স্টাফ রিপোর্টারঃ
ঢাকা, ৩ আগস্ট ২০২৬: ৫ আগস্ট পটপরিবর্তনের পর স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে পদায়ন লাভ এবং পরবর্তীতে ব্যাপক বদলি বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক (পার্সোনেল-৩) ডা. মোহাম্মদ শফিউল আজম মিল্টনের বিরুদ্ধে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন মহলে এই নিয়ে তীব্র গুঞ্জন ও অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ৫ আগস্টের পূর্বে ডা. মোহাম্মদ শফিউল আজম মিল্টন বগুড়া জেলার সিভিল সার্জন হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সুবিধাজনক অবস্থানে থাকা এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ৫ আগস্টের পর একটি বিশেষ রাজনৈতিক পক্ষকে বিপুল পরিমাণ অর্থ দিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক পদে পদায়ন বাগিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।অভিযোগে প্রকাশ, বর্তমানে তিনি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পার্সোনেল-৩ (পার-৩) শাখার সহকারী পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
এই শাখাটি মূলত মেডিকেল অফিসারদের পদায়ন ও বদলি নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। অভিযোগ রয়েছে, দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও নতুন সরকার গঠনের পর এই পদটিকে কাজে লাগিয়ে তিনি মেডিকেল অফিসারদের পোস্টিং ও বদলি নিয়ে কোটি কোটি টাকার এক রমরমা বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছেন।
ভুক্তভোগী চিকিৎসকদের একাংশের দাবি, বিগত সরকারের দোসর হওয়া সত্ত্বেও ক্ষমতার অপব্যবহার করে তিনি এখনও স্বাস্থ্য প্রশাসনে রাজত্ব করছেন।এদিকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নীতি নির্ধারণী পর্যায়েও এই কর্মকর্তার ব্যাপক প্রভাব রয়েছে বলে গুঞ্জন উঠেছে। নবগঠিত মন্ত্রিসভার স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুলের ভাই ‘লোকমান’ নামক এক ব্যক্তির সাথে ডা. মিল্টনের বিশেষ সখ্যতা রয়েছে এবং এই সিন্ডিকেটের মাধ্যমেই স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বদলি ও পদায়ন বাণিজ্য নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে বলে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাঝে আলোচনা চলছে।
তবে এই সিন্ডিকেট ও দুর্নীতির অভিযোগের বিষয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নীতিগত অবস্থান অত্যন্ত কঠোর। দায়িত্ব নেওয়ার পর স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল একাধিকবার গণমাধ্যমে দৃঢ়তার সাথে বলেছেন, "স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে কোনো ধরনের সিন্ডিকেট, দুর্নীতি বা অনিয়ম সহ্য করা হবে না।
দাবিকৃত এই বিপুল অর্থ লেনদেন ও বদলি বাণিজ্যের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ নিয়ে এখন পর্যন্ত দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) বা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়নি। সাধারণ চিকিৎসকদের দাবি, তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করে স্বাস্থ্য খাতকে এই ধরনের অনৈতিক সিন্ডিকেট থেকে মুক্ত করা হোক।
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: কে এম মাসুদুর রহমান, সম্পাদক ও প্রকাশক: মোহাম্মদ মাসুদ।
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: ২১/১ নয়াপল্টন (মসজিদ গলি),ঢাকা - ১০০০।
✆ ০১৫১১৯৬৩২৯৪, ০১৬১১৯৬৩২৯৪ 📧dailysobujbangladesh@gmail.com.
কপিরাইট © ২০২৫ দৈনিক সবুজ বাংলাদেশ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত