মো. জুয়েল হোসেন সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধিঃ
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এমন অনেক নেতা আছেন, যাদের রাজনৈতিক জীবন কেবল পদ-পদবির নয়; বরং আন্দোলন, কারাবরণ, নির্যাতন এবং দীর্ঘ সংগ্রামের সমার্থক। সিরাজগঞ্জের রাজনীতিতে রাশেদুর হাসান (রঞ্জন) তেমনই একটি পরিচিত নাম। ছাত্ররাজনীতির অগ্নিঝরা সময় থেকে শুরু করে বর্তমান পর্যন্ত প্রায় চার দশকের রাজনৈতিক পথচলায় তিনি নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন রাজপথের একজন পরীক্ষিত কর্মী হিসেবে।
বর্তমানে তিনি সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপির যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক এবং আসন্ন জেলা কাউন্সিলে সাধারণ সম্পাদক পদপ্রত্যাশী। রঞ্জনের রাজনৈতিক যাত্রার সূচনা ঘটে শৈশবে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হুড়াসাগর খাল খনন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে রাজনীতির প্রতি তাঁর আগ্রহের সূচনা হলেও মূলধারার ছাত্ররাজনীতিতে তাঁর সক্রিয় সম্পৃক্ততা শুরু হয় আশির দশকের শুরুতে। তৎকালীন রাষ্ট্রপতি বিচারপতি আব্দুস সাত্তারের সিরাজগঞ্জ সফরে সপ্তম শ্রেণির এক ছাত্র হিসেবে ধানের শীষ হাতে মিছিলে অংশ নেওয়া সেই কিশোরই পরবর্তীতে হয়ে ওঠেন জেলা ছাত্ররাজনীতির অন্যতম আলোচিত নেতা। স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের উত্তাল সময়ে রঞ্জন ছিলেন রাজপথের সামনের সারির কর্মীদের একজন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, সিরাজগঞ্জ সরকারি কলেজ মাঠে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের আগমনকে কেন্দ্র করে তিনি কয়েকজন সহযোদ্ধাকে নিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে গ্রেফতার হয়ে পাবনা জেলা কারাগারে দীর্ঘ ৯ মাস ৯ দিন কারাবন্দি থাকেন। এরশাদ সরকারের নয় বছরের শাসনামলে তিনি মোট ছয়বার কারাভোগ করেন, যার সম্মিলিত সময় প্রায় তিন বছর।
কারামুক্তির পর ছাত্ররাজনীতিতে তাঁর উত্থান আরও দৃশ্যমান হয়। সিরাজগঞ্জ সরকারি কলেজ ছাত্র সংসদ নির্বাচনে ছাত্রদলের মনোনীত প্যানেল থেকে পরপর দুইবার সহ-সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) এবং পরে সাধারণ সম্পাদক (জিএস) নির্বাচিত হন। জিএস থাকাকালীন সময়ে জেলা ছাত্রদলের কাউন্সিলে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে কলেজ ছাত্র সংসদের ভিপি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতার সময় সংঘর্ষ ও সহিংসতার ঘটনায় নির্বাচন বাতিল হয়ে যায়। এরপর দীর্ঘ প্রায় ১২ বৎসর জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। রঞ্জনের দাবি, দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি কখনো কমিটি বাণিজ্য বা চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত ছিলেন না। তাঁর ভাষায়, “আমি বুকে হাত দিয়ে বলতে পারি, জীবনে কোনোদিন কমিটি বাণিজ্য করিনি, চাঁদাবাজি করিনি। আমার নামে থাকা প্রায় দুই শতাধিক মামলার একটিও ব্যক্তিগত কারণে নয়; সবই রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডকে কেন্দ্র করে। পরবর্তীতে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তিনি বারবার গ্রেফতার, মামলা ও পলাতক জীবনের মুখোমুখি হন বলে দাবি করেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, প্রথম মেয়াদেই প্রায় তিন বছর কারাগারে থাকতে হয়েছে এবং বিভিন্ন সময় আত্মগোপনে থাকতে হয়েছে। ওয়ান-ইলেভেন-পরবর্তী এবং পরবর্তী প্রায় দেড় দশকের রাজনৈতিক বাস্তবতায় তিনি আরও ২১ বার কারাগারে যান এবং দীর্ঘ সময় পলাতক জীবন কাটান।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের জেরে তাঁর পরিবারের সদস্যরাও হয়রানির শিকার হয়েছেন। তাঁর দাবি, স্ত্রী দীর্ঘ ১৫ বৎসর চাকরি করার পর কোনো নোটিশ ছাড়াই চাকরি হারান এবং তাঁদের বাড়িতে একাধিকবার হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। রঞ্জনের ভাষ্য, রাজনৈতিক প্রতিকূলতা তাঁকে আদর্শচ্যুত করতে পারেনি। তিনি বলেন, রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর নথি পর্যালোচনা করলেই তাঁর রাজনৈতিক জীবনের স্বচ্ছতা ও কর্মকাণ্ড সম্পর্কে বাস্তব চিত্র পাওয়া যাবে। রাজনীতির পাশাপাশি পারিবারিকভাবেও বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ততার ধারাবাহিকতা রয়েছে তাঁর পরিবারে। তাঁর বড় ছেলে আবরার হামীম (আপন) বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত এবং বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সহ-সমাজসেবা সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রাম, একাধিক কারাবরণ, অসংখ্য মামলার অভিজ্ঞতা এবং তৃণমূল রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকার অভিজ্ঞতাকে সামনে রেখে রাশেদুর হাসান রঞ্জন এখন সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পদে দায়িত্ব পালনের প্রত্যাশা ব্যক্ত করছেন। তাঁর মতে, আগামী দিনের সাংগঠনিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ত্যাগী ও অভিজ্ঞ নেতৃত্বের প্রয়োজন রয়েছে।
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: কে এম মাসুদুর রহমান, সম্পাদক ও প্রকাশক: মোহাম্মদ মাসুদ।
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: ২১/১ নয়াপল্টন (মসজিদ গলি),ঢাকা - ১০০০।
✆ ০১৫১১৯৬৩২৯৪, ০১৬১১৯৬৩২৯৪ 📧dailysobujbangladesh@gmail.com.
কপিরাইট © ২০২৫ দৈনিক সবুজ বাংলাদেশ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত