মো.শাহীনউজ্জামান স্টাফ রিপোর্টারঃ
বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট সেমিনার হলে রিটায়ার্ড জাজেস ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন এর বার্ষিক সাধারণ সভা ও ঈদ পুনর্মিলনী-২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিকেল ৪ টায় বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে রিটায়ার্ড জাজেস ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের প্রথম অধিবেশনে বার্ষিক সাধারণ সভায় বক্তব্য রাখেন সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ আদালতের অবসরপ্রাপ্ত বিচারক ১৯৭১ সালের রণাঙ্গনের বীর, বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল হোসেন খন্দকার পিএইচডি, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এডভোকেট নাসরিন বেগম এর উপস্থাপনায়
বক্তব্য রাখেন সুলতানা খান, সালমা বেগম, মহাসচিব দেওয়ান মো.শফিউল্লাহ, অবসরপ্রাপ্ত জেলা জজ আমিনুল ইসলাম প্রমুখ। বিচার বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বক্তারা বলেন, ২০১১ সালের ১ লা আগস্ট রিটায়ার্ড জাজেস ওয়েলফেয়ার বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন এর যাত্রা শুরু হয়। আজ ১৫ বছর হতে যাচ্ছে অবসর নেওয়া বিচার বিভাগের এই সংগঠন সদস্যদের যাত্রা। রিটায়ার্ড জাজেস ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সভায় প্রতিবেদন তুলে সভাপতি ও সম্পাদক বক্তব্য রাখেন।
রিটায়ার্ড জাজেস ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের
সাধারণ সভার দ্বিতীয় অধিবেশন ও ঈদ পুনর্মিলনীতে যোগ দেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের
আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও প্রধান অতিথি মো.আসাদুজ্জামান এমপি। রিটায়ার্ড জাজেস ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি
মো.সাইফুল আলম এর সভাপতিত্বে সাধারণ সভায়
আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী
মো.আসাদুজ্জামান এমপি জাজেস ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের অবসর নেওয়া বিচারকদের
কল্যাণে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দেন। সরকার
কাজ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বিচার বিভাগ কে
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে
ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা করতে এমন কিছু করে যেতে চান যাতে বছরের পর বছর মানুষ তাদের ন্যায় বিচার পান, কারোর মাধ্যমে যেনো বিচার ব্যবস্থা ভেঙে না পড়ে সে দিকে সরকার কাজ করবে।
আইন মন্ত্রী আরো বলেন, ১৯৯৪ সালের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া লিগ্যাল এইড এর কনসেপ্টটা, বাংলাদেশের গরীব, অসহায় মানুষকে লিগ্যাল এইড দেওয়ার জন্য তার নির্দেশে লিগ্যাল এইড নিয়ে তিনি একটি পরিপত্র জারি করেছিলেন। সেই ধারাবাহিকায় ২০০০ সালে একটি আইন পাস হয়। তার ধারাবাহিকতায় ২০২৫ এর শেষে অধ্যাদেশ হয়, এখন তা আমরা আইনে পরিণত করেছি। রিটায়ার্ড জাজেজ ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশন, বাংলাদেশ। বার্ষিক সাধারণ সভা ২০২৬ বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট, ঢাকার সাধারণ সম্পাদকের প্রতিবেদনে বলা হয়, মাননীয় সভাপতি ও মাননীয় উপদেষ্টাবৃন্দ, উপস্থিত সম্মানিত সদস্যবৃন্দ ও সম্মানিত অতিথিবৃন্দ। আসসালামু আলাইকুম।
১। রিটায়ার্ড জাজেজ ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশন, বাংলাদেশ নামের সংগঠনটি ২০১১ সালের ১ আগস্ট এর সাধারণ সভায় আত্মপ্রকাশ করে। নানা চড়াই উতরাই এর মধ্য দিয়ে সংগঠনটি আজকের অবস্থানে এসেছে। বিচারকের দায়িত্ব পালন করে বিচারাসনের বিশেষ অভিজ্ঞতা সঞ্চয়ের পর অনেকেই ৫৭/৫৯ বছর বয়সে অবসরে গিয়েছেন। বর্তমানে অবসরের বয়স সীমা ৫৯ বছর করা হয়েছে। অবসরপ্রাপ্ত বিচারগণের অনেকেই সুস্থ সবল ও কর্মক্ষম রয়েছেন। আইন অঙ্গনে দীর্ঘদিন অভিজ্ঞতা সঞ্চয়ের ফলে অবসরপ্রাপ্ত বিচারকগণের জাতিকে আরো অনেক সেবা দেবার সুযোগ রয়েছে। দেশবাসী এবং বিচারকগন বিচারাধীন প্রায় ৪২ লক্ষ মামলা নিয়ে হিমশিম খাচ্ছে।
বাংলাদেশের উচ্চ আদালতের মাননীয় বিচারপতি বৃন্দ, বাংলাদেশ সরকারের আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাননীয় আইন মন্ত্রী এবং আইন অঙ্গনের কর্মরত উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের এবং সুশীল সমাজের বিভিন্ন সময়ের বক্তব্যে এই বিষয়ে উদ্বিগ্নতা প্রকাশ পাচ্ছে। সুপ্রীম কোর্টের মাননীয় বিচারপতিবৃন্দ এবং অধস্তন আদালতের বিজ্ঞ বিচারকবৃন্দ এত অধিক সংখ্যক মামলার জট কমানোর জন্য রাতদিন অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন।
মামলা সমূহ দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে অবসরপ্রাপ্ত বিচারকবৃন্দ সরকারের নানা উদ্যোগের সাথে সম্পৃক্ত হতে ইতোপূর্বে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। সিভিল মামলা ও অর্থ ঋণ মামলা সমূহ দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে Meaiation পদ্ধতি কার্যকরীভাবে চালু করে অবসরপ্রাপ্ত বিচারকদের এ পদ্ধতির সাথে সম্পৃক্ত করার জন্য প্রস্তাব পেশ করছি। স্বল্প পরিসরে অবসর প্রাপ্ত জেলা জজদের স্পেশাল মেডিয়েটর নিয়োগ দেয়া হয়েছে। কিন্তু সম্মানি/ভাতা অপ্রতুল। ২। ২০২৫ সালে আমাদের সম্মানিত উপদেষ্টা আমাদের সার্ভিস সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখায় এবং আইসিজেতে আন্তর্জাতিক আরবিট্রেটর নিযুক্ত করায় সমিতি কর্তৃক মাননীয়
বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী কে সংবর্ধনা প্রদান করা হয় জিনজিয়ান চাইনিজ রেস্টুরেন্টের হলে। উক্ত অনুষ্ঠানে সদস্য ছাড়াও পরিবারের সদস্যগণ উপস্থিত থেকে অনুষ্ঠান কে আরও সৌষ্ঠব বৃদ্ধি করেছে। উক্ত সভায় মাননীয় বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী আমাদের সমিতিতে প্রদত্ত অনুদান প্রতি দরদ বছরের ন্যায় মৃত্যুর আগ পর্যন্ত বছরের প্রথম দিকে প্রতি বছর ১ লক্ষ টাকা অনুদান প্রদান করবেন মর্মে ঘোষণা প্রদান করেন এবং তদানুযায়ী এই বছর ১ লক্ষ টাকা ইতিমধ্যে প্রদান করেছেন। ৩। রিটায়ার্ড জাজেস ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন নাম সরকার কর্তৃক নিবন্ধিত ছিল না। অনেক চেষ্টার ফলে শেষ পর্যন্ত কিছুদিন পূর্বে সরকার কর্তৃক নিবন্ধিত হয়েছে। যাহার নম্বর জে-০১১২৩। আমাদের নির্বাহী কমিটির অনেকে অনেক শ্রম দিয়েছে। এই কাজের জন্য তাদেরকে ধন্যবাদ জানাই। ৪। আমাদের অ্যাসোসিয়েশন বিভিন্ন সময়ে বিশেষ করে আইন সংস্কার কমিশনে আমাদের সদস্যগণ মিডিয়েটর/আরবিট্রেটর হিসাবে মোকদ্দমা নিষ্পত্তি ভূমিকা রাখার আগ্রহ প্রকাশ করলে এই বিষয়ে আইন সংশোধন করে স্পেশাল মিডিয়েটর বিধান চালু করা হয়েছে।
৫। ইতিমধ্যে জুডিশিয়াল সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের কর্মকর্তাদের সাথে আলোচনা করে গত সেপ্টেম্বর ২০২৩ থেকে জিঞ্জিয়ান রেস্টুরেন্টের অফিসে ৪/৫টি মিটিং করেছি। অবসর প্রাপ্ত বিচারকগণ যাতে অন্যান্য ক্যাডারের মতো মূল অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য হিসাবে থাকতে পারে সে বিষয়ে জুডিশিয়াল সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের কর্মকর্তাদের সাথে আলোচনা এবং বিবেচনা করার আহ্বান জানানো হয়েছে। ৬। নির্ধন ও অসহায় অবস্থায় বিচার প্রার্থীর জন্য বিনা খরচে আইনগত পরামর্শ দানের কার্যক্রম ২৯ নভেম্বর, ২০১৬ ইং তারিখে শুভ উদ্বোধন করা হলেও প্রয়োজনীয় আর্থিক সংকুলান, প্রচার ও সদস্যদের সার্বিক সহযোগিতার অভাবে এর গতি অর্জিত হয়নি। আইনগত সহায়তা কার্যক্রমের সফল বাস্তবায়নের জন্য এসোসিয়েশনের সদস্যদের মতামত ও সুপারিশ গ্রহণের আবশ্যকতা রয়েছে। এক্ষেত্রে আমরা আইন মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতা কামনা করছি।
০৭। গত ২১/১২/২০২৪ ইং তারিখের সাধারণ সভায় অ্যাসোসিয়েশনের উপদেষ্টা মন্ডলী নির্বাহী কমিটি নির্বাচিত হয়। অ্যাসোসিয়েশনের গঠনতন্ত্রের অনুচ্ছেদ ৯ মতে এর কার্যকাল ০২ (দুই) বছর। ০৮। অ্যাসোসিয়েশনের সম্মানিত সদস্যদের মাসিক চাঁদা ও অনুদান দ্বারা এসোসিয়েশনের কার্যক্রম চলে। অ্যাসোসিয়েশনের জন্মলগ্ন থেকেই আর্থিক সংকটে আছে। তহবিল গঠনের প্রতি গুরুত্ব আরোপ করে নির্বাহী কমিটি তহবিল সৃষ্টির জন্য প্রত্যেক সদস্য মাসিক ৩০০/- (তিনশত) টাকা, এককালীন অনুদান ১০,০০০/- (দশ হাজার) টাকা প্রদানের সিদ্ধান্ত ইতিমধ্যে গ্রহণ করা হয়েছে। উক্ত সিদ্ধান্তের আলোকে অনেক সম্মানিত সদস্য এককালীন ১০,০০০/- (দশ হাজার) টাকা করে অনুদান দিয়েছেন। উক্ত অনুদান ব্যাংকে জমা আছে যার পরিমান প্রায় ৯ লক্ষ টাকা। মাসিক চাঁদা সামান্য পরিমান আদায় হয়েছে। কিন্তু তা খরচের তুলনায় অতি নগণ্য। অ্যাসোসিয়েশনের সুষ্ঠু পরিচালনার প্রয়োজনে তহবিল গঠনের জন্য সম্মানিত সদস্যবৃন্দের সুপারিশ ও বাস্তব সিদ্ধান্ত গ্রহণের আহ্বান জানাচ্ছি।
০৯। অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য সংখ্যা তথা অবসরপ্রাপ্ত বিচারকদের সংখ্যা ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে। বর্তমানে অবসরপ্রাপ্ত বিচারকদের সংখ্যা প্রায় ৬০০ এর অধিক হবে। আজকে যারা কর্মরত বিচারক আগামীতে তাঁরা অবসরে যাবেন। এজন্য অবসরপ্রাপ্ত বিচারকদের একটি সংগঠন থাকা অপরিহার্য। এ বিষয়টি অনুধাবন করে ‘রিটায়ার্ড জাজেস ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের, বাংলাদেশ নামের সংগঠনটি প্রতিষ্ঠিত হয়। কিন্তু নানা অসুবিধার কারণে সংগঠনটি এর দুর্বলতা কাটিয়ে উঠতে পারেনি। অ্যাসোসিয়েশনকে কিভাবে আরও কার্যকরী ও সাবলীল করা যায় এবং ভবিষ্যতে এর কার্যক্রম আরও ফলপ্রসূ করা যায় এজন্য বিজ্ঞ সদস্যদের পরামর্শ, অংশগ্রহণমূলক কার্যক্রম ও উদ্যোগ গ্রহণ করা প্রয়োজন।
১০। সম্মানিত সদস্যবৃন্দ,আমরা জানি বিচারিক দায়িত্ব থেকে অবসর গ্রহণের পর অনেকেই চুক্তি ভিত্তিক চাকুরী নিয়ে ভাল আছেন। অনেকে আবার অনেকটা কর্মহীন জীবন কাটাচ্ছেন। অনেক বয়োজ্যেষ্ঠরা অসুস্থ হয়ে রোগশয্যায় কাতরাচ্ছেন। অনেকে ইতোমধ্যে আমাদেরকে ছেড়ে চলে গেছেন। আমরা সবাই এই সংগঠনভুক্ত হতে পারলে একে অন্যের খোঁজ খবর নেয়া, কারও মৃত্যুতে দোয়া করা, বছরে ২/১ বার পরিবার সহ একত্রিত হবার সুযোগ কম গুরুত্ব বহন করে না। এ কারণে আসুন আমরা আরও সংগঠিত হই। সকলে সংগঠনের জন্য একটু সময় দেই। নতুন বৎসরের নতুন পরিকল্পনা নিয়ে প্রাণ প্রিয় আমাদের সংগঠন কে মজবুত ও গতিশীল করে তুলি। অবসরপ্রাপ্ত বিচারকবৃন্দের ও দীর্ঘ বিচারিক জীবনের অভিজ্ঞতার অপচয় না ঘটিয়ে দেশের মানুষের জন্য আইন অঙ্গনে সেবা মূলক অবদান রাখার সুযোগ কাজে লাগিয়ে একটি সুন্দর ও কার্যকরী সংগঠন সৃষ্টির লক্ষ্যে সকল কে ঐক্যবদ্ধ হয়ে সুচিন্তিত পরিকল্পনা ও আন্তরিকতা সহকারে এগিয়ে আসার আহ্বান জানাচ্ছি। আশা করি আজকের সভার আলোচনা ও সুচিন্তিত মতামতের মাধ্যমে সংগঠনটির গতি আরও বৃদ্ধি পাবে।
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: কে এম মাসুদুর রহমান, সম্পাদক ও প্রকাশক: মোহাম্মদ মাসুদ।
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: ২১/১ নয়াপল্টন (মসজিদ গলি),ঢাকা - ১০০০।
✆ ০১৫১১৯৬৩২৯৪, ০১৬১১৯৬৩২৯৪ 📧dailysobujbangladesh@gmail.com.
কপিরাইট © ২০২৫ দৈনিক সবুজ বাংলাদেশ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত