1. md.zihadrana@gmail.com : admin :
ঢাকায় সৌদি আরবের স্বরাষ্ট্র উপমন্ত্রী নাসের বিন আব্দুল আজিজ আল দাউদের সফর - দৈনিক সবুজ বাংলাদেশ

১৭ই জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ । ভোর ৫:৪৬ ।। গভঃ রেজিঃ নং- ডিএ-৬৩৪৬ ।।

সংবাদ শিরোনামঃ
ঢাকায় সৌদি আরবের স্বরাষ্ট্র উপমন্ত্রী নাসের বিন আব্দুল আজিজ আল দাউদের সফর

ঢাকায় সৌদি আরবের স্বরাষ্ট্র উপমন্ত্রী নাসের বিন আব্দুল আজিজ আল দাউদের সফর

 

সৈয়দা রোকসানা পারভীন রুবিঃ

সৌদি স্বরাষ্ট্র উপমন্ত্রী নাসের বিন আবদুল আজিজ আল-দাউদের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠকে হজ্ব যাত্রী ইমিগ্রেশন এ নিরাপত্তার সহযোগিতা একটি চুক্তি হয়। রোববার (১৩ নভেম্বর) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এ বৈঠক হয়। বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলে নেতৃত্ব দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।

বৈঠক শেষে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান সাংবাদিকদের বলেন, ‘আলোচনার পর আমরা দুটি এমওইউ সই করেছি। একটি হলো নিরাপত্তা সহযোগিতা চুক্তি, আরেকটি হলো রুট-টু-মক্কা সার্ভিস এগ্রিমেন্ট।’

তিনি বলেন, ‘প্রথমটিতে দু-দেশের নিরাপত্তা আরও কীভাবে উন্নতি করা যায়, সেই বিষয় আছে। প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাসহ বিভিন্ন বিষয় এর মধ্যে রয়েছে। রুট-টু-মক্কার মধ্যে রয়েছে, আমাদের হজ্বযাত্রীদের আরও কীভাবে সহযোগিতা দেওয়া যায়। এখান থেকে ইমিগ্রেশন ও সবকিছু ঠিকঠাক করে তারা উড়োজাহাজে উঠে যাবে। এ সুবিধাগুলো আগে পরীক্ষামূলকভাবে ছিল।’

মন্ত্রী বলেন, ‘এখন চুক্তি হলো। এখন ইমিগ্রেশন, ব্যাগেজ চেকিং সবকিছু বাংলাদেশের বিমানবন্দর থেকে হয়ে যাবে। এটাই হলো রুট-টু-মক্কা সার্ভিস এগ্রিমেন্টের বিষয়।’

সৌদি আরবে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী বলেন, ‘২০১৯ সাল থেকে মৌখিকভাবে রুট-টু-মক্কা বাস্তবায়ন হচ্ছিল। এখন আনুষ্ঠানিকতা মেনে চুক্তি হলো। এরপর থেকে যারা হজ্বে যাবেন, ইমিগ্রেশন আমাদের এখানে হবে। ওখানে বিমানবন্দরে নেমে গাড়িতে উঠে যাবেন। লাগেজও হোটেল চলে যাবে।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘এছাড়া আরও অনেক বিষয় নিয়ে আলাপ হয়েছে। রোহিঙ্গা ইস্যু আলোচনায় এসেছে। আমাদের দু-দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মধ্যে প্রশিক্ষণ এবং পারস্পরিক তথ্য আদান-প্রদান। ভাতৃপ্রতিম মুসলিম দেশ, দু-দেশের সম্পর্ক আরও উন্নত করা যায়, সেটা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আমাদের যে শ্রমিকরা যেখানে যাচ্ছে, দক্ষ শ্রমিকদের সেখানে পাঠানোর জন্য তারা অনুরোধ জানিয়েছেন। দক্ষ শ্রমিক পাঠালে তারা আরও ভালো সুবিধা পাবেন বলে আলোচনা হয়েছে।’

আসাদুজ্জামান খান বলেন, ‘আমরা আরও বলেছি, কীভাবে ভিসা আরও সহজ করা যায়। বাংলাদেশ থেকে প্রচুর হজ্ব ও ওমরাহযাত্রী, ব্যবসায় ও চাকরির জন্য প্রতিনিয়ত সৌদি আরব যাচ্ছেন। তারা যে স্কলারশিপ দিচ্ছেন, সেটা আরও কীভাবে সহজ করা যায় সেটা নিয়ে এবং বিজনেস ভিসাটা আরও কীভাবে সহজ করা যায় সেটা নিয়ে বিস্তারিত আলাপ হয়েছে। সবকিছু তারা বিবেচনায় নেবেন বলে আমাদের জানিয়ে গিয়েছে।

সৌদি আরবে ২৭ লাখ ৬০ হাজার বাংলাদেশি নাগরিক রয়েছেন জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন পেশায় তারা নিয়োজিত, আবার ব্যবসা-বাণিজ্যও করেন। সেই ব্যবসায় যাতে একটু সুবিধা পায় সেটা নিয়েও আলোচনা হয়েছে। সবকিছু নিয়ে আমরা আলোচনা করেছি। আশাকরি আমাদের সম্পর্ক আরও গাঢ় হবে, আরও উন্নত হবে এ সফরের পর।

নতুন করে শ্রমিক নেওয়া ও সৌদি আরব থেকে এলএনজি আনার বিষয়ে কোনো আলোচনা হয়েছে কি না- জানতে চাইলে আসাদুজ্জামান খান বলেন, ‘এলএনজির কোনো বিষয় আলোচনায় আসেনি। শ্রমিকদের ই-পাসপোর্ট তাড়াতাড়ি দেওয়ার বিষয়ে তারা অনুরোধ করেছেন। আমরা বলেছি আমরা তাড়াতাড়িই করবো, কিন্তু প্র্যাকটিক্যালি এ অসুবিধাগুলো আছে।’

রোববার সকাল সোয়া ১০টায় সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সৌদি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক শুরু হয়। এর আগে সকাল ৯টা ৫০ মিনিটে সৌদি আরবের স্বরাষ্ট্র উপমন্ত্রীর নেতৃত্বে ১০ সদস্যের প্রতিনিধি দলটি সচিবালয়ে এসে পৌঁছায়। এরপর তাদের গার্ড অব অনার ও লালগালিচা সংবর্ধনা দেওয়া হয়। বৈঠক চলে সোয়া ১২টা পর্যন্ত।

বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নেতৃত্বে ছিলেন জননিরাপত্তা বিভাগের জ্যেষ্ঠ সচিব মো. আমিনুল ইসলাম খান, সুরক্ষাসেবা বিভাগের সচিব মো. আবদুল্লাহ আল মাসুদ চৌধুরী, পুলিশ মহাপরিদর্শক চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনসহ অন্যান্য কর্মকর্তা।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved © 2021
ভাষা পরিবর্তন করুন »