ফারজানা আক্তার শ্রাবণীঃ
রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)-এর জোন ৬/১-এর ইমারত পরিদর্শক সুমন আহমেদের বিরুদ্ধে ঘুষ বাণিজ্য, দায়িত্বে চরম অবহেলা এবং অনুমোদনহীন ভবন নির্মাণে প্রত্যক্ষ সহযোগিতার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। সাম্প্রতিক অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, তার দায়িত্বাধীন এলাকায় একাধিক ভবন নিয়মবহির্ভূতভাবে নির্মিত হলেও তিনি রহস্যজনকভাবে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি।
অনুসন্ধানে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, রামপুরা এলাকাসহ আশপাশের বিভিন্ন স্থানে রাজউকের অনুমোদিত নকশা (প্ল্যান) ছাড়াই ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী এসব ভবনের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা থাকলেও অভিযোগ রয়েছে, ইমারত পরিদর্শক সুমন আহমেদ মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে এসব অনিয়মকে বৈধতা দিয়ে আসছেন। ভুক্তভোগী ও স্থানীয়দের অভিযোগ, অনেক ক্ষেত্রে কোনো প্রকার সরেজমিন পরিদর্শন ছাড়াই ভবন মালিকদের ‘সব ঠিক আছে’ বলে মৌখিক ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। আবার কোথাও নিয়মিত তদারকির নামে দফায় দফায় অর্থ আদায়ের ঘটনাও ঘটেছে। ফলে পুরো প্রক্রিয়াটি একটি সংঘবদ্ধ ঘুষ বাণিজ্যে পরিণত হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এছাড়া আরও অভিযোগ রয়েছে, বিভিন্ন নির্মাণ সাইট থেকে অর্থ আদায়ের সময় তিনি দাবি করেন যে, ওই অর্থ উর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও পরিচালকদের ম্যানেজ করার জন্য প্রয়োজন। এই অজুহাতে সাইটভিত্তিক চাঁদা আদায় এবং ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে অর্থ গ্রহণের অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এ ধরনের অনিয়মের কারণে রামপুরা এলাকায় অপরিকল্পিত ও ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের সংখ্যা উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে ভবিষ্যতে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ভূমিকা অত্যন্ত প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে উঠেছে।
এ সংক্রান্ত একাধিক নথিপত্র ও অভিযোগ যাচাই করে দেখা গেছে, কিছু ভবন সম্পূর্ণভাবে রাজউকের অনুমোদন ছাড়াই নির্মিত হলেও রহস্যজনকভাবে কোনো বাধা ছাড়াই কাজ শেষ করা হয়েছে। যা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সহযোগিতা ছাড়া সম্ভব নয় বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে ইমারত পরিদর্শক সুমন আহমেদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি প্রতিবারই ব্যস্ততার অজুহাতে বিষয়টি এড়িয়ে যান এবং কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তার এই নীরবতা অভিযোগকে আরও জোরালো করছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। ইন্সপেক্টর সুমন আহমেদ এর বিরুদ্ধে অভিযোগের বক্তব্য নেওয়ার জন্য তার অথরাইজড আব্দুল্লাহ আল মামুনের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি এবং ডিরেক্টর মোঃ শওকত আলীকে ও একাধিকবার মুঠোফোনে ফোন দেওয়া হলে তিনিও ফোনটা রিসিভ করেননি। রাজউকের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, অনুমোদন ছাড়া ভবন নির্মাণের সঙ্গে কোনো কর্মকর্তা জড়িত থাকলে তা গুরুতর শাস্তিযোগ্য অপরাধ। লিখিত অভিযোগ ও প্রমাণ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নগর পরিকল্পনাবিদ ও সুশাসন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাজউকের মতো গুরুত্বপূর্ণ সংস্থার কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন করছে। তারা দ্রুত একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করে দোষীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে, দীর্ঘদিন ধরে চলমান এ ধরনের দুর্নীতি বন্ধে কার্যকর নজরদারি ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত না করা হলে রাজধানীর নগর ব্যবস্থাপনা ভয়াবহ ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: কে এম মাসুদুর রহমান, সম্পাদক ও প্রকাশক: মোহাম্মদ মাসুদ।
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: ২১/১ নয়াপল্টন (মসজিদ গলি),ঢাকা - ১০০০।
✆ ০১৫১১৯৬৩২৯৪, ০১৬১১৯৬৩২৯৪ 📧dailysobujbangladesh@gmail.com.
কপিরাইট © ২০২৫ দৈনিক সবুজ বাংলাদেশ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত