমরা প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করবো। তিনি সরকারি বই জালিয়াতি করে নিয়ে থাকলে শিক্ষা অফিসার আইনানুগ ব্যবস্থা নেবেন।

নানা অভিযোগের বিষয়ে মো. আলতাফুর রহমান নাজমুল হাসানের বক্তব্য নিতে গেলে তিনি স্কুল সম্পর্কে কোন কথা বলতে অনিহা প্রকাশ করেন। স্থানীয় সমস্যা নিয়ে তিনি বলেন, আমি সরকারি একটি সেচের জন্য আবেদন করেছিলাম। সেই সেচটা বন্ধ করে ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য কাদির-বশর সিন্ডিকেট একাধিক অনিয়মে জড়িয়ে পড়ছে। এরা বিএনডিসি সেচের শুরু থেকে জমির কাগজ, উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাগজ, জমির আরএস প্রিন্ট পরচা, বিএডিসির প্রত্যয়নপত্র, উপজেলা সেচ কমিটির অনুমোদনপত্র, নলকূপ আবেদনপত্র প্রত্যেকটা জিনিস তারা এডিট করে জাল করছে লিয়াকতের মাধ্যমে। বিএনডিসির উপ-সহকারী প্রকৌশলী মামুনুর রশীদ এসে তাদের প্রতিস্থাপিত করা বিষয়টাকে এপ্রæভাল করছেন। বিনিময়ে প্রতি বছর যে অনিয়মের টাকা আসে এই টাকার দুই অংশ পায় বিএডিসি, দুই অংশ পল্লী বিদ্যুৎ পায়। আমি এসবের প্রতিবাদ করায় তারা আমার উপর ক্ষিপ্ত হয়েছে। এ জন্য এসব অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।

Facebook
X
LinkedIn
Threads
WhatsApp
Telegram
Email

Leave a Comment

সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের শেখ বিল্লালের দুর্নীতির মাইলফলক, গড়েছেন অট্রালিকাসহ কোটি কোটি টাকার সম্পত্তি

সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের শেখ বিল্লালের দুর্নীতির মাইলফলক, গড়েছেন অট্রালিকাসহ কোটি কোটি টাকার সম্পত্তি

মো: ইসমাইল হোসেনঃ দীর্ঘ সময়ের ফ্যাসিবাদের সুযোগে সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা জড়িয়ে পড়েছে দুর্নীতিতে। বর্তমান বাংলাদেশে প্রতিনিয়ত বেরিয়ে আসছে অনিয়ম ও দুর্নীতির চিত্র। সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের অনেক কর্মকর্তার দুর্নীতি প্রকাশ্যে এলেও অনেক কর্মকর্তার দুর্নীতি রয়েছে অগোচরে। বর্তমান সময়ে বাক স্বাধীনতা ফিরে পেয়ে এই দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কথা বলতে শুরু করেছেন সাধারণ ভুক্তভোগী জনতা। এবার প্রকাশ্যে এলো ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের পেশকার শেখ বিল্লালের দুর্নীতির চিত্র। জমি-জায়গা নিয়ে সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে গিয়ে দুর্নীতির কবলে পড়েননি বা জিম্মি হতে হয়নি এমন কাউকে পাওয়া বিরল। বিশেষ করে অর্থনৈতিক হয়রানির শিকার হতে হয় সাধারণ মানুষকে। নিয়মানুযায়ী সরকারী চাকরির বয়সসীমা সর্বোচ্চ ৩৫ হলেও দুর্নীতিবাজ শেখ বিল্লাল চাকরিতে যোগ দিয়েছেন ৪৫ বছর বয়সে। সরকারী বিধিমালা অনুযায়ী পেশকার পদের বেতন গ্রেড ১৬ এর অন্তর্ভুক্ত। যার বর্তমান বেতন কাঠামো

আরও পড়ুন
language Change