তারিখ লোড হচ্ছে...

বিসিসির প্রধান প্রকৌশলী হুমায়ুন কবিরের বিরুদ্ধে অভিযোগের পাহাড় লীরা গ্রুপের এমডি আলমগীর ইকবালের বিরুদ্ধে দুদকে অভিযোগ বিপিসির কর্মকর্তা এটিএম সেলিমের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ ভুয়া বিল-ভাউচার দিয়ে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ, ডলার কারসাজিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সুমন ডিএই তে প্রধান সহকারী নাসির উদ্দীনের বদলি ঘিরে উত্তেজনা, নানা অনিয়মের অভিযোগ দুর্নীতির অভিযোগে বরখাস্ত আরিফুরের পুনর্বহালের তদবির পিপিআর বিধিমালা ভেঙে সমাজসেবা অধিদপ্তরের কামরুল- ফিরাদুলের পৌনে ৭ কোটি টাকা দুর্নীতি কাস্টমস কর্মকর্তা ওয়াসেক বিল্লাহর বিরুদ্ধে ঘুষ-চোরাচালান সিন্ডিকেটের অভিযোগ বিএমইটি ঘিরে একচেটিয়া প্রভাবের অভিযোগ ৮৮৪ কোটির রেল প্রকল্প গিলছে মাফিয়া চক্র, সুবিধা পাচ্ছেন বিতর্কিত ঠিকাদাররা উত্তর কাস্টমস বন্ডে মাসুম-হাসনাইন সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য গণপূর্তের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী উজির আলীর বিরুদ্ধে টেন্ডার সিন্ডিকেটের অভিযোগ বঙ্গবন্ধু পরিষদ নেতা প্রধান প্রকৌশলী আবদুল আউয়ালের বিরুদ্ধে অভিযোগের পাহাড় নলডাঙ্গা হালতি বিলে মোবাইল কোর্ট: ২০ হাজার টাকা জরিমানা, জাল ধ্বংস ও নৌকা জব্দ পুরস্কৃত ডেইরি খামারে হামলা-অবরোধ, দৃষ্টিশক্তি হারানোর শঙ্কায় উদ্যোক্তার বাবা মোংলায় কোস্টগার্ডের তত্বাবধানে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন: প্রতিমন্ত্রী সাতক্ষীরায় জেলা জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের বৃক্ষরোপণ ও বিতরণ কর্মসূচি ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে সুনামগঞ্জে জসনে জুলুছ অনুষ্টানে রাজাপুরা পীর হোসাইনীয় শেরপুরে সরকারি চাল সংগ্রহে আওয়ামী লীগ নেতাদের মালিকানাধীন মিল, বরাদ্দ নিয়ে প্রশ্ন রাঙামাটিতে কোতয়ালী থানার উদ্যোগে মাদকবিরোধী র‍্যালি ও পথসভা নব-নিযুক্ত পাজেপ চেয়ারম্যান ম্রাসাথোয়াই মারমাকে খাগড়াছড়ির সর্বস্তরের মানুষের ফুলের শুভেচ্ছা কেশবপুরে চায়ের দোকানে কেরামবোর্ড খেলা বন্ধের ঘোষণা বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রে মাদার তেরেসার ১১৬তম জন্মবার্ষিকী উদযাপন ও শান্তি পুরস্কার প্রদান লালবাগে সিনিয়র-জুনিয়র নাইট ফুটবল টুর্নামেন্ট ২০২৬ উদ্বোধন হানিয়া আমিরের গোপন ভিডিও ভাইরাল, নেটদুনিয়ায় তুমুল বিতর্ক সংসদে সরকারদলীয় এমপিদের নিয়ে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী সিরাজগঞ্জে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) পালিত স্বামীর করা যৌতুক মামলায় নার্স স্ত্রী কারাগারে হানি ট্র্যাপে টিকটকাকে বিয়ে পড়ে বড় মাশুল গুনলেন ফ্রিল্যান্সার আমার আর বোধ হয় চাকরি করা হলো না, ফেসবুকে পুলিশ কর্মকর্তার আবেগঘন পোস্ট কেশবপুর উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে আলোচনা সভা নাটোরের নলডাঙ্গায় ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল সাতক্ষীরা দেবহাটায় শ্মশানের জমি দখলের অভিযোগে মানববন্ধন ও গণমিছিল বুশরা গ্রুপের সম্পত্তি বিক্রি ঠেকাতে ডিসির কাছে আমানতকারীদের আবেদন গভীর সমুদ্রে ইঞ্জিন বিকল হয়ে ভাসতে থাকা ১২ জেলেকে উদ্ধার করেছে কোস্ট গার্ড লংগদুতে পানিতে ডুবে ৭ বছরের শিশুর মৃত্যু মোংলায় মসজিদের ওয়াকফ সম্পত্তি নিয়ে অনিয়ম কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ শেরপুরে সাপের কামড়ে নিহত শাহিনের পরিবারের পাশে জেলা প্রশাসন মগবান ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে সেবার মানোন্নয়নে গণশুনানি সুনামগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক মোঃ মিজানুর রহমান চৌধুরীর সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন জেলা জন্মাষ্টমী পর... দীঘিনালায় ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে বর্ণাঢ্য জুলুস রংপুরের ঘটনায় দ্রুত সময়ে জড়িতদের গ্রেফতার করা হয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ পাকিস্তানের হাসপাতালে ভয়াবহ আগুনে ১৫ নবজাতকের মৃত্যু সম্প্রচারে আসছে দেশের প্রথম হাইব্রিড টেলিভিশন ভিওডি বাংলা সিরাজগঞ্জে সার সংকট নিরসনে জেলা প্রশাসকের জরুরি সভা এমপি আয়নুল হকের গাড়িবহরে হামলার প্রধান আসামি গ্রেপ্তার বেহেলী চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ৩০০ টাকা আদায় ও চাল কম দেওয়ার অভিযোগ পর্যটন নগরী শ্রীমঙ্গলে হবিগঞ্জ-সিলেট এক্সপ্রেস বাস স্টপেজের দাবিতে মানববন্ধন দীঘিনালায় বন্যাকবলিত মানুষের পাশে জেলা বিএনপি ও জেলা পরিষদ ‎সুন্দরবনে আবারো বড় জাহাঙ্গীর বাহিনীর তান্ডব ট্রলারসহ জিম্মি ৫

ভুয়া বিল-ভাউচার দিয়ে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ, ডলার কারসাজিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সুমন

পাঠক সংখ্যা
638

ডেস্ক রিপোটারঃ

২০২৪ সালের ৯ মে। ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির কাছে ৮ কোটি ২০ লাখ ডলার বিক্রি করে বাংলাদেশ ব্যাংক। যার দর ১১০ টাকা। অন্যদিকে, এ দিনে বাংলাদেশ ব্যাংক ৮ কোটি ৫০ লাখ ডলার ক্রয় করে। তবে এ কেনার ক্ষেত্রে দর ধরা হয়েছে ১১৬ টাকা ৪৬ পয়সা। এ কেনাবেচার দিনেই বাংলাদেশ ব্যাংক প্রথমবারের মতো ডলার কেনাবেচায় ক্রলিং পেগ ব্যবস্থা চালুর ঘোষণা দেয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নথিভুক্ত এ দুই দরের লেনদেনেই রাষ্ট্রের প্রায় ৫৪ কোটি ৯১ লাখ টাকা ক্ষতি হয়েছে। আর এ ক্ষতির পেছনের মাস্টারমাইন্ড বাংলাদেশ ব্যাংকেরই একজন অতিরিক্ত পরিচালক। ওই সময় তিনি ছিলেন যুগ্ম পরিচালক। তবে এ ক্ষতির আড়ালে বর্তমান এ অতিরিক্ত পরিচালক দুই হাত ভরে নিয়েছেন। অবৈধভাবে কামিয়েছেন কোটি কোটি টাকা। এমনকি অনৈতিক সুবিধা দিয়ে ইসলামী ব্যাংকের সিএসআর ফান্ড থেকেও নেন বিপুল পরিমাণ অর্থ। এখানেই শেষ নয়। ভুয়া বিল-ভাউচার দেখিয়ে প্রতি মাসে ২ লাখ ৬৮ হাজার ২৫৬ টাকার মেডিকেল বিল নেন-বাংলাদেশ ব্যাংকের তদন্তেই বলছে যা অস্বাভাবিক।

এ ছাড়া পূর্ণ বেতন-ভাতায় নেওয়া পিএইচডি প্রেষণ শেষ হওয়ার আগেই দেশে ফিরে আসেন। নিয়মানুযায়ী পূর্ণভাতায় শিক্ষা ছুটিতে গেলে পড়াশোনা শেষ করে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে রিপোর্ট জমা দিতে হবে। তবে তার কোনোটাই তিনি করেননি, উল্টো পড়াশোনা শেষ না করে দেশে ফিরে আবার যোগদান করেছেন চাকরিতে। এ ছাড়া প্রেষণে থাকার সময় আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্ম ইনস্টিটিউশনাল ইনভেস্টর-এর বিভিন্ন সেমিনারে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রাতিষ্ঠানিক ইমেইলের পরিবর্তে ব্যক্তিগত জিমেইল অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করেছেন, যা গুরুতর অপরাধ। এতসব অভিযোগ বাংলাদেশ ব্যাংকের ফরেক্স রিজার্ভ অ্যান্ড ট্রেজারি ম্যানেজমেন্ট ডিপার্টমেন্টের সাবেক যুগ্ম পরিচালক ও বর্তমান অতিরিক্ত পরিচালক শাহনেওয়াজ সুমনের বিরুদ্ধে। খোদ বাংলাদেশ ব্যাংকের তদন্তেই এসব অনিয়মের প্রমাণ মিলেছে। সেই তদন্ত প্রতিবেদনের কপি রয়েছে।

এমন নানা প্রমাণিত দুর্নীতির পরেও বিশাল ক্ষমতাধর সেই যুগ্ম পরিচালকের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি কেন্দ্রীয় ব্যাংক। বরং জুটেছে পুরস্কার। গতকাল দুর্নীতির পুরস্কারস্বরূপ মিলেছে তার পদোন্নতি। পেয়েছেন অতিরিক্ত পরিচালকের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ৯ মে, যেদিন দেশে প্রথম ‘ক্রলি পেগ’ পদ্ধতি চালু করা হয়। সেদিন ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির সঙ্গে ব্যাক-ডেটেড রেট ব্যবহার করে ডলার কেনাবেচার চারটি চুক্তি সম্পন্ন করা হয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ দাপ্তরিক নোটিং থেকে জানা যায়, ওই দিন ইসলামী ব্যাংকের কাছে ১১০ টাকা দরে ৮ কোটি ২০ লাখ (৮২ মিলিয়ন) ডলার বিক্রি দেখানো হয়; কিন্তু একই ভ্যালুডেটে আবার ১১৬.৪৬ টাকা দরে ৮ কোটি ৫০ লাখ (৮৫ মিলিয়ন) ডলার ক্রয় করা হয়। একই দিনে ভিন্ন ভিন্ন বিনিময় হার ব্যবহার করে অনৈতিকভাবে ইসলামী ব্যাংককে সুবিধা দেওয়ার ফলে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রায় ৫৪ কোটি ৯১ লাখ টাকার ক্ষতি হয়। এ প্রক্রিয়ায় রিজার্ভ ম্যানেজমেন্ট অপারেশন ম্যানুয়াল ভঙ্গ করে ডিলস্লিপ ও ঊর্ধ্বতনদের যথাযথ স্বাক্ষর ছাড়াই তাড়াহুড়ো করে লেনদেনগুলো অনুমোদন দেওয়া হয়।

তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের ফরেক্স রিজার্ভ অ্যান্ড ট্রেজারি ম্যানেজমেন্ট ডিপার্টমেন্টের (ডিভিশন-২) মিডল অফিস শাখা থেকে প্রস্তুতকৃত বিবেচ্যপত্রে ইসলামী ব্যাংক পিএলসির সঙ্গে বৈদেশিক মুদ্রা ক্রয়-বিক্রয়ে সংঘটিত অনিয়ম ও আর্থিক ক্ষতির বিষয়টি উঠে এসেছে। ২০২৪ সালের ৯ মে রিজার্ভ ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট শাখা (ফ্রন্ট অফিস) ইসলামী ব্যাংকের সঙ্গে দুটি ডলার ক্রয় এবং দুটি ডলার বিক্রয়ের চুক্তি সম্পন্ন করে। যদিও দুটি বিক্রয় চুক্তির তারিখ ৮ মে ২০২৪ দেখানো হয়েছিল, তবে নথিপত্র ও ই-মেইল কনফার্মেশন থেকে দেখা যায় যে, মূলত ৯ মে ২০২৪ তারিখেই অধিক মূল্যে ডলার ক্রয় করে পরবর্তীতে কম মূল্যে বিক্রি করা হয়।

একই ভ্যালুডেটের এই ক্রয়-বিক্রয়ে ভিন্ন ভিন্ন বিনিময় হার ব্যবহার করার ফলে বাংলাদেশ ব্যাংকের ৫৪ কোটি ৯১ লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়। উক্ত লেনদেনগুলোর অনুমোদনের জন্য ৯ মে ২০২৪ তারিখ সন্ধ্যায় মিডল অফিসে পাঠানো হলে, আগের দিনের ডিল ডেট থাকা সত্ত্বেও কেন দেরিতে পাঠানো হলো-সে বিষয়ে ফ্রন্ট অফিস কোনো সদুত্তর দিতে পারেনি। তা ছাড়া ডিলের বিবরণীতে সংশ্লিষ্ট অতিরিক্ত পরিচালক ও পরিচালকের স্বাক্ষর ছিল না। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে ডিল দুটি অনুমোদন করে ব্যাক অফিসে পাঠানো হলেও সেখানে কোনো কর্মকর্তার উপস্থিতি না থাকায় মোবাইল ফোনে বিষয়টি অবহিত করা হয়।

নথিতে আরও উল্লেখ করা হয় যে, ‘রিজার্ভ ম্যানেজমেন্ট অপারেশন ম্যানুয়াল’ অনুযায়ী প্রতিদিনের ডিল স্লিপ, ফরম্যাট ও বিবরণী নিয়মিত মিডল ও ব্যাক অফিসে পাঠানোর বাধ্যবাধকতা থাকলেও বিগত ১ এপ্রিল ২০২৪ তারিখের পর থেকে হেড অব ট্রেজারি বরাবর উপস্থাপিত বিবরণী মিডল অফিসে প্রেরণ করা হয়নি। ১-২ সপ্তাহ পর পর বা অনিয়মিতভাবে নথিপত্র পাঠানোর কারণে ম্যানুয়ালের চরম ব্যত্যয় ঘটে এবং আন্তঃনিরীক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হয়।

তদন্ত প্রতিবেদনে সুপারিশ করে বলা হয়, ভবিষ্যতে রিজার্ভ ব্যবস্থাপনায় জটিলতা এড়াতে ম্যানুয়াল অনুসারে নির্ধারিত দিনে সব বিবরণী নিয়মিত মিডল ও ব্যাক অফিসে প্রেরণের প্রস্তাব করলে তা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ অনুমোদন করেন।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, তৎকালীন একজন ডেপুটি গভর্নর এবং যুগ্ম পরিচালক শাহনেওয়াজ সুমনের যোগসাজশে এই অনিয়ম ঘটে, যার বিনিময়ে তারা ইসলামী ব্যাংকের সিএসআর ফান্ড থেকে অনৈতিক সুবিধা নেন। এ ছাড়াও ডেপুটি গভর্নরের মেয়েকে ইসলামী ব্যাংকের আইটি শাখায় জুনিয়র অফিসার হিসেবে চাকরি দেওয়া হয়। এ ছাড়াও শাহনেওয়াজ সুমন শিক্ষাছুটিতে থাকাকালে প্রাতিষ্ঠানিক ই-মেইল ব্যবহার না করে ব্যক্তিগত জিমেইল আইডি ব্যবহার করে আন্তর্জাতিক সেমিনারে অংশ নেন এবং রিজার্ভ-সংক্রান্ত সংবেদনশীল তথ্য অননুমোদিতভাবে বাইরে সরবরাহ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে, যা গুরুতর অপরাধ।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, শাহনেওয়াজ সুমন মালয়েশিয়ার ইউনিভার্সিটি অব মালয়তে অর্থনীতিতে পিএইচডি করার জন্য ২০২৪ সালের ১২ সেপ্টেম্বর একটি আদেশ দেওয়া হয়। সেই আদেশে তাকে ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৪ থেকে ২৭ জুলাই ২০২৭ পর্যন্ত পূর্ণ বেতন-ভাতায় প্রেষণ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু শাহনেওয়াজ সুমন পিএইচডি সম্পন্ন না করেই ২০২৬ সালের ৩ আগস্ট দেশে ফিরে বাংলাদেশ ব্যাংকে যোগদান করেন। প্রেষণের শর্ত অনুযায়ী শিক্ষাক্রম অসমাপ্ত রেখে ফিরে এলে প্রেষণকালে প্রাপ্ত বেতন-ভাতা ফেরত দেওয়ার বিধান রয়েছে। তবে তিনি তা দেননি এবং এখন পর্যন্ত তার পড়াশোনা-সংক্রান্ত কোনো প্রমাণও ব্যাংকে জমা দেননি।

এদিকে, ২০২৫ সালের ৪ মে শাহনেওয়াজ সুমনের অনুকূলে সকল প্রকার চিকিৎসা ওষুধ (সিলিং ঊর্ধ্ব ওষুধ সুবিধাসহ) যাচাই করতে ৪ সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। সেই কমিটির প্রতিবেদনে সুমনের বিরুদ্ধে আরও গুরুতর আর্থিক অপরাধের প্রমাণ মিলেছে। তদন্ত প্রতিবেদনে তার মেডিকেল বিল জালিয়াতির তথ্য উঠে আসে। তিনি ক্যানসার রোগী হিসেবে প্রতি মাসে ২ লাখ ৬৪ হাজার ২৫৬ টাকা আর্থিক সুবিধা নেন। কিন্তু তদন্তে দেখা যায়, চিকিৎসকের পরামর্শের চরম ব্যত্যয় ঘটিয়ে এবং এআই বা চ্যাটজিপিটি ব্যবহার করে চিকিৎসাবিজ্ঞানের বিচারে অসম্ভবমাত্রার অ্যান্টি-ফাঙ্গাল ট্যাবলেট সেবনের হিসাব দেখানো হয়। কম্পিউটারে মেমো দেওয়ার সুবিধা থাকা সত্ত্বেও ফার্মেসি থেকে হাতে লেখা ভুয়া ম্যানুয়াল ভাউচার জমা দিয়ে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করেছেন।

তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তদন্ত কমিটি সুমনের মেডিকেল ফাইলে সংরক্ষিত চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র ও ক্রয়কৃত ওষুধের ভাউচারের কপি সংগ্রহ করে তা যাচাইয়ের জন্য ২০ মে ২০২৫ তারিখে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের চেম্বারে যান এবং সেই সঙ্গে ভাউচারের যথার্থতা নিশ্চিত হওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট ওষুধের দোকানে যোগাযোগ করেন। সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. মো. মোখলেছ উদ্দিন কমিটিকে জানান, তিনি মূলত একজন রেডিওথেরাপিস্ট।

ডাক্তার মোখলেছ তার ব্যবস্থাপত্রে মূলত ক্রিশ্চিয়ান মেডিকেল কলেজ (সিএমসি), ভেলোর, ভারতের ব্যবস্থাপত্রের আলোকে এবং সুমনের অনুরোধের ওই ওষুধ লিপিবদ্ধ করেন। কমিটি সুমনের ওষুধ সেবনের ডোজ সম্পর্কিত বিষয়ে চ্যাটজিপিটি ও এআই সফটওয়্যারের আলোকে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের মতামত জানতে চাইলে তিনি জানান যে, অ্যান্টি ফাঙ্গাল ওষুধসমূহ মূলত চার সপ্তাহের কোর্স এবং প্রতিদিন ২০০ মিলিগ্রাম হতে সর্বোচ্চ ৪০০ মিলিগ্রাম ওষুধ ব্যবহার করা যায়। কিন্তু বাংলাদেশ বাংকের অতিরিক্ত পরিচালক সুমন প্রতিদিন ১৮০০ মিলিগ্রাম Xpos ট্যাবলেট ও ১২০০ মিলিগ্রাম Dasanix ট্যাবলেট সেবন করেন, যা প্রকৃতপক্ষে অসামঞ্জস্যপূর্ণ। এ ছাড়া, ক্রয় করা ওষুধের ভাউচারের কপি নিশ্চিত হওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট ওষুধের দোকানে যোগাযোগ করা হলে তারা এসব ওষুধ বিক্রি করেন না বলে কমিটিকে নিশ্চিত করেন। তবে অর্ডারের মাধ্যমে ক্যাশ টাকার বিনিময়ে এ ধরনের ওষুধ সরবরাহ করেন। তদন্ত প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, সংশ্লিষ্ট ওষুধের দোকানে কম্পিউটারাইজড ভাউচারের মাধ্যমে ওষুধ বিক্রির ব্যবস্থা থাকলেও সুমনের উপস্থাপিত বিলের ক্ষেত্রে ম্যানুয়াল ভাউচার ব্যবহার করা হয়েছে।

বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হয় অভিযুক্ত অতিরিক্ত পরিচালক শাহনেওয়াজ সুমনের সঙ্গে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকে এ ধরনের লেনদেন বা নীতিগত সিদ্ধান্ত কোনো ব্যক্তির একক সিদ্ধান্তে নেওয়ার সুযোগ নেই। প্রচলিত নীতিমালা, বাজার পরিস্থিতি এবং যথাযথ প্রাতিষ্ঠানিক অনুমোদনের ভিত্তিতেই বৈদেশিক মুদ্রা ক্রয়-বিক্রয় করা হয়। সে সময় ক্রলিং পেগ বিনিময় হার ব্যবস্থা চালুর ফলে রেট পুনর্নির্ধারিত হয়। এসব লেনদেন কোনো ব্যক্তির একক সিদ্ধান্তে হয়নি। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রচলিত প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট অতিরিক্ত পরিচালক, পরিচালক এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমেই ডিলগুলো সম্পন্ন হয়েছে।

কিন্তু ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে ‘ফরওয়ার্ডিংয়ে অতিরিক্ত পরিচালক ও পরিচালকের স্বাক্ষর ছিল না’- এই বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, স্বাক্ষর ছিল। আমার বক্তব্য এটাই। আপনি নিউজ করলে করতে পারেন।

পড়াশোনা শেষ না করে দেশে ফেরার বিষয়ে শাহনেওয়াজ সুমন বলেন, ধরেন কেউ পড়াশোনা করতে গিয়ে কোনো কারণে সেটা শেষ করতে পারেনি। তা হলে কি সে দেশে ফিরতে পারবে না।

ফিরতে পারবে। কিন্তু তা হলে তো সে শিক্ষা ছুটির সুবিধা পাবে না-এমন প্রশ্ন করলে শাহনেওয়াজ সুমন বলেন, পাবে। এটা নিয়ম আছে। আরও বলেন, আমি থিসিস জমা দিয়ে এসেছি। সেখানে আমার ভাইবা বাকি আছে। আমি প্রয়োজনে ভাইবার জন্য আবার যাব। তিনি আরও বলেন, মেডিকেল বিলের বিষয়টি সেটেলড। আমাকে তারা ডেকেছিল। আমি ব্যাখ্যা দিয়েছি। ইসলামী ব্যাংকের সিএসআর ফান্ডের আর্থিক সুবিধা নেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, ‘আমি একজন ক্যানসারের রোগী। এটি যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসারেই নেওয়া হয়েছে। এর সঙ্গে ডলার সম্পর্কিত লেনদেনের কোনো সম্পর্কও নেই।

গ্রামের বাড়িতে আলিশান বাড়ির বিষয়ে বলেন, এটি আমার এক ভাইয়ের বাড়ি।’ সহোদর ভাই কি না জানতে চাইলে বলেন, হ্যাঁ, আপন ভাই। ওই বাড়ি আমার ভাই বানিয়েছে। ওই ভাই কী করেন জানেত চাইলে বলেন, ব্যবসা করেন। কীসের ব্যবসা করেন জানতে চাইলে তিনি সেটা না বলে বলেন, এটা তো বিষয় না। এটা আমার ভাইয়ের বাড়ি। উনি এটা বানিয়েছেন।

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, এটা তো বহুমুখী জ্বালিয়াতি ও প্রতারণা। এখানে অন্তত তিন ধরনের জ্বালিয়াতি ও প্রতারণা ঘটেছে। ডলার কারসাজির সঙ্গে ব্যাংকের আরও কর্মকর্তারা জড়িত আছে। এই কর্মকর্তার পাশাপাশি তাদেরকেও চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। এ ছাড়াও মেডিকেল বিলের নামে অর্থ আত্মসাতের যে বিষয়টি সেটি দুর্নীতির পাশাপাশি নৈতিকভাবে খুবই জঘন্য একটি কাজ। এসব অভিযোগ ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ তদন্তে প্রমাণের পরও তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়ার মানে হলো- দুর্নীতি যে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ লাভ করেছে এটি তারই প্রমাণ।

ড. ইফতেখারুজ্জামান আরও বলেন, বিগত সরকারের সময় লুটপাটের কারণে সবচেয়ে ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে ব্যাংকিং খাত। নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে কেন্ত্রীয় ব্যাংকের এখানে সবচেয়ে বেশি দায়। যে কারণে কেন্দ্রীয় ব্যাংক আস্থার সংকটে আছে। বর্তমান সরকার সেখান থেকে আস্থা ফেরানোর চেষ্টা করছে- এর মধ্যে যদি ব্যাংকের ভেতরে এই ধরনের অনাচার এবং প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি থেকে থাকে তা হলে এটা কোনোভাবেই আস্থায় ফেরানো সম্ভব হবে না। তাই এই সংঘবদ্ধ অপরাধের সঙ্গে ওই ব্যক্তির পাশাপাশি যোগসাজশে যারাই জড়িত ছিল তাদের সবাইকে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে হবে।

Facebook
X
LinkedIn
Threads
WhatsApp
Telegram
Email

Leave a Comment

সেন্টুকে ‘খুনী’ আখ্যা ছাত্রদল নেতা নাজমুলের, দাবি জানালেন গ্রেফতারের

স্টাফ রিপোর্টার: ফতুল্লার কুতুবপুরের নৌকা প্রতীকের চেয়ারম্যান মনিরুল আলম সেন্টুর বিরুদ্ধে এবার বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন ছাত্রদল নেতা নাজমুল৷ বিগত ১৬ বছর শামীম ওসমানের ছত্রছায়ায় থাকা সেন্টুকে ‘খুনী’ আখ্যা দিয়েছেন তিনি। সেন্টুকে অবিলম্বে গ্রেফতারের দাবিও জানান জেলা ছাত্রদলের সাবেক এই সহসভাপতি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে তার দেয়া ওই স্ট্যাটাস ঘিরে তোলপাড় চলছে ফতুল্লা ও কুতুবপুরের রাজনৈতিক অঙ্গনে৷ সেন্টুকে শামীম ওসমানের ‘ছোট ভাই’ হিসেবেও আখ্যা দিয়েছেন নাজমুল। অবশ্য নাজমুলের এই দাবিকে ‘যুক্তিসঙ্গত’ বলছেন বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, শামীম ওসমান নিজে সেন্টুকে  ‘ছোট ভাই’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন প্রায়ই৷ এদিক দিয়ে অবশ্য সেরের উপর সোয়া সের ছিলন সেন্টু। শামীম ওসমানকে ‘পীর’ আখ্যায়িত করে একবার ব্যাপক সমালোচিত হয়েছিলেন৷ এরপরেও শামীম ওসমানকে নিয়মিতই ‘শ্রদ্ধেয় বড় ভাই’, রাজনৈতিক অভিভাবক’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন৷ শামীম ওসমানের দয়াতে নৌকা প্রতীক নিয়ে

আরও পড়ুন
language Change