অভিযোগকারীদের দাবি-এই দুই কর্মকর্তার খামখেয়ালিপনা, দায়িত্বহীনতা ও রহস্যজনক নীরবতার কারণে সরকারের অন্তত ১৭ কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। প্রকল্পের নথিপত্র এবং মাঠপর্যায়ের বাস্তব চিত্রের মধ্যে আকাশ-পাতাল তফাত পাওয়া গেছে। সরকারি খাতায় যেখানে প্রকল্পটিকে শতভাগ সম্পন্ন দেখিয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে পুরো বিল তুলে নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে, সেখানে বাস্তব চিত্র পুরোটাই উল্টো। সরেজমিনে ভবন ১/এ এবং ১/বি দশম তলার ছাদ ঢালাই শেষে মাত্র ইটের গাঁথুনি ও প্লাস্টারের কাজ চলছে। ভবন ২ এবং ভবন ৩: অষ্টম তলার ছাদ ঢালাই শেষ করে কেবল নবম তলার ছাদ নির্মাণের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছিল। কাঠামো নির্মাণ, প্লাস্টার, ফিনিশিং ও স্যানিটারির মতো মেগা কাজ বাকি থাকতেই কীভাবে একটি প্রকল্পকে ‘সম্পূর্ণ বাস্তবায়িত’ দেখিয়ে চূড়ান্ত বিল দেওয়া হলো, তা নিয়ে খোদ সরকারি দপ্তরগুলোতেই তোলপাড় চলছে।
প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ফিরোজশাহ ও হালিশহরের ১ দশমিক ৪৫ একর জমির ওপর ৩৪২টি ফ্ল্যাট বিশিষ্ট চারটি ১০ তলা আধুনিক ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। শুরুতে প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয় ছিল ৯২ কোটি টাকা। পরবর্তীতে সংশোধিত উন্নয়ন প্রস্তাবের (RDPP) মাধ্যমে ব্যয় ১৭ কোটি টাকা বাড়িয়ে ১০৯ কোটি টাকা করা হয়।
মূল প্রশ্ন যেখানে: প্রকল্প এলাকায় অতিরিক্ত কোনো ভবন নির্মাণ করা হয়নি, নকশায় কোনো মৌলিক পরিবর্তন আসেনি এবং দৃশ্যমান কোনো বাড়তি অবকাঠামোও তৈরি হয়নি। তাহলে এই অতিরিক্ত ১৭ কোটি টাকা কার পকেটে গেল? অভিযোগ অনুযায়ী, দুর্নীতির এই চেইনটি তৈরি হয়েছে ধারাবাহিক প্রক্রিয়ায়। প্রকল্পের শুরুতে প্রকৌশলী সোহেল সরকার পিডি থাকাকালীন তাঁর সময়েই ব্যয় বৃদ্ধির বিতর্কিত সিদ্ধান্ত ও গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক অনুমোদনগুলো দেওয়া হয়। পরবর্তীতে তিনি রাজশাহীতে বদলি হন। প্রকৌশলী কাজী নজরুল ইসলাম নতুন পিডি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর অনিয়ম ঠেকানোর পরিবর্তে তিনি কাজ অসমাপ্ত রেখেই ঠিকাদারের চূড়ান্ত বিল পরিশোধের ফাইলে স্বাক্ষর করেন। সংশ্লিষ্টদের দাবি, মেজারমেন্ট বুক (এমবি), বিল ভাউচার এবং কারিগরি পরিদর্শন প্রতিবেদন নিরপেক্ষভাবে যাচাই করলেই এই জালিয়াতি ও ঘুস বাণিজ্যের অকাট্য প্রমাণ মিলবে।
এই চাঞ্চল্যকর অনিয়মের বিষয়ে বক্তব্য জানতে সাবেক পিডি প্রকৌশলী সোহেল সরকার এবং বর্তমান পিডি প্রকৌশলী কাজী নজরুল ইসলামের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা কেউই ফোন ধরেননি। এমনকি সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের কোনো কর্মকর্তাও এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রকৌশল বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারি প্রকল্পে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে প্রতিটি ধাপের জবাবদিহি থাকা বাধ্যতামূলক। কাজ শেষ না করে শতভাগ বিল দেওয়া আর্থিক শৃঙ্খলার চরম লঙ্ঘন।
এই হরিলুটের সত্যতা উন্মোচনে অনতিবিলম্বে একটি উচ্চপর্যায়ের স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠনের দাবি উঠেছে। তদন্ত কমিটির আওতায় প্রকল্পের মূল নকশা, ব্যয় বৃদ্ধির ফাইল, মেজারমেন্ট বুক ও স্পট ভিজিটের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য সামনে আনা জরুরি। দোষী প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি, অভিযোগ অসত্য হলে তাও প্রকাশ করে বিভ্রান্তির অবসান ঘটানো উচিত। কারণ এটি কেবল একটি আবাসন প্রকল্প নয়, এটি জনগণের ট্যাক্সের টাকার সুশাসনের প্রশ্ন।
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: কে এম মাসুদুর রহমান, সম্পাদক ও প্রকাশক: মোহাম্মদ মাসুদ।
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: ২১/১ নয়াপল্টন (মসজিদ গলি),ঢাকা - ১০০০।
✆ ০১৫১১৯৬৩২৯৪, ০১৬১১৯৬৩২৯৪ 📧dailysobujbangladesh@gmail.com.
কপিরাইট © ২০২৫ দৈনিক সবুজ বাংলাদেশ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত